৯ম অধ্যায়ঃ ব্যবসায়ের অবস্থান।

উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন / উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন (১ম পত্র)

৯ম অধ্যায়ঃ ব্যবসায়ের অবস্থান।

 

গুরুত্বপূর্ণ টপিক সমূহ 

1. ব্যবসায় অবস্থান  ধারণা 

2. উত্তম অবস্থানের গুণাবলী বা বৈশিষ্ট্যগুলি 

3 .ব্যবসায় অবস্থান নির্বাচন প্রক্রিয়া

 4. ব্যবসায়ের অবস্থান এর প্রকারভেদ 

5. ব্যবসায়ের শহরে অবস্থানের সুবিধা 

6. ব্যবসায়ের গ্রাম্য অবস্থানের সুবিধা


ব্যবসায়ের অবস্থান

যে স্থানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয় বা যে স্থান হতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হয় তাকে বোঝার। প্রতিষ্ঠানের সফলতা বিশেষভাবে এর অবস্থানের উপর নির্ভর করে। তাই ব্যবসা শুরুর পূর্বে অনেক চিন্তাভাবনা করে অবস্থান নির্ণয় করতে হয়। ব্যবসায় অবস্থান বলতে এমন একটি জায়গা বা স্থান কে বোঝায় যে স্থানে ব্যবসায় স্থাপিত হলে ব্যবসায় পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজন সকল উপায়-উপাদান অতি সহজে পাওয়া যায় এবং সেইসাথে তাদের সান্নিধ্য অতি সহজে লাভ করা যায়। 


উত্তম অবস্থানের গুণাবলী

যে স্থানে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললে উদ্দেশ্য অর্জন সহজ হয় সেই স্থানে হলো  উত্তম অবস্থান। তাই বলা যায় প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় উপায়-উপাদান যে স্থানে সহজে পাওয়া যায় সেগুলো বিবেচনা করে উত্তম অবস্থান নির্বাচন করা উচিত। 

নিম্নে উত্তম অবস্থানের গুণাবলী আলোচনা করা হলো :

  • উন্নত পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা 2বাজারের নৈকট্য
  •   ক্রেতার পর্যাপ্ততা
  • শ্রমিক কর্মী প্রাপ্তব্য তা 
  • শক্তি সম্পদের প্রাপ্যতা 
  • কাঁচামালের সরবরাহ
  •   সমজাতীয় ও সহযোগী ব্যবসায় এর উপস্থিতি 
  • রাজনৈতিক বিবেচনা 
  • ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কর অবকাশ


ব্যবসায় অবস্থান নির্বাচনের প্রক্রিয়া 

ব্যবসায় অবস্থান নির্বাচনের প্রথম কাজ হল ব্যবসায় স্থাপনের জন্য সম্ভাব্য স্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা। তথ্য বিচার বিশ্লেষণ করে যে সকল স্থানে ব্যবসায় স্থাপন করা উচিত বলে প্রাথমিকভাবে মনে হয় সেগুলো   সনাক্ত করা উচিত এবং তার সাথে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আরও যদি বিকল্প কিছুই স্থান পাওয়া যায় সেসকল বিকল্প অবস্থান সমূহ সনাক্তকরণ করতে হবে। বিকল্প অবস্থান সণাক্ত করার পর যে সকল স্থানগুলো বিবেচনায় রাখা হবে সে সকল বিকল্প অবস্থানসহ মূল্যায়ন করতে হবে। তার থেকে কোনটা ভালো কোনটা খারাপ তা যাচাই-বাছাই করে উত্তম বিকল্প অবস্থান চিহ্নিত করতে হবে। যেখানে কিনা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান স্থাপন করলে সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে তার আলোকে ব্যবসায়ের জন্য একটি স্থান নির্ধারণ করতে হবে।  ব্যবসায় অবস্থান সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এর ভূমিকা পালন করবে এভাবেই ব্যবসায় অবস্থান নির্বাচন করতে হবে। 


 ব্যবসায় অবস্থান এর প্রকারভেদ 

ব্যবসায়ের অবস্থান মূলত ব্যবসায় প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল কোন নির্দিষ্ট স্থানে কোন বিশেষ ধরনের ব্যবসায় তথা শিল্প ও বাণিজ্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার ফলে অঞ্চল বা এলাকা নির্দিষ্ট স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে প্রকৃতির বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে ব্যবসায়ের অবস্থান কে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে 

১. শহরে অবস্থান

 ২. গ্রাম অবস্থান 

৩. শিল্প এলাকায় অবস্থান 

 শহরে অবস্থান শহরকে কেন্দ্র করে কোন শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান স্থাপন কে ব্যবসায়ের শহরে অবস্থান বলে। আর্থিক জনসমাগম সহজ যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা আদালত ও প্রতিষ্ঠান উপস্থিতি শক্তি সম্পদ ও উপকরণ দিয়ে সহজপ্রাপ্যতা সহায়ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন ব্যাংক-বীমার বিজ্ঞাপনী সংস্থার সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে। ইত্যাদির উপস্থিতি সহ নানা কারণে শহরে অবস্থানের জন্য ব্যবসায় প্রাচীনকাল হতেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়ে আসছে।

গ্রাম্য অবস্থান শহর থেকে একটু দূরে সুবিধাজনক স্থানে শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান স্থাপন ব্যবসায় গ্রাম অবস্থান বলে। প্রাচীনকাল হতে বিভিন্ন হস্তজাত ও কুটির শিল্পের জন্য প্রোগ্রাম অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। বর্তমানকালে  গ্যাস ও বিদ্যুৎ পৌঁছে যাওয়ায় ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে অনেক শিল্প-কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গ্রাম্য অবস্থানে গড়ে উঠতে দেখা যায় স্থানীয় কাঁচামালের সংগ্রহের সুবিধা সহজ মূল্যপ্রাপ্তি সহজ মূল্যে প্রাপ্ত প্রকৃতিক পরিবেশ বিবেচনা করে গ্রামে ব্যবসা অবস্থান গড়ে উঠছে। 

 শিল্প এলাকায়   অবস্থান শিল্প এলাকায় অবস্থান নির্দিষ্ট পরিকল্পনা দিনে পরিকল্পনা দিনে বিভিন্ন ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান একত্রে এক স্থানে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে যে এলাকায় প্রস্তুত করে তোলা হয় তাকে শিল্প এলাকা বলে। শিল্প এলাকায় স্থাপনের পরিকল্পনা মূলত সরকার কর্তৃক গৃহীত হয় এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা ব্যবস্থা ও সরকার করে থাকে। আমাদের দেশে বিসিক শিল্প এলাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল ইপিজেড ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক প্রভৃতি এলাকার উদাহরণ।


ব্যবসায়ের শহরে অবস্থানের সুবিধা 

শহরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করলেন অনেক ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় তা নিম্নে দেয়া হলঃ 

1. উপকরণাদির সহজ প্রাপ্তি 

2. সহজ বাজার সুবিধা 

3. সেবাধর্মী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান উপস্থিতি

 4. উন্নত পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা 

5. শ্রমিক কর্মীর সহজপ্রাপ্যতা 

6. শক্তি সম্পদ প্রাপ্তিতে সুবিধা 

7. নাগরিক সুবিধার উপস্থিতি 

8 .নিরাপত্তা ব্যবস্থা

 9. সরকারি সুযোগ সুবিধা লাভ

10. প্রশিক্ষণ সুবিধা 

ব্যবসায়ের গ্রাম্য অবস্থানের সুবিধা

ব্যবসা  এর গ্রাম্য অবস্থান বলতে গ্রামীণ পরিবেশে ব্যবসায় গড়ে তোলা কী বোঝায়। বর্তমানকালে বড় বড় ব্যবসায়ী বা শিল্প প্রতিষ্ঠান অনেক গ্রাম অবস্থানে গড়ে তুলেছে নিম্নের গ্রাম্য অবস্থানের সুবিধা সমূহ আলোচনা করা হলো :

1. জমির কম দাম 

2. কাঁচামালের সহজলভ্যতা 

3. স্বল্পমূল্যে শ্রমিক প্রাপ্তি 

4. স্বাস্থ্যকর পরিবেশ 

5. ঝামেলামুক্ত পরিবেশ 

6. কর সুবিধা 

 7. সরকারের আর্থিক সহায়তা 

8. শ্রমঘনতার ঘূর্ণায়মানতার নিম্ন হার 

9. সম্প্রসারণ এর সুবিধা 

10 . শ্রম ব্যবস্থাপনা সুসম্পর্ক

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party