প্রার্থনা

JSC / পদ্য / বাংলা

প্রার্থনা

লেখক পরিচিতি:

>কায়কোবাদ ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

>কায়কোবাদ এর আসল নাম মুহম্মদ কাজেম আল কুরায়শী৷

>প্রবেশিকার পাসের পর ডাক বিভাগ পোস্টমাস্টার হিসেবে চাকরি করেন৷

>ছেলেবেলা থেকেই তিনি ক্রমাগত লেখা শুরু করেন।

>মহাকাব্য : শশ্মান

>অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ :  অশ্রুমালা, শিবমন্দির, অমিয়ধারা, মহররম শরীফ ইত্যাদি

>১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে মহাকবি মৃত্যুবরণ করেন।

রচনার উৎস :

 ‘প্রার্থনা’ কবিতাটি কায়কোবাদ এর অশ্রুমালা কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

কবিতার ব্যাখা :

বিভো, দেহ হৃদে বল!

না জানি ভকতি, নাহি জানি স্তুতি,

কি দিয়া করবি, তোমার আরতি

আমি নিঃস্বম্বল।

> কবি হয়তো সৃষ্টিকর্তাকে শ্রদ্ধা ও ভক্তি করার মাধ্যমে কিভাবে আরাধনা করতে তা জানেন না। তাই তিনি অসহায়। কিন্তু তিনি মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করার জন্য দেহ ও মনে সাহায্য  চেয়েছেন।

তোমার দুয়ারে আজি রক্ত করে

দাঁড়ায়েছি প্রভো, সঁপিতে তোমারে

শুধু আঁখি জল,

দেহ হৃদে বল!

> কবি আজ শূন্য হাতে দাঁড়িয়ে আছে সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজেকে সমর্পন করার জন্য। তিনি শুধু অশ্রুজলে সৃষ্টিকর্তার কাছে হৃদয়ে প্রার্থনা করার সামর্থ্য চান।

বিভো, দেহ, হৃদে বল!

দারিদ্র্য পেষনে, বিপদের ক্রোড়ে,

অথবা সম্পদে, সুখের সাগরে

ভুলিনি তোমারে এক পল,

জীবনে মরণে, শয়নে স্বপনে

তুমি মোর পথের সম্বল;

দেহ হৃদে বল!

>কবি সবসময় সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করেন।  যেমনি বিপদের সম্মুখীন হন অথবা দারিদ্র্যে জর্জরিত প্রভুকে স্মরণ করেন, তেমনি সুখের দিনগুলোতে সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জীবনের সবকিছুতে সৃষ্টিকর্তাই প্রধান এবং সর্বশেষ আশ্রয়স্থল।

বিভো, দেহ, হৃদে বল!

কত জাতি পাখি, নিকুঞ্জ বিতানে

সদা আত্নাহারা তব গুনগানে,

আনন্দে বিহ্বল!

>সৃষ্টিকর্তা সকল সৃষ্টি অপার সৌন্দর্যের মহিমাময়। পৃথিবীতে যত রকমের ফুল-ফল, পাখি সকলে সব সময় আনন্দে উদ্ভাসিত  হয়ে তাঁর প্রশংসা করতে গিয়ে আত্মহারা হয়ে যায়।

ভুলিতে তোমারে, প্রাণে অবসাদ,

তরুলতা শিরে, তোমারি প্রসাদ

চারু ফুল ফল!

দেহ হৃদে বল!

>কবি যখন কোন কারনে সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে যান, তার মন বিষাদপূর্ণ হয়ে উঠে। তখনই তিনি প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে সৃষ্টিকর্তার মহিমা উপলব্ধি করার চেষ্টা করেন। গাছে গাছে ফুল-ফল সবই যেন তাঁর করুনাময় সৃষ্টির রুপ।

বিভো, দেহ হৃদে বল!

তোমারিই নিঃশ্বাস বসন্তের বায়ু,

তবু স্নেহ কথা জগতের আয়ু,

তব নাম অশেষ মঙ্গল!

>কবি বসন্তের বাতাসকে পরম করুনকময় এর নিঃশ্বাস মনে করেন। তাঁর করুর, স্নেহ মমতায় জগৎ-সংসার চলছে। সকল  মঙ্গল কামনার শেষ ভরসা তিনি। 

গভির বিষাদে, বিপদের ক্রোড়ে,

একাগ্র হৃদে স্মরিলে তোমারে

নিভে শোকানল!

দেহ হৃদে বল!

>কবি যখন ভীষণ দুঃখ, হতাশায় ভুগেন, বিপদে পড়েন তখনই একান্তমনে প্রভুকে স্মরণ করেন। তাৎক্ষনিতে সমস্ত দুঃখের শোক নিভে যায়। তাই কবি সৃষ্টিকর্তার কাছে দেহ মনে সাহায্য প্রার্থনা করেন।

বৃন্তি সাহা

শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়    

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party