২য় অধ‍্যায়:আর্থিক বাজারের আইনগত দিকসমূহ

ফাইনান্স, ব্যাংকিং ও বীমা / ফাইনান্স, ব্যাংকিং ও বীমা (১ম পত্র)

২য় অধ‍্যায়:আর্থিক বাজারের আইনগত দিকসমূহ

আর্থিক বাজার

যে বাজারে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দলিল সমূহ ক্রয় বিক্রয় করা হয় তাকে আর্থিক বাজার বলে।

আর্থিক বাজার ২ প্রকার:

(১)মুদ্রা বাজার

(২)মূলধন বাজার

মুদ্রা বাজার– যে বাজারে স্বল্প মেয়াদি (১ বছর বা তার কম সময়ের জন‍্য) আর্থিক দলিল কেনাবেচা হয় তাকে মুদ্রা বাজার বলে। এ বাজারে ট্রেজারি বিল, বাণিজ্যিক পত্র, ব‍্যাংকের স্বীকৃতিপত্র, পুনঃক্রয় চুক্তি, হস্তান্তরযোগ‍্য আমানত সার্টিফিকেট ইত্যাদি সিকিউরিটি লেনদেন হয়ে থাকে। এ বাজারে ঝুঁকি কম এবং লেনদেন খরচ কম হয়ে থাকে। মুদ্রা বাজার নিয়ন্ত্রণ করে বাংলাদেশ ব‍্যাংক।

মূলধন বাজার-যে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি (১ বছরের বেশি সময়ের জন‍্য) আর্থিক দলিল কেনাবেচা হয় তাকে মূলধন বাজার বলে। সাধারণ শেয়ার, অগ্রাধিকার শেয়ার, বন্ড ইত‍্যাদি সিকিউরিটির লেনদেন এ বাজারে হয়ে থাকে। এ বাজারে ঝুঁকি ও লেনদেন খরচ বেশি হয়ে থাকে। বিএসইসি (বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন)  মূলধন বাজার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

শেয়ার

একটি কোম্পানির মূলধনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশকে শেয়ার বলে।

শেয়ার বাজার ২ প্রকার:

(১)প্রাথমিক বাজার– যে বাজারে শেয়ার বিক্রির প্রথম প্রস্তাব (Initial Public Offering-IPO) করা হয়।

(২)মাধ‍্যমিক বাজার– প্রাথমিক বাজারে ইস‍্যুকৃত শেয়ার, বন্ড ইত্যাদি পরবর্তীতে যে বাজারে ক্রয়-বিক্রয় করা হয়।

বাংলাদেশে দুটি শেয়ার বাজার রয়েছে:

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ -বাংলাদেশের ১ম ও সর্ববৃহৎ শেয়ার বাজার। ১৯৫৪ সালে East Pakistan Stock Exchange নামে নিবন্ধিত হয় কিন্তু কার্যক্রম শুরু করে ১৯৫৬ সালে এবং ১৯৬৪ সালে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় Dhaka Stock Exchange.

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ-১৯৯৫ সালে নিবন্ধিত হয় এবং কার্যক্রম শুর করে।


ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ব‍্যবহৃত সূচক ৩টি:

১)ডিএসই ব্রড সূচক(DSEX Index)

২)ডিএসইএস সূচক(DSES Index)

৩)ডিএসই ৩০ সূচক(DSE 30 Index)

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে ব‍্যবহৃত সূচক ৫টি:

১)সিএসসি সকল শেয়ারমূল‍্য সূচক

২)CSE Selected সূচক

৩)সিএসই ৩০ সূচক

৪)CSE50 Index

৫)CSI Index


আর্থিক বাজার সংশ্লিষ্ট আইনসমূহ:

-চুক্তি আইন ১৮৭২

-হস্তান্তরযোগ‍্য দলিল আইন ১৮৮১

-অংশীদারি আইন ১৯৩২

-কোম্পানি আইন ১৯৯৪

-বৈদেশিক বিনিময় নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৪৭

-আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ১৯৯৩

-বিমা আইন ২০১০

-ব‍্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ (সংশোধিত হয় ২০১৩)

-সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ অধ‍্যাদেশ ১৯৬৯

-মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি আইন ২০০৬

-মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১৫ (সংশোধিত )

মানি লন্ডারিং- অবৈধ উপায়ে সম্পত্তি /অর্থ অর্জন, স্থানান্তর বা উক্ত কাজে সহায়তা করা।

মানি লন্ডারিং এর ৩টি ধাপ রয়েছে-প্লেসমেন্ট, লেয়ারিং, ইন্টিগ্রেশন।

  • প্লেসমেন্ট-অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ যখন ১ম বারের মত একটি ব‍্যাংক হিসাবে জমা হয়।
  • লেয়ারিং-প্লেসমেন্টকৃত অর্থ জটিল আর্থিক লেনদেনের মাধ‍্যমে বিভিন্ন স্তরে সরানো বা স্থানান্তরের প্রক্রিয়া।
  • ইন্টিগ্রেশন-লেয়ারিং সফল হওয়ার পর ইন্টিগ্রেশন এর সাহায্যে অবৈধ অর্থ এমনভাবে ব‍্যবহৃত হয় যাতে মনে হয় এটি বৈধ পন্হায় অর্জিত।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party