৪র্থ অধ্যায়ঃ ব্যাংক হিসাব

ফাইনান্স, ব্যাংকিং ও বীমা / ফাইনান্স, ব্যাংকিং ও বীমা (২য় পত্র)

৪র্থ অধ্যায়ঃ ব্যাংক হিসাব

 

ব্যাংক হিসাব শব্দটির সাথে আমরা সবাই মোটামুটি পরিচিত। অনেকেরই বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবও রয়েছে।আর এই অধ্যায়ে আমরা কথা বলবো সেই ব্যাংক হিসাব নিয়েই।

খুবই অল্প পড়া আর সমান গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। এখান থেকে কোন বছর প্রশ্ন বাদ পড়ে না। একটি সৃজনশীল প্রশ্ন থাকেই। তাই চলো শুরু করা যাক,

গুরুত্বপূর্ণ টপিকসঃ

  • ব্যাংক হিসাবের ধারণা।
  • ব্যাংক হিসাবের প্রকারভেদ।
  • ব্যাংক হিসাব নির্বাচনে বিবেচ্য বিষয়।
  • KYC. ফর্ম, নমুনা সাক্ষর কার্ড, ব্যাংক পাশ বই।

CQ স্পেশালঃ

  • ব্যাংক হিসাবের প্রকারভেদ ভালো করে জানলেই সৃজনশীল কমন পাবে।(চলতি, সঞ্চয়ী ও স্থায়ী হিসাব)।


ব্যাংক হিসাবের ধারণাঃ

“ব্যাংক যে হিসাবের মাধ্যমে আমানতকারীদের জমাকৃত অর্থ আমানত হিসেবে গ্রহন করে, উত্তোলনের সুযোগ দেয় ও তাদের সাথে সকল ব্যাংকিং সম্পর্ক রক্ষা করে তাকে ব্যাংক হিসাব বলে”।

আমানতকারী মূলত নগদ অর্থের নিরাপত্তা বিধানের জন্য ব্যাংক হিসাব খুলে থাকে। চলতি হিসাব দৈনন্দিন লেনদেনের উদ্দেশ্যে, সঞ্চয়ী সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে এবং স্থায়ী হিসাব মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে খোলা হয়। ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৩টি পক্ষ উপকৃত হয়–আমানতকারী, ব্যাংক, সমাজ।


ব্যাংক হিসাবের প্রকারভেদঃ

বর্তমান যুগে যেকোন সমাজেই বিভিন্ন শ্রেনীর ও পেশার মানুষ বসবাস করে। এদের আর্থিক লেনদেনের প্রয়োজনীতাও এক ধরণের নয়।তাই ব্যাংক গুলোও তাদের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে গ্রাহকদের বিভিন্ন ধরনের ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ দেয়।এই ব্যাংক হিসাব গুলো নিচে আলোচনা করা হলো,

১. চলতি হিসাবঃ

“ব্যাংক আমানতকারীকে যে হিসাবের মাধ্যমে কার্যদিবসে যতবার ইচ্ছা টাকা জমা ও উত্তোলন করার সুবিধা দেয় তাকে চলতি হিসাব বলে”। ব্যবসায়ী, ব্যবসায় সংগঠন, সরকারি বা আধা সরকারি সংস্থার জন্য চলতি হিসাব অধিক উপযোগী। 

সুবিধাঃ

  • ব্যাংক চলাকালীন সময়ে যতবার ইচ্ছে এবং যে কোন পরিমান টাকা উঠাতে পারে।
  • এ হিসাবের টাকা চাহিবামাত্র পরিশোধ করা হয়।
  • চলতি আমানতের উপর ব্যাংক কোন সুদ প্রদান করে না।
  • টাকা উঠানোর জন্য ব্যাংকের উপর চেক লিখতে হয়। 
  • এ হিসাবের বিপরীতে ঋণ সুবিধা দেয়া হয়।

অসুবিধাঃ

  • চলতি হিসাব খোলার জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমান চার্জ বা খরচ দিতে হয়(১,০০০/৫,০০০/১০,০০০)।
  • এই হিসাবের বিপরীতে কোন সুদ দেয়া হয় না।

২. সঞ্চয়ী হিসাবঃ

“যে হিসাবের মাধ্যমে দিনে যতবার খুশি টাকা জমা দেয়া গেলেও সপ্তাহে মাত্র ২বার টাকা উত্তোলন করা যায় তাকে সঞ্চয়ী হিসাব বলে”। এ হিসাবের উপর ব্যাংক স্বল্প হারে সুদ প্রদান করে। সমাজের নিন্মবিত্ত, নিন্মশ্রেনীর এবং ছাত্র-ছাত্রীর জন্য এ হিসাব উপযোগী। 

সুবিধাঃ

  • সঞ্চয়ী হিসাব খোলার জন্য অল্প টাকা জমা দিতে হয় (সাধারণত ৫০০ টাকা)।
  • ব্যাংক আমানতকারীর জমাকৃত অর্থের উপর নির্দিষ্ট হারে সুদ প্রদান করে।

অসুবিধাঃ

  • সপ্তাহে ২বারের বেশি টাকা উত্তোলন করা যায় না।
  • একবার নির্দিষ্ট পরিমানের বেশি টাকা উত্তোলন করা যায় না(সাধারণত ২০,০০০ টাকা)।
  • এ হিসাবের বিপরীতে ঋণ সুবিধা দেয়া হয় না।

৩. স্থায়ী হিসাবঃ

“যে ব্যাংক হিসাবে একটা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য অর্থ জমা রাখা হয় এবং মেয়াদের মধ্যে কোন অর্থ উত্তোলন করা যায় না তাকে স্থায়ী হিসাব বলে”। ব্যাংক স্থায়ী আমানিতের উপর উচ্চ হারে সুদ প্রদান করে থাকে।

সুবিধাঃ

  • উচ্চ হারে সুদ পাওয়া যায়।
  • মেয়াদ শেষে সুদসহ সম্পুর্ন টাকা উত্তোলন না করে পুনরায় আবার নতুন মেয়াদের জন্য নবায়ন করা যায়।
  • FDR এর বিপরীতে ৮০% পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাওয়া যায়।

অসুবিধাঃ

  • নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে এ হিসাবের টাকা উত্তোলন করা যায় না। 
  • মেয়াদ পূর্তির পূর্বে টাকা উত্তোলন করলে কোনপ্রকার সুদ পাওয়া যায় না।
  • একবারের বেশি টাকা জমা দেয়া যায় না।
  • কোন চেক বই ইস্যু করা হয় না।


ব্যাংক হিসাব নির্বাচনে বিবেচ্য বিষয়ঃ

সমাজে চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ী, ডাক্তার, শিক্ষার্থী ও স্বল্প আয়ের মানুষ বসবাস করে।কাজেই সমাজের বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষ ভিন্ন ভিন্ন প্রয়োজনে ব্যাংকে হিসাব খোলে।সবাই সব রকম সুবিধা প্রত্যাশা করে না। তাই বিবেচ্য বিষয়গুলো নিচে দেয়া হলো,

১. গ্রাহকের প্রকৃতিঃ গ্রাহক তার পেশা ও আয় অনুযায়ী হিসাব নির্ধারণ করবে।ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান হলে চলতি, স্বল্প আয়ের হলে সঞ্চয়ী এবং পেনশন বা এককালীন টাকা পেলে স্থায়ী হিসাব।

২. লেনদেনের প্রকৃতি পরিমানঃ যাদের অর্থ উত্তোলন প্রায়শই হয়না তাদের জন্য সঞ্চয়ী, যাদের প্রতিনিয়ত উত্তোলন ও জমাদানের দরকার হয় তাদের জন্য চলতি, আর যারা একবার জমা দিয়ে নির্দিষ্ট সময় পর উত্তোলন করতে ইচ্ছুক তাদের জন্য স্থায়ী হিসাব উপযোগী ।

৩. ব্যাংকিং সুবিধাঃ অধিক সুবিধা প্রত্যাশা করলে চলতি হিসাব, সীমিত সেবা আশা করলে সঞ্চয়ী আর সুবিধার চেয়ে অধিক সুদ বা মুনাফা চাইলে স্থায়ী হিসাব।

৪. অলস উদ্বৃত্ত অর্থঃ অলস অর্থ থাকলে যে পরিমান আয়ের মানুষই হোক না কেন তাদের জন্য স্থায়ী হিসাব উপযোগী। 

৫. নিরাপদ সংরক্ষণঃ অধিক নিরাপত্তা চাইলে স্থায়ী হিসাব,  চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের অর্থ চেক কেটে উত্তোলন করা যায় বলে জালিয়াতির সুযোগ থাকে।


KYC ফর্ম, নমুনা সাক্ষর কার্ড, ব্যাংক পাশ বইঃ

KYC ফর্মঃ

KYC হচ্ছে know Your Customer এর সংক্ষিপ্ত রুপ।

“ব্যাংক বিভিন্ন প্রকার জালিয়াতি ও অবৈধ অর্থের লেনদেন বন্ধ করার জন্য গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব খোলার সময় আবেদন ফর্মের সাথে বিভিন্ন তথ্য সম্বলিত যে ফর্ম বাধ্যতামূলক ভাবে হিসাবগ্রহীতাকে দিয়ে পূরণ করিয়ে নেয় তাকে KYC ফর্ম বলে”। এই ফর্ম ব্যাংকের কাছে আয়নার মতো। আয়নায় যেমন নিজের চেহারা সুস্পষ্টভাবে দেখা যায় ঠিক তেমনই KYC ফর্মের মাধ্যমে গ্রাহকের যাবতীয় তথ্য ও বর্ণনা পাওয়া যায়।

নমুনা সাক্ষর কার্ডঃ

“হিসাব খোলার সময় আমানতকারীর নমুনা সাক্ষরের জন্য ব্যাংক কতৃক যে কার্ড সরবরাহ করা হয় তাকে নমুনা সাক্ষর কার্ড বলে”।

ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে হলে গ্রাহককে চেক লিখতে হয় আর সেই চেকে গ্রাহকের সাক্ষর দিতে হয়।নমুনা সাক্ষর কার্ডের মাধ্যমে সে সাক্ষরই নেয়া হয়। চেকে দেয়া সাক্ষর এই সাক্ষরের সাথে না মিললে টাকা উত্তোলন করা যায় না। 

ব্যাংক পাশ বইঃ

“সঞ্চয়ী হিসাবের ক্ষেত্রে ব্যাংক তার গ্রাহককে লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহের জন্য যে ক্ষুদ্রাকৃতির বই সরবরাহ করে তাকে পাস বই বলে”।আমানতকারীদের ব্যাংক হিসাবের যে খাতা ব্যাংকের নিকট থাকে পাসবই ঠিক তারই অনুলিপি।

এই ছিল ৪র্থ অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ টপিক এবং তাদের আলোচনা। এগুলো ভালো করে পড়ে নিলেই মনে হয় না আর বেশি পড়তে হবে। তবুও এমসিকিউ এর জন্য পুরো অধ্যায়টা বই থেকে একবার দেখে নিলেই হবে।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party