সাম্যবাদী- কাজী নজরুল ইসলাম

HSC / পদ্য / বাংলা ১ম পত্র

সাম্যবাদী- কাজী নজরুল ইসলাম

লেখক পরিচিতি

নামঃ কাজী নজরুল ইসলাম
জন্মঃ ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে ২৫মে(১১জ্যৈষ্ঠ,১৩০৬ বঙ্গাব্দ)বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে।
পিতাঃ কাজী ফকির আহমেদ।
মাতাঃ জাহেদা খাতুন।
★ছোটকালে দুখু মিয়া নামে পরিচিত ছিল।
★বাংলা কাব্যের রাজনৈতিক বিদ্রোহের প্রবর্তক।
★তিনি গ্রামের মক্তবে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন।
★ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে দরিরামপুর হাইস্কুলে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা শেষ করেন।এটাই ছিল তার
শিক্ষা জীবন।
★১২ বছর বয়সে লেটোর দলে যোগ দেন।
★১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগদান করেন।
★তার জীবন ছিল বৈচিত্র্যময়।তিনি চাকরি করেছেন মক্তবে,মসজিদে এবং রুটির দোকানে।
★১৯৭৪ সালে কবিকে বাংলাদেশে আনা হয়।
★১৯৭৬ সালে ‘একুশে পদক’ প্রদান করা হয়।
★১৯৭৬ সালেই কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের ‘জাতীয় কবির’ মর্যাদা দেওয়া হয়।
★ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গনে তার সমাধিস্তম্ভ রয়েছে।

মৃত্যুঃ ১১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে ২৯ আগস্ট(১২ ভাদ্র,১৩৮৩ বঙ্গাব্দ)ঢাকায়।

ছন্দঃ

★”সাম্যবাদী” কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
★কবিতাটিতে পর পর দুই চরনের শেষে অন্তমিল রয়েছে।
★কবিতার পঙক্তিগুলো ৬ মাত্রার ৩টি পূর্ণ পর্ব ও ২ মাত্রার অপূর্ণ পর্বে বিভক্ত।

সংকলনঃ


★”সাম্যবাদী” কবিতাটি আব্দুল কাদির সম্পাদিত নজরুল রচনাবলি’র প্রথম খণ্ড থেকে সংকলিত।
★”সাম্যবাদী” কবিতাটি কাজী নজরুলের “সাম্যবাদী” নামক কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
★”সাম্যবাদী” কাব্যগ্রন্থ ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও শব্দাবলীঃ


★কনফুসিয়াস একজন চীনা দার্শনিক।
★পার্সি বলতে বুঝানো হয়েছে পারস্যদেশের নাগরিক।পারস্য ছিল বর্তমান ইরানের পূর্ব নাম।
★দেউল অর্থ দেবালয় বা মন্দির।
★জেন্দা ভাষায় লিখিত গ্রন্থ হল আবেস্তা।এটা ছিল পারস্যের অগ্নি উপাসকদের ধর্মগ্রন্থ।
★জেরুজালেম হল মুসলমান,খ্রিস্টান ও ইহুদিদের জন্য সম্মিলিত পূণ্যস্থান।এটা ফিলিস্তিনে অবস্থিত।
★কবিতায় আরব দুলাল বলতে মুহাম্মদ( স:) কে বুঝানো হয়েছে।
★ত্রিপিটক ইহুদিদের,বাইবেল খ্রিস্টানদের ও গীতা হিন্দুদের ধর্মীয় গ্রন্থ।
★শাক্যমুনি বলতে বুদ্ধদেবকে বুঝানো হয়েছে যার জন্ম শাক বংশে।
★বাঁশির কিশোর বলতে শ্রীকৃষ্ণকে বুঝানো হয়েছে।
★গ্রন্থসাহেব হল শিখদের ধর্মীয় গ্রন্থ।
★কবিতায় কন্দর বলতে মানব হৃদয়ের গহীন স্থানকে বুঝানো হয়েছে।

কবিতার সবচেয়ে গুরুত্বপ্রাপ্ত দিকঃ


সাম্যবাদী কবিতায় কবি নিজের উদ্দেশ্য তথা বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের জন্য সবচেয়ে যে
বিষয়টির উপর জোর দিয়েছেন তা হল মানব হৃদয়।তিনি এই মানব হৃদয়কে স্থান দিয়েছেন সকল ধর্মীয় গ্রন্থ,
উপাসনালয় ও পূণ্যস্থানের উপরে।সকল কালের সকল জ্ঞান এই অন্তরেই লুকায়িত।এই হৃদয়কে অনুসন্ধান ও
পরিশুদ্ধ করে সকল কালের সকল মহামানবেরা সত্যের দেখা পেয়েছিল।তাই মানুষের বিবেক ও মানবতাবোধ
জাগ্রত হলেই সম্ভব কবির প্রত্যাশিত সমাজ বিনির্মাণ করা।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ লাইন এর তাৎপর্যঃ


১.”গাহি সাম্যের গান-যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান”–

আলোচ্য অংশে কবি সমদর্শিতার প্রতি
ইঙ্গিত করেছেন।একজন ব্যক্তির মধ্যে যখন সাম্যবাদের দৃষ্টিভঙ্গি জাগ্রত হয় তখন সে মানুষের মধ্যে কোন
ব্যবধান খুঁজে পায় না।জাতি,ধর্ম,বর্ণ,গোত্র নির্বিশেষে তার চোখে সবাই সমান হয়ে যায়।

২.”কিন্তু কেন এ পণ্ডশ্রম,মগজে হানিছ শূল?”

-আলোচ্য অংশে কবি বুঝিয়েছেন, অন্তর ধর্ম বা নিজের বিবেককে
জাগ্রত করতে না পারলে যতই ধর্মীয়গ্রন্থ বা নীতি নৈতিকতার বই পড়া হোক না কেন তা কোন কাজে আসবে
না।বরং তা হবে প্রাপ্তিহীন শ্রমদান।

৩.”দোকানে কেন দর-কষাকষি?-পথে ফোটে তাজা ফুল!”-

-আলোচ্য অংশে কবি মানবতাবোধের শিক্ষা আহরণের
জন্য বিভিন্ন ধর্মীয় বই কিংবা উপাসনালয়ে যাওয়ার বদলে নিজের বিবেক বা অন্তর ধর্মকে জাগ্রত করাকে সহজ
বলেছেন।আর অন্তর ধর্ম জেগে উঠলেই সবখানে সাম্য বিরাজ করবে।

৪.”এইখানে বসে ঈসা মুসা পেল সত্যের পরিচয়”–

আলোচ্য অংশে কবি মানব হৃদয়ের মহত্ত্ব বর্ণনা করেছেন।তিনি
বুঝিয়েছেন একজন মানুষ নিজের হৃদয়কে অনুসন্ধান করে সকল সত্যকে আবিষ্কার করতে পারে।তাই মানব
হৃদয়ের অবস্থান সকল পূণ্য স্থানেরও উপরে।

সারমর্মঃ

সাম্যবাদী কবিতায় কবি মানব সমাজে সাম্যের গান গেয়ে সমাজকে বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক করতে
চেয়েছেন।মানুষের মধ্যে মানবিকতা ও বিবেকবোধ সৃষ্টি করার ফলে মানুষের অন্তর ধর্ম জাগ্রত হয়।আর এটা
জাগ্রত হলে একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে জাতি,ধর্ম, বর্ণ কিংবা গোত্রের দোহায় দিয়ে পৃথক করবে
না।মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হবে ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐক্য।আর এটা সৃষ্টি হলেই মানব সমাজ হবে এক শান্তি ও ভালবাসার
আবাসস্থল।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party