অধ্যায় ১৩: খাদ্য ও পুষ্টি

JSC / বিজ্ঞান

অধ্যায় ১৩: খাদ্য ও পুষ্টি


খাদ্য কি?

  • খাদ্য বলতে সেই সকল জৈব উপাদানকে বোঝায় যা জীবের দেহ গঠন, ক্ষয়পূরণ ও শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

পুষ্টি, পুষ্টিমান ও খাদ্য উপাদান

মানবদেহকে ইঞ্জিনের সাথে তুলনা করা হয় যা সচল রাখার জন্য প্রয়োজন খাদ্য।

★ খাদ্য আমাদের দেহে মূলত তিনটি কাজ করে:
১) জীবের বৃদ্ধিসাধন, ক্ষয়পূরণ, রক্ষণাবেক্ষণ।
২) তাপশক্তি ও কর্মশক্তি প্রদান
৩) রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদান।

পুষ্টি ও পুষ্টিমান

  • পুষ্টি একটি প্রক্রিয়া।
  • খাদ্যের যেসকল উপাদান দেহে শক্তি যোগায়, বৃদ্ধি ঘটায়, রোগ প্রতিরোধ করে ও কর্মক্ষমতা বাড়ায়, সেগুলোই হলো পুষ্টি উপাদান।
  • চাল একটি শ্বেতসার জাতীয় পদার্থ।
  • মিশ্র খাদ্য: একের অধিক পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান। যেমন: দুধ, ডিম, খিচুড়ি, পেয়ারা।
  • বিশুদ্ধ খাদ্য: একটি পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান। যেমন: চিনি, গ্লুকোজ।

খাদ্য উপাদান

উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তু ৩ টি ভাগে বিভক্ত।

১) আমিষ ও প্রোটিন: ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধিসাধন ও দেহ গঠন করে।
২) শর্করা বা শ্বেতসার: শক্তি উৎপাদন করে।
৩) স্নেহ বা চর্বি: তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে।

★ এছাড়াও রয়েছে আরো ৩ প্রকার উপাদান। ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি।

শর্করা ও আমিষ

  • শর্করা
  • শর্করাকে শ্বেতসারও বলা হয়।
  • শক্তি উৎপাদনকারী খাদ্য।
  • শর্করা কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দিয়ে গঠিত।
  • গ্লুকোজকে সরল শর্করা বলা হয়।
  • রাসায়নিক গঠনপদ্ধতি অনুসারে শর্করা ৩ প্রকার।
  • শর্করা সহজপাচ্য।
  • ১ গ্রাম শর্করা ৪ কিলোক্যালোরি তাপ উৎপন্ন করে।
  • প্রাপ্তবয়স্কের দৈনিক শর্করার চাহিদা ৪.৬ গ্রাম।
  • শর্করার উদাহরণ : রুটি, মুড়ি, চিড়া, পাউরুটি ইত্যাদি।

শর্করার অভাবজনিত রোগ:
বিপাকক্রিয়ার সমস্যা, হাইপোগ্লামিয়ার সমস্যা।

আমিষ

  • দেহ গঠন করে, ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধিসাধন করে।
  • আমিষে ১৬% নাইট্রোজেন থাকে।
  • আমিষ অ্যামাইনো এসিডের জটিল যৌগ।
  • অ্যামাইনো এসিড ২২ প্রকার।
  • মায়ের দুধ ও ডিমে আমিষের সহজপাচ্যতার গুণক ১।

আমিষের অভাবজনিত রোগ:
কোয়াশিয়কর ও মেরাসমাস।

স্নেহ পদার্থ

  • তাপ ও শক্তি উৎপাদনকারী উপাদান।
  • স্নেহজাতীয় খাদ্যে ২০ প্রকার চর্বি জাতীয় এসিড রয়েছে।
  • ★চর্বি জাতীয় এসিড ২ প্রকার।
  • ১) সম্পৃক্ত চর্বি এসিড
  • এটি স্নেহবহুল খাদ্য।
  • উদাহরণ: মাংস, মাখন, পনির, ডালডা, চকলেট, বাদাম।
  • ২) অসম্পৃক্ত চর্বি এসিড
  • ★বেশি উপকারী।
  • ★উদাহরণ: সয়াবিন তেল, সূর্যমুখী তেল, তিলের তেল, ভুট্টার তেল, মেয়োনিজ, সালাদ ড্রেসিং, কাসুন্দি, তেলের
  • আচার ইত্যাদি।
  • স্নেহ পদার্থের অভাবজনিত রোগ:
  • ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয়ে পড়ে।
  • শিশুদের একজিমা রোগ হয়।
  • বয়স্কদের চর্মরোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

খাদ্যের ক্যালরি ও কর্মশক্তি

  • খাদ্যে তাপশক্তি মাপের একক হলো কিলোক্যালোরি।
  • ১০০০ ক্যালরিতে ১ কিলোক্যালোরি।
  • ১ গ্রাম শর্করা থেকে ৪ কিলোক্যালোরি।
  • ১ গ্রাম আমিষ থেকে ৪ কিলোক্যালোরি।
  • ১ গ্রাম চর্বি থেকে ৯ কিলোক্যালোরি।
  • বিপাক ক্রিয়া: খাদ্য পরিপাক, শ্বসন, রক্ত সংবহন।
  • বিপাক ক্রিয়া চালানোর জন্য যে শক্তির প্রয়োজন তাকে মৌলবিপাক বলে।
  • খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন
  • ভিটামিনের অপর নাম খাদ্যপ্রাণ।
  • ভিটামিন পরোক্ষভাবে দেহ গঠন, ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধিসাধনে সহায়তা করে।

দ্রবণীয়তার গুনানুসারে ভিটামিনের ২ টি ভাগ।
১) স্নেহ জাতীয় পদার্থে দ্রবণীয় ভিটামিন: ভিটামিন এ, ডি, ই, কে।
২) আমিষ জাতীয় পদার্থে দ্রবণীয় ভিটামিন: ভিটামিন বি কম্পলেক্স এবং সি।

★ভিটামিন এর উৎস: গাছের সবুজ পাতা, কচি ডগা, হলুদ ও সবুজ বর্ণের শাকসবজি,ফল ও বীজ।
★ ভিটামিন-এ এর অভাবজনিত রোগ রাতকানা ও জেরোপথালমিয়া।
★ভিটামিন সি পানিতে দ্রবীভূত।
★ ভিটামিন ডি এর অভাবে রিকেটস ও অস্টিওম্যালেশিয়া রোগ হয়।

  • খনিজ লবণ
  • দেহকোষ ও দেহের তরলের জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান।
  • ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, ক্লোরিন, আয়োডিন, লৌহ, সালফার ইত্যাদি লবণ জাতীয় দ্রব্য খাদ্যের সাথে দেহে প্রবেশ করে ও দেহ গঠনে সাহায্য করে।

খনিজ লবণের প্রধান কাজ:
১. দেহের গঠনকাজ করে।
২. দেহের অভ্যন্তরীণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।

খনিজ লবণের প্রয়োজনীয়তা:

  • দাঁত ও হাড় গঠনে সাহায্য করে।
  • রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করে।
  • রক্তের লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি করে।
  • থাইরয়েড গ্রন্থির কাজ ও বিপাকের কাজ করে।
  • পেশি সংকোচনে ভূমিকা পালন করে।

খনিজ লবণের অভাবজনিত রোগ:
রিকেটস, গলগন্ড (ঘ্যাগ), ক্রোটিনিজম, রক্তস্বল্পতা বা এনিমিয়া।

  • পানি
  • পানি জীবনধারনের জন্য অপরিহার্য।
  • প্রাণী দেহের ৬০-৭০ ভাগ পানি।
  • পানি ছাড়া দেহের ভিতরে কোনো রাসায়নিক প্রক্রিয়া চলতে পারে না।
  • এটি দেহে দ্রাবক রূপে কাজ করে।মানবদেহে পানির কাজ:
  • ★পানির জন্যই দেহে রক্ত সঞ্চালন ও তাপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।
  • ★পানি দেহথেকে দূষিত পদার্থ যেমন- মূত্র ও ঘাম বের করে দেয়।
  • ★দেহে পানি শূন্যতা সৃষ্টি হলে রোগীকে খাওয়ার স্যালাইন দিতে হয়।

রাফেজ: আঁশযুক্ত খাবার থেকে রাফেজ পাওয়া যায়। শস্যদানা, ফলমূল, সবজির অপাচ্য অংশই হলো
রাফেজ।

সুষম খাদ্য: ব্যক্তি বিশেষের অবস্থা ভেদে অর্থাৎ বয়স, কর্ম শারীরিক অবস্থার প্রেক্ষিতে যে খাদ্য
উপাদান ব্যক্তি গ্রহণ করে তাকে সুষম খাদ্য বলে।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party