৬ষ্ঠ অধ্যায়ঃ চেক, বিনিময় বিল ও অঙ্গীকারপত্র

ফাইনান্স, ব্যাংকিং ও বীমা / ফাইনান্স, ব্যাংকিং ও বীমা (২য় পত্র)

৬ষ্ঠ অধ্যায়ঃ চেক, বিনিময় বিল ও অঙ্গীকারপত্র

এই অধ্যায়টি তিনিটি বিষয় (চেক, বিল অব এক্সচেঞ্জ ও প্রমিসরি নোট) নিয়ে হলেও শুধু চেকের অংশ থেকেই প্রতিবছর ১টি সৃজনশীল প্রশ্ন আসে। তাই চলো আমরা শুধু গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো দেখে আসি। আর এর বাহিরে আসলে পড়তেও হয় না। একটু বুদ্ধি করে পড়লে পড়ালেখা আসলে অনেক কমে যায়।

গুরুত্বপূর্ণ টপিকসঃ

  • চেকের, বিনিময় বিল ও অঙ্গীকারপত্রের ধারণা ও বৈশিষ্ট্য। 
  • চেকের প্রকারভেদ। 
  • চেকের বিভিন্ন পক্ষসমূহ। 
  • চেক অমর্যাদা বা প্রত্যাখ্যানের কারণ।

CQ স্পেশালঃ

  • চেকের প্রকারভেদ সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে(বাহক, হুকুম ও দাগকাটা চেক)।


চেকের, বিনিময় বিল ও অঙ্গীকারপত্রের ধারণা ও বৈশিষ্ট্যঃ

চেকঃ

“নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে চাহিবামাত্র পরিশোধের জন্য ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকের লিখিত নির্দেশকে চেক বলে”। এটি ব্যাংক কতৃক সরবরাহকৃত ছাপানো একটি ফর্ম। এই চেক হস্তান্তরযোগ্য দলিল হিসেবে কাজ করে।

বৈশিষ্ট্যঃ

  • এটি গ্রাহক কতৃক ব্যাংকের প্রতি একটি লিখিত আদেশ।
  • চেক গ্রাহক কতৃক সাক্ষরিত হতে হয়।
  • চেকের অর্থ চাহিবামাত্র ব্যাংকে পরিশোধ করতে হয়।
  • চেকে সাধারনত ৩টি পক্ষ থাকে– আদেষ্টা, আদিষ্ট এবং প্রাপক।
  • চেক প্রস্তুতের ৬মাস বা ১৮০ দিন পর্যন্ত চেকের মেয়াদ থাকে।
  • চেকের অর্থ ব্যাংকার গ্রাহককে অবশ্যই বিহিত বা দেশীয় মুদ্রায় পরিশোধ করবে।
  • দাগকাটা চেকের টাকা নগদে উত্তোলন করা যায় না,কোন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হয়
  • এটি একটি প্রামান্য দলিল হিসেবে কাজ করে যা আইনগত ভাবে গ্রহনযোগ্য। 

বিনিময় বিলঃ

বিনিময় বিল হলো এমন একটি হস্তান্তরযোগ্য  দলিল যাতে কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ প্রদানের নিমিত্তে শর্তহীন নির্দেশ প্রদান করে। 

বৈশিষ্ট্যঃ

  • বিনিময় বিল অবশ্যই লিখিত হতে হবে।
  • বিনিমিয় বিল অর্থ প্রদানের একটি ব্যক্ত ও শর্তহীন নির্দেশ। 
  • বিনিময় বিলে উপযুক্ত মূল্যের স্ট্যাম্প অবশ্যই লাগাতে হয়।
  • ৩টি পক্ষ থাকে–আদেষ্টা/লেখক, আদিষ্ট /গ্রাহক, প্রাপক।
  • বিনিময় বিল অবশ্যই আদেষ্টা কতৃক সাক্ষরিত হতে হবে।
  • বিলে প্রস্তুত তারিখ উল্লেখ থাকতে হবে, তারিক বিহীন বিল অগ্রহণযোগ্য। 

অঙ্গীকারপত্রঃ

যে পত্র বা দলিলের মাধ্যমে কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তিকে একটি নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ প্রদানের অঙ্গীকার প্রদান করে তাকে অঙ্গীকারপত্র বলে। যস ব্যক্তি এরুপ অঙ্গীকার প্রদান করেন তাকে অঙ্গীকারকারী এবং যা অনুকূলে অঙ্গীকার ঘোষনা করা হয় তাকে অঙ্গীকার গ্রহীতা বলে।

বৈশিষ্ট্যঃ

  • অঙ্গীকারপত্র অবশ্যই লিখিত হতে হবে।
  • পত্রে প্রতিশ্রুতিদাতার স্বাক্ষর(কালি,পেন্সিল বা রাবার স্ট্যাম্পের হতে পারে) অবশ্যই থাকতে হবে।
  • অর্থ প্রদানের শর্তহীন প্রতিশ্রুতি থাকবে 
  • কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে বা তার আদিষ্ট ব্যক্তিকে অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
  • কোন নির্দিষ্ট সময়ে  চাহিবামাত্র অঙ্গীকারপত্রের অর্থ দেশি মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে। 


চেকের প্রকারভেদঃ 

ব্যাংক কতৃক ছাপানোকৃত রশিদ যা গ্রাহকের স্বাক্ষরের পর চেকের মর্যাদা লাভ করে।ব্যাংকিং জগতে বিভিন্ন ধরনের চেকের ব্যবহার লক্ষ করা যায়। নিচে শুধু গুরুত্বপূর্ণ প্রকারভেদ গুলো দেখে নাও,

১. বাহক চেকঃ 

“যে চেকের টাকা চেকের বহনকারী ব্যাংকের নিকট চাহিবামাত্র ব্যাংক তা পরিশোধ করতে বাধ্য থাকে তাকে বাহক চেক বলে”। বাহক চেক হস্তান্তরের মাধ্যমে এর মালিকানাও হস্তান্তরিত হয়। তবে যেকোন বাহকই এই চেকের টাকা উত্তোলন করতে পারে বলে নিরাপত্তা কম।

বৈশিষ্ট্যঃ

  • এই চেকে বাহকের নামের শেষে “কে বা বাহক কে” কথাটি উল্লেখ থাকে।
  • এই চেকের টাকা যেকোন বাহক উত্তোলন করতে পারে।
  • এই চেক সহজে হস্তান্তরযোগ্য।
  • এই চেককে সহজেই হুকুম বা দাগকাটা চেকে রুপান্তর করা যায়।
  • এই চেক হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে যে কেউ টাকা উত্তোলন করে নিতে পারে।
  • চেক হস্তান্তরে কোন অনুমোদন প্রয়োজন হয় না।

২. হুকুম চেকঃ

“যে চেকের অর্থ প্রাপকের আদেশ বা অনুমোদন ছাড়া অন্য কাউকে ব্যাংক প্রদান করে না তাকে হুকুম চেক বলে”।হুকুম চেক হস্তান্তরের জন্য অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। চেকে উল্লেখিত নামের ব্যক্তিকেই চেকের অর্থ পরিশোধ করা হয়।

বৈশিষ্ট্যঃ

  • হুকুম চেকে প্রাপকের নাম লেখা থাকে।
  • প্রাপকের নামের শেষে “অথবা আদেশানুসারে” কথাটি থাকে।
  • প্রাপকের আদেশ ছাড়া অন্য কাউকে ব্যাংক টাকা প্রদান করে না।
  • বাহক চেক অপেক্ষা নিরাপত্তা বেশি।
  • এই ধরনের চেকে দাগকাটা যায়।
  • চেকের উল্টোপিঠে প্রাপক স্বাক্ষর দিলে চেকটির অনুমোদন হয়ে যায়।

৩. দাগকাটা চেকঃ 

“যে চেকের বাম কোনের উপরে আড়াআড়িভাবে দুটি রেখা টেনে দেওয়া হয় তাকে দাগকাটা চেক বলে”। বাহক বা হুকুম চেকের বাম কোনে দুটি সমান্তরাল রেখা টেনে এই দাগকাটা চেক প্রস্তুত করা হয়। মূলত চেকের অধিক নিরাপত্তা বিধানের জন্যই চেকে দাগকাটা হয়। দাগকাটা চেকের অর্থ প্রাপক নগদে উত্তোলন করতে পারে না। তার ব্যাংক হিসাবে গিয়ে সে অর্থ জমা হয়।

বৈশিষ্ট্যঃ

  • বাহক বা হুকুম চেকের বাম কোনে সমান্তরাল দুটি রেখা টেনে দাগকাটা চেক প্রস্তুত করা হয়।
  • দুই দাগের মাঝে ফাঁকা জায়গা থাকে।
  • চেকের অর্থ নগদে উত্তোলন করা যায় না। ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে উঠাতে হয়।
  • এই চেক অধিক নিরাপদ ও সহজেই প্রস্তুত করা যায়।
  • লেনদেন সময়সাপেক্ষ কারণ নগদে উত্তোলন করা যায় না বলে।
  • এ চেক অবাধে হস্তান্তর করা যায় না।

৪. বিবিধ চেকঃ

ক) ফাঁকা বা ব্ল্যাঙ্ক চেকঃ এই চেকে সবকিছু যথার্থভাবে পূরণ করা সত্বেও প্রাপকের নামের ঘর বা টাকার পরিমান লেখার ঘর ফাঁকা। প্রাপক উক্তস্থানে ইচ্ছেমতো নাম ও টাকার পরিমান বসিয়ে নেয়।

খ) ভ্রমণ চেকঃ ভ্রমণকারীদের সুবিধার্থে অর্থ সংগ্রহের জন্য ব্যাংক যে বিশেষ ধরনের চেক ইস্যু করে তাকে ভ্রমণ চেক বলে।

গ) উপহার চেকঃ এই চেক অনেকটা প্রাইজবন্ডের মতো। এতে নির্দিষ্ট সুদ ও এর মাধ্যমে পুরষ্কার দেবার ব্যবস্থা থাকে।

ঘ)বাসি চেকঃ চেক প্রস্তুতের তারিখ হতে ৬মাস বা ১৮০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে তাকে বাসি চেক বলে। এটা আর গ্রহনযোগ্য নয়।


চেকের বিভিন্ন পক্ষসমূহঃ

চেক এক ধরনের হস্তান্তরযোগ্য ঋণের দলিল। চেকের সাথে সম্পর্কযুক্ত পক্ষগুলো হলো,

১. আদেষ্টাঃ যিনি চেক লিখেন।

২. আদিষ্টঃ যে ব্যাংকের উপর চেক লেখা হয়।

৩. প্রাপকঃ চেক লেখক যে ব্যক্তিকে অর্থ পরিশোধের জন্য ব্যাংকে আদেশ দেয়।

৪. অনুমোদনকারীঃ যিনি স্বাক্ষর দিয়ে চেক কাউকে হস্তান্তর করেন।

৫. অনুমোদন প্রাপকঃ অনুমোদনকারী যার উদ্দেশ্যে চেক অনুমোদন দেন।


চেক অমর্যাদা বা প্রত্যাখ্যানের কারণঃ

চেক বিভিন্ন কারনে ব্যাংক  কতৃক প্রত্যাখ্যাত বা অমর্যাদাকৃত হতে পারে। কারন গুলো দেখে নাও,

১. গ্রাহকের হিসাবে পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ না থাকলে।

২. চেকে স্বাক্ষর না থাকলে।

৩. ব্যাংকে রক্ষিত নমুনা সাক্ষরের সাথে চেকের সাক্ষন না মিললে।

৪. চেকে হিসাব নম্বর না থাকলে বা ভুল হলে।

৫. আদেষ্টার স্বাক্ষর অস্পষ্ট হলে।

৬. চেকে কোন কাটাকাটি থাকলে।

৭. চেকে টাকার পরিমান না থাকলে বা কাটাকাটি হলে।

৮. অঙ্কে ও কথায় টাকার পরিমান মিল না থাকলে।

৯. অগ্রিম তারিখের চেক হলে।

১০. মেয়াদ উত্তীর্ণ বা বাসি চেক হলে।

আরও বেশ কিছু কারণ রয়েছে। এখানে আমি শুধু মূখ্য কারণ গুলো তুলে ধরলাম।

এই ছিল ৬ষ্ঠ অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ টপিক এবং তাদের আলোচনা। এগুলো ভালো করে পড়ে নিলেই মনে হয় না আর বেশি পড়তে হবে। তবুও এমসিকিউ এর জন্য পুরো অধ্যায়টা বই থেকে একবার দেখে নিলেই হবে।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party