৫ম অধ্যায়ঃ উৎপাদন ব্যবস্থাপনা।

উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন / উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন (১ম পত্র)

৫ম অধ্যায়ঃ উৎপাদন ব্যবস্থাপনা।

গুরুত্বপূর্ণ টপিক সমূহ

 1. উৎপাদন ব্যবস্থাপনার ধারণা

 2. ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব 

 3. দ্রব্য /পণ্য ও সেবার ধারণা 

4. সেবার বৈশিষ্ট্য 

5.পণ্যের প্রকারভেদ  

6. পণ্য ও সেবার পার্থক্য   

7. উৎপাদনশীলতার ধারণা 

8. উৎপাদনশীলতার গুরুত্ব 

9. কাস্টমাইজেশন বা ক্রেতা কেন্দ্রিকতার ধারণা


উৎপাদন ব্যবস্থাপনার ধারণা

উৎপাদন কার্য দক্ষতার সাথে পরিচালনার জন্য ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য উৎপাদন বিষয়ক পরিকল্পনা গ্রহণ প্রয়োজনীয় উপকরণ যেমন: কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি জনশক্তি ইত্যাদি সংগঠিতকরণ এবং তাদেরকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর সামগ্রিক প্রচেষ্টাকেই উৎপাদন ব্যবস্থাপনা বলে। 

অতএব এখান থেকে আমরা বুঝতে পারি যে উৎপাদন ব্যবস্থাপনা সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার একটি অংশ। উৎপাদনের কার্যকর পরিকল্পনা ও কার্য পরিচালনা করা উৎপাদন ব্যবস্থাপনার মূল কাজ পণ্য নকশা করন পণ্য উৎপাদন ও বন্টন এর জন্য প্রস্তুত করন পর্যন্ত উৎপাদন ব্যবস্থাপনার কার্য বিস্তৃত। 


উৎপাদন ব্যবস্থাপনার কার্যাবলী  

 সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার বিশেষায়িত গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা হিসেবে বর্তমানে উৎপাদন ব্যবস্থাপনার কার্যপরিধি অত্যন্ত ব্যাপক। আমরা জানি প্রত্যেক কাজেই কিছু না কিছু উদ্দেশ্য রয়েছে যার আলোকে সে কাজটি কিভাবে সম্পন্ন হবে তার ধারাবাহিকতা নির্ধারণ করা হয়। এখন আমরা জানবো উৎপাদন ব্যবস্থাপনার কার্যাবলী সম্পর্কে 

1 উৎপাদন পরিকল্পনা প্রণয়ন

 2 পণ্যের নকশা করণ

3 উৎপাদনের পরিমাণ পূর্বানুমান 

4 কার্য গবেষণা 

5 উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ 

6 মজুদ নিয়ন্ত্রণ 

7 মাননিয়ন্ত্রণ 

8 যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ 

9 উৎপাদন বাজেট প্রণয়নে সহায়তা 

10 ক্রয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা  


উৎপাদন ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব 

সুষ্ঠুভাবে ব্যবসায় পরিচালনার জন্য উৎপাদন ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব অপরিসীম ।উৎপাদন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কাঁচামাল যন্ত্রপাতি ইত্যাদি যেমন সহজে সংগঠিতকরণ করা হয় ঠিক তেমনি তাদেরকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর সামগ্রিক প্রতিষ্ঠা করা হয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। উৎপাদন জটিলতা মোকাবেলার জন্য সঠিক উৎপাদন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয় ঠিক তারই আলোকে পণ্যদ্রব্যের নকশা করা হয় আর এই কাজের জন্য উপযুক্ত উৎপাদন পদ্ধতি নির্বাচন করা প্রয়োজন উৎপাদনের সকল কাজে যে সকল যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে তার অর্থাৎ যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ করা জরুরি তার ধারাবাহিকতায় গুণগত মানের পণ্য উৎপাদন করা প্রয়োজন যা থেকে অপচয় ব্যয় হ্রাস পাবে এবং এই সবগুলোর মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয় সাধন করতে হবে তার আলোকে পণ্য বা সেবার সঠিক মান নিয়ন্ত্রণ করতে হবে আর এই উৎপাদন কার্যাবলী সঠিকভাবে করার জন্য উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন তার আলোকে যে পরিমাণ পণ্য উৎপাদন করা হবে তার সঠিক মজুদ নিয়ন্ত্রন করতে হবে পণ্য উৎপাদনের জন্য উৎপাদন বাজেট প্রণয়ন করতে হবে পণ্য দ্রব্য বা সেবার সামগ্রী ক্রয়ের জন্য প্রায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে উৎপাদন ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তার আলোকে দ্রব্য গবেষণা ও উন্নয়ন কার্য পরিচালনা করা হয় এবং কিভাবে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যায় তার সম্পর্কে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয় 


পণ্য ও সেবার ধারণা 

 পণ্য ঃ কোন বস্তুর মধ্যে যদি স্পর্শনীয় বা অস্পর্শনীয় উপলব্ধির যোগ্য থাকে ও তা মানুষের অভাব পূরণ বা সন্তুষ্টি বিধানের সমর্থ হয় এবং বিক্রেতা কর্তৃক বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে তা ক্রেতাদের নিকট বিক্রয়ের লিমিতে নিমিত্তে উপস্থাপন করা যায় তবে তাকে পণ্য বলে। 

সেবা ঃ  সেবা হচ্ছে সুনির্দিষ্ট ও অদৃশ্যমান কাজ যা মানুষের অভাব পূরণ করতে পারে এবং এক পক্ষ অন্য পক্ষকে বিনিময় মূল্য দিতে রাজি হয় এরূপ কার্যাবলীর ফলে বস্তুগত মালিকানা হস্তান্তর না হলেও ক্রেতাদের প্রয়োজন পূরণ হয়। 


পণ্যের বৈশিষ্ট্য 

পণ্যের বাহ্যিকতা দৃশ্যমানতা রয়েছে পণ্যের একটি নির্দিষ্ট আকার রয়েছে পণ্যই স্থান দখল করে অর্থাৎ স্থান ব্যবহার করে। ভবিষ্যতের জন্য পণ্যের সংরক্ষণ যোগ্যতা রয়েছে অর্থাৎ পণ্য সংরক্ষণ করা যায়। পণ্য ভোগের স্থানে পণ্য বিক্রেতাকে যাওয়ার প্রয়োজন নেই অর্থাৎ পণ্যের স্থানান্তর যোগ্যতা রয়েছে এবং পণ্য পচনশীল। 

সেবার বৈশিষ্ট্য 

সেবা অস্পর্শনীয় সেবার মালিকানা পরিবর্তন হয় না। সেবা  সংরক্ষণ করা যায় না।  যেমন চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদিত হলেও তা সংরক্ষণ করে ঘাটতে সময়ে ব্যবহার করা সম্ভব নয় সেবা  অবিচ্ছিন্নতা। সেবার ক্ষেত্রে সেবাদাতা ও সেবা এক অভিন্ন সত্তা হিসেবে গণ্য হয়। সেবার আরেকটি  বৈশিষ্ট্য হলো সেবাগ্রহীতা সেবাদাতার উপস্থিতি। সেবার মানের ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে তাই সেবার নির্দিষ্ট কোন মান নেই। সেবার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল বিনাশ শীলতা অর্থাৎ সেবাদাতার অনুপস্থিতে বা মৃত্যুতে তার নিকট হতে আর সেই সেবা পাওয়া সম্ভব নয়। কোনো সেবা একসময় পাওয়া না গেলে তা আর ফিরে পাওয়া যায় না যেমন :বাস বা স্টুডিয়াম বা উড়োজাহাজের খালি আসেন একবার হারানোর পর চিরতরে তা বিলীন হয়ে যায়।


পণ্যের প্রকারভেদ 

বিপণনের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী পণ্য কে সুবিধাজনক পণ্য বিপণন পণ্য বিশিষ্ট পণ্য শিল্পপণ্য ইত্যাদি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। নিম্নে বিপণনের বৈশিষ্ট্য অনুসারে পণ্যকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা ভাগ করে আলোচনা করা হলো:

ভোগ্যপণ্য 

যে পণ্য ভোগের ক্ষেত্রে কোন প্রক্রিয়া বা নতুন কোন উপযোগ সৃষ্টির প্রয়োজন পড়ে না বা ভোক্তার ক্রয় করে সরাসরি ভোগের কাজে লাগাতে পারে তাই হল ভোগ্যপণ্য। ভোগ্যপণ্য কে তিনটি  ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

 সুবিধাজনক পণ্যঃ সুবিধাজনক জায়গা হতে সহজে করা যায় এরূপ পণ্যকে সুবিধাজনক পণ্য বলে যেমন আবশ্যকীয় পণ্য,বিস্কুট, সাবান, চাল মাছ, গোশত ইত্যাদি এ ধরনের পণ্যের ধরণ। এবং আবশ্যকীয় পণ্য, লোভনীয় পণ্য, জরুরি পণ্য, সরবরাহ পণ্য। 

বিপণন পণ্য: যে সকল পণ্য সচরাচর ক্রেতারা ক্রয় করে না তাই হল বিপণন পণ্য। এ ধরনের পণ্য ক্রয় ক্রেতা বা ভোক্তা পূর্ব পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এবং কেনার সময় দ্রব্যের গুনাগুন ও মূল্য যাচাই করে যেমন: টেলিভিশন দামি শাড়ী গহনা, রেফ্রিজারেটর ইত্যাদি এরূপ পণ্যের উদাহরণ। এগুলো হলো সেবা পণ্য সৌখিন পণ্য

বিশিষ্ট পণ্য : বিশিষ্ট পণ্য বলতে বিশেষ শ্রেণীর ভোক্তাদের জন্য বিশেষ মান সম্বলিত পণ্য কে বোঝায় যারা নিজেদেরকে অন্যদের থেকে আলাদা ভাবতে ভালবাসে তারাই এ ধরনের পণ্যের ভোক্তা যেমন: নেকটাই ফ্যাশনেবল জুতা, আকর্ষণীয় ঘড়ি মূল্যবান ক্যামেরা, দামি কলেজ ইত্যাদি। 

শিল্পপণ্য : যে সকল পণ্য চূড়ান্ত ভোগে ব্যবহৃত না হয়ে বরং ভোগ্যপণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় তাকে শিল্পপণ্য বলে। যেমন কাঁচামাল,  আধা প্রস্তুত পণ্য ও  ভারী যন্ত্রপাতি ও সম্পত্তি আনুষঙ্গিক  সহায়ক  পণ্য। 

পণ্য ও সেবার পার্থক্যের জন্য পণ্য ও সেবার বৈশিষ্ট্য পড়লেই হবে 



উৎপাদনশীলতার ধারণা ও গুরুত্ব 

উৎপাদনশীলতার ধারণা :কোন পণ্য উৎপাদনের প্রকৃত প্রয়োগকৃত কাঁচামাল অথবা শ্রম অথবা সময় এর আলোকে উৎপাদিত পণ্যের অনুপাতকে উৎপাদনশীলতা বলে। অথাৎ উৎপাদিত পণ্য এবং উৎপাদনে ব্যবহৃত উপাদান এর আনুপাতিক অনুপাত  হলো উৎপাদনশীলতা। 

উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির উপায় হলো 

1 ইনপুটের পরিমাণ ঠিক রেখে আউটপুট বৃদ্ধি।

 2  আউটপুট ঠিক রেখে ইনপুট কমানোর। 

3  আউটপুট বৃদ্ধি ইনপুট  হ্রাস। 

4 ইনপুট বৃদ্ধির তুলনায় আউটপুটের অধিক বৃদ্ধি। 

উৎপাদনশীলতার গুরুত্ব উৎপাদনশীলতা হল আউটপুট ইনপুটের অনুপাত। কি পরিমান উৎপাদন বা ফল পেতে কি পরিমাণ উপকরণ খরচ বা ব্যয় করতে হয়। উৎপাদিত পণ্যের অনুপাতকে উৎপাদনশীলতা বলে। যেকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য উৎপাদনশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন আমরা উৎপাদনশীলতার গুরুত্ব সম্পর্কে জানব 

 ১. মুনাফা বৃদ্ধি 

2 কার্য সন্তুষ্টি বৃদ্ধি 

৩. সম্পদের সদ্ব্যবহার 

4.   ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ

৫. ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতা মূল্যায়ন 

6  প্রতিষ্ঠানের সুনাম অর্জন 

৭. ক্রেতা সন্তুষ্টি অর্জন

 ৮. ব্যবসা সম্প্রসারণ 

৯. প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন 

10. অর্থনৈতিক উন্নয়ন 

কাস্টমাইজেশন বা ক্রেতা কেন্দ্রিকতার ধারণা 

বিশেষ কোন কেতার ক্রেতার ফরমায়েশ অনুযায়ী পণ্য তৈরি করা এবং সরবরাহ দেওয়া হলে তাকে কাস্টমাইজেশন বলে। এক্ষেত্রে পণ্যের উৎপাদক তাদের নিজস্ব মান, টাকার সংখ্যা, মোড়ক,ইত্যাদিকে প্রাধান্য না দিয়ে সে তার  ক্রেতার স্বতন্ত্র চাহিদাকে প্রাধান্য দেয়। সাধারণত অটোমোবাইল, বড় বড় যন্ত্রপাতি তৈরি উড়োজাহাজ তৈরি, ক্যামিক্যাল সামগ্রী উৎপাদন, ফ্যাশন হাউজের জন্য বিশেষ ধরনের পোশাক তৈরি বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য পণ্য তৈরি,   কাস্টমাইজেশন এর উদাহরণ। 

আর কাস্টোমাইজেশনের কে তার স্বতন্ত্র চাহিদা পূরণ করা হয় 

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party