অধ্যায় ৫ঃ হিসাববিজ্ঞানের নীতিমালা

হিসাববিজ্ঞান / হিসাববিজ্ঞান (১ম পত্র)

অধ্যায় ৫ঃ হিসাববিজ্ঞানের নীতিমালা

এই অধ্যায়ে আমরা আলোচনা করব-

-Accounting Professional Degrees

-Accounting Bodies/Institutions

-Accounting Standards

MCQ এর জন্য এই অধ্যায়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কোন সৃজনশীল প্রশ্ন না আসলেও HSC এবং এডমিশনে এই অধ্যায় থেকে একাধিক প্রশ্ন থাকতে পারে। এই অধ্যায়ে আলোচিত আছে হিসাব বিজ্ঞানের বিভিন্ন ধারণা ও নীতি সমূহ, এ সকল নীতিমালা প্রণয়ন কারী প্রতিষ্ঠান সমূহ, এবং হিসাব বিজ্ঞানের বিভিন্ন পেশাদার ডিগ্রীসমূহ।

Accounting Bodies/Institutions:

FASB: Financial Accounting Standards Board প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালে। এর পূর্ব নাম ছিল APB(Accounting Principles Board).

IASB: International Accounting Standards Board গঠিত হয় ১ এপ্রিল ২০০১ সালে। এর পূর্ব নাম ছিল IASC (International Accounting Standards Committee), যেটা ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

ICAB: Institute of Chartered Accountants of Bangladesh গঠিত হয় ১৯৭৩ সালে। এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে CA(Chartered Accountant) ডিগ্রী প্রদান করে।

ICMAB : Institute of Cost and Management Accountants of Bangladesh প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৭ সালে। এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে CMA(Cost and Management Accountant) ডিগ্রী প্রদান করে।

ACCA :Association of Chartered Certified Accountants ১৯০৪ সালে গঠিত প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটি একটি গ্লোবাল ডিগ্রী CCA(Chartered Certified Accountant) প্রদান করে।

AICPA : American Institute of Certified Public Accountants প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রে CPA(Certified Public Accountant) ডিগ্রী প্রদান করে।

AAA : American Accounting Association.

Accounting Standards:

IFRS

BFRS

GAAP

হিসাববিজ্ঞানের ধারণা ও নীতি সমূহ :

ব্যবসায়িক সত্তা ধারণা : এই ধারণার মূল কথা হচ্ছে ব্যবসায়ের সত্তা হবে মালিকের সত্তা বা অন্যান্য ব্যবসায়ের সত্তা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক ও স্বতন্ত্র।

-এছাড়াও এই ধারণা অনুযায়ী হিসাব সমীকরণের উৎপত্তি হয়

-এবং ব্যবসায় নিজের নামে লেনদেন ও অন্যান্য কার্যাবলী সম্পাদন করতে পারে।

চলমান প্রতিষ্ঠান ধারণা: এই ধারণা অনুযায়ী মনে করা হয় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে থাকবে।

এছাড়াও এই ধারণা অনুসারে

-সম্পত্তি ও দায় কে চলতি ও স্থায়ী এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়।

-ব্যাংকে মূলধনজাতীয় ও মুনাফাজাতীয় নামক দুই ভাগে ভাগ করা হয়।

-স্থায়ী সম্পদের অর্জন মূল্য থেকে পুঞ্জিভূত অবচয় বাদ দিয়ে দেখানো হয়।

আর্থিক একক ধারণা: এটি হিসাব বিজ্ঞানের একটি মৌলিক ধারণা,  যার মূলকথা হচ্ছে শুধু ঐ সকল ঘটনা লিপিবদ্ধ করতে হবে যেগুলো অর্থের মূল্য পরিমাপ করা যায়।

এর সীমাবদ্ধতা হচ্ছে – অর্থের ক্রয় ক্ষমতা স্থিতিশীল নয়।

-এবং ব্যবসার অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা অর্থের দ্বারা পরিমাপ করা যায় না।

হিসাব কাল ধারণা: এর নির্দেশনা হলো একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের চলমান জীবনকালকে কতগুলো কৃত্রিম সময়কালে ভাগ করে নিতে হবে। উক্ত সময়কালকে বলা হয় হিসাব কাল। হিসাব কাল ১ মাস, ৩ মাস, ৬ মাস, ১ বছর ইত্যাদি হতে পারে সাধারণত হিসাবকাল বলতে ১মাস বোঝায়। এই ধারণা অনুসারে:

-হিসাব কাল শেষের সমন্বয় দাখিলা দেওয়া হয় এবং লাভ-ক্ষতি নির্ণয় করা হয়।

-হিসাবকাল কাজ শেষে আর্থিক বিবরণী সমূহ প্রস্তুত করা হয়।

-নামিক হিসাব সমূহকে সমাপনী দাখিলা মাধ্যমে বন্ধ করা হয়।

বকেয়া ধারণা: এই ধারণা অনুসারে যে হিসাবকালে আয় অর্জিত বা ব্যয় সংগঠিত হয় সেই হিসাবকালে লিপিবদ্ধ করতে বলা হয়েছে যখন নগদ আদান-প্রদান করা হয় তখন না।

ঐতিহাসিক ব্যয় নীতি: এই নীতির নির্দেশনা হচ্ছে সম্পত্তিকে ক্রয়মূল্য প্রত্যক্ষ করতে হবে এবং পরবর্তী বাজারমূল্যে প্রদর্শন করা যাবে না। এই নীতির একটি সুবিধা হচ্ছে ক্রয়মূল্য যাচাইযোগ্য। স্থায়ী সম্পত্তির ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক নীতি অনুসরণ করা হয়।

ন্যায্য মূল্য নীতি: এই নীতি অনুযায়ী সম্পত্তি ও দায় কে বাজারমূল্য প্রদর্শন করাতে হয়। নির্দিষ্ট কিছু সম্পত্তি ও দায় প্রদর্শনী এই নীতি অধিক গ্রহণযোগ্য। যেমন; সিকিউরিটিজ বিনিয়োগ – কারণ এর থেকে সহজেই বাজারমূল্যের তথ্য পাওয়া যায়।

আয় স্বীকৃতি নীতি: এই নিতে নির্দেশনা হচ্ছে আয়কে সেই হিসাবকালে লিপিবদ্ধ করতে হবে যে হিসাবকালে তা অর্জিত হয়েছে। এই নীতির কারণেই অগ্রিম/অনর্জিত/অনুপার্জিত আয় কে আয় হিসেবে স্বীকার করা হয় না; কিন্তু বকেয়া আয়কে আয় হিসেবে স্বীকার করা হয়।

ব্যয় স্বীকৃতি নীতি/মিলকরণ নীতি: এই  নীতির নির্দেশনা হচ্ছে – ব্যয় কে আয়ের সাথে সমন্বয় বা মিল করাতে হবে অর্থাৎ অর্জিত আয় এর সাথে সম্পৃক্ত ব্যয় কে ঐ আয়ের এর বিপরীতে প্রদর্শন করতে হবে। এবং আয় স্বীকৃতি নীতির মতই বর্তমান হিসাবকালের সংঘটিত ব্যয় কেই আমরা ব্যয় হিসাবে দেখাবো। এছাড়াও-

-মোট লাভ নির্ণয়ের জন্য বিক্রয় মূল্য থেকে কৃত পণ্যের মোট ব্যয় বাদ না দিয়ে বিক্রিত পণ্যের ব্যয় বাদ দেওয়া হয়।

-অগ্রিম/অগ্রদত্ত ব্যয়কে ব্যয় হিসেবে গণ্য করা যায় না কিন্তু বকেয়া ব্যয়কে ব্যয় হিসেবে গণ্য করা হয়।

-বিক্রয়ের ওপর শতকরা হারে কুঋণ সঞ্চিতি নির্ণয় করা হয়।

-সম্পত্তির অবচয়, অবলোপন, শূন্যীকরণ ইত্যাদি বিষয় গুলোকে হিসেবে গণ্য করে সমন্বয় করা হয়।

পূর্ণ প্রকাশ নীতি: হিসাববিজ্ঞান তথ্যের ব্যবহারকারী নিকট সম্পূর্ণ তথ্য সরবরাহের উদ্দেশ্যে আর্থিক বিবরণী প্রস্তুতের সময় আর্থিক বিবরণীর টীকা ও সম্পূরক তথ্য প্রকাশ করতে হবে।

রক্ষণশীলতা নীতি: এই নীতির নির্দেশনা হচ্ছে একাধিক বিকল্প পদ্ধতির মধ্যে সেই পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে যে পদ্ধতি সম্পত্তি ও মুনাফা বেশি দেখানো থেকে বিরত রাখে। এ নীতি অনুসরণ করে:

-মজুদ পণ্যের ক্রয় মূল্য ও বাজার মূল্যের মধ্যে যেটি কম সেটি দেখানো হয়।

-সঞ্চিতি পদ্ধতিতে কুঋণ হিসাব ভুক্ত করা হয় বা কুঋণ সঞ্চিতি সৃষ্টি করা হয়।

-দেনাদারের ওপর শতকরা হারে কুঋণ সঞ্চিতি নির্ণয় করা হয়।

-উদ্বৃত্তপত্রে দেনাদার থেকে কুঋণ সঞ্চিতি ও বাট্টা সঞ্চিতি বাদ দিয়ে দেনাদারকে নিট আদায়যোগ্য মূল্যে প্রদর্শন করা হয়।

-অবচয় ধার্যের বিকল্প পদ্ধতির মধ্যে যে পদ্ধতিতে অবচয় ব্যয় বেশি আসে (ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতি ও বর্ষ সংখ্যার সমষ্টি পদ্ধতি) সেই পদ্ধতিতে অবচয় ধার্য করা হয়।

-মূল্যস্ফীতির সময় মজুদ পণ্য মূল্যায়নের LIFO পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

বস্তুনিষ্ঠতা নীতি: হিসাব-নিকাশের সভায় কোন তথ্যটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ কোনটি কম গুরুত্বপূর্ণ এটা বিচার করে হিসাব নিকাশ করতে হয়। এই নীতি অনুসারে:

-ছোট ও কম মূল্যের সম্পত্তিকে সম্পত্তি হিসেবে প্রদর্শন না করে খরচ হিসেবে প্রদর্শন করা যায়।

-সন্ধিতে পদ্ধতির পরিবর্তে সরাসরি অবলোপন পদ্ধতিতে কুঋণ অবলোপন করা যায়।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party