অধ্যায় ১০ঃ ব্যবস্থাপনা হিসাববিজ্ঞান পরিচিতি

হিসাববিজ্ঞান / হিসাববিজ্ঞান (২য় পত্র)

অধ্যায় ১০ঃ ব্যবস্থাপনা হিসাববিজ্ঞান পরিচিতি

এই অধ্যায়ে আমরা মূলত আমরা আলোচনা করব – সমচ্ছেদ বিশ্লেষণ বা Break Even Analysis নিয়ে।

সমচ্ছেদ বিন্দু হচ্ছে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের এমন একটি স্তর বা অবস্থান, যেখানে মোট আয় এবং মোট ব্যয় পরস্পর সমান হয়।

সমচ্ছেদ বিন্দু নির্ণয়ের কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে। যেমন:
১) সমীকরণ পদ্ধতি
২) লেখচিত্র পদ্ধতি
৩) সমচ্ছেদ তালিকা পদ্ধতি।

এখানে আমরা মূলত সমীকরণ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব।

আচ্ছা তো আমরা আগে কয়েকটি দফা সম্পর্কে জেনে নেই;

  • পরিবর্তনশীল ব্যয়: উৎপাদনের একক হ্রাস বৃদ্ধির সাথে সাথে যেই ব্যয় ওঠানামা করে তাকে পরিবর্তনশীল ব্যয় বলে।
  • স্থায়ী ব্যয়: যে ব্যয় উৎপাদন একক এর সাথে পরিবর্তিত হয় না।
  • দত্তাংশ/অবদান/কন্ট্রিবিউশন মর্জিন: একক প্রতি বিক্রয়মূল্য এবং একক প্রতি পরিবর্তনশীল ব্যয়ের পার্থক্য।
  • নিরাপত্তা প্রান্ত: প্রতিষ্ঠান সমচ্ছেদ বিন্দুর থেকে যত বেশি বিক্রয় করে সেই অতিরিক্ত পরিমাণই হচ্ছে নিরাপত্তা প্রান্ত।

ধরি একটি প্রতিষ্ঠান“পটেটো ক্র্যাকার্স” বিক্রয় করে।এখন প্রতি প্যাকেট পটেটো ক্র্যাকার্স এর বিক্রয় মূল্য ১০ টাকা। ধরি প্রতি প্যাকেট পটেটো ক্র্যাকার্স উৎপাদন করতে প্রতিষ্ঠান খরচ হয় ৫ টাকা।এবং প্রতিষ্ঠানটির মেশিন, দালানকোঠা ইত্যাদি বাবদ স্থায়ী ব্যয় এক লক্ষ টাকা।

তাহলে, প্রতিষ্ঠানটিরএকক প্রতি দত্তাংশ/অবদান/কন্ট্রিবিউশন মর্জিন= (একক প্রতি বিক্রয়মূল্য – একক প্রতি পরিবর্তনশীল ব্যয়)
= (১০-৫)
= ৫টাকা।

কন্ট্রিবিউশন মর্জিন অনুপাত= (একক প্রতি কন্ট্রিবিউশন মর্জিন ÷ একক প্রতি বিক্রয়মূল্য)
= (৫÷১০)×১০০
= ৫০%

সমচ্ছেদ বিন্দু(একক) = (স্থায়ী ব্যয় ÷ একক প্রতি দত্তাংশ)
অথবা, {স্থায়ী ব্যয় ÷(একক প্রতি বিক্রয়মূল্য – একক প্রতি পরিবর্তনশীল ব্যয়)}
= (১,০০,০০০÷৫)
= ২০,০০০একক।

অর্থাৎ ২০,০০০ প্যাকেট’ পটেটো ক্রাকার্স ‘বিক্রয় করলে প্রতিষ্ঠানের লাভ-ক্ষতি কিছুই হবে না ।

সমচ্ছেদ বিন্দু(টাকা)= (স্থায়ী ব্যয় ÷ কন্ট্রিবিউশন মর্জিন অনুপাত)
= (১,০০,০০০÷৫০%)
= ২,০০,০০০টাকা।

অথবা, (সমচ্ছেদ বিন্দু একক×একক প্রতি বিক্রয়মূল্য)
= (২০,০০০×১০)
= ২,০০,০০০টাকা।

এই দুটো সূত্রের যেকোনোটি দিয়ে করলেই একই উত্তর আসবে । অর্থাৎ ২,০০,০০০ টাকার চিপস বিক্রয় করলে প্রতিষ্ঠানটি তাদের সমচ্ছেদ বিন্দুতে আসতে পারবে ।

ধরি, প্রতিষ্ঠানটি ৩,০০,০০০ টাকার চিপস বিক্রয় করেছে। তাহলে তাদের,

নিরাপত্তা প্রান্ত= (প্রকৃত বিক্রয় – সমচ্ছেদ বিক্রয়)
= (৩,০০,০০০-২,০০,০০০)
= ১,০০,০০০টাকা।

এবার, আমরা মুনাফার পরিমাণ নির্ণয় করব। এর জন্য আমাদের কী করতে হবে ? মোট বিক্রয় থেকে সকল ব্যয় বাদ দিয়ে মুনাফা নির্ণয় করা যায়।

মুনাফা = বিক্রয় – স্থায়ী ব্যয় – পরিবর্তনশীল ব্যয়
= ৩,০০,০০০-১,০০,০০০-১,৫০,০০০

[এখানে পরিবর্তনশীল ব্যয় নির্ণয় করতে আমাদের আগে বিক্রিত একক নির্ণয় করতে হবে।

বিক্রিত একক= বিক্রয়÷একক প্রতি বিক্রয়মূল্য
= ৩,০০,০০০÷১০
= ৩০,০০০টাকা।

সুতরাং, পরিবর্তনশীল ব্যয়=(বিক্রিত একক× এককপ্রতিপরিবর্তনশীল ব্যয়)
= ৩০,০০০×৫
= ১,৫০,০০০টাকা। ]

এখন যদি আমরা আগে থেকেই লক্ষ্য ঠিক করে রাখি ,

ধরি , ৬০,০০০ টাকা মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলো। এই পরিস্থিতিতে স্থায়ী ব্যয় ও প্রত্যাশিত মুনাফা যোগ করে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় । এরপর একক প্রতি পরিবর্তনশীল ব্যয় দিয়ে ভাগ করে লক্ষ্য স্থীর বিক্রয় একক নির্ণয় করা হয়।

লক্ষ্যস্থির বিক্রয় (কর ছাড়া- এককে)= {(স্থায়ী ব্যয় + প্রত্যাশিত মুনাফা)÷একক প্রতি পরিবর্তনশীল ব্যয়}
= {(১,০০,০০০+৬০,০০০)÷৫}
= {১,৬০,০০০÷৫}
= ৩২,০০০একক।

লক্ষ্যস্থির বিক্রয় (কর ছাড়া- টাকায়) = {(স্থায়ী ব্যয় + প্রত্যাশিত মুনাফা) ÷ কন্ট্রিবিউশন মর্জিন অনুপাত}
= {(১,০০,০০০+৬০,০০০)÷৫০%}
= {১,৬০,০০০÷৫০%}
= ৩,২০,০০০টাকা।

অথবা, লক্ষ্যস্থির বিক্রয় (এককে)× একক প্রতি বিক্রয়মূল্য
= ৩২,০০০×১০
= ৩,২০,০০০টাকা।

এবার আমরা ধরি ,
একই পরিস্থিতি কিন্তু এবার প্রতিষ্ঠানকে কর দিতে হবে ২০%।

তাহলে এবার আমাদের কী করতে হবে ! খুবই সহজ শুধু প্রত্যাশিত মুনাফাকে কর – পূর্ববর্তী মুনাফায় রূপান্তর করে স্থায়ী ব্যয়ের সাথে যোগ করতে হবে ।

লক্ষ্যস্থির বিক্রয় (কর সহ- এককে)= [স্থায়ী ব্যয় + {প্রত্যাশিত মুনাফা÷(১-কর হার)}]÷একক প্রতি পরিবর্তনশীল ব্যয়
= [১,০০,০০০+{৬০,০০০÷(১-.২০)}]÷৫
= [১,০০,০০০+{৬০,০০০÷,৮০}]÷৫
= [১,০০,০০০+৭৫,০০০]÷৫
= ১,৭৫,০০০÷৫
= ৩৫,০০০ একক।

লক্ষ্যস্থির বিক্রয় (কর সহ- টাকায়)= [স্থায়ী ব্যয় + {প্রত্যাশিত মুনাফা÷(১-কর হার)}] ÷ কন্ট্রিবিউশন মর্জিন অনুপাত
= [১,০০,০০০+{৬০,০০০÷(১-.২০)}]÷৫০%
= [১,০০,০০০+{৬০,০০০÷,৮০}]÷৫০%
= [১,০০,০০০+৭৫,০০০]÷৫০%
= ১,৭৫,০০০÷৫০%
= ৩,৫০,০০০টাকা।

অথবা, লক্ষ্যস্থির বিক্রয় (এককে)× একক প্রতি বিক্রয়মূল্য।
= ৩৫,০০০×১০
= ৩,৫০,০০০টাকা

এই ব্যাপারটা তো আশা করি জানো যে, ছক করে অংক করার তুলনায় সূত্রের মাধ্যমে অংক সমাধান করতে কম সময় লাগে। এই পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে সহজে এবং কম সময়ে প্রশ্নোত্তর করা যাবে। তার জন্য অবশ্য সূত্রগুলো মনে রাখতে এবং বেশি বেশি অনুশীলন করতে হবে।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party