৯ম অধ‍্যায়:ঝুঁকি ও মুনাফার হার

ফাইনান্স, ব্যাংকিং ও বীমা / ফাইনান্স, ব্যাংকিং ও বীমা (১ম পত্র)

৯ম অধ‍্যায়:ঝুঁকি ও মুনাফার হার

ঝুঁকি

প্রত‍্যাশিত আয়ের হার থেকে প্রকৃত আয় হারের ভিন্নতার সম্ভাবনাকেই ঝুঁকি বলা হয়।

অনিশ্চয়তা= ভবিষ্যতে কোনো ঘটনা ঘটা বা না ঘটার সম্ভাবনাকে যখন পরিমাপ করা যায় না।


ঝুঁকির প্রকারভেদ:

এক বা একাধিক কোম্পানিতে বিনিয়োগের দৃষ্টিকোণ থেকে ঝুঁকি ২ প্রকার:

১.একক ঝুঁকি– বিনিয়োগকারী যখন একটি মাত্র কোম্পানি/সম্পদে বিনিয়োগ করে।

২.পোর্টফোলিও ঝুঁকি– বিনিয়োগকারী যখন একাধিক কোম্পানি/সম্পদে বিনিয়োগ করে।

ব‍্যবসায় প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিকোণ থেকে ঝুঁকি ২ প্রকার:

১.ব‍্যবসায়িক ঝুঁকি– কোম্পানির আয় হতে পরিচালন ব‍্যয় মিটাতে না পারার সম্ভাবনাকে ব‍্যবসায়িক ঝুঁকি বলে।

২.আর্থিক ঝুঁকি– ঋণ মূলধন ব‍্যবহারের ফলে ঋণের সুদ এবং আসল পরিশোধ করতে ব‍্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনাকে আর্থিক ঝুঁকি বলা হয়।

নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টিকোণ থেকে ঝুঁকি ২ প্রকার:

১.বাজার ঝুঁকি– যে ঝুঁকি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি থেকে আসে, যা কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

২.কোম্পানি ঝুঁকি– যে ঝুঁকি বিশেষ কোম্পানি/ব‍্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত,যা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

বিনিয়োগকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে ঝুঁকি ২ প্রকার:

১.সুদের হার ঝুঁকি– ভবিষ্যতে সুদের হার হ্রাস বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা।

২.তারল‍্য ঝুঁকি” বিনিয়োগকৃত সিকিউরিটি দ্রুত নগদ অর্থে রূপান্তর না করতে পারার ঝুঁকি।

প্রতিষ্ঠান এবং শেয়ারহোল্ডারদের সাথে সম্পর্কিত ঝুঁকি ৪ প্রকার:

১.বিশেষ ঘটনার ঝুঁকি– অপ্রত্যাশিত কোনো  ঘটনার ফলে নির্দিষ্ট সম্পত্তিতে বিনিয়োগের মূল‍্য হ্রাস বা ফার্মের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাকে বিশেষ ঘটনার ঝুঁকি বলে।

২.বিনিময় হার ঝুঁকি– মুদ্রার বিনিময় হার উঠানামার ফলে ভবিষ্যতে প্রত‍্যাশিত নগদ প্রবাহের উত্থান-পতনের ঝুঁকি।

৩.রাজনৈতিক ঝুঁকি– সরকারের কর নীতি বা অন‍্যান‍্য নীতি পরিবর্তনের ফলে ফার্মের এবং বিনিয়োগের উপর নেতিবাচক প্রভাব পরার ঝুঁকি। 

৪.ক্রয় ক্ষমতার ঝুঁকি–  মুদ্রাস্ফীতির কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি।


ঝুঁকি গ্রহণের পছন্দের মাত্রার উপর ভিত্তি করে বিনিয়োগকারী

ঝুঁকি গ্রহণের পছন্দের মাত্রার উপর ভিত্তি করে বিনিয়োগকারীকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:

১.ঝুঁকি নিরপেক্ষ 

২.ঝুঁকি বিমুখ

৩.ঝুঁকি প্রেমিক


ঝুঁকি পরিমাপের কয়েকটি পদ্ধতি:

১.আদর্শ বিচ‍্যুতি– এটি ঝুঁকি পরিমাপের একটি পরিসংখ্যানিক পদ্ধতি যার মাধ‍্যমে অতীতে অর্জিত আয় থেকে গড় আয় হারের পার্থক্যের বর্গের সমষ্টিকে বছরের সংখ্যা দ্বারা ভাগ করা হয় এবং ভাগফলকে বর্গমূল করা হয়।

-আদর্শ বিচ‍্যুতির বড় মান অধিক ঝুঁকি এবং ছোট মান কম ঝুঁকি নির্দেশ করে।

আদর্শ বিচ‍্যুতি=√summation(Ri-R)^2/n-1

এখানে,Ri= বছরের আয়ের হার

R= গড় আয়ের হার

n=বছরের সংখ্যা 

summation(Ri-R)^2=অতীতে অর্জিত আয় হার থেকে গড় আয় হারের পার্থক্যের বর্গের সমষ্টি

২.সম্ভাবনা বিন‍্যাস– ভবিষ্যতে সম্ভাব‍্য আয় এবং এর সম্ভাবনাকে যখন তালিকা বা রেখা চিত্রের সাহায্যে প্রকাশ করা হয়।

সম্ভাবনা বিন‍্যাস দেওয়া থাকলে আদর্শ বিচ‍্যুতি=

√summation(Ri-R)^2×Pi

৩.বিভেদাংক কোনো নিবেশনের পরিমিত ব‍্যবধান ও গাণিতিক গড়ের অনুপাতকে শতকরায় প্রকাশ করলে যে মান পাওয়া যায়।

বিভেদাংক CV=আদর্শ বিচ‍্যুতি /X×100

এখানে, X= গাণিতিক গড়

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party