৬ষষ্ঠ অধ্যায়ঃ পন্য ডিজাইন।

উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন / উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন (১ম পত্র)

৬ষষ্ঠ অধ্যায়ঃ পন্য ডিজাইন।

দৈনন্দিন জীবনে আমরা কত রকমের পন্যই না ব্যবহার করি।ব্যাক্তিগত প্রয়োজন থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে। কিন্তু আমরা কি লক্ষ করেছি যে,প্রতিটি পন্যেরই ভিন্ন গঠনশৈলী রয়েছে বা লক্ষ করলেও জানতে চেষ্টা করেছ কি, কিভাবে এই ডিজাইন গুলো করা হয় বা কেন?

আর হ্যা,এই অধ্যায়টি সে পন্যের ডিজাইন নিয়েই তুলে ধরবে কিভাবে তা করা হয় এবং কেন।খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। প্রতিবছরই ১টি সৃজনশীল প্রশ্ন থাকে আর এমসিকিউ তো আছেই।

চলো শুরুতেই আমরা এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ টপিক গুলো জেনে নেইঃ

  • পন্য ডিজাইনের ধারণা, উদ্দেশ্য।
  • পন্য ডিজাইন নির্ধারণের বিবেচ্য বিষয়।
  • পন্য ডিজাইন প্রক্রিয়া। 
  • পন্য ডিজাইনের ধরন/প্রকারভেদ। 
  • পন্যের পুনঃডিজাইন ও তার কারণ। 
  • একটি উত্তম ডিজাইনের বৈশিষ্ট্য। 

CQ স্পেশালঃ

  • পন্য ডিজাইনের ধরণ বা প্রকারভেদ সম্পর্কে ভালো ধারনা থাকতে হবে।


পন্য ডিজাইনের ধারণা ও উদ্দেশ্যঃ

 পন্যের গ্রহনযোগ্যতা ও বিক্রয় বৃদ্ধি ক্রেতা বা ভোক্তার চাহিদা,রুচি ও সামর্থ এবং বাজার চাহিদা বিবেচনা করে উৎপাদনের পূর্বে পন্যের আকৃতি, রং,ওজন, শেফ, প্যাটার্ন প্রভৃতি নির্ধারণ কে পন্য ডিজাইন বা নকশাকরণ বলে।পন্য ডিজাইনের কাজ কারিগরি বিভাগের উপর ন্যস্ত থাকে।

উদ্দেশ্যঃ

  • পন্যের আকর্ষণীয়িতা বৃদ্ধি করা।(পন্যটি দেখতে যেনো চমকপ্রদ হয়)
  • পন্য স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখা।(অন্য পন্য থেকে যেন সহজেই আলাদা করা যায়)
  • ক্রেতার রুচিকে প্রাধান্য দেয়া।(ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী ডিজাইন করে দেয়া)
  • ভোক্তাদের রুচির পরিবর্তন।(ক্রেতাদের প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল রুচির সন্তুষ্টি বিধান করা) 
  • প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা।(আকর্ষণীয় পন্য নিয়ে সহজেই ক্রেতা ধরে রেখে প্রতিযোগিতা মোকাবেলা করা যায়)
  • বিক্রয় ও মুনাফা বৃদ্ধি করা।(পন্যের গ্রহনযোগ্যতা বৃদ্ধি পেলে বিক্রয় সাথে মুনাফাও বৃদ্ধি পাবে)


পন্য ডিজাইন নির্ধারণের বিবেচ্য বিষয়ঃ

ভোক্তাদের প্রত্যাশাঃ ভোক্তারা যে রকম ডিজাইনের পন্য প্রত্যাশা করে সে অনুযায়ী পন্য ডিজাইন করতে হবে। নতুবা ভোক্তারা পন্য ক্রয় করবে না।

ডিজাইন উপকরণের সহজলভ্যতাঃ পন্যের ডিজাইন করার জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল যেনো সহজে পাওয়া যায় তা বিবেচনা করতে হয়।

উৎপাদন ক্ষমতাঃ যে রকম ডিজাইন করা হবে বলে ঠিক করা হয়েছে সে রকম ডিজাইন করার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আছে কিনা তা বিবেচনা করতে হয়। 

উৎপাদন ব্যয়ঃ উক্ত পন্যের ডিজাইন করার জন্য যে ব্যয় হবে তা প্রতিষ্ঠান বহন করতে পারবে কিনা তা বিবেচনায় আনতে হয়।

প্রতিযোগীদের ডিজাইনঃ প্রতিযোগীদের পন্যের ডিজাইন বিবেচনা করে নিজের পন্যের ডিজাইন করতে হয়। এতে তাদের চেয়ে ভালো না পারলেও খেয়াল রাখতে হয় যেনো তাদের চেয়ে খারাপ ডিজাইন না হয়।

মান নিয়ন্ত্রণঃ পন্য ডিজাইনে মান খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। মানের দিকটি ভালোভাবে বিবেচনায় নিয়েই পন্যের ডিজাইন করতে হয়।


পন্য ডিজাইন প্রক্রিয়াঃ

উদ্যোগ গ্রহন

ধারণা উন্নয়ন 

উৎপাদনের সামর্থ্য বিশ্লেষণ 

পরীক্ষামূলক উৎপাদন 

চূড়ান্ত উৎপাদন 

“ধাপগুলোর নামই বুঝিয়ে দিচ্ছে কোন ধাপে কি কাজ করতে হবে”


পন্য ডিজাইনের ধরণ বা প্রকারভেদঃ

পন্য ডিজাইন প্রধানত ৪ প্রকার।যথাঃ

১.ক্রিয়াগত ডিজাইনিংঃ পন্যের অন্তর্নিহিত গুনাগুনের সাথে সম্পৃক্ত।যেমনঃ চিপসের স্বাদ বাড়ানোর জন্য ডিজাইন।

২.রুচিসম্মত ডিজাইনিংঃ ক্রেতা বা ভোক্তার রুচির বিষয়টি বিবেচনায় এনে অন্যের ডিজাইন করা হয়।যেমনঃ ফার্নিচারের ডিজাইন করা হয় প্রতিটি ক্রেতার রুচি অনুযায়ী ।

৩.উৎপাদন ডিজাইনিংঃ এক্ষেত্রে পন্যের নকশা বাস্তবায়ন করার জন্য উৎপাদন প্রক্রিয়ার ডিজাইন পরিবর্তন করা হয়।যেমনঃ গলিত ইস্পাত  দিয়ে ঢেউটিন বানানো ক্ষেত্রে নতুন ডিজাইন করতে নতুন ছাঁচ প্রনয়ণ। 

৪.প্যাকিং ডিজাইনিংঃ প্যাকিং হচ্ছে পন্যের বাহিরের মোড়ক বা আবরণ। এই প্যাকিং কে আরো দৃষ্টি নন্দিত করাই হলো প্যাকিং ডিজাইন।যেমনঃ চিপসের প্যাকেটের ডিজাইন করা যাতে আগের চেয়ে আরো আকর্ষণীয় হয়।


পন্যের পুনঃডিজাইন ও তার কারণঃ

বিদ্যমান পন্যের যে ডিজাইন আছে তা পরিবর্তন করে নতুন ডিজাইন করাকেই পন্যের পুনঃডিজাইন বলে।

নিন্মলিখিত কারনে পন্যের পুনঃডিজাইন করা হয়,

ক্রেতা বা ভোক্তার অভিযোগঃ মূলত ক্রেতা বা ভোক্তার জন্যই পন্যের ডিজাইন করা হয়।কিন্তু তারা যদি উক্ত পন্য গ্রহণ না করে তাহলে প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় ঐ পন্যের ডিজাইন করতে হয়। 

প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের পন্য বা সেবার ডিজাইনঃ প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান যদি নিজেদের বাজারজাতকৃত পন্যের ডিজাইনের চেয়ে তাদের পন্যের উন্নত ডিজাইন করে বাজারজাত করে তাহলে পন্যের পুনঃডিজাইন করার প্রয়োজন পড়ে।

ব্যাবহার সহজতর ও আধুনিকীকরণঃ কোন পন্য ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকলে বা তার কাছে ব্যবহার জটিল ও কষ্টসাধ্য মনে হলে উৎপাদনকারীকে পুনরায় তার পন্যের ডিজাইন করতে হয়। 

বিক্রয়োত্তর সেবাঃ যেসব পন্যের ক্ষেত্রে ক্রেতা বা ভোক্তারা অধিক সময় বিক্রয়োত্তর সেবা দাবি করে সে সব পন্যের বেলাতেও ক্রেতা সন্তুষ্টি বৃদ্ধির জন্য পুনঃডিজাইন করতে হয়।

প্রযুক্তির পরিবর্তনঃ প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ঘটলে স্বাভাবিক ভাবেই পন্যের পুনঃডিজাইন হয়ে থাকে

একটি উত্তম ডিজাইনের বৈশিষ্ট্যঃ

  • মেরামত যোগ্য।(পন্যাটি নষ্ট হয়ে গেলে যেনো আবার মেরামত করা যায়) 
  • সংযোজন পন্য।(সংযোজন পন্য সাথে থাকলে সহজেই পন্যটি নষ্ট হলে আমার ঠিক করিয়ে নেয়া যায়)
  • পুনঃডিজাইন সুবিধা।(যখন প্রয়োজন ডিজাইন পরিবর্তন করা যায়)
  • হালকা ও ছোট। (ব্যবহার ও বহন সহজ হয়)
  • তার,টিউব বা সুইচ নির্ভর।( এতে পন্যের আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি পায়)
  • কম্পিউটার নির্ভর।(সহজেই পরিচালনা করা যায়)
  • ওয়ারেন্টি।(ক্রেতারা নিশ্চয়তা পায়)


এই ছিল ৬ষষ্ঠ অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো এবং তাদের বিস্তারিত আলোচনা। এগুলোর বাহিরে থেকে প্রশ্ন সাধারণত করা হয় না।ভালো করে নোট করে পড়ে নাও

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party