জাদুঘরে কেন যাব – আনিসুজ্জামান

HSC / গদ্য / বাংলা ১ম পত্র

জাদুঘরে কেন যাব – আনিসুজ্জামান

লেখক পরিচিতি :

  • নাম : আনিসুজ্জামান
  • পিতা : ডা.এ.টি.এম মোয়াজ্জাম 
  • মাতা: সৈয়দা খাতুন   
  • জন্ম : ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৭
  • জন্মস্থান : কলকাতা
  • পেশা : অধ্যাপনা ( চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) । তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক  হিসেবে কর্মরত ছিলেন। 
  • গ্রন্থ  : মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য, মুসলিম বাংলার সাময়িক পত্র, স্বরুপের সন্ধানে, আঠারো শতকের চিঠি, পুরোনো বাংলা চিঠি, বাঙালি নারী : সাহিত্য ও সমাজে, বাঙালি সংস্কৃতি ও অন্যান্য। 
  • উল্লেখযোগ্য  অর্জন : একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত ডি.লিট এবং ভারত সরকার কর্তৃক পদ্মভূষণ। 
  • মৃত্যু : ১৪ ই মে ২০২০

সংকলন :

শামসুল হোসাইন সম্পাদিত স্মারক পুস্তিকা “ঐতিহ্যায়ন” (২০০৩) 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু বাক্যের সহজ ব্যাখ্যা :

একটা স্বতন্ত্র শৃঙ্খলা হিসেবে বিকশিত”

➤ পশ্চিমা বিশ্বে মিউজিওলজি, মিওজিওগ্রাফি বা মিউজিয়াম স্টাডিজ নামক একটি বিষয় রয়েছে যা সেসব দেশের শিক্ষার্থীরা উচ্চতর শিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে থাকে। এটি একটি স্বতন্ত্র বা সম্পূর্ণ আলাদা একটি শাখা যেখানে কেবল জাদুঘর সংক্রান্ত শিক্ষালাভ করা যায়। 

তবে এটা নাকি ছিল শুধু দর্শন- চর্চার কেন্দ্র”

➤ এখানে আলেকজান্দ্রিয়ায় প্রতিষ্টিত পৃথিবীর প্রথম জাদুঘর সম্পর্কে বলা হয়েছে। সে সময় কোন জাদুঘরতত্ত্ববিদ ছিল না। প্রতিষ্ঠাতার রুচি মাফিক গড়ে উঠেছিল এই জাদুঘর। সেসময় এই জাদুঘর সবার জন্য উম্মুক্ত ছিল না। কেবল দর্শন চর্চার জন্য ব্যবহার করা হতো এই জাদুঘর। বিভিন্ন দার্শনিকদের আনাগোনা ছিল এই জাদুঘরে। 

তা বিপ্লবের না হলেও ক্রমবর্ধমান গণতন্ত্রায়ণের ফলে”

➤ এখানে টাওয়ার অফ লন্ডনের কথা বলা হয়েছে। পূর্বে জাদুঘর জনসাধাণের জন্য উম্মুক্ত না থাকলেও ১৬ শতকের পর থেকে বিভিন্ন বিপ্লব ও গণতন্ত্রায়ণের ফলে জাদুঘরের দ্বার সকলের জন্যই খুলতে শুরু হতে থাকে।সৃষ্টি হতে থাকে নিত্যনতুন জাদুঘর। টাওয়ার অফ লন্ডন বিপ্লবের ফলে না হলেও গণতন্ত্রের বিকাশের ফলেই প্রতিষ্ঠিত। 

য : পলায়েত জীবতি “

➤ গভর্নরের সাম্প্রদায়িক মনোভাব ও হুংকার শুনে লেখক আর বৃথা তর্কে গেলেন না। এ ক্ষেত্রে তিনি হাস্য  রসাত্মকভাবে একটি প্রবাদ দ্বারা নিজের অবস্থা বোঝালেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর পালানো ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। 

কে বলছে আপনাকে যেতে”

➤ প্রাবন্ধিক সমগ্র প্রবন্ধে নানা ভাবে জাদুঘরে যাবার প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা বুঝিয়েছেন। তবে প্রবন্ধে কখনো পাঠককে কোন কিছুর প্রতি চাপ প্রয়োগ করা যাবে না। তাই প্রাবন্ধিক বেশ সুকৌশলে পরোক্ষভাবে    হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিতে এই কথা দ্বারা প্রবন্ধের ইতি টানেন। 

কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য :

আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্বের প্রথম জাদুঘর :

⇨খ্রিষ্টপূর্ব  ৩য় শতাব্দীতে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায় এ জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্যক্তি মালিকানাধীন  এ জাদুঘরে ছিল নিদর্শন- সংগ্রহশালা, গ্রন্থাগার, উদ্ভিদ উদ্যান, চিড়িয়াখানা ইত্যাদি। মূলত দর্শন চর্চার কেন্দ্র হিসেবেই পরিচিত ছিল। 

⊕যোল শতকের উল্লেখযোগ্য জাদুঘর সমূহ: 

১) ল্যুভ [ ফরাসি বিপ্লবের পরে ]

২) ভেরসাই প্রাসাদ [ ফরাসি বিপ্লবের পরে]

৩) লেনিনগ্রাদের রাজপ্রাসাদের হারমিতিয়ে [ রুশ বিপ্লবের পরে]

৪) টাওয়ার অফ লন্ডন  [ গণতন্ত্রায়ণের ফল]

১৭ শতক [অ্যাশমিলিয়ান ]:

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রিটেনের প্রথম পাবলিক মিউজিয়াম গড়ে উঠে। পিতা পুত্র দুই ট্র্যাডেসান্ট এবং অ্যাশমোলের সংগ্রহ নিয়ে এ জাদুঘর যাত্রা শুরু করে। 

⊕ ১৮ শতকে : [ ব্রিটিশ মিউজিয়াম ]

প্রথম রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত জাদুঘর। স্যার হ্যান্স স্লোন, স্যার রবার্ট কটন ও আর্ল অফ অক্সফোর্ড রবার্ট হার্লির সংগ্রহ নিয়ে যাত্রা শুরু করে।

গুরুত্বপূর্ণ টপিকস (সৃজনশীল প্রশ্নের জন্য)

  • বিভিন্ন শ্রেণীর জাদুঘর সম্পর্কে ধারণা। 
  • মানব মনোজগৎকে  সমৃদ্ধ করতে জাদুঘরের অবদান। 
  • জাদুঘরের সাধারণ লক্ষণ হিসেবে চমকপ্রদ, অনন্য, লুপ্তপ্রায় ও আকর্ষনীয় সকল বস্তু সম্পর্কে ধারণা লাভ। 
  • জাদুঘরের উদ্ভব এবং সময়ের সাথে ক্রমবিবর্তন সম্পর্কে ধারণা।   

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party