বায়ান্নর দিনগুলো – শেখ মুজিবুর রহমান

HSC / গদ্য / বাংলা ১ম পত্র

বায়ান্নর দিনগুলো – শেখ মুজিবুর রহমান

লেখক পরিচিতি :

  • নাম : শেখ মুজিবুর রহমান
  • জন্ম : ১৯২০ সালের ১৭ ই মার্চ 
  • জন্মস্থান : টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ 
  • পিতা : শেখ লুৎফর রহমান 
  • মাতা : সায়েরা খাতুন 
  • শিক্ষা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে পড়াশোনা করেন।
  •  মৃত্যু : ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগষ্ট 

অর্জনসমূহ : 

(১) ১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা লাভ। 

(২) মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ  পরিচালনা। 

(৩) ১৯৭২ সালে “জুলিও কুরি” পদক লাভ। 

সংকলন :

অসমাপ্ত আত্মজীবনী (২০১২) গ্রন্থ – শেখ মুজিবুর রহমান

রচনার সংক্ষিপ্ত মূলভাব :

রাজনৈতিক কারণে বিনা দোষে দীর্ঘদিন কারাবরণ করেছেন বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমান। অনশনরত অবস্থায় মৃত্যু আত্যাসন্ন জেনে পিতামাতা, স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে ভাবনা এবং অবশেষে মুক্তি পেয়ে স্বজনদের কাছে ফিরে আসার স্মৃতির হৃদয়স্পর্শী বিবরণ সংকলিত অংশের প্রাণ 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু বাক্যের সহজ ব্যাখ্যা : 

আমরা অনশন ভাঙবো না” 

➤ মহিউদ্দিন ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান  মিলে অনশন করার প্রতিজ্ঞা নিয়েছিলেন ঢাকার জেলে বসে। এ অনশন ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে। বিনা দোষে, অকারণে তাঁদের দুজনকে জেলে আটকে রাখার প্রতিবাদে তাঁরা এ পদক্ষেপ নেয়। বাক্যটিতে তাঁদের নিজেদের প্রতিজ্ঞার উপর অটল থাকার প্রবণতা প্রকাশ পায়। 

সরকারের হুকুমেই আপনাদের চলতে হয়”       

➤ বঙ্গবন্ধু ও মহিউদ্দিন অনশন করবেন এমনটা জেল কর্তৃপক্ষ জানা মাত্র বাধা দিতে শুরু করে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। তাদের এই বলে আশ্বস্ত করেন যে জেল কর্তৃপক্ষের উপর তাঁদের কোনো ক্ষোভ নেই। কারণ তাঁরা জানে যে জেল কতৃপক্ষ নিজেদের ইচ্ছায় নয় বরং সরকারের আদেশেই আদিষ্ট। 

খবর চাপা থাকে না” 

➤ বঙ্গবন্ধুর জেল পরিবর্তন করা হবে এমনটা জানানো হয়। কিন্তু  কোন জেলে নেয়া হবে তা জেল কর্তৃপক্ষ জানায় নি। তবে  গোপন কথা এক সময় না এক সময় প্রকাশ পায়, যা চিরন্তন সত্য। তেমনি কেউ একজন বলে দিলেন যে তাকে ফরিদপুর জেল পাঠানো হবে। 

ইয়ে কেয়া বাত, আপ জেলখানা মে “

➤সুবেদার সাহেব পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার সময় গোপালগঞ্জে ছিলেন। সে  সময় বঙ্গবন্ধুকে খুব শ্রদ্ধা করতেন৷ নির্দোষ মানুষকে জেল খানায় দেখে অবাক হয়ে উর্দু ভাষায় জিজ্ঞেস করলেন যে আপনি জেলখানায় আসলেন কিভাবে?  

বাবার কালের জীবনটা যেন রাস্তায় না যায়” 

➤ জেল থেকে দেরি করে বের হওয়ায় জাহাজ যথা সময়ে ধরতে পারবে কিনা এ নিয়ে সংশয় ছিল। তাই ড্রাইভার বা গাড়ি চালককে পুলিশেরা দ্রুত চালাতে বললে বঙ্গবন্ধু তার প্রতিবাদ করেন এবং রসাত্মক ভাবে বলেন যে এই যুবক বয়সেই যেন সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে রাস্তায় প্রাণ দিতে না হয় ! 

সে মরাতেও শান্তি আছে”

➤ বঙ্গবন্ধু জাহাজে ওঠার আগে পরিচিত যে ক’জনের সাথে দেখা হয়েছিল তাঁদেরকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন যে তাঁর এই অনশনের ফলে যদি মৃত্যু হয় তবে যেন সকলে তাঁকে মাফ করে দেয়। তাঁর এইভাবে মৃত্যুতে কোনো দুঃখ নেই। কারণ তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেই মারা যাচ্ছেন। এ মৃত্যু শান্তির। 

মরতে দেবো না”

➤ বঙ্গবন্ধুরা যখন অনশন করে বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তখন ফরিদপুর জেল কর্তৃপক্ষ তাঁদের জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা  করে। নাকে পাইপ দিয়ে তরল খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করে যাতে না খেয়ে মৃত্যু না ঘটে। মৃত্যু ঘটলে এর পরিণাম আরো খারাপ হবে। রাজনৈতিক পরিবেশ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাঙালিরা ক্ষোভে ফুঁসে উঠবে। 

আমলাতন্ত্র তাঁকে কোথায় নিয়ে গেল” 

➤ জনাব নুরুল আমিনের নির্দেশেই বাঙালির উপর ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে গুলিবর্ষণ  করা হয়। আমলাতন্ত্র ও কুমন্ত্রণা তাঁর এই অপরিণামদর্শিতার    কারণ।   

নিজের ছেলেও অনেক দিন  না দেখলে ভুলে যায় “ 

➤ দীর্ঘ ২৭-২৮ মাস জেল খাটার পর বাড়ি ফিরলে বঙ্গবন্ধু  পুত্র শেখ কামাল তাঁকে চিনতে পারেনি। কেননা যখন বঙ্গবন্ধুকে আটক করা হয় তখন তাঁর বয়স অনেক কম ছিল। 

ভয় আমি পাইনা, আর মনও শক্ত হয়েছে” 

➤ এখানে বঙ্গবন্ধুর দৃঢ় মনোবল প্রকাশ পেয়েছে। তিনি একের পর এক বিনা দোষে জেল খেটেছেন। তাঁর মনে শত্রুপক্ষের যেকোনো পদক্ষেপ এখন আর ভীতি সৃষ্টি   করেনা। তিনি তাই স্বাধীনতার স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন।    

গুরুত্বপূর্ণ টপিকস (সৃজনশীল প্রশ্নের জন্য) :

  • শাসকগোষ্ঠীর অপশাসনের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর প্রতিবাদী ভূমিকা। 
  • দেশপ্রেমিক বাঙালির মমত্ববোধ, আত্মত্যাগ এবং অধিকার আদায়ের চেতনা। 
  • প্রবন্ধে উল্লেখিত ভাষা আন্দোলনের প্রসঙ্গ। 

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party