সেই অস্ত্র – আহসান হাবীব

HSC / পদ্য / বাংলা ১ম পত্র

সেই অস্ত্র – আহসান হাবীব

লেখক পরিচিতি

~আহসান হাবীব এর জন্ম ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের ২রা জানুয়ারি বরিশাল অঞ্চলের পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা
গ্রামে।

~পিতার নাম হামিজুদ্দিন হাওলাদার।
~মাতার নাম জমিলা খাতুন।
~পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে তিনি জীবিকা অর্জনের পথ বেছে নেন।
~১৯৫০ সালে তিনি কলকাতা ছেড়ে ঢাকা আসেন।
~১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি যোগ দেন ‘দৈনিক বাংলা’ (তৎকালীন ‘দৈনিক পাকিস্তান’) পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক
হিসেবে।

~তিনি ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে বাংলা একাডেমি পুরষ্কার এবং ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে একুশে পদকে ভূষিত হন।
~স্বপ্লভাষী, আত্নমগ্ন, স্পষ্টবাদী এই কবি ছিলেন মূলত মানবদরদী শিল্পী।
~তিনি ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে ১০ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

সাহিত্যকর্মঃ
রাত্রিশেষ, ছায়াহরিণ, সারা দুপুর, মেঘ বলে চৈত্রে যাবো, দু’হাতে দুই আদিম পাথর, বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।
এছাড়াও উপন্যাস ও শিশুসাহিত্যেও তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল।

সংকলনঃ

“সেই অস্ত্র” কবিতাটি আহসান হাবীব এর ‘বিদীর্ণ দর্পণে মুখ’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

ছন্দঃ

কবিতাটি অন্তমিলহীন অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত । এর পর্বগুলোর বিন্যাসও অসম।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ

১। সেই অস্ত্র বলতে “ভালোবাসাকে” বোঝানো হয়েছে।২। “ভালোবাসার” অস্ত্র উত্তোলিত হলে পৃথিবীর যাবতীয় অস্ত্র হবে আনত।
৩। “সেই অস্ত্র ” উত্তোলিত হলে অরণ্য হবে – সবুজ।
৪। পাখিরা ঘুমাবে – নীড়ে।
৫। সেই অস্ত্র উত্তোলিত হলে আগুন জলবে না – ফসলের মাঠে।
৬।খাঁ খাঁ করবে না – গৃহস্থালি
৭।সেই অমোঘ অনন্য অস্ত্র – ভালোবাসা
৮। নক্ষত্রখচিত আকাশ থেকে কি ঝরবে না সেই অস্ত্র ব্যাপ্ত হলে? – আগুন।
৯।লক্ষ লক্ষ মানুষকে করবে না – পঙ্গু – বিকৃত।
১০। বারবার বিধ্বস্ত হবে না – ট্রয়নগরী
১১।সে অস্ত্র বারবার পরাজিত করে জাত্যভিমানকে।
১২।সেই অস্ত্র আধিপত্যের লোভকে করে -নিশ্চিহ্ন।

শর্ট তথ্যঃ

মোট লাইনঃ- ৩১ টি
মোট যতিচিহ্নঃ-৮টি
হাইফেনঃ-১ টি
ড্যাসঃ-১টি
পুর্নচ্ছেদঃ-৬টি
অস্ত্রঃ-১৪ বার
অস্ত্রেরঃ- একবার
সেই অস্ত্র আমাকে ফিরিয়ে দাওঃ-২ বার
আমাকে সেই অস্ত্র ফিরিয়ে দাওঃ-১ বার
আগুনঃ- ২ বার
অমোঘঃ- ২ বার

গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থঃ

১।অমোঘ – অব্যর্থ, সার্থক
২।ট্রয়নগরী – প্রাচীন গ্রিসের স্থাপত্যকলায় নন্দিত এক শহর। মানুষের হিংসা-বিদ্বেষ ঈর্শা আর দম্ভের শিকার হয়ে
পৃথিবীর ইতিহাসের বারংবার ধ্বংস হয়েছে এই নগরী । যুদ্ধের নির্মমতার এক চিরায়ত দৃষ্টান্ত এই ট্রয়নগরী।
৩।জাত্যভিমান – কোনো যুক্তি ছাড়াই নিজ জাতিকে সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞান করার অহংকারী মনোভাব।
৪। সমাবিষ্ট – সমভাবে অাবিষ্ট। সমাবেশ হয়েছে এমন।

সারমর্মঃ

“সেই অস্ত্র ” কবিতাটিতে কবির একমাত্র প্রত্যাশা — ভালোবাসা নামের মহান অস্ত্রকে পুনরায় এই মানবসমাজে
ফিরে যাওয়া। কবির কাছে ভালোবাসা কেবল কোনো আবেগ কিংবা অনূভুতির দ্যোতনা জাগায় না। তাঁর বিশ্বাস,
এটি মানুষকে সকল অমঙ্গল থেকে পরিত্রাণের পথ বাতলে দেয়৷ তাই কবি বিশ্বের মানবকুলের কাছেই এই
ভালোবাসা ফিরিয়ে দেবার অনুরোধ করেছেন। মানুষ যদি অপর মানুষের হিংসা, লোভ, ঈর্শা থেকে মুক্ত থাকে
তবে পৃথিবীতে বিরাজ করবে শান্তি; পৃথিবী এগিয়ে যাবে সুখ, শান্তি ও সম্বৃদ্ধির দিকে। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা
বিদ্বেষের বিষবাষ্পকে যদি অপসারণ করতে হয় তবে ভালোবাসা নামক অস্ত্রকে কবির কাছে এবং কবির মতো
আরও বহু মানুষের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। কবি পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে চান অফুরান ভালোবাসা।

*কবিতাটির গঠন বিশেষত্ব হলো, এর অনাড়ম্বর সহজ গতিময়।


গুরুত্বপূর্ণ লাইনের ব্যাখ্যাঃ


.”সেই অমোঘ অনন্য অস্ত্র
আমাকে ফিরিয়ে দাও”

=সকল অশান্তি,দাঙ্গা দূর করার এক অব্যর্থ অস্ত্র ভালবাসার কামনা করেছেন।
২.”যে অস্ত্র উত্তোলিত হলে
পৃথিবীর যাবতীয় অস্ত্র হবে আনত।”

=ভালবাসা নামক অস্ত্র দ্বারা পৃথিবীর সকল মরণাস্ত্রকে পরাভূত করার আকাঙক্ষা পোষণ করেছেন।
৩.”যে অস্ত্র ব্যাপ্ত হলে

নক্ষত্রখচিত আকাশ থেকে আগুন ঝরবে না”
=ভালবাসা নামক অস্ত্রের আবির্ভাব যাবতীয় ক্ষেপনাস্ত্র দ্বারা আর ধ্বংশলীলা ঘটবে না।
৪.”যে ঘৃণা বিদ্বেষ অহংকার
এবং জাত্যভিমানকে করে বার বার পরাজিত।”

=ভালবাসা মানুষকে একে অপরকে ভালবাসতে শেখায়,অসাম্প্রদায়িক মনোভাব তৈরী করে।
৫.”সে অমোঘ অস্ত্র-ভালোবাসা
পৃথিবীতে ব্যাপ্ত করো।”

=অব্যর্থ অস্ত্র ভালবাসাকে পৃথিবীতে ব্যাপ্ত করার আকুতি জানিয়েছেন কবি।

কবিতার গুরুত্বপূর্ণ দিকঃ


১.ভালবাসা নামক অস্ত্র পুনরায় মানবসমাজে ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা।
২.ভালবাসা দ্বারা সকল অশান্তি, হিংসা,লোভ,ধ্বংশলীলা দূর করার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party