১০ম অধ্যায়ঃ লে-আউট

উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন / উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন (১ম পত্র)

১০ম অধ্যায়ঃ লে-আউট


লে-আউটের বাংলা অর্থ হলো বিন্যাস।বিন্যাস কথাটি দ্বারা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগ,যন্ত্রপাতি ও কর্মকেন্দ্রের নকশাকরণকে বুঝায়।খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। প্রায় প্রতি বছরই এই অধ্যায় থেকে একটি সৃজনশীল প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। চলো তাহলে এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো এবং তাদের নিয়ে আলোচনা দেখে নেই,

গুরুত্বপূর্ণ টপিকসঃ

  • বিন্যাসের ধারণা ও বৈশিষ্ট্য। 
  • বিন্যাসের উপর প্রভাব বিস্তারকারী উপাদান।
  • বিন্যাস প্রক্রিয়া। 
  • বিন্যাসের প্রকারভেদ ও বিস্তারিত।
  • উত্তম ও খারাপ বিন্যাসের লক্ষণসমূহ।

CQ স্পেশালঃ

  • বিন্যাসের প্রকারভেদ সম্পর্কে ভালো ধারনা থাকতে হবে।


বিন্যাসের ধারণা ও বৈশিষ্ট্যঃ

বিন্যাসের সহজ অর্থ হলো সাজানো।অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন জায়গা দখলকারী অর্থনৈতিক কর্মকেন্দ্রগুলোকে সাজানোর সিদ্ধান্ত। আরো বিস্তারিত বললে বুঝাবে,জনশক্তি ও যন্ত্রপাতির যথাযথ এবং কার্যকর ব্যবহার ও ক্রেতাদের সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে যন্ত্রপাতি, কারখানা গৃহ,বিক্রয়কেন্দ্র,বিভিন্ন বিভাগ তথা ব্যবসায়ের সমগ্র ভৌত সুবিধাদির নকশাকরণ বা সুসজ্জিত করণের সিদ্ধান্তকে বিন্যাস বলে।

বৈশিষ্ট্যঃ

১.গতিশীলতাঃ (মালামাল স্থানান্তর, কর্মীদের চলাচল,কাজের অনুক্রম অনুযায়ী নিজেদের নড়াচড়া সহজ হয়)

২.কর্মী নিরাপত্তা(পরিকল্পিত ভাবে সব সাজানো থাকে বলে দূর্ঘটনার সম্ভাবনা কম থাকে)

৩.স্থানের সদ্ব্যবহারঃ প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ স্থানের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয়।

৪.নমনীয়তাঃ পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সময় উপযোগী পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করে।

৫.উন্নত কর্ম পরিবেশঃ একটি সাজানো গুছানো কাজের পরিবেশ নিশ্চিত হয়।

৬.গুদামঘরের অবস্থানঃ একটি আদর্শ বিন্যাস অবস্থায় কারখানা বা বিক্রয়কেন্দ্রের নিকটে গুদামঘরের অবস্থান নির্ধারিত হয়।যা উৎপাদন বা বিক্রয়ের কাজকে গতিশীল করে।

৭. কর্মীদের উচ্চ মনোবলঃ একটি সুন্দর কাজের পরিবেশ নিশ্চিত হলে কর্মীরে কাজে উৎসাহী হয়।এতে তাদের মনোবল বৃদ্ধি পায়।


বিন্যাসের উপর প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানঃ

ব্যবসায়ের প্রকৃতিঃ ব্যবসায়টি কোন ধরনের তার উপর এর বিন্যাস নির্ভর করে।যেমনঃ সেবা প্রদানকারী ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিন্যাস এক রকম নয়।

পন্যের প্রকৃতিঃ কেমন পন্য উৎপাদন করা হবে তার উপর নির্ভর করবে বিন্যাস।যেমনঃ জাহাজ কিংবা বৃহৎ নির্মানের বেলায় স্থির এবং রাসায়নিক বা ঔষধ কোম্পানির জন্য পন্যভিত্তিক বিন্যাস উপযোগী। 

কর্মীর সংখ্যাঃ কর্মীদের সংখ্যার উপর বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠান শ্রম নির্ভর বা প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে থাকে।এক্ষেত্রে এদের বিন্যাস পদ্ধতিও আলাদা হয়।

উৎপাদন নীতিঃ কিছু প্রতিষ্ঠান ফরমায়েশ/অর্ডার পেলে উৎপাদন শুরু করে আবার কেউ সারাবছরই উৎপাদন করে।তাদের এই উৎপাদন নীতির উপর বিন্যাস নির্ভর করে।

 এছাড়াও রয়েছে গৃহের প্রকৃতি, জলবায়ু,যন্ত্রপাতির প্রকৃতি, আর্থিক সামর্থ, ব্যবস্থাপনা নীতি ইত্যাদি  এসকল বিষয় গুলো বিন্যাস কেমন হবে তা ঠিক করে দেয় বা বিন্যাসের সময় এগুলো বিবেচনায় রাখতে হয়।


বিন্যাস প্রক্রিয়াঃ

 কিন্তু একটি সুন্দর বিন্যাস নিশ্চিত করার জন্য কিছু পদক্ষেপ বা একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।নিচে এ প্রক্রিয়াটি দেখোঃ

প্রতিষ্ঠানের প্রকৃতি নির্ধারণ

তথ্য সংগ্রহ 

তথ্য বিশ্লেষণ

পরিকল্পনা প্রনয়ণ 

বিন্যাস কৌশল নির্ধারণ 

যন্ত্রপাতি স্থাপন 

বিন্যাসের নকশা প্রনয়ণ 

অর্থসংস্থান

কর্তৃপক্ষের অনুমোদন 

বিন্যাস পরিকল্পনা বাস্তবায়ন


বিন্যাসের প্রকারভেদঃ

বিন্যাস প্রধানত ২ প্রকারঃ

ক.কারখানা বিন্যাসঃ

কারখানা বিন্যাস আবার বিভিন্ন ধরনেরঃ

১.কার্যভিত্তিক বা প্রক্রিয়া বিন্যাসঃ একই জাতীয় কাজগুলো একই বিষয়ের অধীনে এনে যে বিন্যাস করা হয় তাই প্রক্রিয়া বিন্যাস।যেমনঃ গার্মেন্টস কারখানায় সকল প্রকার কাপড় কাটার জন্য কাটিং বিভাগ,সেলাইয়ের জন্য সিউয়িং বিভাগ,ইস্ত্রি করার জন্য ক্যালেন্ডারিং বিভাগ এবং মোড়কজাত করার জন্য ফিনিসিং বিভাগ।এছাড়া সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান যেমন–হাসপাতাল, কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক,এয়ারলাইনস, পাবলিক লাইব্রেরি প্রভৃতিতেও প্রক্রিয়া বিন্যাস ব্যবহার করা হয়।

২.দ্রব্যভিত্তিক/পন্য/সরলরৈখিক বিন্যাসঃএ বিন্যাসে ওয়ার্কস্টেশন বা বিভাগ গুলো রৈখিকভাবে বা একটি ক্রম অনুযায়ী সাজানো হয়।এক্ষেত্রে একটি পন্য প্রসেসের প্রথমে প্রবেশ করে শেষ দিকে গিয়ে সমাপ্ত পন্য আকারে বের  হয়।এ বিন্যাস L,O,U এবং S আকারেও হয়ে থাকে।

৩.স্থির বিন্যাসঃ প্রক্রিয়া ও পন্য বিন্যাসের বিপরীত হলো স্থির বিন্যাস।এক্ষেত্রে উৎপাদিত পন্য আকারে বড় ও অনেক বেশি ওজনের হয় বলে পন্যটাই এক জায়গায় স্থির থাকে। যেমনঃ জাহাজ,উড়োজাহাজ, দালানকোঠা ইত্যাদি। এখানে কর্মীরা তাদের হাতিয়ার,কাচামাল ও যন্ত্রপাতি  নিয়ে কাজ করার জন্য পন্যটির কাছে যায় 

৪.মিশ্র বিন্যাসঃ প্রক্রিয়া আর পন্য এ দুটি বিন্যাসের সংমিশ্রণে সৃষ্টি হয় মিশ্র বিন্যাস।এই দুই ধরনের বিন্যাসে সুবিধা একসাথে কাজে লাগানোর জন্যই মিশ্র বিন্যাস করা হয়।প্রধানত যেসব প্রতিষ্ঠান উৎপাদন এবং সংযোজন উভয় ধরনের কার্যে পরিচালিত হয় তারাই এই বিন্যাস ব্যবহার করে থাকে।

৫.সেলুলার বিন্যাসঃ এই বিন্যাসে সমস্ত কর্মকেন্দ্রগুলোকে কতগুলো সেলে বিভাজন করা হয় এবং প্রতিটি সেলে একই জাতীয় কাজের মাধ্যমে উৎপাদন কাজ সম্পন্ন করা হয়ে থাকে।

খ.সেবা বিন্যাসঃ

সেবা বিন্যাস আবার ৩ প্রকার হয়,

১.গুদামঘর বিন্যাসঃ গুদামঘর বিন্যাসে এমন ভাবে বিন্যাস করা হয় যেন ঘন ঘন ফরমায়েশ পাওয়া পন্য গুদামঘরের প্রবেশ পথে থাকে আর যেগুলোর ফরামায়েশ কম আসে সেগুলো দূরবর্তী স্থানে। 

২.খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র বিন্যাসঃ বিভিন্ন খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান যেমন বিভাগীয় স্টোর,সুপার স্টোর, সুপার মার্কেট এগুলোতে ক্রেতারা যাতে সহজে তাদের কাঙ্খিত পন্য খুজে পায় তাই এই রকম বিন্যাস করা হয় এক্ষেত্রে পন্য গুলো সেলফ বা তাকে সুন্দর করে সাজানো হয়।

৩.অফিস বিন্যাসঃ এ বিন্যাসে সহকর্মী,ঊর্ধ্বতন-অধস্তন, কর্মীদের গোপনীয়তা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিন্যাস করা হয়।আধুনিক অফিস গুলোতে কর্মীদের বসার জন্য ও একসাথে কাজ করার জন্য তাদের মাঝে কম উচ্চতা সম্পন্ন দেয়াল ব্যবহার করা হয়।


উত্তম ও খারাপ বিন্যাসের লক্ষণসমূহঃ

উত্তম বিন্যাসঃ

  • সহজে চলাচল করতে পারা।
  • আরামদায়ক পরিবেশ। 
  • সর্বোচ্চ নমনীয়তা। 
  • স্থানের সর্বোচ্চ ব্যবহার।
  • অধিক উৎপাদনশীলতা।

খারাপ বিন্যাসঃ

  • স্থানের অপব্যবহার। 
  • মালামালের অতিরিক্ত বোঝা।
  • অলস যন্ত্রপাতি। 
  • চলাচলে প্রতিবন্ধকতা। 
  • সরবরাহে বিলম্ব।
  • বৃহৎ উৎপাদন চক্র


এই ছিল ১০ম অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো এবং তাদের বিস্তারিত আলোচনা। এগুলোর বাহিরে থেকে প্রশ্ন সাধারণত করা হয় না।ভালো করে নোট করে পড়ে নাও

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party