অধ্যায় ৬ঃ প্রাপ্য হিসাবসমূহের হিসাবরক্ষণ

হিসাববিজ্ঞান / হিসাববিজ্ঞান (১ম পত্র)

অধ্যায় ৬ঃ প্রাপ্য হিসাবসমূহের হিসাবরক্ষণ

এই অধ্যায়ে আমরা আলোচনা করব

-প্রাপ্য হিসাব সংক্রান্ত আলোচনা

-অনাদায়ী পাওনা ও অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতির ধারণা

-অনাদায়ী পাওনা ও অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতি হিসাবভুক্তকরণ প্রক্রিয়া

প্রাপ্য হিসাব:

ধারে পণ্য বিক্রয় বা সেবা প্রদানের ফলে ক্রেতা বা সেবাগ্রহীতার কাছে প্রতিষ্ঠান যে দাবি সৃষ্টি হয় তাকে প্রাপ্য হিসাব বলে। প্রাপ্য হিসাব আর্থিক অবস্থার বিবরণীতে চলতি সম্পদ হিসেবে দেখানো হয়।

আমেরিকান নিয়মে বলা হয় প্রাপ্য হিসাব।

ব্রিটিশ নিয়মে বলা হয় দেনাদার হিসাব।

প্রাপ্য হিসাব সংক্রান্ত জাবেদা-

২০০০ টাকার পন্য ধারে পণ্য বিক্রিত হলে-

প্রাপ্য হিসাব (ডেবিট) ২০০০

        বিক্রয় হিসাব (ক্রেডিট) ২০০০

৫০০ টাকার ধারে বিক্রিত পণ্য ফেরত পাওয়া গেলে-

বিক্রয় ফেরত হিসাব (ডেবিট) ৫০০

        প্রাপ্য হিসাব (ক্রেডিট) ৫০০

দেনাদার থেকে ৫০০ টাকা প্রাপ্তি ঘটলে-

নগদান হিসাব (ডেবিট) ৫০০

        প্রাপ্য হিসাব (ক্রেডিট) ৫০০

দেনাদারকে ৫০ টাকার বাট্টা দিয়ে তার থেকে ৯৫০ টাকা প্রাপ্ত হলে।

নগদান হিসাব (ডেবিট) ৯৫০

বাট্টা হিসাব (ডেবিট) ৫০

        প্রাপ্য হিসাব (ক্রেডিট) ১০০০

অনাদায়ী পাওনা: কোন কারণে দেনাদার থেকে প্রাপ্য টাকা পাওয়া সম্ভব না হলে এই ক্ষতি কে আমরা বলি অনাদায়ী পাওনা। অনাদায়ী পাওনা একটি পেয়ে এবং এটি আয় বিবরণীতে পরিচালন ব্যয় অংশে দেখাতে হয়।

অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতি: আগামী বছরে অনাদায়ী পাওনা হতে পারে এমন শঙ্কায় বর্তমান হিসাব কালের মুনাফার অংশ থেকে কিছু টাকা আগামী বছরের জন্য সঞ্চয় করে রাখা হলে তাকে অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতি বলে।

অনাদায়ী পাওনা হিসাবরক্ষণের পদ্ধতি দুইটি:

১) সরাসরি অবলোপন পদ্ধতি

২) ভবিষ্যৎ ব্যবস্থা পদ্ধতি

সরাসরি অবলোপন পদ্ধতি: এই পদ্ধতিতে সঞ্চিতি রাখা হয় না এবং অনাদায়ী পাওনা ঘটলে জাবেদা দেওয়া হয় নিম্নরূপ-

ধরি, কোন একজন দেনাদার দেউলিয়া হবার কারণে তার থেকে প্রাপ্য ১০০০০ টাকা আর আদায়যোগ্য নয়:

অনাদায়ী পাওনা হিসাব (ডেবিট) ১০,০০০

           প্রাপ্য হিসাব (ক্রেডিট) ১০,০০০

আয় বিবরণীতে পরিচালন ব্যয় অংশে অনাদায়ী পাওনা বাবদ এই ১০০০০ টাকাই চার্জ করা হবে।

ভবিষ্যৎ ব্যবস্থা পদ্ধতি/সঞ্চিতি পদ্ধতি:

কুঋণ সঞ্চিতি ধরার পদ্ধতি ২টি।

১.সমাপনী দেনাদারের উপর শতকরা হারে (রক্ষণশীলতা নীতি)

২.নিট ধারে বিক্রয়ের উপর শতকরা হারে (মিলকরণ নীতি)।

*সমাপনী দেনাদারের ওপর শতকরা হারে কুঋণ ধরলে আমরা পরবর্তী বছরের কুঋণ সঞ্চিতি বা নতুন কুঋণ সঞ্চিতি পাই। নিম্নে এই পদ্ধতি অনুসরণ করে একটি উদাহরণ মাধ্যমে আমরা বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করি-

ধরি আমাদের রেওয়ামিলে দেওয়া আছে,

প্রাপ্য হিসাব ২৩০০০ টাকা

ধারে বিক্রয় ৪০০০০ টাকা

কুঋণ সঞ্চিতি ২০০০ টাকা।

এবং সমন্বয় দেওয়া আছে- কুঋণ হিসাবভুক্ত করতে হবে ৩০০০ টাকা, এবং নতুন কুঋণ সঞ্চিতি প্রাপ্য হিসাবের ৫%।

তাহলে এখানে আমাদের নতুন কুঋণ সঞ্চিতি হবে=(২৩০০০-৩০০০)×৫%=১০০০ টাকা।

এবং রেওয়ামিলের কুঋণ সঞ্চিতি হচ্ছে আমাদের পুরাতন কুঋণ সঞ্চিতি।

তাহলে আয় বিবরণীতে চার্জ করা হবে-

            কুঋণ ৩০০০

যোগ: নতুন কুঋণ সঞ্চিতি ১০০০

বিয়োগ: পুরাতন কুঋণ সঞ্চিতি ২০০০

তো পরিচালন ব্যয় অংশ যাবে=(৩০০০+১০০০-২০০০)=২০০০ টাকা।

এছাড়া আমাদের নিট দেনাদার হচ্ছে= (২৩০০০-৩০০০-১০০০)= ১৯০০০ টাকা।

আচ্ছা তো আমাদের জাবেদা হবে নিম্নরূপ:

যখন অনাদায়ী পাওনা অবলোপন করা হয়-

কুঋণ সঞ্চিতি (ডেবিট) ৩০০০

            প্রাপ্য হিসাব (ক্রেডিট) ৩০০০

যখন অনুমেয় অনাদায়ী পাওনা হিসাব ভুক্ত করা হয় বা আয় বিবরণীতে চার্জ দেখানো হয়-

কুঋণ (ডেবিট) ২০০০

           কুঋণ সঞ্চিতি (ক্রেডিট) ২০০০

(এখানে আয় বিবরণীতে চার্জকৃত টাকার পরিমাণ দেখাতে হবে)

যখন সমাপনী দাখিলা দেওয়া হয়-

আয় বিবরণী (ডেবিট) ২০০০

         কুঋণ (ক্রেডিট) ২০০০

অনাদায়ী পাওনা আদায়ের জাবেদা:

অনাদায়ী পাওনা বাবদ অবলোপনকৃত একজন দেনাদারের থেকে ২০০০ টাকা পাওয়া গেলে জাবেদা হবে নিম্নরূপ-

১) প্রাপ্য হিসাব (ডেবিট) ২০০০

               অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতি (ক্রেডিট) ২০০০

২) নগদান হিসাব (ডেবিট) ২০০০

               প্রাপ্য হিসাব (ক্রেডিট) ২০০০

*নিট বিক্রয়ের উপর শতকরা হারে কুঋণ সঞ্চিতি সৃষ্টি করলে আমরা আয় বিবরণীতে চার্জ কৃত টাকার পরিমাণ পাব। সে ক্ষেত্রে জাবেদা ও অন্যান্য হিসাবনিকাশ একই রকম থাকতো। নতুন কুঋণ সঞ্চিতি আমরা বের করতাম এভাবে:

নতুন কুঋণ সঞ্চিতি= কুঋণ ব্যয় (আয় বিবরণীতে চার্জ কৃত টাকার পরিমাণ) + পুরাতন কুঋণ সঞ্চিতি – কুঋণ অবলোপন।

বেস্ট অফ লাক।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party