২য় অধ্যায়ঃ উৎপাদনের উপকরণ।

উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন / উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন (১ম পত্র)

২য় অধ্যায়ঃ উৎপাদনের উপকরণ।

উৎপাদনের উপকরণ, কথাটি দ্বারা আমরা সহজেই বুঝতে পারছি এখানে সেই সকল উপাদান বা উপকরণের কথাই বলা হয়েছে যেগুলো ছাড়া উৎপাদন অসম্ভব।

বিঃদ্রঃ পোস্টটি এমন ভাবে লেখা হয়েছে যেনো তোমার শুধু এই পোস্ট ভালোভাবে পড়লে আর বই পড়তে না হয়। 

এই অধ্যায়টি থেকে প্রতিবছরই একটি CQ এবং বেশ কিছু MCQ প্রশ্ন করা হয়ে থাকে।

আর আরেকটা মজার ব্যাপার হলো, গুরুত্বপূর্ণ টপিক গুলো খুজে পড়ে নিলেই কিন্তু হয়ে যায় পুরো অধ্যায় টা তোমার পড়তে হচ্ছে না।তাছাড়া পরিক্ষার আগ মুহুর্তে বিস্তারিত পড়ার সময়ও থাকে না।এখন তাহলে আমরা দেখে নেই গুরুত্বপূর্ণ টপিক গুলো এবং এর বিশদ আলোচনাঃ

গুরুত্বপূর্ণ টপিকসঃ

  • উৎপাদনের উপকরণসমূহের ধারণা। 
  • ভুমির বৈশিষ্ট্য ও ভুমির উৎপাদন ক্ষমতা নির্ধারকসমুহ।
  • শ্রমের বৈশিষ্ট্য ও শ্রমের প্রকারভেদ। 
  • শ্রমবিভাগের ধারনা ও প্রকারভেদ। 
  • মুলধনের বৈশিষ্ট্য ও মুলধন গঠনের ধারণা।
  • সংগঠনের বৈশিষ্ট্য ও শ্রেণিবিভাগ।

CQ স্পেশালঃ

  • উৎপাদনের ৪ টি উপকরণ সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকা চাই।


উৎপাদনের উপকরণসমূহের ধারণাঃ

অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে উৎপানের উপকরণ ৪ টি।যথাঃ ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন। 

ভূমিঃ উৎপাদন কাজে ব্যাবহৃত হয় প্রকৃতি প্রদত্ত এমন সকল সম্পদকে ভুমি বলে।যেমন– মাটি,আবহাওয়া, জলবায়ু, বাতাস, খনিজ সম্পদ, নদী, সমুদ্র, পাহাড় প্রভৃতি।

শ্রমঃ উপার্জনের উদ্দেশ্যে মানুষের শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধি বৃত্তিক কর্ম প্রচেষ্টা যা উৎপাদন কাজে ব্যাবহৃত হয় তাকে শ্রম বলে।অর্থের সম্পর্ক নেই এমন কোন কাজ করলে তাকে শ্রম বলা যাবে না।

মূলধনঃ সম্পদের যে অংশ মানুষ সঞ্চয় করে এবং ভবিষ্যতে আয় করার জন্য পুনরায় ব্যবহার করে তাকে মূলধন বলে।মূলধন মানুষের অতীত শ্রমের ফসল।প্রকৃতি প্রদত্ত কোন পন্য দ্রব্য  মূলধন হিসেবে গণ্য হবে না।

সংগঠনঃ উৎপাদনের অন্যান্য উপাদানকে একত্রিত করে তাদের কাজের মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয় সাধন করাকে সংগঠন বলে। ভূমি, শ্রম ও মুলধন এ তিনটি উপাদান দিয়ে উৎপাদন হবে না যদি এগুলোর মাঝে সুষ্ঠু সমন্বয় না করা হয়।সংগঠনই এগুলোকে একত্রিকরণ করে।


ভুমির বৈশিষ্ট্য ও ভুমির উৎপাদন ক্ষমতা নির্ধারকসমুহঃ

ভূমি হচ্ছে উৎপাদনের আদি ও মৌলিক উপকরণ। সকল কাচামালের একমাত্র উৎস হচ্ছে এই ভূমি।ভূমি অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে গতিশীল করে।

ভূমির বৈশিষ্ট্যঃ

  • ভূমি প্রকৃতির দান।
  • ভূমির যোগান সীমিত। 
  • স্থানান্তর অযোগ্য। 
  • ভূমির উৎপাদন ব্যয় নেই।
  • স্থানগত পার্থক্য। 
  • ভূমি অবিনশ্বর। 
  • ভূমির পরিতোষিককে খাজনা বলে।

ভূমির উৎপাদন ক্ষমতা নির্ধারকসমূহঃ

একটি নির্দিষ্ট পরিমান ভূমি দ্বারা যে পরিমান ফসল উৎপাদিত হয় তাই হচ্ছে ঐ ভূমির উৎপাদন ক্ষমতা। 

তিনটি টি বিষয়ের উপর নির্ভর করে ভূমির উৎপাদন ক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়ঃ

১। প্রাকৃতিক কারণঃ মাটির উপাদান,আলো-বাতাস,বৃষ্টিপাত,জমির উর্বরতা সব জায়গায় একরকম হয় না।তাই, প্রাকৃতিক এই উপাদান গুলোর উপস্থিতির উপর নির্ভর করে ভূমির উৎপাদন ক্ষমতা। 

২।ভৌগোলিক কারণঃ নদী তীরের জমি অধিক উর্বর কিন্তু নদী দুরবর্তী জমির উর্বরতা কম বলে উৎপাদন ক্ষমতা কম।

৩।মানবিক ও অর্থনৈতিক কারণঃ যে যতবেশি শ্রম দিবে ও যার যতবেশি আর্থিক সামর্থ আছে সে জমির উৎপাদন ক্ষমতা ততবেশি হবে।


শ্রমের বৈশিষ্ট্য ও শ্রমের প্রকারভেদঃ

শ্রমের বৈশিষ্ট্যঃ

  • শ্রম একটি জীবন্ত ও ধ্বংসশীল উপাদান।
  • শ্রম গতিশীল। 
  • শ্রম সংরক্ষণ করা যায় না।
  • মজুরির সাথে শ্রমের বিপরীত সম্পর্ক। (মানুষ অল্প শ্রমে অধিক মজুরি পেলে অধিক শ্রম দিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে)
  • শ্রমিক ও শ্রম অবিচ্ছেদ্য। 
  • শ্রমের পরিতোষিককে মজুরি বলে।

শ্রমের প্রকারভেদঃ

শ্রমকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়।

১।প্রত্যক্ষ শ্রমঃ উৎপাদন কাজে সরাসরি জড়িত এবং উৎপাদন কাজে প্রদত্ত শ্রমকে প্রত্যক্ষ শ্রম বলে।যেমনঃ মেশিন পরিচালক, হেল্পার।(শারীরিক) 

২।পরোক্ষো শ্রমঃ উৎপাদন কাজে সরাসরি জড়িত থাকে না।যেমনঃ সুপারভাইজার, ফোরম্যান, মান নিয়ন্ত্রণকারী।(মানসিক) 


শ্রমবিভাগের ধারনা ও প্রকারভেদঃ

পন্য ও সেবার সার্বিক উৎপাদন প্রক্রিয়াকে কর্মীর যোগ্যতা, দক্ষতা ও সামর্থ অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে ভাগ করে দেয়াকে শ্রমবিভাগ বলে। শ্রমবিভাগ শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে।

শ্রমবিভাগের প্রকারভেদঃ

শ্রমবিভাগ প্রধানত ৩ প্রকার।

১।সরল শ্রমবিভাগঃ শ্রমিকদের তাদের ইচ্ছা ও দক্ষতা অনুযায়ী কাজ ভাগ করে দেয়া হয়। অপর নাম কার্যভিত্তিক শ্রমবিভাগ।

২।জটিল শ্রমবিভাগঃ এ ক্ষেত্রে একটি কাজকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে প্রত্যেক ভাগের জন্য শ্রমিক বন্টন করে দেয়া হয়।

৩।আঞ্চলিক শ্রমবিভাগঃ অঞ্চল ভিত্তিক শ্রমকে ভাগ করে দেয়া।


মুলধনের বৈশিষ্ট্য ও মুলধন গঠনের ধারণাঃ

মূলধন উৎপাদনের জীবনীশক্তি। শ্রমের তুলনায় মূলধন অধিক গতিশীল। মূলধন গঠনের পর্যায় ৩ টি।

মূলধনের বৈশিষ্ট্যঃ

  • মূলধন উৎপাদনশীল। 
  • মূলধন উৎপাদনের উৎপাদিত উপাদান।
  • মূলধন শ্রম দ্বারা সৃষ্ট। 
  • অতীত সঞ্চয়ের ফল।
  • ভবিষ্যৎ আয়ের উৎস। 
  • মূলধনের পরিতোষিককে সুদ বলে।

মূলধন গঠনঃ

মানুষ তার আয়ের পুরোটা ভোগ না করে কিছু অংশ সঞ্চয় করে। আর এই সঞ্চয় থেকে মূলধন সৃষ্টি হয়।এই মূলধন পুনরায় আয় করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার প্রক্রিয়াই হলো মূলধন গঠন।মূলধনের ভিত্তি হলো সঞ্চয়। 


সংগঠনের বৈশিষ্ট্য ও শ্রেণিবিভাগঃ

সংগঠন হচ্ছে উৎপাদনের সর্বশেষ উপকরণ। সংগঠন ঝুঁকি বন্টন ও মুনাফা ভোগ করে।

সংগঠনের বৈশিষ্ট্যঃ

  • সকল উপাদানকে একত্রিত করে।
  • শ্রমবিভাগ করে।
  • একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা। 
  • সংগঠন নির্দেশনা প্রদান করে ও নিয়োজিত কর্মীদের সাথে প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক সৃষ্টি করে।
  • সংগঠনের পরিতোষিককে মুনাফা বলে।

সংগঠনের শ্রেণীবিভাগঃ

১। একমালিকানা সংগঠনঃ একজন মাত্র ব্যক্তি কতৃক গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায় কে একমালিকানা সংগঠন বলে। 

২।অংশীদারি সংগঠনঃ দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে চুক্তিবদ্ধ হয়ে যে সংগঠন গড়ে তোলে তাকে অংশীদারি সংগঠন বলে।সর্বনিম্ন সদস্য সংখ্যা ২,সর্বোচ্চ ২০ জন।ব্যাংকিং ব্যাবসায়ে সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা ১০ জন।

৩। যৌথমূলধনী ব্যবসায়/কোম্পানি সংগঠনঃ ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী যে ব্যবসায় গঠিত ও পরিচালিত হয় তাকে যৌথ মূলধনী কোম্পানি বলে।এ সংগঠন আবার ২ প্রকারঃ প্রাইভেট লিঃ কোম্পানি, পাবলিক লিঃ কোম্পানি। 

৪।সমবায় সমিতিঃ কতিপয় ব্যক্তি নিজেদের আর্থিক কল্যাণের জন্য সমান অধিকারের ভিত্তিতে যে সংগঠন গড়ে তোলে তাকে সমবায় সমিতি বলে।সর্বনিন্ম সদস্য সংখ্যা ২০ জন।

৫। রাষ্ট্রীয় সংগঠনঃ সরকারি মালিকানা ও অর্থায়নে গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায় কে রাষ্ট্রীয় সংগঠন বলে। যেমনঃ বিমান পরিবহন, ডাক বিভাগ, বিদ্যুৎ, পাটকল, চিনিকল ইত্যাদি। 

৬। ব্যবসায় জোটঃ একই শ্রেণীভুক্ত বেশকিছু সংগঠন নিজেদের মধ্যাকার ক্ষতিকর প্রতিযোগিতা পরিহার করে যে জোট গঠন করে তাই ব্যবসায় জোট। যেমনঃ ট্রাস্ট, কার্টেল, হোল্ডিং কোম্পানি প্রভৃতি।


 
এইছিল ২য় অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ ও তাদের বিস্তারিত আলোচনা। এখানে টপিকগুলোর স্পেসিফিক সঙ্গা প্রদান করা হয়েছে।তোমরা এই সঙ্গাগুলোই শিখে নিও।এর বাইরে থেকে সাধারণত প্রশ্ন আসে না।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party