অধ্যায় ৮ঃ দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সম্পদের হিসাবরক্ষণ

হিসাববিজ্ঞান / হিসাববিজ্ঞান (১ম পত্র)

অধ্যায় ৮ঃ দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সম্পদের হিসাবরক্ষণ

অবচয়:

স্থায়ী সম্পত্তির ব্যয়কে উক্ত সম্পত্তির ব্যবহারিক জীবন কালের মধ্যে বন্টন করার প্রক্রিয়া হচ্ছে অবচয়।

*অস্পর্শনীয় সম্পত্তির (যেমন সুনাম, কপিরাইট ইত্যাদি) অবলোপন ধরা হয়।

*অবচয়ের উদ্দেশ্য-

স্থায়ী সম্পত্তির ক্রয় মূল্য বন্টন।

*ভূমির ওপর অবচয় ধরা হয় না।

অবচয় ধার্যের পদ্ধতি সমূহ :

১.সরলরৈখিক পদ্ধতি

২.ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতি

৩.বর্ষসংখ্যার সমষ্টি পদ্ধতি

৪.উৎপাদন একক পদ্ধতি

সরলরৈখিক পদ্ধতি:

এই পদ্ধতিতে প্রতিবছর একই পরিমাণ অবচয় ধার্য করা হয়। অর্থাৎ সম্পত্তির অবচয় যোগ্য মূল্যকে সম্পত্তি আনুমানিক আয়ুষ্কালের মধ্যে সমান হারে বন্টন করা হয়।

অবচয়যোগ্য মূল্য=ক্রয় মূল্য -ভগ্নাবশেষ মূল্য।

বার্ষিক অবচয়= অবচয়যোগ্য মূল্য×অবচয় হার।

অথবা,

(অবচয়যোগ্য মূল্য ÷আয়ুষ্কাল)

এবং,

অবচয়ের হার=(100% ÷আয়ুষ্কাল)

অথবা,

(বার্ষিক অবচয়÷ অবচয়যোগ্য মূল্য) × 100

*ইজারা সম্পদ,ট্রেডমার্ক,কপিরাইট ইত্যাদি সম্পদের জন্য এই পদ্ধতি বিশেষ উপযোগী।

ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতি:

যে পদ্ধতিতে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় পরবর্তী বছরে কম অবচয় ধার্য করা হয় তাকে ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতি বলে। এই পদ্ধতিতে প্রতিবছর বহিঃমূল্যের ওপর অবচয় ধার্য করা হয়। এই পদ্ধতিতে অবচয় ধার্যের ক্ষেত্রে অবচয়ের হার আবশ্যক।

বহিঃমূল্য= ক্রয়মূল্য – পুঞ্জিভূত অবচয়।

অবচয়ের হার= (100% ÷ আয়ুষ্কাল) × 2

অবচয়=বহিঃমূল্য × অবচয়ের হার

*অবচয় হার সরল রৈখিক পদ্ধতিতে গুণ বিধায় ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতি কে দ্বৈত হ্রাসমান পদ্ধতি বলা হয়।

অবচয় সংক্রান্ত নীতিমালা:

১)প্রতিবছর অবচয় ধার্য করা হয় হিসাববিজ্ঞানের চলমান প্রতিষ্ঠান ধারণা অনুসারে।

২)অবচয় আয় বিবরণীতে চার্জ করা হয় মিলকরণ বা ব্যয় স্বীকৃতি নীতি অনুসারে।

৩)প্রতিবছর একই পদ্ধতিতে অবচয় ধার্য করা হয় সামঞ্জস্যতার নীতি অনুসারে।

৪)ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতিতে অবচয় ধার্য করা হয় রক্ষণশীলতার নীতি অনুসারে।

সংশ্লিষ্ট জাবেদাসমূহ:

১) সম্পত্তি ক্রয়ের জাবেদা:

সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি হিসাব (ডেবিট)

        নগদান/ব্যাংক হিসাব (ক্রেডিট)

২) অবচয়ের জাবেদা:

অবচয় হিসাব ডেবিট

        পুঞ্জিভূত অবচয় হিসাব ক্রেডিট

৩) অবচয় বন্ধের জাবেদা:

আয় সারাংশ হিসাব (ডেবিট)

        অবচয় হিসাব (ক্রেডিট)

৪) সম্পত্তি বিক্রয়ে লাভ হলে জাবেদা:

নগদান হিসাব (ডেবিট)

পুঞ্জিভূত অবচয় হিসাব (ডেবিট)

সম্পত্তি হিসাব (ক্রেডিট)

সম্পত্তি বিক্রয় জনিত লাভ হিসাব (ক্রেডিট)

*এবং ক্ষতি হলে জাবেদা:

নগদান হিসাব (ডেবিট)

পুঞ্জিভূত অবচয় হিসাব (ডেবিট)

সম্পত্তি বিক্রয় জনিত ক্ষতি হিসাব (ডেবিট)

সম্পত্তি হিসাব (ক্রেডিট)

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party