অধ্যায় ৮: রাসায়নিক বিক্রিয়া

JSC / বিজ্ঞান

অধ্যায় ৮: রাসায়নিক বিক্রিয়া

প্রতীক, সংকেত ও যোজনী

★ রাসায়নিক গঠন অনুসারে পৃথিবীর সকল পদার্থ ২ টি শ্রেণিতে বিভাক্ত।
১) মৌলিক ও ২) যৌগিক
★ মৌলিক পদার্থ ১১৮ টি।
★ মৌলের পুরো নামের সংক্ষিপ্তরূপকে ‘প্রতীক’ বলে। যেমনঃ H (হাইড্রোজেন)
★ কোনো মৌল বা যৌগের অণুর সংক্ষিপ্তরূপকে ‘সংকেত’ বলে। যেমনঃ হাইড্রোজেন অণুর সংকেত H 2
[**মৌল ও যৌগমুলকের যোজনী ও ছক বই থেকে দেখে পড়ে নিবে।]
★ যে পরমাণুগুচ্ছ স্বাধীনভাবে থাকে না, মৌলিক পদার্থের পরমাণুর মত যৌগ গঠনে অংশ নেয় তাকে যৌগমূল
বা র‍্যাডিকেল বলে। যেমনঃ SO 4 2- , NO 3 – ইত্যাদি।

রাসায়নিক সমীকরণ
একটি রাসায়নিক বিক্রিয়াকে ২ টি অংশে ভাগ করা যায়।
একটি অংশে থাকে বিক্রিয়ক পদার্থ, অপর অংশে বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন নতুন পদার্থ থাকে।
যেমনঃ S + O 2 → SO 2
★ বিক্রিয়ক পদার্থ হলো রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটনের পূর্বাবস্থা।
★ বিক্রিয়াজাত পদার্থ হলো রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটনের পরবর্তী অবস্থা।
★ কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী বিক্রিয়ক দ্রব্য এবং উৎপন্ন দ্রব্যকে প্রতীক, সংকেত ও
কতোগুলো চিহ্নের(+,=,→) সাহায্যে সংক্ষেপে প্রকাশ করাকে রাসায়নিক বিক্রিয়া বা রাসায়নিক সমীকরণ
বলে।
[**রাসায়নিক সমীকরণ লেখার নিয়মগুলি বই থেকে পড়ে নিবে। ]

রাসায়নিক বিক্রিয়া (সংযোজন)

যেখানে একের অধিক পদার্থ একত্রিত হয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী নতুন একটি রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে, তাকে সংযোজন বিক্রিয়া বলে। যেমনঃ
Fe + S → FeS (ফেরাস সালফাইড)

দহন বিক্রিয়া
যে বিক্রিয়ায় কোনো মৌলের সাথে অক্সিজেন (O 2 ) পুড়িয়ে নতুন কোনো যৌগ গঠন করা হয় তাকে দহন বিক্রিয়া বলে। যেমনঃ
S + O 2 → SO 2 (সালফার ডাই-অক্সাইড)

প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া

★ যেখানে একটি মৌল কোনো যৌগ থেকে অপর একটি মৌলকে সরিয়ে নিজে ঐ স্থান দখল করে নতুন যৌগ তৈরি
করে, তাকে প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া বলে। যেমনঃ
Fe + CuSO 4 → FeSO 4 + Cu
এখানে আয়রন(Fe) কপার সালফেট(CuSO 4 ) থেকে Cu কে সরিয়ে নিজে ওই স্থান দখল করে FeSO 4 যৌগ গঠন করেছে।

★ যেসকল বিক্রিয়ায় একটি যৌগ ভেঙে একাধিক মৌল বা যৌগ উৎপন্ন হয়, তাকে বিযোজন বিক্রিয়া বলে।
যেমনঃ
CaCO 3 → CaO + CO 2
ক্যালসিয়াম কার্বনেট(CaCO 3 ) কে তাপ দেয়ার ফলে যৌগটি ভেঙে CaO এবং CO 2 উৎপন্ন করেছে।

রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তাপশক্তির রূপান্তর

★ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তাপশক্তির রূপান্তর ঘটে।
★ যেখানে বিপরীতধর্মী পদার্থ (এসিড ও ক্ষার) একে অপরের সাথে বিক্রিয়া করে নিরপেক্ষ পদার্থ তৈরি
করে, তাকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে। যেমনঃ
CaO + CH 3 COOH → Ca(CH 3 COO) 2 + H 2 O

★★★শুষ্ক কোষ★★★

★ টর্চলাইট, বিভিন্ন রকমের রিমোট কন্ট্রোলার, নানা রকম খেলনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে যে ব্যাটারির ব্যবহার
করা হয় তাকে শুষ্ক কোষ বলে।
[**শুষ্ক কোষ তৈরির পদ্ধতি বই থেকে পড়ে নিবে]

তড়িৎ বিশ্লেষণ

তড়িৎ বিশ্লেষ্য: যেসকল পদার্থ তড়িৎ প্রবাহের ফলে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে অন্য পদার্থে পরিণত হয়, তাকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য বলে।
তড়িৎ অবিশ্লেষ্য: যেসকল পদার্থ দ্রবীভূত বা বিগলিত অবস্থায় তড়িৎ পরিবহন করে না ফলে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না, তাদেরকে তড়িৎ অবিশ্লেষ্য পদার্থ বলে। যেমন: চিনি, গ্লুকোজ ইত্যাদি।

Written by:

নাফিসা আনজুম মৌলি

ব্যাংকিং ও বীমা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party