অধ্যায় ১২: মহাকাশ ও উপগ্রহ

JSC / বিজ্ঞান

অধ্যায় ১২: মহাকাশ ও উপগ্রহ

মহাকাশ:

★ মহাবিশ্বের সকল বিন্দুকে বলা হয় নভোমন্ডলে ও বস্তু।
★ গ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথ, গ্যালাক্সি ইত্যাদির মাঝখানে যে খালি জায়গা থাকে তাকে মহাকাশ বা মহাশূন্য
বলে।
★মহাকাশ বলতে পদার্থের অনুপস্থিতিকে বুঝায়। এটি হচ্ছে সেই ফাঁকা জায়গা বা অঞ্চল যেখান দিয়ে পৃথিবী,
চাঁদ, সূর্য ও তারারা চলাচল করে।
★ পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে দূরত্ব যত বাড়তে থাকে বায়ুমণ্ডল তত হালকা হতে থাকে এবং ১৬০ কিলোমিটারের পর
বায়ুমন্ডল থাকে না বললেই চলে।
(কিছু বিজ্ঞানের ধারণা ১৬০ কিলোমিটার উচ্চতায় বায়ুমণ্ডলের শেষ এবং মহাকাশের শুরু)

★★প্রাচীনকালে মহাকাশ সম্পর্কে মানুষের ধারণা: এক সময় মানুষ ভাবতো মহাকাশের সীমা আছে। তারা
ভাবছো যে যতদূর পর্যন্ত সবচেয়ে দূরের বস্তু তারা দেখতে পায় ততদূর পর্যন্ত মহাকাশ বিস্তৃত।
কিন্তু দূরবীক্ষণ যন্ত্রের আবিষ্কারের পর মানুষ তার দৃষ্টিসীমার বাইরে অনেক গ্রহ, নক্ষত্র, ধুমকেতু ও
গ্যালাক্সি দেখতে পেল। এরপর তারা সিদ্ধান্ত নিলো যে মহাকাশের কোন সীমা নেই অর্থাৎ শেষ নেই।

মহাবিশ্ব:

★যেসব অংশের পদার্থ বা বস্তু বেশি জড় বা ঘনীভূত হয়েছে তাদের বলা হয় গ্যালাক্সি বা নক্ষত্র জগত।
★ আমাদের বাসভূমি পৃথিবী যে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত তার নাম ছায়াপথ বা মিল্কিওয়ে।(গ্যালাক্সি হল গ্রহ-
নক্ষত্রের এক বৃহৎ দল)
★আলো এক সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারে।
★পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার।
★সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড।
★সূর্য থেকে সবচেয়ে নিকটবর্তী নক্ষত্রের নাম আলফা সেন্টোরি। সূর্য থেকে এটিতে আলো পৌঁছাতে সময়
লাগে ৪ বছরের চেয়েও বেশি।
★এক দূরবর্তী নক্ষত্র থেকে অন্য দূরবর্তী নক্ষত্রে আলো পৌঁছাতে সময় লাগে কয়েক মিলিয়ন বছর।

★সৌরজগৎ মিল্কিওয়ে নামক গ্যালাক্সির অন্তর্গত।
★মহাবিশ্বের নক্ষত্রগুলোকে তাদের আলোর তীব্রতা অনুসারে লাল, নীল, হলুদ এই তিন বর্ণে ভাগ করা হয়।
*অতি বৃহৎ নক্ষত্র : লাল
*মাঝারি নক্ষত্র : হলুদ
*ছোট নক্ষত্র: লাল
★মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত যেসব তথ্য আছে তার মধ্যে বহুল প্রচলিত হলো বিগ ব্যাং তত্ত্ব। বাংলায় একে বলা হয় মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব।

বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব ও মহাবিশ্বের উৎপত্তি
মহাবিশ্ব এক সময় অত্যন্ত উত্তপ্ত ও ঘন রূপে ছিল যা অতি দ্রুত প্রসারিত হচ্ছিল। দ্রুত প্রসারণের ফলে মহাবিশ্ব ঠান্ডা হয়ে যায় এবং বর্তমান প্রসারণশীল অবস্থায় পৌঁছায়।
বিগব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছিল প্রায় ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর (১৩৭৫ কোটি বছর) পূর্বে। অর্থাৎ মহাবিশ্বের বয়স ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর বা ১৩৭৫ কোটি বছর।

প্রাকৃতিক গ্রহ ও উপগ্রহ

★যে গ্যালাক্সিতে আমরা বসবাস করি তার নাম ছায়াপথ।
★যেসব বস্তু সূর্যের চারদিকে ঘোরে তাদেরকে বলা হয় গ্রহ । সূর্যকে প্রদক্ষিণরত আটটি গ্রহ রয়েছে। যথা:
বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন।
★যারা গ্রহকে কেন্দ্র করে ঘুরছে তাদেরকে বলা হয় উপগ্রহ। পৃথিবীর ১টি, মঙ্গলের ২টি, বৃহস্পতির ৬৭ টি,
শনির ৬২ টি, ইউরেনাসের ২৭টি এবং নেপচুনের ১৪টি প্রাকৃতিক উপগ্রহ আছে।

গ্রহ ও উপগ্রহের জন্ম
গ্রহের জন্মের সময় একেকটি নক্ষত্র কে ঘিরে কয়েকটি মহাজাগতিক মেঘ আবর্তিত হত। এরা নক্ষত্রের
আকর্ষণে ঘনীভূত হয়ে অবশেষে জমাট বেঁধে গ্রহে রূপান্তরিত হয়।
আবার গ্রহের চারপাশে মহাজাগতিক মেঘ জমা হয়েই উপগ্রহের সৃষ্টি হয়।

কৃত্রিম উপগ্রহ
মানুষের পাঠানো যেসব বস্তু বা মহাকাশযান পৃথিবী কে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘোরে তাদেরকে
কৃত্রিম উপগ্রহ বলা হয়।
পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ টানের প্রভাবে তাদের মত এরা এদের কক্ষপথে ঘোরে।

কৃত্রিম উপগ্রহের পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে সময়:
নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘোরার জন্য এদের প্রয়োজনীয় দ্রুতি থাকতে হয়। পৃথিবী থেকে কৃত্রিম উপগ্রহের উচ্চতা
যত বেশি হবে তার দ্রুতি তত কম হবে।
আমরা জানি পৃথিবীর 24 ঘন্টায় নিজ অক্ষের চারদিকে একবার পাক।
সুতরাং কোন কৃত্রিম উপগ্রহ যদি 24 ঘন্টায় পৃথিবীর চারদিকে একবার ঘুরে আসে তাহলে একে পৃথিবী থেকে
স্থির বলে মনে হবে।

মহাকাশ যাত্রা:
মহাকাশ যাত্রায় প্রথম পদক্ষেপটা সূচনা হয়েছিল ১৯৫৭ সালের ৪ঠা অক্টোবর।
এই যাত্রার সূচনা করে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন।
তারা স্পুটনিক’-১ নামক কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে।
স্পুটনিক শব্দের অর্থ ভ্রমণ সঙ্গী।
একই বছর (১৯৫৭ সালে ) ২রা নভেম্বর স্পুটনিক-2 নামের আরেকটি কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠায় সোভিয়েত ইউনিয়ন।
প্রথম মার্কিন কৃত্রিম উপগ্রহের নাম এক্সপ্লোরার-1। এটি ১৯৫৮ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি পাঠানো হয়।

মহাকাশে প্রথম মানুষ
প্রথম যে মানুষটি মহাকাশযানে করে কৃত্রিম উপগ্রহের সাথে মহাকাশে গিয়েছিলেন তার নাম সোভিয়েত ইউনিয়নের ইউরি গ্যাগারিন।
তিনি ১৯৬১ সালের ১২ এপ্রিল ভস্টক-১ কৃত্রিম উপগ্রহে চড়ে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেন।
আর প্রথম মহিলা মহাকাশচারী হিসেবে ভ্যালেন্তিনা তেরেসকোভা ১৯৬৩ সালে ভস্টক-৬ নামক মহাকাশযান কৃত্রিম উপগ্রহে চড়ে মহাকাশে যান।

কৃত্রিম উপগ্রহের গুরুত্ব
কৃত্রিম উপগ্রহ নানা কাজে ব্যবহার করা হয়। কাজের উপর ভিত্তি করে এর বিভিন্ন নাম দেয়া হয়েছে। যেমন
*যোগাযোগ উপগ্রহ
*আবহাওয়া উপগ্রহ
*পৃথিবী পর্যবেক্ষণকৃত কৃত্রিম উপগ্রহ

*সামরিক বা গোয়েন্দা উপগ্রহ
*নৌপরিবহন উপগ্রহ
*জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক উপগ্রহ

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party