অধ্যায় ৯ঃ ব্যবসায় সহায়ক সেবা

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা / ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা (১ম পত্র)

অধ্যায় ৯ঃ ব্যবসায় সহায়ক সেবা

গুরুত্বপূর্ণঃ ব্যবসায় সহায়ক সেবা, সেবার ধরন ও উৎস,ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প,বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে প্রাপ্ত সহায়তা, SME ফাউন্ডেশন, NGOs, শিল্প ও বণিক থেকে প্রাপ্ত সহায়তা, BGMEA থেকে সহায়তা, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো থেকে প্রাপ্ত সহায়তা, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে সহায়তা।

অধিক গুরুত্বপূর্ণঃ ব্যবসায় সহায়ক সেবা, সেবার ধরন ও উৎস,ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প,বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে প্রাপ্ত সহায়তা, SME ফাউন্ডেশন, NGOs, BGMEA থেকে সহায়তা, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে সহায়তা।

ব্যবসায় সহায়ক সেবা

একটা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে গঠন ও পরিচালনায় সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যে সেবার প্রয়োজন পড়ে তাকে ব্যবসায় সহায়ক সেবা বলে।

সহায়ক সেবার ধরণ ও উৎস

বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরণের সেবা ও তা প্রদানের সাথে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে নিম্নে ধারণা দেয়া হলো-

◾উদ্দীপনামূলক সেবাঃ একজন সম্ভাব্য উদ্যোক্তাকে ব্যবসায় গঠনে আগ্রহী করতে ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে যে সকল সুবিধার প্রয়োজন হয় তাকে উদ্দীপনামূলক সেবা বলে। কিভাবে কি শুরু করা যায়,কি কি প্রয়োজন, কি করলে কি হবে এইসব দিক নির্দেশনা দিয়ে এইসব প্রতিষ্ঠান সহায়তা করে।

যুব অধিদপ্তর, যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র,মহিলা অধিদপ্তর, মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ ইত্যাদি এ সকল সহায়তা দিয়ে থাকে।

◾সমর্থনমূলক সেবাঃ একজন উদ্যোক্তা ব্যবসায় গঠনে আগ্রহী হওয়ার পর বাস্তবে তা গঠনে যা ধরনের সেবা সহায়তার প্রয়োজন হয় তাকে সমর্থনমূলক সেবা বলে। একটি ব্যবসায় পরিচালনা করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহায়তা প্রয়োজন, অবকাঠামো সুবিধা পেতে বিদ্যুত,গ্যাস, পানি ইত্যাদি। সমর্থনমূলক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এইসব সুবিধা প্রদান করে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা,বেসিক ব্যাংক লিমিটেড,কর্মসংস্থান ব্যাংক,বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ইত্যাদি এ সকল সহায়তা দিয়ে থাকে।

◾সংরক্ষণমূলক সেবাঃ ব্যবসায় পরিচালনায় উদ্যোক্তাদের উৎসাহ- উদ্দীপনা ধরে রাখার জন্য যে ধরনের সেবার প্রয়োজন হয় তাকে সংরক্ষণমূলক সেবা বলে।একজন ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন ধরণের সুরক্ষা দিতে হয়, প্রতিষ্ঠানের পণ্যের নাম ব্রান্ডিং করতে ট্রেডমার্ক নিবন্ধন প্রয়োজন, কৃষি ফার্ম, মৎস ফার্ম করতে বিভিন্ন সহায়তার প্রয়োজন হয়।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ড,জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর, বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড ইত্যাদি এ সকল সহায়তা দিয়ে থাকে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা (BSCIC)

বেসরকারি পর্যায়ে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গড়ায় সহায়তা করতে শিল্প ও নগরী প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত,বৈষয়িক ও সমর্থনমূলক সরকারি সহায়তাদানকারী প্রতিষ্ঠানই হলো বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা বা বিসিক।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানের কাজ হলো-

১.ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ ও উৎসাহ দান;
২.এরূপ শিল্পের জন্য অবকাঠামো গঠন,সংস্কার ও অবকাঠামোগত সুবিধার রক্ষণাবেক্ষণ ;
৩.নতুন নতুন প্রকল্প নির্বাচন, মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ
৪.এ সকল প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন পদ্ধতি, প্রক্রিয়া ও প্রযুক্তিগত মান উন্নয়নে সহায়তা দান;
৫.ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের রেজিষ্ট্রেশন প্রদান;
৬.এরূপ শিল্পের ব্যবস্থাপনার ও জনশক্তির দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দান;
৭.সরকার প্রদত্ত ও ঋণকৃত অর্থ দেশের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উন্নয়নে যথাযথভাবে কাজে লাগানো।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে প্রাপ্ত সহায়তা

মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে যেই ব্যাংক স্বল্প সুদে বা লাভে আমানত সংগ্রহ,ঋণদান ও অন্যান্য ব্যাংকিং সেবা সুবিধা প্রদান করে তাকে বাণিজ্যিক ব্যাংক বলে।

ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে এরূপ ব্যাংকের সহায়তাসমূহ নিম্নরূপ-

– ঋণদান
– SME ঋণ বিতরণ
– ব্যাংকিং সেবা সহায়তা প্রদান
– স্বচ্ছলতার সনদ প্রদান
– প্রত্যয়পত্র খোলার সুবিধা
– শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রয়ে সহায়তা।

SME ফাউন্ডেশন থেকে সহায়তা

SME বলতে small and medium enterprises বা ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বুঝায়।
দেশের ক্ষুদ্র ও কুটির ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানসমূহকে বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে দাতা দেশ ও সংস্থাগুলোর সহায়তায় সরকার বিশেষ যে ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছে তাই এসএমই ফাউন্ডেশন নামে পরিচিত। ইতিমধ্যে এটি এর সহায়তা দিয়ে নজির ফেলে দিয়েছে।

ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে ৩১ থেকে ১২০জন কর্মী কাজ করে অথবা মূলধনের পরিমাণ ভূমি ও কারখানা বিল্ডিং বাদে ৭৫লাখ থেকে ১৫কোটি টাকা তাকেই ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠান বলে।

সেবা ও অন্যান্য ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের বেলায় যেখানে ১০ থেকে ৫০জজ কর্মী কাজ করে অথবা মূলধনের পরিমাণ ভূমি ও সংশ্লিষ্ট দালান বাদে ১০লাখ থেকে ২কোটি টাকা তাকে ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান ।

অন্যদিকে, যে প্রতিষ্ঠান বা শিল্পে ১২১ থেকে ৩০০জন কর্মী কাজ করে অথবা মূলধনের পরিমাণ ভূমি ও কারখানা বিল্ডিং বাদে ১৫ কোটি টাকার অধিক থেকে ৩০ কোটি টাকা তাকে মাঝারি প্রতিষ্ঠান বলা হয়ে থাকে।
যে প্রতিষ্ঠানে ৫১থেকে ১২০জন কর্মী কাজ করে অথবা মূলধনের পরিমাণ ভূমি ও দালান বাদে ২কোটির অধিক থেকে ১৫কোটি হয় তাকে মাঝারি প্রতিষ্ঠান বলে।

ব্যবসায় প্রকল্পের ধরন অনুযায়ী এসএমই লোনের পরিমাণ সর্বনিম্ন ৫০হাজার টাকা থেকে ১০কোটি টাকা। ঋণের মেয়াদ প্রকল্প অবস্থার ওপর নির্ভর করে। তাবে তা চলতি মূলধনের ক্ষেত্রে ১বছর এবং মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি খাতে ৩-৭ বছর পর্যন্ত মঞ্জুর করা হয়। এরূপ ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের যে সকল যোগ্যতা বিবেচনা করা হয়-

– ঋণ প্রত্যাশী উদ্যোক্তার কমপক্ষে দু’ বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা থাকতে হয়;
– উদ্যোক্তাকে অবশ্যই বাংলাদেশী নাগরিক হতে হয়;
– উদ্যোক্তার বয়স ১৮ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে;
– ঋণ প্রত্যাশীকে সুস্থ,শিক্ষিত ও উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিশ্রুতিশীল হতে হয়;
– ঋণ খেলাপী,দেউলিয়া, উম্মাদ ও জড়বুদ্ধিসম্পন্ন কোনো ব্যক্তি এরূপ ঋণের আবেদন করতে পারেনা;
– মহিলা উদ্যোক্তাদের ঋণদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয় এবং ২৫লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ শুধুমাত্র ব্যক্তিগত জামানতে প্রদান করা হয়।

বেসরকারি সংস্থা থেকে প্রাপ্ত সহায়তা(NGOs)

সমাজের কমবিত্তসম্পন্ন, অসহায় ও পশ্চাদপদ শ্রেণির মানুষকে আর্থিক,বৈষয়িক, শিক্ষাগত, স্বাস্থ্যগত, আইনগত ইত্যাদি নানান বিষয়ে সহযোগিতা করার জন্য প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ সারা বিশ্বে এনজিও নামে পরিচিত। প্রান্তিক পর্যায়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী,কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্পের উদ্যোক্তাদের ঋণদান,পরামর্শ প্রদান, প্রশিক্ষণদানসহ নানান সহায়তা দিয়ে এ সকল প্রতিষ্ঠান উদ্দীপনামূলক সমর্থন দিয়ে থাকে। দেশের প্রধান কয়েকটি এনজিও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো-

১. ব্রাক ( BRAC – Bangladesh Rural Advancement Committee)

BRAC বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ এনজিও। স্বাধীনতার পরেই জনাব ফজলে হোসেন আবেদের নেতৃত্বে এ প্রতিষ্ঠান শুরু হয়। বাংলাদেশের সকল জেলায় এ প্রতিষ্ঠানের কর্মসূচি বিস্তৃত। প্রতিষ্ঠানটি প্রান্তিক পর্যায়ে ক্ষুদ্র শিল্পের উন্নয়নে যে সকল ক্ষেত্রে ঋণ দেয় তার মধ্যে কাপড়,বুনন, হাঁস- মুড়গী পালন,আসবাবপত্র তৈরিইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানে ইচ্ছুক যুবক ও মহিলাদের সহায়তা করে।

২. আশা ( Asa)

বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ১৯৭৮ সালে আশা প্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং ১৯৯২ সালে বিশেষায়িত ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ শুরু করে। আশার উদ্ভাবনমূলক স্বল্প ব্যয় সাপেক্ষ ও টেকসই ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি মডেল হিসেবে বাংলাদেশে পরিচিতি লাভ করেছে। গ্রামীণ জনপদে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সংগঠিত করে তাদের ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সহায়ক সেবা দিয়ে চলেছে।

৩. প্রশিকা ( Proshika)

১৯৭৫ সালে ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জের কয়েকটি গ্রামে প্রশিকার উন্নয়ন কার্যক্রম সূচিত হয় এবং ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে বৃহত্তর পরিসরে কাজ শুরু করে। কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র শিল্প,তাত শিল্প,হস্ত শিল্প,গবাদি পশুপালন, মৌমাছি চাষ, চারা উৎপাদনসহ অনেক নতুন নতুন উপজীবিকা সৃষ্টিতে প্রশিকা ভূমিকা রেখেছে। এজন্য প্রশিক্ষণ প্রদান,ঋণদান, তত্ত্বাবধান ইত্যাদি কাজ প্রতিষ্ঠানটি করে থাকে।

৪. স্বনির্ভর বাংলাদেশ

১৯৭৫ সালে কৃষি ও বন মন্ত্রণালয়ের একটা বিশেষ সেল হিসেবে সমাজ উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করলেও ১৯৮৫ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি বেসরকারি সংস্থা হিসেবে নিবন্ধিত হয়ে তৃণমূল জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।এ পর্যন্ত ৫০টি জেলার ১৫৯টি উপজেলায় এর কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

৫. ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (TMSS)

বগুড়া জেলাকে কেন্দ্র করে ১৯৮০ সালে TMSS বেসরকারি সংস্থা হিসেবে কাজ শুরু করে। শুরু থেকেই দারিদ্র্য দূরীকরণ, আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং নারীর ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি মূলত দরিদ্র ও বিত্তহীন মহিলাদের মধ্যে কাজ করে। ঋণ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে খামার পরিচালনা, মাছ চাষ, নার্সারি প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি কাজে সহায়তা করছে।

৬.মাইডাস (MIDAS)

ক্ষুদ্র শিল্পে নিয়োজিত প্রান্তিক শিল্প মালিকদের আর্থিক, কারিগরি ও প্রশিক্ষণ সুবিধা দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাদের ভূমিকাকে শক্তিশালী করার জন্য ১৯৮১ সালে NGO ব্যুরোতে নিবন্ধন নিয়ে ১৯৮২ সাল থেকে MIDAS তার কাজ শুরু করে। ক্ষুদ্র শিল্পের উদ্যোক্তা ও মালিকদের ঋণদান,প্রশিক্ষণ, তথ্য ও পরামর্শ প্রদান, নতুন নতুন ব্যবসায় ক্ষেত্র ইত্যাদি প্রদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছে।

শিল্প ও বণিক সমিতি থেকে প্রাপ্ত সহায়তা

কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের,এলাকার বা দেশের শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীগণ নিজেদের স্বার্থরক্ষা ও ব্যবসায়িক উন্নয়নের জন্য একত্রিত হয়ে যৌথ প্রচেষ্টায় ও পরিচালনায় যে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে তাকে শিল্প ও বণিক সমিতি বলে।

শিল্প ও বণিক সমিতি যেভাবে শিল্প ও বাণিজ্যের উন্নয়নে সহায়তা করে তা নিম্নরূপে-

১.সদস্যদের স্বার্থ সংরক্ষণে নিজেদের মধ্যকার ঐক্য প্রয়াসকে সুসংহত করে এবং যে কোনো বিরোধ মীমাংসায় ভূমিকা রাখে;

২.সদস্যদের মুখপাত্র হিসেবে তাদের বিভিন্ন অভাব- অভিযোগ, সুবিধা-অসুবিধা সরকারকে অবহিত করে প্রতিকারের ব্যবস্থা করা;

৩.ব্যবসায় বান্ধব নীতি ও বাজেট প্রণয়নে সরকারের সাথে আলোচনা এবং এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য,উপাত্ত ও পরামর্শ দিয়ে সরকারকে সহায়তা ;

৪.বিভিন্ন উৎস থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সংবাদ সংগ্রহ করে তা সদস্যদের সরবরাহ করে এবং এ বিষয়ে মাঝেমাঝে পত্রিকা ও সাময়িকী প্রকাশ করা;

৫.ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিও দক্ষতার উন্নয়নের জন্য সেমিনার, আলোচনা ইত্যাদি করা।

বিজিএমইএ (BGMEA) থেকে সহায়তা

১৯৭৭ সালে মাত্র ১৯জন তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক নিয়ে নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ সুরক্ষার জন্য যে সমিতি গড়ে উঠেছিলো তাই আজকের বিজিএমইএ। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো-

১.পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সংঘবদ্ধ ও ঐক্য সংহত করা;

২.দেশে ও বিদেশে পোশাক মেলার আয়োজন ও অংশগ্রহণ এর সদস্যদেরকে সংগঠিত করা;

৩.বিদেশী ক্রেতা,ব্যবসায় সংঘ এবং বণিক সভাসমূহের সাথে বিভিন্ন চুক্তি সম্পাদন;

৪. আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের বাণিজ্য এবং বাণিজ্য মেলাসমূহ তদারকি করা;

৫. গার্মেন্টস শিল্পের উন্নয়নে বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের আয়োজন;

৬. পোশাক তৈরি কারখানাসমূহে সম্ভাব্য অগ্নিকান্ড নিবারণের জন্য বিভিন্ন নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণ নিশ্চিত করা;

৭.সদস্য পোশাক শিল্প কারখানায় দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের প্রয়োজনীয় আর্থিক সাহায্য প্রদান করা।

ব্যবসায় সহায়তা দানকারী আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থা

ব্যবসায়কে উৎসাহিত করার জন্য গড়ে ওঠে যুক্তিনির্ভর বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থা।নিম্নে এরূপ সংস্থা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

◾সাপটা (SAPTA- South Asian Preferential Trade Agreement)

সার্কভুক্ত দেশসমূহ নিজেদের মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে যে চুক্তিতে আবদ্ধ হয় তাকেই দক্ষিণ এশীয় অগ্রাধিকারভিত্তিক বাণিজ্য সংক্ষেপে SAPTA বলে। শুরুতে সার্কভুক্ত দেশসমূহ ছিল বাংলাদেশ, ভারত,শ্রীলংকাব,মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান ও পাকিস্তান। ২০০৭ সালে আফগানিস্তান এই সংস্থায় যোগ দেয়ায় এর সদস্য এখন ৮। সার্কভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে আন্তঃবাণিজ্যের পরিমাণ বাড়লে সকল দেশই এর দ্বারা উপকৃত হবে।

◾দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার রাষ্ট্রসমূহের সংস্থা (ASEAN)

আঞ্চলিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অবাধে বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন রাষ্ট্র মিলে যে সংস্থা গড়ে তুলেছে তাকেই আসিয়ান বলে। প্রতিষ্ঠাকালে ৫টি রাষ্ট্র ছিলো, বর্তমানে ১১টি দেশ রয়েছে।
সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি মূল লক্ষ্য। ASEAN এর একটি বড় দিক হলো সংস্থাটি অন্য দেশ ও বিভিন্ন সংস্থার সাথে
চুক্তি সম্পাদন করে, যা সদস্য রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।।

◾বিমসটেক (BIMSTEC)

Bay Of Bengal Initiative For Multi Sectoral, Technical And Economic Cooperation বা BIMSTEC হলো বাংলাদেশ,ভারত,মায়ানমার, শ্রীলংকা,থাইল্যান্ডসহ সাতটি দেশ নিজেদের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে উন্নয়নের জন্য উপআঞ্চলিক জোট। এই আঞ্চলিক সংস্থা অনেকগুলো খাতকে চিহ্নিত করে তার উন্নয়নের মাধ্যম সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের চেষ্টা করছে।পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন,কৃষি, ব্যবসায়, পর্যটন, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন সাধনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে।

◾বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO)

দীর্ঘ আলোচনা, চেষ্টা-প্রচেষ্টা ও উন্নয়নের ধারার মাধ্য দিয়ে বিশ্ববাণিজ্যকে সকলের জন্য কল্যাণকর করতে যেই প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী ভূমিকা রাখতে সমর্থ হয়েছে তার নাম বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বা WTO ।
বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থাক্র সুসংহত করাই এই সংস্থার লক্ষ্য। প্রতিষ্ঠানটি সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার বাণিজ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তি করে এবং বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনার একটি ফোরাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। উন্নয়নশীক দেশগুলো এ ফোরামে একত্রে নিজেদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরতে পারে।

◾ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)

ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের মধ্যকার বন্ধনকে মজবুত করে নিজেদের একটা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে গড়ে তোমার অভিপ্রায়ে যে ইউনিয়ন গঠন করে কাজ করছে তাকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলে।
সনস্যদেশগুলোর মধ্যে পণ্য,সেবা, মূলধন ও জনশক্তি অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা, সবদেশে একই বহিঃশুক্ল ধার্য করা, নিজেদের মধ্যে একটা সাধারণ মুদ্রা চালু করা ইত্যাদি এর মূল কাজ।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party