অধ্যায় ৩: ব্যাপন, অভিস্রবণ প্রস্বেদন

JSC / বিজ্ঞান

অধ্যায় ৩: ব্যাপন, অভিস্রবণ প্রস্বেদন

ব্যাপন

সকল পদার্থ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণু দিয়ে তৈরি। এ অণুগুলো সব সময়ই চলমান অবস্থাতে থাকে। বেশি ঘনত্ব থেকে
অণু কম ঘনত্বের দিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। উভয় দিকে সমান না হওয়া পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে। এ
প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।

ব্যাপনের গুরুত্ব

● জীবের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজে ব্যাপন প্রক্রিয়া ঘটে। যেমন- উদ্ভিদ সালেকসংশ্লেষণের সময়
বাতাসের কার্বনডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে। এই অত্যাবশ্যক কাজ ব্যাপন
দ্বারা সম্ভব হয়।
● জীবকোষে শ্বসনের সময় গ্লুকোজ জারণের জন্য অক্সিজেন ব্যবহৃত হয়। ব্যাপন ক্রিয়ার মাধ্যমে
কোষে অক্সিজেন প্রবেশ করে ও কার্বনডাই-অক্সাইড বের হয়।
● উদ্ভিদ দেহে শোষিত পানি বাষ্পাকারে প্রস্বেদনের মাধ্যমে দেহ থেকে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বের করে
দেয়। প্রাণীর শ্বসনের সময় অক্সিজেন ও কার্বনডাই-অক্সাইড আদান-প্রদান, রক্ত থেকে পুষ্টি
উপাদান, অক্সিজেন পরিবহন প্রভৃতি ব্যাপনের মাধ্যমে ঘটে।

অভিস্রবণ

অভিস্রবণ বুঝতে হলে নিচের বিষয় গুলো বুঝতে হবে। যেমন:
★অভেদ্য পর্দা: যে পর্দা দিয়ে দ্রাবক ও দ্রাব উভয় প্রকার পদার্থের অণু চলাচল করতে পারে না তাকে
অভেদ্য পর্দা বলে। যেমন- পলিথিন।
★ ভেদ্য পর্দা: যে পর্দা দিয়ে দ্রাবক ও দ্রাব উভয় পদার্থের অণু চলাচল করতে পারে তাকে ভেদ্য পর্দা
বলে। যেমন- কোষপ্রাচীর।
★ অর্ধভেদ্য পর্দা: যে পর্দা দিয়ে কেবল দ্রবণের দ্রাবক অণু চলাচল করতে পারে কিন্তু দ্রাব অণু চলাচল
করতে পারে না তাকে অর্ধভেদ্য পর্দা বলে। যেমন – কোষপর্দা, ডিমের খোসার ভেতরের পর্দা ইত্যাদি।

অভিস্রবণের সংজ্ঞাঃ একই দ্রব ও দ্রাবক বিশিষ্ট দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ একটি অর্ধভেদ্য পর্দা
দ্বারা পৃথক থাকলে যে ভৌত প্রক্রিয়ায় দ্রাবক কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে অধিক ঘনত্বের দ্রবণের দিকে
ব্যাপিত হয় তাকে অভিস্রবণ বা অসমোসিস বলে।

অভিস্রবণের গুরুত্ব

● জীবকোষের কোষাবরণ বা প্লাজমা পর্দা অর্ধভেদ্য পর্দা হিসেবে কাজ করে।
● প্লাজমা পর্দা দিয়ে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় মাটিস্থ পানি মূলরোমের মধ্যে প্রবেশ করে বা বাইরে
আসে।
● কোষস্থিত পানি খনিজ লবণকে দ্রবীভূত করে কোষ রসে পরিণত হয়।
● কোষের মধ্যে বিভিন্ন জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়াগুলোকে সচল রাখে।

উদ্ভিদের পানি ও খনিজ শোষণ পদ্ধতি

★ মাটি থেকে পানি ও পানিতে দ্রবীভূত খনিজ লবণ উদ্ভিদ দেহের সজীব কোষে টেনে নেওয়ার পদ্ধতিকে শোষণ
বলে।

*স্থলে বসবাসকারী উদ্ভিদ মূলরোমের সাহায্যে মাটি থেকে পানি শোষণ করে।
*উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ লবণের উৎস মাটিস্থ পানি।

ইমবাইবিশন:

কলয়েডধর্মী বিভিন্ন পদার্থ (কোষপ্রাচীর) যে প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের তরল পদার্থ (পানি) শোষণ করে তাকে ইমবাইবিশন বলে।

প্রস্বেদন

*প্রস্বেদনের অপর নাম বাষ্পমোচন।
*এটি উদ্ভিদের একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।

**উদ্ভিদ মূলরোমের মাধ্যমে প্রচুর পানি শোষণ করে। শোষিত পানির কিছু অংশ উদ্ভিদ তার বিভিন্ন বিপাকীয়
কাজে ব্যবহার করে এবং বাকি অংশ বাষ্পাকারে বায়ুমন্ডলে পরিত্যাগ করে। উদ্ভিদের দেহান্তর থেকে পাতার
মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানির এই নির্গমন প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বলে।
*প্রস্বেদন পত্ররন্ধ্রনের মাধ্যমে হয়।
★ প্রস্বেদন ৩ প্রকার।
১) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন
২) ত্বকীয় বা কিউটিকুলার প্রস্বেদন
৩) সেন্টিকুলার প্রস্বেদন।

প্রস্বেদনের গুরুত্ব

● প্রস্বেদন উদ্ভিদের জন্য ‘Necessary Evil’
● প্রস্বেদনের মাধ্যমে উদ্ভিদ তার দেহ থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে দেয়।
● প্রস্বেদনের ফলে কোষরসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়।
● উদ্ভিদকে পানি ও খনিজ লবণ শোষণে সহায়তা করে।
● উদ্ভিদদেহকে ঠান্ডা রাখে।
● পাতার আর্দ্রতা বজায় রাখে।
● খাদ্য তৈরির জন্য পাতায় অবিরাম পানি সরবরাহ করে।
● প্রস্বেদনের ফলে প্রচুর পানি বাষ্পাকারে বায়ুমন্ডলে পৌঁছায়।

পানি ও খনিজ লবণের পরিবহন

  • উদ্ভিদের সংবহন বা পরিবহন বলতে প্রধানত উর্ধ্বমুখী পরিবহন এবং নিম্নমুখী পরিবহনকে বোঝায়।
  • জাইলেম ও ফ্লোয়েম হলো উদ্ভিদের পরিবহনের পথ।
  • জাইলেমের মাধ্যমে উদ্ভিদদেহে রসের উর্ধ্বমুখী পরিবহন হয়।
  • ফ্লোয়েমের মাধ্যমে পাতায় তৈরি খাদ্যরসের উভমুখী পরিবহন হয়।

Written by:

নাফিসা আনজুম মৌলি

ব্যাংকিং ও বীমা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party