জাগো তবে অরণ্য কন্যারা

JSC / পদ্য / বাংলা

জাগো তবে অরণ্য কন্যারা

কবিতার মূলভাব :

জাগো তবে অরণ্য কন্যারা’ কবিতার কবিও বৃক্ষহীন পৃথিবীর পরিণতি ভেবে আঁতকে উঠেছেন। বৃক্ষের অভাবে ফুল ও ফলহীন পৃথিবীতে ভয়ার্ত মুখগুলো দেখে কবিহৃদয়ে হাহাকার উঠেছে। কবির কণ্ঠে এখন আর মৌসুমি ফুলের গান ধ্বনিত হয় না।

কবিও বৃক্ষনিধনের ভয়াবহ পরিণতিতে হতাশ হয়ে পড়েছেন। কারণ এতে প্রকৃতিতে ফুল ও ফসলের সম্ভার কমে যাওয়ায় প্রাণিকুলের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। কবি বৃক্ষদের জেগে ওঠার আহ্বান জানাচ্ছেন প্রকৃতিকে আবার শ্যামল সবুজে ফুলে-ফলে ভরিয়ে তোলার জন্য। কবি বৃক্ষদের জেগে ওঠার আহ্বান জানাচ্ছেন প্রকৃতিকে আবার শ্যামল সবুজে ফুলে-ফলে ভরিয়ে তোলার জন্য।

কবি পরিচিতি:

>সুফিরা কামাল ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশাল জেলার শায়েস্তাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

>তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল কুমিল্লায়।

>ছোটবেলায় কবিতা লেখার মাধ্যমে সাহিত্যচর্চায় শুরু হয়।

> কলকাতার এক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।

> সুদীর্ঘকাল সাহিত্যচর্চা,সমাজসেবা, নারীকল্যামূলক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন।

>তাঁর কবিতার বৈশিষ্ট্য : সহজ,ভাষা সুললিত, ছন্দ ব্যাঞ্জনাময়।

>উল্লেখযোগ্য কাবগ্রন্থ : সাঁঝের মায়া, মায়া কাজল,  মোর যাদুদের সমাধির পরে।

> স্মৃতিকল্যাণমূলক গ্রন্থ : একাত্তরের ডাইরি

> শিশুতোষ গ্রন্থ : ইতল বিতল, নওল কিশোরের দরবারে

>তাঁর অসামান্য কবিতা প্রতিভার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক,একুশে পদক, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি, মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কার সহ বহু পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন।

>তিনি ১৯৯৯ সালের ২০ শে নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

রচনার উৎস :

কবিতাটি  ‘উদাত্ত পৃথিবী ‘ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংগৃহীত হয়েছে।

কবিতার ব্যাখা:

মৌসুমি ফুলের গান মোর কণ্ঠে জাগে নাকো আর

চারিদিকে শুনি হাহাকার।

>চারপাশে প্রতিনিয়ত বৃক্ষ উজার হয়ে যাওয়ার ফলে সবুজ প্রকৃতি হ্রাস পাচ্ছে, প্রকৃতি হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে এবং পালাক্রমে ঋতু পরিবর্তন হচ্ছে না। তাই কবির কণ্ঠে ঋতু পরিবর্তনের অপার সৌন্দর্যের প্রশংসামূলক গান জেগে উঠে না বরং ব্যথিত হৃদয়ে হাহাকার শুনেন।

ফুলের ফসল নেই, নেই কারও কণ্ঠে আর গান

ক্ষুধার্ত ভয়ার্ত দৃষ্টি প্রাণহীন সব মুখ ম্লান ।

>এত বৃক্ষনিধনের ফলে প্রকৃতি তাঁর রুপ সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলছে। নিয়মিত ফুল ফুটে না, ফসল উৎপাদনও না। চারপাশে এখন মানুষ অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ভীত।

মাটি অরণ্যের পানে চায়

সেখানে ক্ষরিছে স্নেহ পল্লবের নিবিড় ছায়ায়।

>মাটিকে আশ্রয় করে স্নেহ, মমতায় বৃক্ষ বেড়ে উঠে। বৃক্ষ নিধনের ফলে মাটিতে শূন্যতা বিরাজ করছে। তাই মাটি আকাশের দিকে চেয়ে থাকে।

জাগো তবে অরণ্য কন্যারা! জাগো আজি,

মর্মরে মর্মরে ওঠে বাজি

বৃক্ষের বক্ষের বহ্নিজ্বালা

মেলি লেলিহান শিখা তোমরা জাগিয়া ওঠো বলো।

>কবি ব্যথিত হৃদয়ে বৃক্ষকন্যাদের জেগে উঠার আহ্বান জানান। নির্বিচারে বৃক্ষ উজার হয়ে যাওয়ার ফলে বৃক্ষের অন্তরে যন্ত্রনার আগুন বয়ে যায়। তাই কবি বৃক্ষকন্যাদের শাখায় শাখায় আগুনের মত উজ্জ্বল ফুল ফুটিয়ে প্রকৃতিকে সবুজের সমারোহে ভরিয়ে তোলার আকুল আবেদন জানান।

কঙ্কণে তুলিয়া ছন্দ তান

জাগাও মুমূর্ষু ধরা-প্রান

>বৃক্ষহীন পৃথিবী আজ মরুভূমির মত। পৃথিবীর জীবন যেন মৃতপ্রায়। কবি বৃক্ষকন্যাদের অলঙ্ককের ছন্দে আবার পৃথিবীকে জীবন্ত করে তোলার আহ্বান জানান।

ফুলের ফসল আনো, খাদ্য আনো ক্ষুধার্তের লাগি

আত্মার আনন্দ আনো, আনো যারা রহিয়াছে জাগি

তিমির প্রহর ভরি অতন্ত্র নয়ন, তার তরে

ছড়াও প্রভাত আলো তোমাদের মুঠি ভরে ভরে।

>কবি আবারও বৃক্ষকন্যাদের ফুলে-ফলে,ফসলে পৃথিবীকে সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান। তাহলে ক্ষুধার্তের মনে আনন্দ আসবে এবং  যারা ঘুমহীন চোখে অন্ধকার রাত জাগে, তাঁদের কাছে যেন হাতের মুঠোয় ভরে  আলো পৌঁছে যায় এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন কবি।

বৃন্তি সাহা

শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়     

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party