২য় অধ্যায়ঃ কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ফাইনান্স, ব্যাংকিং ও বীমা / ফাইনান্স, ব্যাংকিং ও বীমা (২য় পত্র)

২য় অধ্যায়ঃ কেন্দ্রীয় ব্যাংক

কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি দেশের সর্বোচ্চ আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যাবলী সম্পাদন করা, ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও মুদ্রার প্রচলন করে থাকে। মূলত দেশের অর্থ বাজারের আর্থিক স্থিতিশীলতা আনয়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নই এ ব্যাংকের প্রধান কাজ।

এই অধ্যায়টি থেকে প্রতিবছরই একটি করে সৃজনশীল প্রশ্ন করা হয়। অর্থাৎ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। এছাড়া একটা অধ্যায়ের সবকিছু কিন্তু পড়তে হয়না শুধু গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো খুঁজে পড়ে নিলেই হয়ে যাচ্ছে।চলো তাহলে দেখে আসি গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো  এবং তাদের বিস্তারিত আলোচনা,

গুরুত্বপূর্ণ টপিকসঃ

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ধারণা, বৈশিষ্ট্য ও কার্যাবলী। 
  • তালিকাভুক্ত ব্যাংকের ধারণা ও সুযোগ-সুবিধা। 
  • কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নোট ইস্যুকরণ পদ্ধতি। 
  • কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি।
  • নিকাশ ঘরের ধারনা ও বৈশিষ্ট্য। 

CQ স্পেশালঃ

  •  “কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি” সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকলেই সৃজনশীল প্রশ্ন কমন পাওয়া যায়।


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ধারণা, বৈশিষ্ট্য ও কার্যাবলীঃ

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বানিজ্যিক ব্যাংকের বিবর্তনের ফসল। ১৬৯৪ সালে “ব্যাংক অব ইংল্যান্ড” প্রতিষ্ঠিত হয় যা বিশ্বের প্রথম কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যেকোন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূলত জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে গঠিত হয়।

“যে ব্যাংকে কেন্দ্র করে একটি দেশের ব্যাংকিং ব্যাবস্থা ও অর্থ বাজার গড়ে উঠে তাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলে।“

বৈশিষ্ট্যঃ

  • একক সংগঠন–প্রত্যেক দেশে একটি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থাকে।
  • মালিকানার ধরন–সরকারি মালিকানাধীন। তবে অনেক ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগেও গঠিত হয়। 
  • জনকল্যাণ–অমুনাফাভোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে জনকল্যানের উদ্দেশ্যে গঠিত।
  • বৈদেশিক বিনিময়ের নিয়ন্ত্রক–বৈদেশিক বিনিময় হার নির্ধারণ, রিজার্ভ সংরক্ষণ, বিদেশি ব্যাংকের সাথে সমন্বয় ইত্যাদি যাবতীয় কাজ কেন্দ্রীয় ব্যাংক করে থাকে।
  • অর্থ বাজার গঠন ও পরিচালনা–দেশে মুদ্রার প্রচলন, মুদ্রা বাজার গঠন, পরিচালনা ও উন্নয়নে ব্যবস্থাপকীয় ও অর্থনৈতিক কার্যাবলী সম্পাদন করে। 

কার্যাবলীঃ

ক) সাধারণ কার্যাবলীঃ

১. ঋণ তদারকি।   ২. ঋণ নিয়ন্ত্রণ।   ৩. মুদ্রামান সংরক্ষণ। ৪. নোট ও মুদ্রা প্রচলন। 

৫. নিকাশ ঘর।     ৬. ঋণ দান। ৭. বিনিময় হার নির্ধারণ। ৮. অর্থবাজার হার নিয়ন্ত্রণ। 

খ) অর্থনৈতিক কার্যাবলীঃ

১. মুদ্রাস্ফীতি। ২. আমদানি-রপ্তানি।  ৩. আর্থিক পরিকল্পনা।   ৪. রাজস্ব আয় বৃদ্ধি। 

গ) সামাজিক কার্যাবলীঃ

১. কর্মসংস্থান সৃষ্টি। ২. জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন। ৩. অবকাঠামোগত উন্নয়ন। ৪. উদ্যোক্তা সৃষ্টি।

ঘ) প্রতিনিধিত্বমূলক কার্যাবলীঃ

১. সরকারের উপদেষ্টা ও প্রতিনিধি। ২. বিদেশি ব্যাংকের সাথে সম্পর্ক। 

ঙ)  অন্যান্যঃ

১. রিপোর্ট তৈরি ও প্রকাশ।  ২. হিসাব নিরীক্ষণ। ৩. খেলাপী ঋণ আদায়। ৪. রিজার্ভ
সংরক্ষণ। 


তালিকাভুক্ত ব্যাংকের ধারণা ও সুযোগ-সুবিধাঃ

“যে সকল ব্যাংক দেশের অভ্যন্তরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তালিকাভুক্ত হয়ে এবং নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে তাদেরকে তালিকাভুক্ত ব্যাংক বলে।“

সুবিধাঃ

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংক হতে পরামর্শ ও নির্দেশনার সুবিধা।
  • বিল বাট্টাকরণ সুবিধা। 
  • নিকাশ ঘরের সুবিধা। 
  • বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেনের সুবিধা। 
  • কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের সুবিধা। 


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নোট ইস্যুকরণ পদ্ধতিঃ

আজকের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উৎপত্তি মূলত নোট ইস্যুর প্রয়োজনেই। নোট ইস্যুর পদ্ধতি নিন্মরুপ,

১. সর্বোচ্চ আস্থাভাজন পদ্ধতিঃ কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার জমাকৃত স্বর্ণমূল্যের সমপরিমাণ নোট ইস্য করতে পারবে। অসুবিধা হলো স্বর্ণের যোগান সীমিত বলে নোট ইস্যুর সুযোগ ও কম। বর্তমানে কোন দেশেই এই পদ্ধতি নেই।

২. আংশিক আস্থাভাজন পদ্ধতিঃ সরকারি সিকিউরিটিজ জমা রেখে নির্দিষ্ট পরিমান নোট ও মুদ্রা ইস্যু করা হয়। অতিরিক্ত নোট ও মুদ্রা  ইস্যুর ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে সমপরিমাণ স্বর্ণ জমা রাখতে হয়। ১৮৪৪ সালে ইংল্যান্ড সর্বপ্রথম এ পদ্ধতি ব্যবহার করে।

৩. আনুপাতিক সঞ্চিতি পদ্ধতিঃ  কেন্দ্রীয় ব্যাংক নোট ইস্যুর বিপরীতে একটা নির্দিষ্ট অনুপাতে স্বর্ণ , সরকারি সিকিউরিটি ও বন্ড জমা রাখবে। আমেরিকায় সর্বপ্রথম প্রয়োগ করা হয়।

৪. বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চিতি পদ্ধতিঃ কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের বিপরীতে নোট ইস্যু করে। আবার আংশিক স্বর্ণমুদ্রা ও আংশিক বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতেও নোট ইস্যু করতে পারে। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত নোট ইস্যুর জন্য ব্যাংকের সকল সম্পত্তি দায়ী থাকবে।


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিঃ

১. ব্যাংক হার নীতিঃ

কেন্দ্রীয় যে সুদের হারে বানিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের ঋণপত্র বা বিনিময় বিলসমূহের বিনিময়ে অর্থ ঋণ দেয় তাকে ব্যাংক হার নীতি বলে। এই হারের হ্রাস বৃদ্ধির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণ করে। 

ব্যাংক হার বৃদ্ধি→বাজারে ঋণের পরিমান হ্রাস

ব্যাংক হার হ্রাস→বাজারে ঋণের পরিমান বৃদ্ধি 

২. খোলা বাজার নীতিঃ

কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন খোলা বাজারে বিভিন্ন ধরনের সরকারি বন্ড, সিকিউরিটিজ বিক্রির মাধ্যমে বাজারে ঋণের হার নিয়ন্ত্রণ করে। এতে সাধারণ জনগন বানিজ্যিক ব্যাংকে জমাকৃত অর্থ দিয়ে সিকিউরিটি ক্রয় করলে টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চলে যায়। এতে বানিজ্যিক ব্যাংকের আমানত কমে যাওয়ায় ঋণদান ক্ষমতাও হ্রাস পায়।

খোলা বাজারে সিকিউরিটি বিক্রয়→ বাজারে ঋণের পরিমান হ্রাস

খোলা বাজারে সিকিউরিটি ক্রয়→ বাজারে ঋণের পরিমান বৃদ্ধি

৩. জমার হার পরিবর্তন নীতিঃ

দেশের বানিজ্যিক বা তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোকে তাদের মোট মূলধনের একটা নির্দিষ্ট অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নগদ রিজার্ভ হিসেবে রাখতে হয়। এই হার কম-বেশির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণ করে। 

জমার হার বৃদ্ধি→ বাজারে ঋণের পরিমান হ্রাস

জমার হার হ্রাস→ বাজারে ঋণের পরিমান বৃদ্ধি

৪. ঋণের রেশনিংঃ

বানিজ্যিক ব্যাংক প্রত্যেক আবেদনকারিকে কি পরিমান ঋণ দিবে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারণ করে দিবে। যদিও স্বাভাবিক অবস্থায় এরুপ ঋণ দেয়া হয়না।

৫. ঋণের বরাদ্দকরণ নীতিঃ

বিশেষ বিশেষ খাত চিহ্নিত করে সেক্ষেত্রে ঋণের পরিমান হ্রাস-বৃদ্ধি করার নীতিকে ঋণের বরাদ্দকরণ নীতি বলে।এই নীতিতে যে খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া দরকার সেই খাতে ঋণের বরাদ্দ বেশি রাখা হয়।


নিকাশ ঘরের ধারনা ও বৈশিষ্ট্যঃ

যে ঘরে বসে বানিজ্যিক ব্যাংকসমূহ তাদের পারস্পরিক দেনা পাওনা খুব সহজেই নিষ্পত্তি করে তাকে নিকাশ ঘর বা ক্লিয়ারিং হাউজ বলে। সর্বপ্রথম ইংল্যান্ডে নিকাশ ঘর ব্যবস্থার বিকাশ ঘটে। আরভিল নামক একজন ব্যাংকার নিকাশ ঘরের ধারনা প্রবর্তন করেন।

বৈশিষ্ট্যঃ

  • নির্দিষ্ট কক্ষ থাকে যেখানে নিকাশ কাজ করা হয়।
  • সুনির্দিষ্ট সময় থাকে
  • শুধু তালিকাভুক্ত ব্যাংকসমূহ এর সদস্য হতে পারে।
  • শুধু কার্য দিবসে কাজ করে।
  • নিকাশ ঘর একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। 
  • কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তক একজন পরিচালক দ্বারা পরিচালিত হয়।

এই ছিল ২য় অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ টপিক এবং তাদের আলোচনা। এগুলো ভালো করে পড়ে নিলেই মনে হয় না আর বেশি পড়তে হবে। তবুও এমসিকিউ এর জন্য পুরো অধ্যায় টা বই থেকে একবার দেখে নিলেই হবে।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party