আহবান – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

HSC / গদ্য / বাংলা ১ম পত্র

আহবান – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

লেখক পরিচিতি :

  • নাম : বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় 
  • জন্মতারিখ : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ১৮৯৪ সাল
  • জন্মস্থান: চব্বিশ পরগনা জেলার মুরারিপুর গ্রামে 
  • পেশা : শিক্ষকতা
  • গদ্য লেখার ধরণ : কাব্যময় ও চিত্রাত্মক 
  • উপন্যাস : দৃষ্টিপ্রদীপ,  আরন্যক, দেবযান ও ইছামতি 
  • গল্পগ্রন্থ : মেঘমল্লার, মৌরিফুল, যাত্রাবদল, কিন্নর দল। 
  • মৃত্যু : ১৯৫০ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর, ঘাটশিলায় 

সংকলন :

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনাবলি থেকে সংকলিত। 

সংক্ষিপ্ত মূল বক্তব্য :

উদার মানবিক সম্পর্ক তথা দুটি ভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও আরথিক অবস্থানে বেড়ে ওঠা সংকীর্ণতা ও সংস্কারমুক্ত মনোভঙ্গির প্রকাশ এ গল্পে ফুটে উঠেছে । 

গল্পের চরিত্রসমূহ

১)গোপাল 

২) চক্রবর্তী মশায়

৩)  বুড়ি 

৪) জমির করাতি

৫) বুড়ির নাত জামাই

৬) জ্ঞাতি খুড়ো 

৭) ঘুঁটি গোয়ালিনী 

৮) হাজরা ব্যাটার বউ 

৯) দিগম্বরী

১০) পরশু সর্দার 

১১) শুকুর মিয়া 

১২) নসর, আবদুল, আবেদালি ও গনি    

গুরুত্বপূর্ণ কিছু লাইনের সহজ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

গ্রামের চক্কোত্তি মশায় আমার বাবার পুরাতন বন্ধু ” 

➤ গল্পের শুরুতে  দেখা যায় গোপাল নামের এক লোক বহু বছর পর তার গ্রামে ফিরে এসেছেন। গ্রামে তার কেবল ভাঙা পুরাতন পৈত্রিক বাড়িটি আছে। গোপালের বাবার বন্ধু ছিলেন  চক্কোত্তি তথা চক্রবর্তী মশায়। তার সাথেই গোপাল দেখা করেন। 

তিনি থাকতে অভাব ছিল না “

➤ এই উক্তিটি বুড়ি গোপালের উদ্দেশ্যে করেছিলেন। তিনি বলতে এখানে জমির করাতি তথা বুড়ির স্বামীকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। তিনি বেঁচে থাকতে বুড়ির কোনো অভাব ছিল না। তার মৃত্যুতে বুড়ি সহায় সম্বলহীন বিধবা। 

এক ঘটি দুধ আনলাম তোর জন্যি “

➤ বুড়ি গোপালের কাছ থেকে জানে যে ঘুঁটি গোয়ালিনী দুধ দিয়ে যায় জ্ঞাতি খুড়োর বাড়িতে। বুড়ির মতে সেই দুধে নাকি অর্ধেকটাই জল। অর্থাৎ ভেজাল মিশ্রিত। খাঁটি গরুর দুধ খাওয়ানোর উদ্দেশ্যে গোপালের জন্য এক ঘটি দুধ নিয়ে আসে হাজরা ব্যাটার বউয়ের কাছ থেকে। 

স্নেহের দান –এমন করা ঠিক হয়নি”

➤ বুড়ি দুধ দিয়ে গেলে গোপাল জোর করে বুড়িকে পয়সা  দিয়ে দেয়। বুড়ির নিতে অসম্মতি থাকলেও গোপাল তা কানে নেন নি। ফলে বুড়ি মনে কিছুটা কষ্ট পান। এ নিয়ে গোপালের পরবর্তীতে অনুশোচনা হয়। 

লোকের ধান ভানে, তাই চাল পায় “

➤  এখানে বুড়ির পাতানো মেয়ের কথা তথা হাজরা ব্যাটার বৌয়ের কথা বলা হয়েছে। হাজরা ব্যাটার বউ গ্রামের লোকজনের ধান ভানে। তা দিয়ে বুড়িকেও সহায়তা করে। 

বুড়ি আহ্লাদে আটখান হয়ে গেল “

➤ গোপালকে বুড়ি তার বাড়িতে দেখে আহ্লাদে আটখানা তথা মহা খুশি হয়ে গেল। বুড়ি অসুস্থ বিধায় গোপাল দেখতে গিয়েছিল। সে সময় বুড়ি তার হাতে বোনা খেজুরের চাটাই বা মাদুর পেতে দিতে বলেন তার পাতানো মেয়েকে। 

দ্যাও বাবা-তুমিও দ্যাও”

➤ বুড়িকে কবর দেয়ার সময় অন্য ধর্মের হওয়া সত্ত্বেও গোপালকে সবাই কবরে মাটি দিতে বলল। এই উক্তিটি শুকুর মিয়ার। এই উক্তি দ্বারা ভালোবাসার কাছে ধর্মের ব্যবধানের পরাজয়কে নির্দেশ করা হয়েছে। 

গুরুত্বপূর্ণ টপিকস ( সৃজনশীল প্রশ্নের জন্য প্রযোজ্য ) :

  • মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা। 
  • সহজ- সরল ও সাবলীল জীবনধারা সম্পর্কে ধারণা। 
  • একটি উদার মানবিক সম্পর্কের পরিচয়। 
  • বাৎসল্য মমতার নিবিড় সম্পর্কের ব্যাখ্যা।
  • অসাম্প্রদায়িক জীবন চেতনার দৃষ্টান্ত। 

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party