বাংলা ভাষার জন্মকথা

JSC / গদ্য / বাংলা

বাংলা ভাষার জন্মকথা

বাংলা প্রথম পত্র

বাংলা ভাষার জন্মকথা ( হুমায়ুন আজাদ )

মূলকথা: “বাংলা ভাষার জন্মকথা” প্রবন্ধটিতে লেখক বাংলা ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। অন্যান্য ভাষার মতো বাংলা ভাষাও পরিবর্তনের ধর্ম অনুসরণ করে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাষা থেকে পরিবর্তিত হয়ে বর্তমান বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে। তেমনি পরিবর্তন হতে থাকবে এবং ভবিষ্যতে অন্য এক নতুন ভাষায় রূপান্তরিত হবে। বাংলা ভাষা সম্পর্কে প্রথম মত প্রকাশ করেন জর্জ গ্রিয়ারসন। এরপর বাংলা ভাষা সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনা করেন ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়। সবার আলোচনার সারসংক্ষেপ হিসেবে এটাই বলা যায় যে, বিভিন্ন অঞ্চলের বিভিন্ন ভাষা থেকে বাংলা ভাষা জন্ম নিয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ::

  • প্রবন্ধটি সংকলিত হয়েছে “কতো নদী সরোবর বা বাংলা ভাষার জীবনী” প্রবন্ধগ্রন্থ থেকে।
  • ভাষার ধর্ম- বদলে যাওয়া।
  • অনেকে মনে করেন – সংস্কৃত বাংলা ভাষার জননী এবং বাংলা সংস্কৃতের দুষ্টু মেয়ে।
  • উনিশ শতকে অনেকে মনে করতেন – বাংলার সাথে সংস্কৃতের সম্পর্ক অনেক দুরের। প্রাকৃত থেকে বাংলার জন্ম হয়েছে।
  • সংস্কৃত ছিল – উঁচু শ্রেণীর মানুষের লেখার ভাষা। মানুষের কথ্য (কথা বলার ভাষা) ছিল – প্রাকৃত।
  • জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন বলেন – মাগধী প্রাকৃতের কোনো পূর্বাঞ্চলীয় রূপ থেকে বাংলার জন্ম।
  • ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এর মাধ্যমে রচিত হয় বাংলা ভাষার স্পষ্ট  ইতিহাস।
  • ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশ / ভারতী-ইউরোপীয় ভাষাবংশ : ইউরোপ ও এশিয়ার বেশ কিছু ভাষার শব্দে মিল রয়েছে। ভাষাতাত্ত্বিকেরা এই ভাষাগুলোকেই ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশ / ভারতী-ইউরোপীয় ভাষাবংশ বলে আখ্যায়িত করেন।
  • ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশের একটি শাখা – ভারতীয় আর্যভাষা/ প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা।
  • ভারতীয় আর্যভাষার প্রাচীন রূপ পাওয়া যায় – “ঋগ্বেদ” এর মন্ত্রগুলোতে।
  • প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার তিনটি স্তর। দুটি স্তর হলো বৈদিক বা বৈদিক সংস্কৃত এবং সংস্কৃত।
  • বৈদিক সংস্কৃতের কাল – খ্রিষ্টপূর্ব ১২০০ অব্দ থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ৮০০ অব্দ পর্যন্ত।
  • সংস্কৃত ভাষার সৃষ্টি – খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০ অব্দে (ব্যাকরণবিদ পাণিনি) ।
  • প্রাকৃত ভাষাকে মধ্য ভারতীয় আর্যভাষা বলা হয়।
  • প্রাকৃত ভাষার শেষ স্তর – অপভ্রংশ।
  • অপভ্রংশের অর্থ – যা খুব বিকৃত হয়ে গেছে।
  • অপভ্রংশ > বাংলা , হিন্দি , গুজরাটি, মারাঠি, পাঞ্জাবি।
  • ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এর মত – পূর্ব মাগধী অপভ্রংশ> বাংলা , আসামি ও ওড়িয়া।
  • বাংলার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক – আসামি, ওড়িয়ার ( তাছাড়াও রয়েছে মৈথিলি, মাগধি ও ভোজপুরিয়া) ।
  • ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে – গৌড়ী প্রাকৃত > গৌড়ী অপভ্রংশ > বাংলা।
  • শ্লোক – চার লাইনে বিভক্ত কবিতা/ কবিতাংশ।

(বি:দ্র:‘ > ‘ চিহ্নটি দ্বারা পূর্ববর্তী ভাষা থেকে পরবর্তী ভাষা উৎপন্ন হয়েছে বোঝানো হয়েছে।)

লেখক পরিচিতি :: হুমায়ুন আজাদ

  • জন্ম : ১৯৪৭ সাল।  ;স্হান : মুন্সীগঞ্জ।
  • মৃত্যু : ২০০৪ সাল । ; স্থান : জার্মানির মিউনিখ।
  • পেশা: অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
  • গবেষণা গ্রন্থ : ” শামসুর রহমান: নিঃসঙ্গ শেরপা” ; “বাক্যতত্ত্ব”।
  • কিশোর গ্রন্থ: “অলৌকিক ইস্টিমার” , “জ্বলো চিতাবাঘ” ।
  • সম্মাননা: বাংলা একাডেমি পুরস্কার।
  • তিনি বাংলা ভাষার ও সাহিত্যের গবেষক হিসেবে খ্যাত ছিলেন।

তাহিয়া ইসলাম

একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস;

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party