ভাব ও কাজ

JSC / গদ্য / বাংলা

ভাব ও কাজ

মূলভাব :

‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধে দেখা যায়,  ভাব ও কাজের পার্থক্য আসমান-জমিনের মতো।মানুষ কে উদ্বুদ্ধ করার জন্য ভাবের গুরুত্ব অপরিসীম হলেও শুধু ভাব দিয়ে মহৎ কিছু অর্জন করা যায় না। এ জন্য ভাবের পাশাপাশি কর্মশক্তি এবং সঠিক উদ্যোগেরও দরকার হয়। ভাব পুষ্পবিহীন সৌরভের মতো অবাস্তব উচ্ছ্বাস বলে এটা দিয়ে মহৎ কিছু অর্জন করা যায় না। তারপর কর্মশক্তি ও সঠিক উদ্যোগের দরকার হয়। তরুণ প্রজন্মকে শুধু ভাবের উচ্ছ্বাসে উদ্বেল হলেই চলবে না, ভাবের সঙ্গে পরিকল্পিত কর্মশক্তি ও বাস্তব উদ্যোগের প্রয়োজন সম্পর্কেও সচেতন হতে হবে। দেশের উন্নতি এবং মানুষের কল্যাণের জন্য ভাবের সঙ্গে বাস্তবধর্মী কর্মে তৎপর হওয়া আবশ্যক। ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধটিও এ বিষয়কে সমর্থন করে। উক্ত প্রবন্ধে ভাবের পাশাপাশি কর্মশক্তির বিষয়টিকে বিশেষ প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। মানুষকে যেকোনো মহৎ কাজে উদ্বুদ্ধ করতে ভাবের গুরুত্ব অপরিসীম হলেও একে বাস্তবায়ন করতে পারে কর্মস্পৃহা ও বাস্তব উদ্যোগ। তবেই দেশ ও জাতির উন্নতি হবে। কিন্তু কেউ যদি ভাবকে দাসে পরিণত না করে নিজেই ভাবের দাসে পরিণত হয় তবে যেকোনো ভালো উদ্যোগও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

পরিশেষে বলা যায় যে, কেবল ভাবে মশগুল না থেকে কর্মে উদ্যমী হওয়ার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এটি ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধেরও মূলকথা।

লেখক পরিচিতি :

>কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি। তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরলিয়া গ্রামে ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের ২৪শে মে ( ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ই জ্যৈষ্ঠ)  জন্মগ্রহণ করেন

> তাঁর বাবার নাম কাজী ফকির আহমেদ, মায়ের নাম জাহেদা খাতুন

> প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় (১৯১৪ সাল) দশম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালীন  বাঙালি পল্টনে যোগ দেন।

> ১৯১৯ সালে বাঙালি পল্টন ভেঙ্গে দেওয়ার পর সাহিত্যে মনোনিবেশ করেন

> প্রথম  ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি  ‘সাপ্তাহিক বিজলী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়

> কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সকল অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার, প্রতিবাদী। তাঁর রচিত সকল রচনাই অসম্প্রদায়িক চেতনা প্রকাশ পায়।  এজন্য তিনি ‘বিদ্রোহী’ কবি নামে পরিচিত।

> তাঁর রচনায় আরবি- ফারসি শব্দের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য

> প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ – অগ্নিবীণা

>প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস – বাঁধনহারা

>প্রথম গল্পগ্রন্থ – ব্যথার দান

> প্রথম প্রকাশিত নাটক – ঝিলিমিলি

> প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ – যুগবাণী

> কাব্যগ্রন্থ : বিষের বাঁশি, সর্বহারা, সাম্যবাদী, সর্বহারা, সিন্ধু – হিন্দোল, চক্রবাক ইত্যাদি।

> উপন্যাস : মৃত্যুক্ষুধা, কুহেলিকা,বাঁধনহারা

> গল্পগ্রন্থ : ব্যথার দান, রিক্তের বেদন, শিউলমালা

> নাটক : ঝিলিমিলি, আলেয়া, মধুমালা।

>পত্রিকা : লাঙল, ধূমকেতু, দৈনিক নবযুগ

> প্রবন্ধগ্রন্থ :রুদ্রমঙ্গল, যুগবাণী

>বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে ঢাকায় এনে নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়। তখন থেকেই তিনি আমাদের জাতীয় কবি৷

> মাত্র তেতাল্লিশ বছর বয়সে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয় এবং ১৯৭৬ সালে ২৯শে আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন ; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে সমাধিস্থ করা হয়।

বৃন্তি সাহা

শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট,

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়    

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party