১৪ তম অধ্যায়ঃ বিবিধ বিমা

ফাইনান্স, ব্যাংকিং ও বীমা / ফাইনান্স, ব্যাংকিং ও বীমা (২য় পত্র)

১৪ তম অধ্যায়ঃ বিবিধ বিমা

নির্দিষ্ট পরিমান বিমা প্রিমিয়ামের বিনিময়ে বিমাকারী ও বিমা গ্রহীতার মধ্যে সম্পাদিত ক্ষতিপূরণ ও নিশ্চয়তার চুক্তিকে বিমা বলে। বিমা নিয়ে আমাদের কনসেপ্ট মোটামুটি ক্লিয়ার তাইনা? আমরা আগের অধ্যায় গুলোতে জীবন বিমা, অগ্নি বিমা, নৌ বিমা নিয়ে জেনেছি। এসব বিমা ছাড়াও বেশ কিছু বিমা রয়েছে যা এখনো মানুষ করে থাকে। আর এই অধ্যায়ে আমরা আলোচনা করবো সেই বিমা নিয়ে। এই অধ্যায় থেকে প্রতিবছর সৃজনশীল প্রশ্ন করা না হলেও এমসিকিউ আর এডমিশনের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। তাই চলো শুরু করা যাক,

গুরুত্বপূর্ণ টপিকসঃ

  • যানবাহন বিমার ধারণা ও প্রকারভেদ। 
  • দুর্ঘটনা বিমার ধারণা ও প্রকারভেদ। 
  • শস্য বিমার ধারণা ও প্রকারভেদ। 
  • স্বাস্থ্য বিমার ধারণা।
  • গবাদি পশুর বিমা।

CQ/MCQ স্পেশালঃ

  • দুর্ঘটনা বিমা, স্বাস্থ্য বিমা, গবাদিপশু বিমা, দায় বিমা ও চৌর্য বিমা সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকলেই হবে।


যানবাহন বিমার ধারণা ও প্রকারভেদঃ

সহজভাবে বলতে গেলে এককথায়, “মোটরগাড়ি ব্যবহার করতে গিয়ে  জীবন ও সম্পত্তির হানি হওয়ার যে আশংকা থাকে তা থেকে রক্ষার জন্য মোটরগাড়ির মালিক যে বিমা করে তাকে যানবাহন/মোটরগাড়ি বিমা বলে”।

  • যানবাহন বিমায় মোটরসাইকেল,  কার, বাস, মিনিবাস, ট্রাক ইত্যাদির বিমা করা হয়।
  • একটি বিমাপত্রের অধিনে অনেকগুলো মোটর ঝুঁকি অন্তর্ভুক্ত করা যায়।
  • যানবাহনের মালিককে বাধ্যতামূলকভাবে এ বিমা করতে হয়।
  • তৃতীয় কোন পক্ষ যানবাহন দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিমাকারী ক্ষতিপূরণ প্রদান করে।
  • দামি যানবাহনের প্রমিয়াম কম আর কম দামি যানবাহনের প্রিমিয়াম বেশি।

প্রকারভেদঃ

ক) চৌর্য বিমাপত্রঃ এ ধরনের বিমাপত্র মালিককে গাড়ি চুরি বাবদ ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন অঞ্চল ও গাড়ির মূল্য প্রিমিয়ামের তারতম্য হয়ে থাকে।

খ) সংঘর্ষ বা দুর্ঘটনা বিমাপত্রঃ মোটরগাড়ীর সংঘর্ষ জনিত কোন ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য যে বিমা করা হয় তাই সংঘর্ষ বিমাপত্র। 

গ) অগ্নি বিমাপত্রঃ দুর্ঘটনাজনিত কারনে যদি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ঘটতে পারে।তাই, এই ঝুঁকির ক্ষতিপূরণ পেতে যে বিমা চুক্তি করা হয় তাই অগ্নি বিমাপত্র। 


দুর্ঘটনা বিমার ধারণা ও প্রকারভেদঃ

অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত দুঃখজনক ঘটনা হতে সৃষ্ট ক্ষতিপূরণের উদ্দেশ্যে প্রিমিয়ামের বিনিময়ে বিমাকারী ও বিমা গ্রহীতার মাঝে যে বিমাচুক্তি হয়, তাই দুর্ঘটনা বিমা।

দুর্ঘটনা বিমা ৩ প্রকার। যথা,

১. ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বিমাঃ যে বিমাচুক্তির মাধ্যমে কোন দুর্ঘটনায় ব্যক্তির শারীরিক বা মানসিক অবস্থার ক্ষতি হলে বা উপার্জনে অক্ষম হয়ে পড়লে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বিমাকারী বিমাগ্রহীতাকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করে তাকেই ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বিমা বলে।

২. সম্পত্তি দুর্ঘটনা বিমাঃ সম্পত্তি সম্পর্কিত যেসন বিমা জীবন, অগ্নি ও নৌবিমার আওতায় আনা সম্ভব হয় না সেগুলোর জন্য সম্পত্তি বিমা করা হয়। যেমনঃ চৌর্য বিমা, শস্য বিমা, গবাধিপশু বিমা, হিমাগার বিমা ইত্যাদি। 

৩. দায় বিমাঃ কলকারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের দুর্ঘটনাজনিত কোন ক্ষতির হাত থেকে 

রক্ষা করার জন্য মালিক যখন সব কর্মীদের নামে বিমার ব্যবস্থা করে, তাই দায় বিমা।


শস্য বিমার ধারণা ও প্রকারভেদঃ

বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। কিন্তু বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমনঃ খারাপ আবহাওয়া, বন্যা, খরা, শিলাবৃষ্টি,  বিভিন্ন রোগ ও পোকামাকড়ের উপদ্রব ইত্যাদি কারণে বপনকৃত ও প্রাপ্ত শস্যের যাবতীয় ক্ষয়ক্ষতি আর্থিকভাবে মোকাবেলার জন্য যে বিমা করা হয় তাই শস্য বিমা। সহজ করে বলতে গেলে, “ফসলের ক্ষয়ক্ষতি আর্থিকভাবে মোকাবেলার জন্য যে বিমা করা হয় তাই শস্য বিমা”।

শস্য বিমার প্রকারভেদ,

১. নির্দিষ্ট ঝুঁকির শস্য বিমাঃ এ বিমার অধীনে কেবল একটিমাত্র সুনির্দিষ্ট বিপদের ফলে সৃষ্ট ক্ষতির জন্য বিমা করা হয় তাই নির্দিষ্ট ঝুঁকির শস্য বিমা। যেমনঃ শুধু বন্যাজনিত ক্ষতি।

২. সম্মিলিত ঝুঁকির শস্য বিমাঃ এরুপ বিমায় দুই বা ততোধিক সুনির্দিষ্ট ঝুঁকির বিপরীতে বিমা করা হয়। যেমনঃ বন্যা, শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির জন্য একটি বিমা করা।

৩. সকল ঝুঁকির শস্য বিমাঃ শস্য উৎপাদনে যাবতীয় ক্ষয়ক্ষতির বিপরীতে বিমা করা হলে তাই সকল ঝুঁকির শস্য বিমা।


স্বাস্থ্য বিমার ধারণাঃ

বর্তমানে বিজ্ঞানের উন্নয়ন ও গবেষণার ফলে জীবন রক্ষাকারী ঔষধ আবিষ্কার এবং জটিল অস্ত্রোপচারের ফলে মুমূর্ষু রোগিকেও বাচানো সম্ভব। কিন্তু বর্তমান চিকিৎসা ব্যবস্থাও ব্যয়বহুল। তাই, “বিমা গ্রহীতা রোগাক্রান্ত হলে পথ্য ও চিকিৎসা ব্যাবস্থার খরচ বিমাকারী বহন করার নিমিত্তে যে বিমা করে তাই স্বাস্থ্য বিমা”।

  • রোগব্যাধি দ্বারা আক্রান্ত ঝুঁকি হ্রাস করা এ বিমার বৈশিষ্ট্য। 
  • স্বাস্থ্য বিমা মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বিধান করে।
  • পৃথিবীতে সবচেয়ে কম প্রিমিয়াম দিয়ে এ বিমা প্রকল্প শুরু করা হয়।


গবাদি পশুর বিমাঃ

গবাদিপশুর প্রয়োজনীয়তা কোন অংশে কম নয়। অনেকের জীবিকার প্রধান উপায় এই গবাদিপশু পালন। কিন্তু গবাদিপশু রোগাক্রান্ত হয়ে বা নানা দুর্ঘটনায় মারা যায়। এতে অনেকের জীবনে আর্থিক বিপর্যয়ও নেমে আসতে পারে।তাই, এ অনিশ্চয়তা বা ঝুঁকি মোকাবিলা করার জন্য গবাদিপশু বিমা করা হয় যেনো  পশু মারা গেলে আর্থিকভাবে সহযোগিতা পাওয়া যায়।

এক কথায়, গৃহপালিত পশুর জন্য বিমা করা হলে তাই গবাদিপশু বিমা।

এই ছিল এই অধ্যায়ের শুধু গুরুত্বপূর্ণ টপিকস গুলো ও তাদের আলোচনা। এই টপিকগুলো ভালো করে পড়ে নিলেই হবে। সাথে বই থেকে একবার দেখে নিও যাতে এমসিকিউ তে সমস্যা না হয়। সবার জন্য অনেক শুভকামনা রইল।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party