আমার পথ – কাজী নজরুল ইসলাম

HSC / গদ্য / বাংলা ১ম পত্র

আমার পথ – কাজী নজরুল ইসলাম

লেখক পরিচিতি :

  • নাম : কাজী নজরুল ইসলাম
  • ছদ্মনাম : ধূমকেতু
  • উপাধি : বিদ্রোহী কবি, জাতীয় কবি 
  • জন্ম : ২৫ মে ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ ( ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ সাল) 
  • জন্মস্থান : বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রাম 
  • উপন্যাস : বাধনহারা, মৃত্যুক্ষুধা, কুহেলিকা
  • কাব্যগ্রন্থ : বিষের বাঁশি, ভাঙার গান, সাম্যবাদী, দোলনচাঁপা, ছায়ানট, চক্রবাক, পুবের হাওয়া, মরুভাস্কর, ঝিঙেফুল প্রভৃতি। 
  • গল্প : ব্যথার দান, রিক্তের বেদন, শিউলিমালা, পদ্মগোখরা, জিনের বাদশা 
  • নাটক : ঝিলিমিলি, আলেয়া, পুতুলের বিয়ে, মধুমালা। 
  • প্রবন্ধগ্রন্থ : যুগবাণী, দুর্দিনের যাত্রী, রাজবন্দীর জবানবন্দী, ধূমকেতু। 
  • পত্রিকা :ধূমকেতু, লাঙ্গল, দৈনিক নবযুগ তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা। 

সংকলন :

সুবিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ ‘রুদ্র-মঙল ‘ থেকে আমার পথ প্রবন্ধটি  সংকলিত হয়েছে। 

প্রবন্ধের মূল বক্তব্য :

লেখক সব ধরনের কপটতা থেকে দূরে থেকে নিজের সত্যকে পথের দিশারী মেনে সত্যের পথে হেঁটে যেতে চান। মিথ্যাকে সত্য বলে মেনে নেয়ার মতো ভন্ডামী থেকে তিনি মুক্ত এবং আত্মনির্ভরশীলতাকে উত্তম বলে মনে করেন। সকল প্রকার ধর্মের বৈষম্য দূর করে মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত করার মাধ্যমে উৎকৃষ্ট মানব সভ্যতা গড়ে তোলা সম্ভব।                

গুরুত্বপূর্ণ কিছু বাক্যের সহজ ব্যখ্যা :

আমার কর্ণধার আমি, আমার পথ দেখাবে আমার সত্য”

➤ লেখক নিজেই নিজের নেতৃত্ব প্রদানে সক্ষম। রুদ্র তেজে মিথ্যার ভয়কে জয় করে সত্যের আলোয় নিজেকে চিনে নিতে সহায়তা করে নজরুলের এই ‘আমি’ সত্তা তার পথ নির্দেশক। 

রাজভয়- লোক ভয় কোন ভয়ই আমায় বিপথে নিয়ে যাবে না।”

➤ রাজনৈতিক, উপরমহল বা লোক সমালোচনা বা কোনো ধরনের ভয়ই লেখককে সত্যের  পথ থেকে বিচ্যুতি ঘটাতে পারবে না। কারণ লেখক তাঁর সত্যের এই পথে উপর অটল ও অবিচল। 

যার ভিতরে ভয়, সেই বাইরে ভয় পায় “

➤ অন্তরে যদি ভয়  থাকে   কোনো বিষয়ে তখন সে বাইরের সকল বিষয়ে ভয় পায়। তথা পৃথিবীর সবকিছুই তার জন্য ভয়ংকর হয়ে উঠে। 

সে আপন সত্য ছাড়া কাউকে কুর্নিশ করেনা “

➤ নিজেকে জানলে মানুষ আত্মবিশ্বাসী হয়। ফলে সে অন্যের ভয়ে মাথানত করেনা। কেউ তাকে ভয় দেখিয়ে পদানত রাখতে পারে না। 

এটা আত্মাকে চেনার সহজ স্বীকারোক্তি “

➤ নিজের সত্যের পথ অনুসরণ করাটা লেখকের মতে দম্ভ অহংকার  নয়। এর মাধ্যমে নিজের আত্মাকে চেনা যায় এবং পরিশুদ্ধ করা যায়। 

তবু এটা মন্দের ভালো “

➤ যদি নিজের সত্যের  পথকে অনুসরণ করাটাকে কেউ অহংকার  বা দম্ভ বলে মনে করে থাকেন তবে সেই দম্ভে দাম্ভিক হওয়া উত্তম। কেননা ইহা মিথ্যা বিনয়ের চেয়ে অনেক বেশি ভালো।মিথ্যা  বিনয় তো মানুষকে  নীচ ও হীন করে।  

স্পষ্ট কথা বলায় একটা অবিনয় নিশ্চয় থাকে কিন্তু তাতে কষ্ট পাওয়াটা দুর্বলতা “

➤ স্পষ্ট বা সত্য কথা  অনেক সময় বিনয়হীনতা প্রকাশ করে। সব সত্য সুমিষ্ট হয় না। কিন্তু তাই বলে সেই সত্যের উপর কষ্ট পাওয়া যাবে না। সত্য নির্মম হলেও বাস্তব। 

গান্ধীজী আছেন”

➤ আত্মশক্তিতে বলীয়ান হতেই গান্ধীজী বলতে শিখিয়েছিলেন “আমি আছি”। অর্থাৎ নিজের উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে তিনি শেখাতে চেয়ে ছিলেন। কিন্তু বাঙ্গালীরা তা না বুঝে ভাবলো গান্ধীজী হয়তো নিজেই সকলকে আশ্বাস দিচ্ছেন ” আমি আছি”। অর্থাৎ সকলে সম্পূর্ণ    বিষয়টি বিপরীত বুঝেছে। এখানে লেখক বাঙ্গালীদের পরালম্বনকে     নির্দেশ করেছেন যা আমাদের নিস্ক্রিয় করে ফেলেছে।             

তবু তারাই অসাধ্য সাধন করতে পারে ” 

➤ লেখকের মতে সত্যের দম্ভ যাদের মধ্যে আছে  একমাত্র তারাই অসাধ্য সাধন করতে পারে। 

আমি কোনোদিন কারুর বাক্যকে বেদ বাক্য বলে মেনে নেবনা

➤ লেখক কখনই ভন্ডামি করতে রাজি নন। মিথ্যাকে সত্য বলে মেনে নেয়া লেখকের পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়। 

যে নিজের ধর্মের সত্যকে চিনেছে, সে কখোনই অন্যের ধর্মকে ঘৃণা করতে পারেনা “

➤ যে নিজের ধর্মের সত্যকে উপলব্ধি করতে পারবে, তার মাঝে তখনই মনুষ্যত্ববোধ জেগে উঠবে ফলে তার দ্বারা অন্য কোন ধর্মের মানুষের প্রতি ঘৃণা পোষণ করা সম্ভন হবেনা।       

কিছু গুরুত্বপূর্ণ টপিকস ( সৃজনশীল অংশের জন্য )

  • আত্মাকে চেনার মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার প্রেরণা
  • সত্যকে জীবনের চালিকাশক্তি হিসেবে গ্রহণ করা 
  • আমি সত্তাকে জাগ্রত করা, আত্মবিশ্বাসী হওয়া 
  • মানবমুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে সম্প্রীতির গুরুত্ব 

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party