২য় অধ্যায়ঃ বিপণন পরিবেশ।

উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন / উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন (২য় পত্র)

২য় অধ্যায়ঃ বিপণন পরিবেশ।

“পরিবেশ” আমাদের কাছে খুবই পরিচিত একটি শব্দ।আমরা ছোটবেলায়ি পড়ে এসেছি, “আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে তা নিয়েই আমাদের পরিবেশ”। কিন্তু এখানে কথা হচ্ছে বিপণন পরিবেশ নিয়ে।তাই সাধারণ অর্থে,  বিপণন কার্যক্রমে যা কিছু প্রভাব ফেলে তা নিয়েই বিপণন পরিবেশ। 

খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। প্রতিবছরই এখান থেকে ১টি সৃজনশীল প্রশ্ন করা হয়।আর এমসিকিউ তো আছেই।এডমিশনের জন্যও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তাই চলো দেখে আসি পুরো অধ্যায়টি,

গুরুত্বপূর্ণ টপিকসঃ

  • পরিবেশ ও বিপণন পরিবেশের ধারনা।
  • বিপণন পরিবেশের প্রকারভেদ ( ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক পরিবেশ)।
  • ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক পরিবেশের উপাদানসমূহ।

CQ স্পেশালঃ

  • বিপণনের প্রকারভেদ সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে।


পরিবেশ ও বিপণন পরিবেশের ধারনাঃ

পরিবেশঃ কোন নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর যে সকল বাহ্যিক পক্ষ,সত্তা ও শক্তি প্রভাবে বিস্তার করে সেগুলোর সমন্বয়েই ঐ পরিবেশ গঠিত হয়।

কোন একটি বিষকে কেন্দ্র করে সাধারণ পরিবেশ গঠিত হয়।এজন্য প্রথমে কোন একটি বিষয়কে ঠিক করে তার আলোকে পরিবেশকে চিন্তা করতে হবে।

বিপণন পরিবেশঃ এখন সে বিষয়টি যদি আমরা বিপণন বা বাজারজাতকরণকে চিন্তা করি তাহলে বিপণন পরিবেশ হলো, 

“কোন পন্য বা সেবা বাজারজাতকরণে যে সমস্ত পক্ষ,শক্তি বা পারিপার্শ্বিক উপাদানসমূহ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করে তাকে বাজারজাতকরণ বা বিপণন পরিবেশ বলে”।

পরিবেশ কতগুলো শক্তি ও সত্তার সমন্বয়ে গঠিত। বাজারজাতকরণ পরিবেশ  প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রতিষ্ঠানের কার্যে প্রভাব বিস্তার করে।


বিপণন পরিবেশের প্রকারভেদঃ

বিপনণন পরিবেশকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।যথাঃ

১. ব্যষ্টিক বা নিয়ন্ত্রণযোগ্য পরিবেশ। 

২. সামষ্টিক বা অনিয়ন্ত্রণযোগ্য পরিবেশ।

ব্যষ্টিক পরিবেশঃ কোন পন্য বা সেবা বাজারজাতকরণে যে সমস্ত পক্ষ,শক্তি বা পারিপার্শ্বিক উপাদানসমূহ প্রত্যক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করে তাকে ব্যষ্টিক পরিবেশ বলে।

  • এই পরিবেশের উপাদান গুলো কোম্পানি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
  • এই পরিবেশের উপাদানগুলো বিপনণন কার্যক্রমে প্রত্যেক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করে।
  • এই পরিবেশের উপাদানগুলো কোম্পানির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। 

সামষ্টিক পরিবেশঃ কোন পন্য বা সেবা বাজারজাতকরণে যে সমস্ত পক্ষ,শক্তি বা পারিপার্শ্বিক উপাদানসমূহ পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করে তাকে সামষ্টিক পরিবেশ বলে।

  • সামষ্টিক পরিবেশ ব্যষ্টিক পরিবেশকে ঘিরে থাকে।
  • এই পরিবেশ কোম্পানি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।
  • এ পরিবেশ বিপণন কার্যক্রমকে পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করে। 


ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক পরিবেশের উপাদানসমূহঃ

ব্যষ্টিক পরিবেশ কোম্পানির নিয়ন্ত্রণাধীন। কিন্তু সামষ্টিক পরিবেশের উপর কোম্পানির কোন নিয়ন্ত্রণ থাকে না।

ব্যষ্টিক পরিবেশের উপাদানসমূহঃ

১. কোম্পানিঃ কোম্পানি ব্যষ্টিক পরিবেশের অন্যতম উপাদান।কোম্পানি হচ্ছে আইন দ্বারা গঠিত সংস্থা যেখানে কতিপয় সদস্য মিলিত হয়ে বিপণন কার্যক্রম সম্পাদনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা এর অঅভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিভাগ দ্বারা সম্পাদিত ও পরিচালিত হয়।কোম্পানি কোন একটি পন্য বা সেবা বিপণনে যে সিদ্ধান্ত নিবে তাই কার্যকর হবে।এখানে কোম্পানি প্রত্যক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করে।

২. সরবরাহকারীঃ কোম্পানির পন্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল বা উৎপাদনের উপকরণ যারা সরবরাহ করে তাদের সরবরাহকারী বলে। এরা যদি সঠিক সময়ে মানসম্মত কাঁচামাল সরবরাহ না করে তাহলে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হবে।যার কারণে ক্রেতাভ্যালু ও বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে না।তাই এদের সরবরাহকারীর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।

৩. মধ্যস্থকারবারিঃ উৎপাদনকারীর উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী চূড়ান্ত ভোক্তার নিকট যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পৌঁছে দিতে সাহায্য করে তাকেই বিপণন মধ্যস্থকারবারি বলে। এরা কোম্পানির পন্য উপস্থাপন ,বিক্রয়,বন্টন ও প্রসারমূলক কার্যক্রমে সহায়তা করে। মধ্যস্থকারবারি বলতে পাইকারী, খুচরা বিক্রেতা,প্রতিনিধি, কমিশন মার্চেন্ট,সেবা সংস্থা,আর্থিক মধ্যস্থকারবারি ইত্যাদি বুঝায়।

৪. ক্রেতাঃ যে সকল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বাজারজাতকারীর পন্য বা সেবা ক্রয় করে তাদেরকে ক্রেতা বলে।সাধারণত ৫ ধরনের ক্রেতা রয়েছে। যেমনঃ “VP BAS” (V=ভোক্তা বাজার, P=পুনঃবিক্রেতা বাজার, B= ব্যবসায় বাজার/শিল্প বাজার, A= আন্তর্জাতিক বাজার, S= সরকারি বাজার)।

৫. প্রতিযোগীঃ একই জাতীয় পন্য বা সেবা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রত্যেককেই একে অপরের প্রতিযোগী বলা হয়।প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে কোম্পানিকে অবশ্যই “ক্রেতা সন্তুষ্টি ও ক্রেতাভ্যালুর” দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৬. জনগোষ্ঠীঃ জনগোষ্ঠী হলো এমন এক ধরনের দল বা গোষ্ঠী যা কোম্পানির উদ্দেশ্য অর্জনের সামর্থ্যের উপর প্রত্যক্ষ প্রভাব বিস্তার করে। ৭ ধরনের জনগোষ্ঠী রয়েছে। যেমনঃ “অপ্রসসা অনাস্থ”(অ→অর্থসংস্থানকারী জনগোষ্ঠী, প্র→প্রচার জনগোষ্ঠী, স→সরকারি জনগোষ্ঠী, সা→সাধারণ জনগোষ্ঠী, অ→অভ্যন্তরীণ জনগোষ্ঠী, না→নাগরিক জনগোষ্ঠী, স্থ→স্থানীয় জনগোষ্ঠী)। 

সামষ্টিক পরিবেশের উপাদানসমূহঃ

১.জনসংখ্যাগত পরিবেশঃ দেশের জনসংখ্যার আয়তন,ঘনত্ব,অবস্থান, বয়স, লিঙ্গ, বর্ণ, পেশা ইত্যাদির সমন্বয়ে রুপকে জনসংখ্যাগত পরিবেশ বলে। এটির উপর কোম্পানির কোন নিয়ন্ত্রণ থাকে না তাই এই পরিবেশের সাথে তাল মিলিয়ে পন্য বা সেবা উৎপাদন করতে হয়।

২. অর্থনৈতিক পরিবেশঃ ভোক্তার আয়,ক্রয় ক্ষমতা ও ব্যয়ের ধরণ নির্ভর করে একটি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উপর। অর্থাৎ পন্যমূল্য,বিনিয়োগ ,ভোগ, সঞ্চয়, আয়কর,মুদ্রাস্ফীতি ইত্যাদির কারণে ক্রেতার ক্রয় আচরণে ফেলে। তাই একজন বাজারজাতকারীকে পন্য বা সেবা বিপণনে অবশ্যই এ বিষয়টি মাথা রাখতে হবে।

৩. প্রাকৃতিক পরিবেশঃ খনিজ সম্পদ, আবহাওয়া, মাটি, জলবায়ু, নদ-নদী ইত্যাদি নিয়ে গঠিত পরিবেশই প্রাকৃতিক পরিবেশ। উৎপাদনকারী তার প্রয়োজনীয় সকল কাচামাল প্রকৃতি থেকেই পেয়ে থাকে। তাই, তাদের পন্য উৎপাদনে প্রাকৃতিক পরিবেশকে বিবেচনায় রাখতে হবে।

৪. প্রযুক্তিগত পরিবেশঃ প্রযুক্তিগত পরিবেশ অতি দ্রুত পরিবর্তনশীল।প্রযুক্তি বাজারজাতকারীর জন্য হুমকি ও সুযোগ উভয়ই সৃষ্টি করে।এ পরিবেশ কম্পিউটার, ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি, গবেষণা ইত্যাদির সমন্বয়ে গঠিত। এ সকল উপাদান দ্বারা নতুন প্রযুক্তি সৃষ্টি, এর দ্রুততর পরিবর্তন, নতুন পন্যের উদ্ভাবন ও বাজারজাতকরণ কৌশল প্রণয়ন ইত্যাদি করা হয়।

৫. রাজনৈতিক পরিবেশঃ রাজনৈতিক পরিবেশ বলতে দেশের সরকারি নিয়মনীতি,অন্যান্য বিপক্ষীয় দল,আইন-কানুন, হরতাল-ধর্মঘট প্রভৃতিকে বুঝায়।এগুলোর কারনে পন্য বা সেবার বাজারজাতকরণ বাধাগ্রস্ত হয়।আবার সরকারি বিধিনিষেধ অনুকূলে থাকলে প্রতিষ্ঠান দ্রুত তার লক্ষ অর্জনে সমর্থ হয়।

৬. সাংস্কৃতিক পরিবেশঃ সাংস্কৃতিক পরিবেশ হলো ঐসকল উপাদানের সমন্বয় যা সামাজিক মূল্যবোধ, বিশ্বাস, প্রত্যক্ষণ,অগ্রাধিকার ও আচরণ যা বাজারজাত কার্যক্রমের উপর প্রভাব বিস্তার করে।যেমনঃ খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, পোশাক,বিভিন্ন দিবস পালন, বিশ্বাস বা প্রচলিত ধারা ইত্যাদি। এসব কখনো একটি কোম্পানি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।এজন্য কোম্পানিকে এই পরবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয় এবং সে অনুযায়ী পন্য বা সেবা উৎপাদন করতে হয়।


এই ছিল এ অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ টপিক গুলো।এর বাহিরে আর না পড়লেও চলে। তবে এমসিকিউ বই থেকে একবার অধ্যায়টা পড়ে নিলেই হলো।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party