তাহারেই পড়ে মনে -সুফিয়া কামাল

HSC / পদ্য / বাংলা ১ম পত্র

তাহারেই পড়ে মনে -সুফিয়া কামাল

লেখক পরিচিতি

~অকাল-বিরহিণী কবি সুফিয়া কামাল ১৯১১ খ্রিস্টাব্দের ২০ জুন বরিশাল জেলার শায়েস্তাবাদ গ্রামে মাতামহ
সৈয়দ মুয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরীর গৃহে জন্মগ্রহন করেন।

~তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারী বি.এল ছিলেন বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার শিলভি গ্রামের
বাসিন্দা। মায়ের নাম সাবেরা বেগম।
~মাত্র এগার বছর বয়সে জ্ঞাতি ভাই ভাই সৈয়দ নেহাল হোসেনের সাথে তার বিয়ে হয়।
~তিনি কলকাতা করপোরেশনের অধীনে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন।

~১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রামের জনাব কামাল উদ্দিন এম. এস সি. -র সঙ্গে তিনি পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
~তাঁর প্রথম রচিত গ্রন্থ – কেয়ার কাঁটা (১৯৩৭, গল্প -গ্রন্থ)।
~প্রাপ্ত-পুরষ্কার -বাংলা একাডেমী পুরষ্কার, একুশে পদক, নাসির উদ্দীন স্বর্ণপদক।
~সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের বিশিষ্ট মহিলা কবি ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
~ তিনি স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছেন।
~সাহিত্য সাধনা ও নারী আন্দোলনের ব্রতী হয়ে তিনি শুধু কবি হিসেবেই বরণীয় হননি, জননী সম্ভাষণে ভূষিত
হয়েছেন।
~সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে ২০ এ নভেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরভ করেন৷

সাহিত্য কর্মঃ
কাব্যগ্রন্থঃ সাঁঝোর মায়া (১৯৩৮), মায়া কাজল ( ১৯৯১), উদাত্ত পৃথিবী (১৯৬৪), মন ও জীবন (১৯৫৭) , মৃত্তিকার
ঘ্রাণ , অভিযাত্রিক (১৯৬৯)।

গল্পগ্রন্থঃ কেয়ার কাঁটা।
আত্নজীবনীঃ একালে আমাদের কাল (১৯৮৮)।
স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থঃ একাত্তরের ডাইরী। (১৯৮৯)
শিশুতোষ গ্রন্থঃ ইতল বিতল (১৯৬৫) ও নওল কিশোরের দরবারে (১৯৮২)।

ছন্দঃ

“তাহারেই পড়ে মনে” কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।

সংকলনঃ

‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটি ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে ‘মাসিক মোহাম্মদী’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। কবিতাটি বেগম
সুফিয়া কামালের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘সাঝের মায়া’ তে অন্তর্ভুক্ত হয়।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ

১। তাহারেই পড়ে মনে সংলাপ নির্ভর কবিতা।
২। ১ টি ঋতুর নাম আছে -বসন্ত
৩। ২ টি বাংলা মাসের নাম আছে – মাঘ, ফাল্গুণ
৪।বসন্ত আছে – ৪ বার, ফাল্গুন- ৩ বার।
৫। লাইন – ৩০ টি, স্তবক – ৫ টি৷
৬। তাহারেই পড়ে মনে – বসন্তের আগমনে কবির অন্তরে বিদায়ী শীতের কথা জেগে ওঠে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থঃ


সমীর – বাতাস
পাথার – সমুদ্র
পুষ্পারতি – ফুলের বন্দনা বা নিবেদন
ঋতুর রাজন – ঋতুরাজ বসন্ত
মাধবী – বাসন্তী লতা বা তার ফুল
কুহেলি – কুয়াশা
উত্তরী – চাদর
মাঘের সন্ন্যাসী – কবি শীতকে মাঘের সন্ন্যাসীরূপে কল্পনা করেছেন।
তাহারেই পড়ে মনে – প্রকৃতিতে বসন্ত এলেও কবির মন জুড়ে আছে শীতের রিক্ত ও বিষণ্ন ছবি। কবির মন দুঃখ
ভারাক্রান্ত। তার কণ্ঠ নীরব৷ শীতের করুণ বিদায়কে তিনি কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। তাই বসন্ত তার মনে
কোনো সাড়া জাগাতে পারছে না। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তাঁর প্রথন স্বামী ও কাব্যসাধনার প্রেরণা – পুরুষের আকস্মিক
মৃত্যুতে কবির অন্তরে যে বিষণ্নতা জাগে তারই সুস্পষ্ট প্রভাব ও ইঙ্গিত এ কবিতায় ফুটে ওঠেছে।

গুরুত্বপূর্ণ লাইনের ব্যাখ্যাঃ

১.”দক্ষিণ দুয়ার গেছে খুলি?
বাতাবি নেবুর ফুল ফুটেছে কি?ফুটেছে কি আমের মুকুল?”

=বসন্তের আগমনী বার্তা ফুটে উঠেছে।


২.”ওগো কবি!রচিয়া লহ না আজও গীতি,বসন্ত -বন্দনা তব কণ্ঠে শুনি–“

=উদাসীন কবিকে বন্দনা গান রচনা করে বসন্তকে বরণ করে নেয়ার আকুতি জানিয়েছে কবিভক্ত।


৩.”তাহারেই পড়ে মনে,ভুলিতে পারি না কোন মতে।”
=শোকাহত কবির জীবনে স্বামী বিয়োগের ফলে যে রিক্ততা শীত ঋতুতে নেমে আসে সেটি কোন মতে ভুলতে না
পারার কথা বলেছেন।

সারমর্মঃ

~এ কবিতায় প্রকৃতি ও মানবমনের সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তাৎপর্যময় অভিব্যক্তি পেয়েছে।
~সাধারণভাবে প্রকৃতির সৌন্দর্য মানবমনের অফুরন্ত আনন্দের উৎস।
~ এ কবিতায় কবির ব্যক্তিজীবনের দুঃখময় ঘটনার ছায়াপাত ঘটেছে।
~তাঁর সাহিত্য সাধনার প্রধান সহায়ক ও উৎসাহদাতা স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের মৃত্যুতে (১৯৩২) কবির জীবনে
শূন্যতা নেমে আসে।
~” তাহারেই পড়ে মনে ” কবিতাকে আচ্ছন্ন করে আছে এই বিষাদময় রিক্ততার সুর।
~বসন্ত এলেও উদাসীন কবির অন্তর জুড়ে রিক্ত শীতের করুণ বিদায়ের বেদনা।
~ কবিতাটির আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এর নাটকীয়তা।

কবিতার গুরুত্বপূর্ণ দিকঃ


১.প্রকৃতি ও মানব মনের সম্পর্ক প্রকাশ পেয়েছে।
২.মানুষ যদি কোন কারণে শোকাচ্ছন্ন থাকে তাহলে প্রকৃতির সৌন্দর্য মানব মনকে আকৃষ্ট করতে পারে না।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party