অধ্যায় ৯ঃ আর্থিক বিবরণী

হিসাববিজ্ঞান / হিসাববিজ্ঞান (১ম পত্র)

অধ্যায় ৯ঃ আর্থিক বিবরণী

আর্থিক বিবরণীসমূহ:

হিসাবকাল শেষে আর্থিক ফলাফল নির্ণয় ও আর্থিক অবস্থা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে আর্থিক বিবরণীসমূহ প্রস্তুত করা হয়।

সাধারণত আর্থিক বিবরণীর অংশ ৫ টি

১) আয় বিবরণী

২) মালিকানা স্বত্ব বিবরণী

৩) উদ্বৃত্তপত্র

৪) নগদ প্রবাহ বিবরণী

৫) টীকা সমূহ

এখানে বিবরণী ৪ টি। তাই বিবরণী কতটি প্রশ্ন আসলে উত্তর হবে ৪ টি।

আর্থিক বিবরণীর উপাদান ৫ টি।

১) সম্পদ

২) দায়

৩) মালিকানা স্বত্ব

৪) আয়

৫) ব্যয়

আয় বিবরণী:

আর্থিক বিবরণী প্রস্তুতের সময় একটি নির্দিষ্ট হিসাব কলের আয় সমূহ এবং ব্যয় সমূহ প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ফলাফল ( নিট আয়/ নিট ক্ষতি) নির্ণয় করার জন্য যে বিবরণী প্রস্তুত করা হয় তাকে আয় বিবরণী বলে।

আয় বিবরণী সাধারণত দুই ভাবে প্রস্তুত করা হয়।

ক. এক ধাপ আয় বিবরণী

খ. বহু ধাপ আয় বিবরণী

সাধারনত সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সমূহ একধাপ আয় বিবরণী প্রস্তুত করে এবং পণ্য ক্রয়-বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানসমূহ বহুধাপ আয় বিবরণী প্রস্তুত করে।

*একধাপ আয় বিবরণী: এই পদ্ধতিতে প্রথমে মোট আয় যোগ করা হয়। তারপর মোট ব্যয় যোগ করে মোট আয় থেকে বাদ দিয়ে নিট লাভ নির্ণয় করা হয়।

*বহুধাপ আয় বিবরণী: এই পদ্ধতিতে একাধিক ধাপের মাধ্যমে নিট মুনাফা নির্ণয় করা হয়।

ধাপ-১: নিট বিক্রয় নির্ণয়(প্রথমে বিক্রয়ের সাথে সম্পর্কিত সমন্বয়ে উল্লেখিত তথ্য যেমন: অলিখিত বিক্রয়, মুনাফাবিহীন বিক্রয় ইত্যাদি সমন্বয় করতে হবে। তারপর বিক্রয় ফেরত ও বিক্রয় বাট্টা বাদ দিতে হবে।)

ধাপ-২: বিক্রিত পণ্যের ব্যয় নির্ণয় (বিক্রিত পণ্যের ব্যয় = প্রারম্ভিক মজুদ পণ্য + নিট ক্রয়+ ক্রয় সংক্রান্ত খরচ – সমাপনী মজুদ পণ্য।)

*ক্রয় এর সাথে সমন্বয় ক্রয় সংক্রান্ত কোন তথ্য থাকলে যোগ বিয়োগ এবং ক্রয় ফেরত ও ক্রয় বাট্টা বাদ দিলে নিট ক্রয় পাওয়া যাবে।

*ক্রয় সংক্রান্ত খরচের মধ্যে আছে; আন্তঃপরিবহন, আমদানি শুল্ক, মজুরি, খরচ বিশেষ প্যাকিং খরচ, ক্রয়কৃত পণ্যের ওপর পথিমধ্যে বিভিন্ন খরচ যেমন; কুলি খরচ, ডক চার্জ, বন্দর গুদাম ভাড়া ইত্যাদি।

*আগুনে/দূর্ঘটনায় বিনষ্ট পণ্য থাকলে ক্রয় বা বিক্রয়যোগ্য পণ্যের ব্যয় থেকে বাদ দিতে হবে। এবং অপরিচালন ব্যয়ে দেখাতে হবে।

বিক্রয়যোগ্য পণ্যের ব্যয়=প্রারম্ভিক মজুদ পণ্য + নিট ক্রয়+ ক্রয় সংক্রান্ত খরচ।

*হিসাব কালের শেষ তারিখে বাস্তব গণনার মাধ্যমে সমাপনী মজুদের মূল্য নির্ণয় করা হয়। সমাপনী মজুদের ক্রয়মূল্য ও বাজার মূল্যের উভয় দেয়া থাকলে রক্ষণশীলতা নীতি অনুসরণ করে যেটি কম সেটা গ্ৰহণ করা হবে।

ধাপ-৩: মোট মুনাফা নির্ণয়( নিট বিক্রয় – বিক্রিত পণ্যের ব্যয় = মোট মুনাফা)

ধাপ-৪: পরিচালন ব্যয় নির্ণয়

পরিচালন ব্যয়ের ২টি ভাগ রয়েছে।

প্রশাসনিক ব্যয়: অফিস কর্মচারীদের বেতন, অফিস ভাড়া, আইন খরচ, উপযোগ খরচ, অফিস সাপ্লাইজ খরচ, অবচয় খরচ ইত্যাদি।

বিক্রয় খরচ: বিক্রয় পরিবহন, বিক্রয় শুল্ক, প্যাকিং খরচ, বিজ্ঞাপন, অনাদায়ী পাওনা, প্রদত্ত বাট্টা ইত্যাদি।

ধাপ-৫: পরিচালন আয় নির্ণয়

পরিচালন আয়= মোট মুনাফা – পরিচালন ব্যয়

ধাপ-৬: অপরিচালন আয় ও ব্যয় নির্ণয়

অপরিচালন আয়: প্রাপ্ত বাট্টা, প্রাপ্ত কমিশন, শিক্ষানবিস সেলামি, চালানী কারবারের মুনাফা, বিবিধ আয় ইত্যাদি।

অপরিচালন ব্যয়: সুদ ব্যয়, বিবিধ ক্ষতি ইত্যাদি।

ধাপ-৭: নিট মুনাফা নির্ণয়

 পরিচালন আয় – অপরিচালন ব্যয় + অপরিচালন আয় = নিট মুনাফা

মালিকানা স্বত্ব বিবরণী:

একটি নির্দিষ্ট হিসাব কালে মালিকের স্বত্ব পরিবর্তন সংক্রান্ত তথ্য সংক্ষিপ্ত আকারে যে বিবরণীতে প্রকাশ করা হয় তাকে মালিকানা স্বত্ব বিবরণী বলে।

এই বিবরণীতে প্রারম্ভিক মূলধন এর সাথে যোগ দেওয়া হয়:- নিট লাভ, অতিরিক্ত মূলধন, মূলধনের সুদ ইত্যাদি।

এবং বাদ দেওয়া হয়:- উত্তোলন, আয়কর, জীবন বীমা প্রিমিয়াম, মালিকের ব্যক্তিগত খরচ, পণ্য উত্তোলন, উত্তোলনের সুদ ইত্যাদি।

আর্থিক অবস্থার বিবরণী:

নির্দিষ্ট তারিখে প্রতিষ্ঠান আর্থিক অবস্থা জানার জন্য সম্পত্তি, দায় ও মালিকানা স্বত্ব বিবরণী তৈরি করা হয় তাকে আর্থিক অবস্থার বিবরণী বলে। আর্থিক অবস্থার বিবরণী কে দুই স্তরের তৈরি করতে হয়। প্রথম স্তরে সম্পদ দ্বিতীয় স্তরের দায়সমূহ।

সম্পদের শ্রেণীবিভাগ:

*চলতি সম্পদ: নগদ, দেনাদার, ব্যাংক জমা, প্রাপ্য বিল, প্রাপ্য আয়, অগ্রিম খরচ, সম্ভার, মজুদ পণ্য, স্বল্পমেয়াদী বিনিয়োগ ইত্যাদি।

*দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ: শেয়ারে বিনিয়োগ (এক বছরের মধ্যে বিক্রয় না করার উদ্দেশ্যে অন্য কোম্পানির শেয়ার ক্রয়), স্থাবর সম্পত্তিতে বিনিয়োগ ইত্যাদি।

*স্থায়ী সম্পত্তি: ভূমি, দালানকোঠা, যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র, সরঞ্জাম, প্রাঙ্গন ইত্যাদি।

*অস্পর্শনীয় সম্পত্তি: সুনাম ,পেটেন্ট, কপিরাইট, গ্রন্থস্বত্ব, ট্রেডমার্ক, লাইসেন্স, ফ্রানচাইজ ইত্যাদি।

*অলীক সম্পত্তি: প্রাথমিক খরচ, শেয়ার অবহার, ঋণপত্রের অবহার, লাভ-ক্ষতি হিসাবের ডেবিট জের ইত্যাদি।

দায়ের শ্রেণীবিভাগ:

দায় সাধারনত দুই প্রকার।

স্বল্পমেয়াদী দায়: বিবিধ পাওনাদার, প্রদেয় নোট, বকেয়া খরচ, অনুপার্জিত আয়, প্রদেয় কর, প্রদেয় লভ্যাংশ ইত্যাদি।

দীর্ঘমেয়াদি দায়: প্রদেয় নোট, প্রদেয় বন্ড, দীর্ঘমেয়াদী ঋণ, বন্ধকী ঋণ বা প্রদেয় বন্ধক, ব্যাংক ঋণ ইত্যাদি।

এছাড়াও সম্ভাব্য দায় এর মধ্যে আছে:- ওয়ারেন্টি সংক্রান্ত দায়, মেয়াদ অনুত্তীর্ণ বাট্টাকৃত প্রাপ্য বিল, বিচারাধীন মামলার দাবি জামিন সংক্রান্ত দেনা ইত্যাদি। এসব সম্ভাব্য দায় আর্থিক অবস্থার বিবরণীতে আসে না।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party