অধ্যায় ৯ঃ ব্যয় ও ব্যয়ের শ্রেণিবিভাগ

হিসাববিজ্ঞান / হিসাববিজ্ঞান (২য় পত্র)

অধ্যায় ৯ঃ ব্যয় ও ব্যয়ের শ্রেণিবিভাগ

এই অধ্যায়ে আমাদের আলোচ্য বিষয়

– ব্যয় ও খরচের ধারণা

– ব্যয়ের শ্রেণীবিভাগ

– বিভিন্ন প্রকারের ব্যয়

ব্যয় ও খরচের পার্থক্য:

মূলত দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা লাভের জন্য বর্তমানে কোন সম্পদ ত্যাগ করাকে ব্যয় বলে। যেমন; দালানকোঠা ক্রয়ের জন্য যে অর্থ ত্যাগ করা হয় বা যে অর্থের বহিঃপ্রবাহ ঘটে সেটা হচ্ছে ব্যয়। 

এবং ব্যয়ের যে অংশ বর্তমান হিসাব কালে নিঃশেষিত হয়ে যায় তাকে বলে খরচ। অর্থাৎ, সেই দালানকোঠার অবচয়, বেতন, ভাড়া ইত্যাদি। প্রকৃত অর্থ ভিন্ন হলেও, সাধারণত আমরা ব্যবহারের ক্ষেত্রে শব্দ দুটিকে আলাদা করি না। 

ব্যয়ের শ্রেণীবিভাগ:

ব্যয়কে বিভিন্ন উপাদানের ভিত্তিতে শ্রেণীবিভাগ করা যায়।

(i)উপাদান ভিত্তিক

১) কাঁচামাল

২) শ্রম

৩) উপরিব্যয়

(ii)কার্যভিত্তিক শ্রেণীবিভাগ:

১) উৎপাদন ব্যয়

২) প্রশাসনিক ব্যয়

৩) বিপণন ব্যয়

(iii)আচরণ ভিত্তিক শ্রেণীবিভাগ:

১) পরিবর্তনশীল ব্যয়

২) স্থায়ী ব্যয়

৩) মিশ্র ব্যয়

(iv)কাল ভিত্তিক শ্রেণীবিভাগ:

১) পণ্য ব্যয়

২) কালীন ব্যয়

(v)নিয়ন্ত্রণ ভিত্তিক শ্রেণীবিভাগ:

১) নিয়ন্ত্রণযোগ্য ব্যয়

২) অনিয়ন্ত্রণযোগ্য ব্যয়

এখন আমরা বিভিন্ন ধরনের ব্যয় সম্পর্কে ধারণা নেই :

স্থায়ী ব্যয়: এ ধরনের ব্যয় উৎপাদনের পরিমাণ এর সাথে পরিবর্তিত হয় না। অর্থাৎ কম উৎপাদন করলেও যত পরিমাণ ব্যয় হবে, বেশি উৎপাদন করলেও একই ব্যয় হবে। যেমন: ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, বীমা প্রিমিয়াম ইত্যাদি। তবে এই ব্যয় একক প্রতি পরিবর্তনশীল।

কিভাবে? ধরি, যন্ত্রপাতির অবচয় ১,০০,০০০ টাকা। যদি ১০০০ একক পণ্য উৎপাদন করা হয়। তাহলে মোট ব্যয় স্থির থাকবে কিন্তু একক প্রতি ব্যয় হবে (১,০০,০০০÷১০০০)=১০০ টাকা।অন্যদিকে, ২০০০ একক উৎপাদন করলে একক প্রতি ব্যয় হবে (১,০০,০০০÷২০০০)=৫০ টাকা।

তাই স্থায়ী ব্যয় মোট পরিমাণ স্থির হলেও একক প্রতি পরিবর্তনশীল।

পরিবর্তনশীল ব্যয়: এ ধরনের ব্যয় উৎপাদনের পরিমাণ এর সাথে পরিবর্তিত হয়। অর্থাৎ কম উৎপাদন করলেও কম পরিমাণ ব্যয় হবে, বেশি উৎপাদন করলেও বেশি পরিমাণে ব্যয় হবে। যেমন: কাঁচামাল, মজুরি ইত্যাদি। তবে এই ব্যয় একক প্রতি স্থীর।

মিশ্র ব্যয়: এই ধরনের ব্যয় একটি নির্দিষ্ট একক পর্যন্ত স্থির থাকে, কিন্তু তার থেকে বেশি উৎপাদন করলে মোট ব্যয় অতিরিক্ত উৎপাদনের পরিমাণ এর সাথে একই হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে। যেমন; যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত ব্যয়, বিদ্যুৎ বিল ইত্যাদি।

নিয়ন্ত্রণযোগ্য ব্যয়: এ ধরনের ব্যয় ব্যবস্থাপক এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। যেমন; শ্রমিকের মজুরি, কাঁচামালের অপচয় ইত্যাদি।

অনিয়ন্ত্রণযোগ্য ব্যয়: এ ধরনের ব্যয় ব্যবস্থাপক এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। যেমন; সম্পদের অপচয়, কারখানার ভাড়া ইত্যাদি।

নিমজ্জিত ব্যয়: যে অতীতে সংগঠিত ব্যয় কে আর উদ্ধার করা যায় না তাকে নিমজ্জিত ব্যয় বলে। যেমন ধরি, একটি যন্ত্রপাতির ক্রয় মূল্য ৫০,০০০ টাকা এবং পুঞ্জিভূত অবচয় ২০,০০০ টাকা। তাহলে এর বহিঃমূল্য ৩০,০০০ টাকা এখন সম্পত্তিকে যদি ২০,০০০ টাকায় বিক্রয় করা হয় এক্ষেত্রে অবশিষ্ট ১০,০০০ টাকা থেকে আমরা কোন সুবিধা পাচ্ছিনা তাই এই দশ হাজার টাকা আমাদের নিমজ্জিত ব্যয়।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party