অধ্যায় ৭ঃ কার্যপত্র

হিসাববিজ্ঞান / হিসাববিজ্ঞান (১ম পত্র)

অধ্যায় ৭ঃ কার্যপত্র

এই অধ্যায়ে আমাদের আলোচ্য বিষয়

-কার্যপত্র

-সমন্বয় দাখিলা

-সমাপনী দাখিলা

কার্যপত্র:

আর্থিক বিবরণী প্রস্তুতে সাহায্যেররর লক্ষ্যে সমন্বয় দাখিলার যে খসড়া বিবরণী বিবরণী প্রস্তুত করা হয় তাকে কার্যপত্র বলে। এটি হিসাব বিজ্ঞানের একটি ঐচ্ছিক ধাপ। কার্যপত্র সাধারণত ৮ ঘরা/১০ ঘরা/১২ ঘরা হয়ে থাকে।

-সাধারণত ১০ ঘর বিশিষ্ট কার্যপত্র তৈরি করা হয়, তবে ৮ ঘর বিশিষ্ট কার্যপত্রে সমন্বিত রেওয়ামিল ঘরটি বাদ যায় এবং ১২ ঘরবিশিষ্ট কার্যপত্রে সংরক্ষিত আয় বিবরণী/মালিকানা স্বত্ব বিবরণী ঘর যুক্ত হয়।

সমন্বয় দাখিলা:

রেওয়ামিল প্রস্তুতের পর এবং আর্থিক বিবরণী তৈরি করার পূর্বে হিসাব কালের আয়-ব্যয়কে সঠিক অংকে পরিণত করতে যে দাখিলা দেওয়া হয় তাকে সমন্বয় বলে। এই দাখিলায় মূলত অগ্রিম বা বকেয়া আয়-ব্যয় সমন্বয় করা হয়।

সমন্বয় দাখিলা সাধারণত ২ প্রকার।

১) বকেয়া সমূহ

ক) বকেয়া আয়

খ) বকেয়া ব্যয়

২) অগ্রিম সমুহ

ক) অগ্রিম আয়

খ) অগ্রিম ব্যয়

বকেয়া আয়ের সমন্বয় দাখিলা:

বিনিয়োগের সুদ অর্জিত হল ৫০০ টাকা কিন্তু নগদে পাওয়া যায়নি।

প্রাপ্ত বিনিয়োগের সুদ ডেবিট ৫০০

          বিনিয়োগের সুদ ক্রেডিট ৫০০

অর্থাৎ বকেয়া আয়ের ক্ষেত্রে সমন্বয় দাখিলা হয় নিম্নরূপ:

প্রাপ্ত আয় (ডেবিট)

           সংশ্লিষ্ট আয় (ক্রেডিট)

বকেয়া ব্যয়ের সমন্বয় দাখিলা:

বেতন বকেয়া হয়েছে ৫০০ টাকা।

বেতন হিসাব (ডেবিট) ৫০০

           বকেয়া বেতন (ক্রেডিট) ৫০০

অর্থাৎ বকেয়া বেতনের ক্ষেত্রে সমন্বয় দাখিলা হয়:

সংশ্লিষ্ট ব্যয় (ডেবিট)

           প্রদেয় ব্যয় (ক্রেডিট)

তবে অগ্রিম আয়-ব্যয়ের সমন্বয় দাখিলায় পরিস্থিতি অনুযায়ী দুইভাবে দাখিলা দিতে হয়।

অগ্রিম ব্যয়ের সমন্বয় দাখিলা:

১) অগ্রিম ব্যয়কে সম্পদে লেখা থাকলে: রেওয়ামিলে অগ্রিম বেতন দেওয়া আছে ১৫ হাজার টাকা।

সমন্বয়ে বলা হলো বেতনের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে ১০ হাজার টাকা।

বেতন হিসাব ডেবিট ১০০০০

            অগ্রিম বেতন ক্রেডিট ১০০০০

অর্থাৎ জাবেদা দাখিলা হয়:

ব্যয় (ডেবিট) {ব্যবহৃত অংশ}

           অগ্রিম ব্যয় (ক্রেডিট)

২) অগ্রিম ব্যয়কে ব্যয় হিসাবে লেখা থাকলে:

মোট বিজ্ঞাপন খরচ ২০০০০ টাকা। এর অর্ধেক অংশ অবলোপন করতে হবে।

বিলম্বিত বিজ্ঞাপন (ডেবিট) ১০০০০

           বিজ্ঞাপন হিসাব (ক্রেডিট) ১০০০০

অর্থাৎ জাবেদা দাখিলা হয়:

অগ্রিম  ব্যয় (ডেবিট) {অব্যবহৃত অংশ}

            ব্যয় (ক্রেডিট)

অগ্রিম আয়ের সমন্বয় দাখিলা:

১) অগ্রিম আয়কে দায়ে লেখা থাকলে:

রেওয়ামিলে অনুপার্জিত সেবা আয় দেওয়া আছে ৫০ হাজার টাকা। সমন্বয়ে বলা হলো মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা।

অনুপার্জিত সেবা আয় (ডেবিট) ৩০০০০

            সেবা আয়  (ক্রেডিট) ৩০০০০

অর্থাৎ জাবেদা দাখিলা হয়:

অগ্রিম আয় (ডেবিট) {ব্যবহৃত অংশ}

            আয় (ক্রেডিট)

২) অগ্রিম আয়কে আয় হিসাবে লেখা থাকলে:

রেওয়ামিলে সেবা আয় দেওয়া আছে ৫০ হাজার টাকা। সমন্বয়ে বলা হলো অনুপার্জিত রয়েছে ৫ হাজার টাকা।

সেবা আয় (ডেবিট) ৫০০০

          অনুপার্জিত সেবা আয়  (ক্রেডিট) ৫০০০

অর্থাৎ জাবেদা দাখিলা হয়:

  আয় (ডেবিট) {অব্যবহৃত অংশ}

           অগ্রিম আয় (ক্রেডিট)

সুদ গণনা:

সুদ= আসল টাকা×সুদের হার×সময়

এক্ষেত্রে আসল টাকা ও সুদের হার প্রশ্ন দেওয়া থাকে সময় সম্পর্কিত কিছু সমস্যা সমাধান নিম্নে দেওয়া হল:

১)চলতি বছরের প্রথম তারিখ অথবা বিগত বছরে কোনো তারিখ দেওয়া থাকলে পূর্ণ বছরের সুদ গণনা করতে হবে।

২) কোন তারিখ দেওয়া না থাকলেও পূর্ণ বছরের সুদ গণনা করতে হবে তবে উত্তোলনের ক্ষেত্রে অর্ধ বছরের সুদ গণনা করতে হবে এবং অতিরিক্ত মূলধনে কোন সুদ গণনা করা যাবে না।

৩) মাসে মাসে সমপরিমাণ টাকা উত্তোলন করলে সুদ=প্রতি মাসের উত্তোলন×সুদের হার×গড় সময়।

প্রতি মাসের শুরুতে উত্তোলন করলে গড় সময় ৬.৫

প্রতি মাসের শেষে উত্তোলন করলে গড় সময় ৫.৫

প্রতি মাসের মাঝামাঝি উত্তোলন করলে গড় সময় ৬

সমাপনী দাখিলা: হিসাবকাল ধারণা অনুযায়ী হিসাব কাল শেষে অস্থায়ী হিসাব সমূহ বন্ধ করার জন্য যে দাখিলা প্রস্তুত করা হয় তাকে সমাপনী দাখিলা বলে।

সমাপনী দাখিলার মাধ্যমে অস্থায়ী হিসাবের জের মালিকানা স্বত্ব হিসেবে স্থানান্তর করা হয়।

অস্থায়ী হিসাবসমূহ: আয়, ব্যয়, মালিকের উত্তোলন।

সমাপনী দাখিলা দেওয়ার প্রক্রিয়া:

১) আয়ের ক্ষেত্রে:

প্রতিটি আয় (ডেবিট)

          আয় সারাংশ (ক্রেডিট)

২) ব্যয়ের ক্ষেত্রে:

আয় সারাংশ (ডেবিট)

         প্রতিটি ব্যয় (ক্রেডিট)

৩) আয় সারাংশ হিসাব বন্ধ করার জন্য:

আয় সারাংশ (ডেবিট)

         মালিকের মূলধন (ক্রেডিট)

যদি নিট ক্ষতি হয় তাহলে-

মালিকের মূলধন (ডেবিট)

        আয় সারাংশ (ক্রেডিট)

৪) উত্তোলন হিসাব বন্ধের জন্য:

মালিকের মূলধন (ডেবিট)

        উত্তোলন হিসাব (ক্রেডিট)

সমাপনী দাখিলার মাধ্যমে অস্থায়ী হিসাব সমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় বা শূন্য জের করে দেওয়া হয়। তাই সমাপন পরবর্তী রেওয়ামিলে শুধু স্থায়ী হিসাবসমূহ দেখানো হয়।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party