মাসি-পিসি _ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

HSC / গদ্য / বাংলা ১ম পত্র

মাসি-পিসি _ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

লেখক পরিচিতি  :

  • নাম : মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় 
  • পিতৃপ্রদত্ত নাম : প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় 
  • ডাকনাম : মানিক 
  • উপন্যাস : জননী, পদ্মানদীর মাঝি, চিহ্ন, দিবারাত্রির কাব্য, শহরতলী, পুতুল নাচের ইতিকথা প্রভৃতি। 
  • ছোটগল্প  : প্রাগৈতিহাসিক, সরীসৃপ, সমুদ্রের স্বাদ, কুষ্ঠরোগীর বৌ, টিকটিকি,হলুদ পোড়া, আজ কাল পরশুর গল্প, হারানের নাতজামাই, ছোট বকুলপুরের যাত্রী প্রভৃতি। 
  • মৃত্যু : ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের তেসরা ডিসেম্বর কলকাতায়। 

সংকলন :

গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় কলকাতারপূর্বাশা’ পত্রিকায় ১৩৫২ বঙ্গাব্দের চৈত্র সংখ্যায়। পরে এটি সংকলিত হয় ‘পরিস্থিতি’ নামক গল্পগ্রন্থে। বর্তমান পাঠটি গ্রহণ করা হয়েছে ‘ঐতিহ্য’ প্রকাশিত মানিক রচনাবলি পঞ্চম খন্ড থেকে। 

গল্পের সংক্ষিপ্ত মূলভাব

লেখক তাঁর গল্পে মূলত নারীর কঠিন অস্তিত্বের সংগ্রাম ও সাহসিকতার বিষয়টিকে অসাধারণ ও ভিন্নমাত্রায় ব্যক্ত করেছেন, অত্যাচারী স্বামী  এবং নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে আহ্লাদি নিরাপদে থাকার জন্য মাসি-পিসির সঙ্গেই থাকতো, নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা আহ্লাদিকে রক্ষা করতো, সবশেষে নারীর প্রতিরোধ ও আত্মপ্রচেষ্টার  একটি চিরন্তন অনুপ্রেরণা পাওয়া যায় গল্পটির মাধ্যমে। 

বিশেষ কিছু বাক্যের অর্থবোধক ব্যাখ্যা : 

হাতে দুটো পয়সা এলে তোমারও স্বভাব বিগড়ে যায় কৈলেস” 

➤ আহ্লাদির স্বামী জগুর সাথে কৈলাশের চায়ের দোকানে দেখা হয়েছিল। চায়ের দোকান যে আড্ডার কারখানা তা বুঝতে বাকি থাকে  না মাসি-পিসির। জগুর মতো  কৈলাশেরও যে হাতে পয়সা এলে স্বভাবের পরিবর্তন হয়ে যায় সেই বিষয়টি বুঝাতেই পিসি স্বভাব বিগড়ে যাওয়ার কথা বলে। 

আহ্লাদি একটা শব্দ করে , অস্ফুট আর্তনাদের মতো।”

➤ আহ্লাদির স্বামী জগুর কথাটা কৈলাশ জানিয়ে দেয় পিসিকে। তার বিয়ে করা বউকে বদ মতলবে আটকে রেখেছে। তাই সে মামলা করবে। আর মামলা করলে তারা বিপদে পড়বে। নিজেদের কথা শুনে আহ্লাদি আর্তনাদের মতো শব্দ করে। 

“গলা কেটে রক্ত দিয়ে সে ধার শোধ করা যদি-বা সম্ভব, অন্ন দেওয়ার ক্ষমতা কোথায় পাবে”  

➤ আহ্লাদির বাবা বিধবা মাসি-পিসির থাকার জায়গাটুকু দিলেও খাওয়াটা  ছাঁটাই করে দিয়েছিল। বিধবা দুজনের অবস্থা তখন বাঁচে কি মরে। এর ওপর জগুর অত্যাচারে মরমর হয়ে আহ্লাদি এসে হাজির হয়। মাসি-পিসির সেবা যত্নেই আহ্লাদি বেঁচে উঠেছিল। আহ্লাদির বাবা-মা সেটা স্বীকার করেছে, কিন্তু তার অন্নসংস্থানের ক্ষমতা তো নেই। 

নিজেকে তার ছ্যাঁচরা, নোংরা, নর্দমার মতো লাগে।”

➤ আহ্লাদি তার মাসি-পিসির কথায় শুয়ে – বসেই দিন কাটায়। অথচ আড়ালে থেকেও সে বুঝতে পারে কীভাবে মানুষ তার দিকে তাকাচ্ছে, তরিতরকারির মতো তাকেও কেনা যায় কিনা যাচাই করছে। গাঁয়ের কত জন কত রকম দর দিয়েছে মাসি-পিসির কাছে। আহ্লাদির মনে হয়, তাঁর যেন সম্মান নেই, ইচ্ছে -অনিচ্ছে নেই , কোনো স্বতন্ত্র স্বত্তা নেই। 

যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি।”

➤ মারাত্মক ভঙ্গিতে বঁটি আর কাটারি উঁচু করে মাসি-পিসি হাঁকডাক আরম্ভ করে। পাড়ার লোকজন ছুটে আসলে কানাই চৌকিদার      পেয়াদা এক ফাঁকে পালিয়ে যায়। তবুও ভয় থেকেই যায় মাসি-পিসির। কারণ একবার মেয়েটাকে কুটুম বাড়ি সরিয়ে দেওয়ায় সোনাদের ঘরে আগুন দিয়েছিল মাঝরাতে। তাই তারা কাঁথা-কম্বল চুবিয়ে রাখে এবং  হাঁড়ি-কলসিতে জল ভরে রাখে। যুদ্ধের আয়োজন করে মাসি-পিসি জেগে থাকে সারারাত। 

গুরুত্বপূর্ণ টপিকস ( সৃজনশীল প্রশ্নের জন্য

  • সন্তানস্নেহের অতুলনীয় দৃষ্টান্ত 
  • অন্যায়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ
  • নারীর সাহসিকতা ও প্রতিবাদী মনোভাব 
  • নারী নির্যাতন ও এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ 
  • দরিদ্রতা ও দরিদ্র মানুষের হাহাকার 

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party