লোক-লোকান্তর — আল মাহমুদ

HSC / পদ্য / বাংলা ১ম পত্র

লোক-লোকান্তর — আল মাহমুদ

লেখক পরিচিতি

~আল মাহমুদ ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মৌড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন৷
~তাঁর প্রকৃত নাম মির আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
~তাঁর পিতার নাম আবদুর রব মির ও মাতার নাম রওশন আরা মির।
~’দৈনিক গণকন্ঠ’ ও ‘দৈনিক কর্ণফুলী’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন তিনি।
~আল মাহমুদ এর কবিতার জগৎ যন্ত্রণাদগ্ধ শহরজীবন নিয়ে নয় বরং স্নিগ্ধ-শ্যামল, প্রশান্ত গ্রামজীবন নিয়ে।

কাব্যগ্রন্থঃ

লোক-লোকান্তর, কালের কলস, সোনালি কাবিন, মায়াবী পর্দা দুলে উঠো, অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না, বখতিয়ারের
ঘোড়া, আরব্য রজনীর রাজহাঁস।
শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থঃ
পাখির কাছে ফুলের কাছে।
উপন্যাসঃ
ডাহুকী, কবি ও কোলাহল, নিশিন্দা নারী, আগুনের মেয়ে।
ছোটগল্পঃ
পানকৌড়ির রক্ত, সৌরভের কাছে পরাজিত, গন্ধবণিক


~তিনি বাংলা একাডেমি পুরষ্কার, একুশে পদকসহ অসংখ্য পুরষ্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন।

সংকলনঃ

“লোক-লোকান্তর” কবিতাটি কবি আল মাহমুদ এর “লোক-লোকান্তর” কাব্যের নাম কবিতা।

ছন্দঃ

কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ

১। কবিতায় কবির চেতনার পাখিটি “সাদা” রঙের।
২।কবির চেতনার পাখিটি বসে আছে – সবুজ অরণ্যে চন্দনের ডালে।
৩।বনচারী বাতাসের তালে দোলে – বন্য পানলতা।
৪। ঠোঁট মাখামাখি — সুগন্ধ পরাগে।
৫। চোখের কোটরের রং – কাটা সুপারির।
৬। পায়ের রং — সবুজ
৭। নখের রং — তীব্র লাল

৮। তাঁর তন্ত্রে মন্ত্রে (কাব্য চেতনায়) ভরে আছে — চন্দনের ডাল
৯।কবির চেতনার মনি উজ্জ্বল হয়।
১০। কবি শুনতে চেয়েছেন – আহত কবির গান।
১১।বিজয় আসন্ন – কবিতার
১২। লোক থেকে লোকান্তরে কবি স্তব্ধ হয়ে আহত কবির গান শুনতে চেয়েছেন।

শর্ট তথ্যঃ

  • মোট লাইনঃ-১৪ টি
  • মোট বিরাম চিহ্নঃ- ১২ টি
  • পাদচ্ছেদঃ-৬ টি
  • সেমিকোলনঃ- ১ টি
  • পুর্নচ্ছেদঃ-৫ টি

সারমর্মঃ

“লোক-লোকান্তর” কবির একটি আত্মপরিচয়মূলক কবিতা।কবি তার চেতনাকে একটি সত্যিকারের সপ্রাণ এক
অস্তিত্ব-পাখিতুল্য সেই কবিসত্তা সুন্দরের ও রহস্যময়তার স্বপ্ন সৌধ বিরাজমান।প্রাণের মধ্যে,প্রকৃতির মধ্যে সৃষ্টির
মধ্যে তার বসবাস।কবি চিত্রকল্পের মালা গেঁথে তাঁর কাব্য চেতনাকে মূর্ত করে তুলতে চান।এ কবিতায় একপ
সুগভীর বিচ্ছিন্নতাবোধের যন্ত্রণা কবিকে কাতর করে,আহত করে।তবু কবি সৃষ্টির আনন্দকে উপভোগ করতে
আগ্রহী।

গুরুত্বপূর্ণ লাইনের ব্যাখাঃ

১.”আমার চেতনা যেন একটি সাদা সত্যিকার পাখি,বসে আছে সবুজ অরণ্যে এক চন্দনের ডালে।”
=কবি তাঁর কাব্যচেতনাকে সাদা এক সত্যিকার পাখির প্রতিমায় উপস্থাপন করেছেন।কবির এই চেতনা-পাখি বসে
আছে সবুজ অরণ্যের কোন এক চন্দনের ডালে।এই চন্দন সুগন্ধি কাঠের গাছ।আর এর ফুল ঝাল-মিষ্টি
লবঙ্গ।কবির কাব্য সত্তার মধুরতার সঙ্গে চন্দনের সম্পর্ক নিহিত।
২.”আর দুটি চোখের কোটরে…ঝোপের ওপরে”

=কবির অস্তিত্ব জুড়ে চিরায়ত গ্রামবাংলা,বাংলার অফুরন্ত রং তাঁর চেতনারূপ পাখির চোখের কোটরে কাটা
সুপারির রং,তার পা সবুজ,নখ তীব্র লাল।এ যেন মাটি আর আকাশে মেলে ধরা কবির সমগ্র চৈতন্য জুড়েই
প্রাকৃতিক রঙের বৈচিত্র্য এবনহ নিসর্গ-উপলব্দিরই এক অনিন্দ্যপ্রকাশ।

কবিতার গুরুত্বপূর্ণ দিকঃ

১.এটি কবির আত্মপরিচয়মূলক কবিতা।
২.সৃষ্টির মোহে মানুষ অনেক সময় জন সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
৩.সৃষ্টির আনন্দ সকলকেই খুশী করে।বিচ্ছিন্নতাবোধের কষ্টকে লাঘব করে।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party