ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯ – শামসুর রাহমান

HSC / পদ্য / বাংলা ১ম পত্র

ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯ – শামসুর রাহমান

লেখক পরিচিতি

~শামসুর রাহমান ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে ২৩ এ অক্টোবর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
~তাঁর পৈতৃক নিবাস নরসিংদীর পাহাড়তলি গ্রামে।
~তাঁর পিতার নাম মুখলেসুর রহমান চৌধুরী।
~মাতার নাম আমেনা বেগম।
~তিনি ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার পোগোজ স্কুল থেকে প্রবেশিকা পাস করেন।
~ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন।
~ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাশ করেন।
~১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি ‘ দৈনিক মর্নিং নিউজ’ – এ সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
~তিনি আদমজী পুরষ্কার, বাংলা একাডেমি পুরষ্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরষ্কারসহ অসংখ্য সম্মাননায়
ভূষিত হয়েছেন।
~২০০৬ খ্রিস্টাব্দে ১৭ ই আগষ্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

সাহিত্যকর্মঃ

প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (১৩৬৬ বাংলা), রৌদ্র করোটিতে বিধ্বস্ত নীলিমা (১৩৭৩ বাংলা), নিরালোকে
দিব্যরথ (১৩৭৫ বাংলা), নিজ বাসভূমে (১৯৭১), ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা, আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি (১৯৭৪),
বন্দী শিবির থেকে, দুঃসময়ের মুখোমুখি (১৯৭৫) আমি অনাহারি (১৩৮২ বাংলা) , বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখে (১৯৭৭),
উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ, বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়, এক ফোঁটা কেমন অনল, শামসুর রাহমানের শ্রেষ্ঠ
কবিতা প্রভৃতি।

সংকলনঃ

” ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯” শীর্ষক কবিতাটি কবি শামসুর রাহমানের নিজ বাসভূমেকাব্যগ্রন্থ থেকে চয়ন করা হয়েছে।
“ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯ ” সংগ্রামী চেতনার কবিতা, দেশপ্রেমের কবিতা, গণজাগরণের কবিতা।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ

১। কবিতাটি চেতনা, দেশপ্রেম, গণজাগরণের কবিতা।
২। কবিতাটির প্রেক্ষাপট – ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের।
৩। থরে থরে শহরের পথে নিবিড় হয়ে কৃষ্ণচূড়া ফুটেছে।
৪। ‘কৃষ্ণচূড়া” ফুলকে শহিদের রক্তের ঝলকিত বুদ্বুদ এর সাথে তুলনা করা হয়েছে।
৫।শহিদের রক্তের ঝলকিত বুদ্বুূদ “স্মৃতিগন্ধে ভরপুর।
৬। একুশের কৃষ্ণচূড়া ” আমাদের চেতনারই রং”
৭। চেতনা রং এর বিপরীতে আছে ” অন্য রং”
৮। ” একুশের কৃষ্ণচূড়া ” বলতে বোঝানো হয়েছে – একুশে ফেব্রুয়ারির কথা।
৯।ঘাতকের আস্তানা ” অশুভ”।
১০। কবির মতে বহু লোক এখন ” ঘাতকের আস্তানায় “
১১। চতুরর্দিকে ” মানবিক বাগান ও কমলবন ” তছনছ হচ্ছে।
১২। ” সালাম শূন্যে ফ্ল্যাগ তুলে।
১৩। বরকত বুক পাতে ঘাতকের থাবার সম্মুখে।
১৪। সালামের চোখে আজ আলোকিত ঢাকা।

১৫। সালামের মুখ আজ তরুণ শ্যামল পূর্ব বাংলা।
১৬। অবিনাশী বর্ণমালা গাঢ় উচ্চারণে বলে বরকত।
১৭। বর্ণমালাকে তুলনা করা হয়েছে নক্ষত্রের সাথে।
১৮। বীরের রক্তে দুঃখিনী মাতার অশ্রুজলে হৃদয়ের হরিৎ উপত্যকায়, বাস্তবের বিশাল চত্বরে ফুল ফোটে।

শর্ট তথ্যঃ

হরিৎ – সবুজ।

মোট চরণঃ-২৮টি

মোট যতিচিহ্নঃ-৩৪ টি

ফুলঃ- কৃষ্ণচুড়া(২ বার)

সালঃ-১৯৬৯

নামঃ-সালাম(৪বার),বরকত(২বার)

ফুলঃ-৩ বার

ছন্দঃ

” ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯” কবিতাটি গদ্যছন্দে রচিত।

গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থঃ

মানবিক বাগান – মানবীয় জগৎ। মনুষ্যত্ব, ন্যায় ও মঙ্গলের জগৎ।
কমলবন – কবি মানবিকতা, সুন্দর ও কল্যাণের জগৎ বোঝাতে ‘কমলবন ‘ প্রতীকটি ব্যবহার করেছেন।

গুরুত্বপূর্ণ লাইনের ব্যাখ্যাঃ


১.”আবার ফুটেছে দ্যাখো…
আমাদের চেতনারই রং”

=কৃষ্ণচূড়া ফুলের রং কে কবি একুশের শহীদদের রক্তের বুদবুদ বলে ঘোষণা করে সেই রং কে আমাদের চেতনার
সাথে মিলিয়ে ভাষার জন্য উৎসর্গ করা শহীদদের ত্যাগের মহিমাকে মূর্ত করে তুলেছেন।

সারমর্মঃ

১৯৬৯- এ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ববঙ্গের যে গণআন্দোলনের সূচনা ঘটেছিলো, কবিতাটি
সেই গণজাগরণের পটভূমিতে রচিত। জাতিগত শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে এদেশের সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে
ওঠে ‘৬৯ এ। প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জ থেকে, হাটবাজার থেকে, কলকারখানা থেকে, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে
অসংখ্য মানুষ জড়ো হয় ঢাকার রাজপথে। কবিতাটি দেশমাতৃকার প্রতি জনতার বিপুল ভালোবাসা সংবর্ধিত
হয়েছে৷ কবিতাটিতে একুশের রক্তঝরা দিনগুলোতে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এদেশের সংগ্রামী মানুষের আত্নহুতির
মাহাত্ম্যে প্রগাঢ়তা লাভ করেছে।

কবিতার গুরুত্বপূর্ণ দিকঃ


১.এটি একটি দেশপ্রেম,গণজাগরণ ও সংগ্রামী চেতনার কবিতা।
২.ফেব্রুয়ারী ‘৫২ এর ভাষার চেতনাকে ফেব্রুয়ারি ‘৬৯ এর গণ অভ্যুত্থানে জাগিয়ে তোলার এক অসাধারণ প্রয়াস
চালিয়েছেন কবি শামসুর রহমান।
৩.কবিতাটি একুশের রক্তঝরা দিনগুলোতে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এদেশের সংগ্রামী মানুষের আত্মাহুতির মাহাত্ম্যে
প্রগাঢ়তা লাভ করে।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party