৪র্থ অধ‍্যায়:আর্থিক বিশ্লেষণ

ফাইনান্স, ব্যাংকিং ও বীমা / ফাইনান্স, ব্যাংকিং ও বীমা (১ম পত্র)

৪র্থ অধ‍্যায়:আর্থিক বিশ্লেষণ

আর্থিক বিশ্লেষণ

একটি প্রতিষ্ঠানের আয় বিবরণী ও আর্থিক অবস্থার বিবরণীর মধ‍্যে সঠিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে আর্থিক সফলতা ও দুর্বলতা নির্ণয় করার প্রক্রিয়াকে আর্থিক বিশ্লেষণ বলে।

আর্থিক বিশ্লেষণের প্রধান কৌশলসমূহ:

১.তুলনামূলক আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণ

২.সমআকার আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণ

৩.অনুপাত বিশ্লেষণ

৪.নগদ প্রবাহ বিশ্লেষণ

৫.সমচ্ছেদ বিন্দু বিশ্লেষণ 

নগদ প্রবাহ বিশ্লেষণ:

নগদ প্রবাহ বলতে একটি নির্দিষ্ট হিসাবকালের নগদ অর্থের প্রারম্ভিক জের ও সমাপনী জেরের পার্থক‍্যকে বোঝায়।

নগদ অর্থের হ্রাস বা বৃদ্ধিকে তিনভাগে ভাগ করা যায়:

১) পরিচালন সংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে হ্রাস/বৃদ্ধি

২)বিনিয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে হ্রাস/বৃদ্ধি

৩)অর্থ সংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে হ্রাস/বৃদ্ধি

একটি নির্দিষ্ট হিসাবকালে কোন প্রতিষ্ঠান নগদ উদ্বৃত্ত, নগদ আন্তঃপ্রবাহ এবং বহিঃপ্রবাহ প্রকাশ করে যে বিবরণী প্রস্তুত করা হয় তাকে নগদ প্রবাহ বিবরণী বলে।

IAS-7 অনুসারে নগদ প্রবাহ বিবরণী তৈরি করা হয়।

নগদ প্রবাহ বিবরণী প্রস্তুতের ধাপ সাতটি:

১) নগদ অর্থের হ্রাস-বৃদ্ধি নির্ণয়

২) পরিচালনা কার্যক্রম হতে নগদ প্রবাহ নির্ণয়

৩) বিনিয়োগ কার্যক্রম হতে নগদ প্রবাহ নির্ণয়

৪) অর্থায়ন কার্যক্রম হতে নগদ প্রবাহ নির্ণয়

৫) তিনটি কার্যক্রম হতে প্রাপ্ত নগদ প্রবাহের যোগফল নির্ণয়

৬) নগদ অর্থের হ্রাস-বৃদ্ধির সাথে প্রারম্ভিক জের যোগ করে সমাপনী জের নির্ণয়

৭) গুরুত্বপূর্ণ অনগদ লেনদেন টিকা আকারে দেখানো।


পরিচালনা কার্যক্রম: যে সকল আয় ও ব্যয় সংক্রান্ত লেনদেন নগদকে প্রবাহিত করে তা লিপিবদ্ধ হয় পরিচালনা কার্যক্রমে।‌ 

বিনিয়োগ কার্যক্রম: বিনিয়োগ কার্যক্রমে আসে বিনিয়োগ ও স্থায়ী সম্পদ ক্রয় বিক্রয়ের সাথে জড়িত কার্যকলাপ।

অর্থায়ন কার্যক্রম: শেয়ার বিক্রয় ও ঋণ দ্বারা নগদ সংগ্রহ, শেয়ার পুনঃক্রয় ও ঋণ পরিশোধ বাবদ নগদ প্রদান এবং লভ্যাংশ প্রদান সংক্রান্ত কার্যকলাপ এই শ্রেণীভুক্ত।


নগদ প্রবাহ বিবরণী তৈরির পদ্ধতি দুইটি। 

১) পরোক্ষ পদ্ধতি (Indirect Method)

২) প্রত্যক্ষ পদ্ধতি (Direct Method)

এই দুটো পদ্ধতির পার্থক্য আসলে শুধু “পরিচালন কার্যক্রম হতে নগদ প্রবাহ” অংশেই দেখা যায়। অন্যান্য অংশে কোনো প্রভাব পড়ে না।


নগদ প্রবাহ বিবরণী তৈরি করার পদ্ধতি: 

  • প্রথমে, পরিচালনা কার্যক্রম হাতে নগদ প্রবাহ নির্ণয়;

*পরোক্ষ পদ্ধতি: এই পদ্ধতিতে নিট লাভ থেকে শুরু করা হয়। নিট লাভের সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সমূহ যোগ-বিয়োগ করে নগদ প্রবাহ নির্ণয় করা হয়। পরোক্ষ পদ্ধতিতে মূল কাজ হচ্ছে নিট মুনাফা কে নিট নগদ প্রবাহে রূপান্তর করা। 

এখানে নীট মুনাফার সাথে বিয়োগ দেওয়া হয়:-

অনগদ ব্যয়, চলতি সম্পদ বৃদ্ধি, চলতি দায় হ্রাস।

এবং নিট মুনাফার সাথে যোগ দেওয়া হয়:- 

অনগদ আয়, চলতি সম্পদ হ্রাস, চলতি দায় বৃদ্ধি।

*প্রত্যক্ষ পদ্ধতি: এই পদ্ধতিতে পরিচালন কার্যক্রম হতে নগদ প্রবাহ নির্ণয়ের জন্য আয় বিবরণীর নগদ প্রাপ্তি সংক্রান্ত দফাসমূহ থেকে নগদ প্রদান সংক্রান্ত দফাসমূহ বাদ দিতে হবে।

এই পদ্ধতিতে নগদ প্রাপ্তি নির্ণয়ে যোগ দেওয়া হয়; 

ক্রেতাদের কাছ থেকে নগদ প্রাপ্তি, সুদ প্রাপ্তি, লভ্যাংশ প্রাপ্তি।

এই পদ্ধতিতে নগদ প্রাপ্তি নির্ণয়ে বিয়োগ দেওয়া হয়; 

সরবরাহকারীকে প্রদান, পরিচালন খরচের জন্য পরিশোধ, সুদ খরচের জন্য প্রদান, আয়করের জন্য প্রদান।

  • বিনিয়োগ কার্যক্রম হতে নগদ প্রবাহ নির্ণয়: 

এই ধাপে যোগ করা হয়: স্থায়ী সম্পদ এবং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ বিক্রয় হতে নগদ প্রাপ্তি। 

এবং বিয়োগ করা হয়: বিনিয়োগ এবং স্থায়ী সম্পদ অর্জনে নগদ পরিশোধ। 

  • অর্থায়ন কার্যক্রম হাতে নগদ প্রবাহ: 

এই ধাপে যোগ করা হয়: শেয়ার, বন্ড বা ঋণপত্র ইস্যু এবং ঋণগ্রহণ বাবদ নগদ প্রাপ্তি।

এবং বিয়োগ করা হয়: লভ্যাংশ প্রদান, ঋণ বা অগ্রাধিকার শেয়ার পরিশোধ।


গুরুত্বপূর্ণ অনগদ লেনদেন: 

১) স্থায়ী সম্পত্তি বিনিয়োগ

২) শেয়ার ইস্যু দ্বারা সম্পদ ক্রয়

৩) বোনকে সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর

৪) ঋণপত্র ইস্যুর মাধ্যমে সম্পদ ক্রয় ইত্যাদি।

এসব লেনদেন গুরুত্বপূর্ণ হলেও নগদ অর্থের আদান প্রদান হয় না বিধায় নগদ প্রবাহ বিবরণীতে আসবে না কিন্তু এসব নগদ প্রবাহ বিবরণীর নিচে আলাদা করে নোট দেখাতে হবে।

ফ্রি নগদ প্রবাহ– প্রতিষ্ঠানের পরিচালন নগদ প্রবাহ থেকে নিট স্থায়ী সম্পত্তি ও নিট চলতি সম্পত্তিতে বিনিয়োগকৃত অর্থ বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট যে অর্থ থাকে।

ফ্রি নগদ প্রবাহ= পরিচালন কার্যাবলি হতে নগদ প্রবাহ+সুদ পরিশোধ×(১-কর হার)-মূলধনী ব‍্যয়

ফ্রি নগদ প্রবাহ= সুদ ও করপূর্ব মুনাফা × (১-কর হার)+অবচয়-নিট চলতি সম্পত্তিতে বিনিয়োগ-স্থায়ী সম্পত্তিতে বিনিয়োগ

সমচ্ছেদ বিন্দু বিশ্লেষণ– যে বিন্দুতে আয় ও ব‍্যয় সমান হয়।

সমচ্ছেদ বিন্দু (একক) =মোট স্থায়ী ব‍্যয়/একক প্রতি বিক্রয়মূল‍্য-একক প্রতি পরিবর্তনশীল ব‍্যয়

সমচ্ছেদ বিন্দু (টাকায়) =সমচ্ছেদ বিন্দু (একক)× একক প্রতি বিক্রয়মূল‍্য

অথবা, মোট স্থায়ী ব‍্যয়/(বিক্রয়-পরিবর্তনশীল ব‍্যয়)÷ বিক্রয়

নির্দিষ্ট পরিমাণ মুনাফা অর্জনের ক্ষেত্রে: প্রয়োজনীয় বিক্রয় একক=স্থির ব‍্যয়+মুনাফা/একক প্রতি বিক্রয়মূল‍্য-একক প্রতি পরিবর্তনশীল ব‍্যয়

কন্ট্রিবিউশন মার্জিন একক=একক প্রতি বিক্রয়মূল‍্য-একক প্রতি পরিবর্তনশীল ব‍্যয়

কন্ট্রিবিউশন মার্জিন অনুপাত= একক প্রতি কন্ট্রিবিউশন মার্জিন/একক প্রতি বিক্রয়মূল‍্য

নিরাপত্তা প্রান্ত= সমচ্ছেদ বিন্দু ও প্রকৃত বিক্রয় এর পার্থক্য।

নিরাপত্তা প্রান্ত (টাকায়) =প্রকৃত বিক্রয়-সমচ্ছেদ বিক্রয়

নিরাপত্তা প্রান্ত (অনুপাত) =(নিরাপত্তা প্রান্ত (টাকায়)/প্রকৃত বিক্রয়) ×১০০

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party