অধ্যায় ৮ঃ মজুদ পণ্যের হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি

হিসাববিজ্ঞান / হিসাববিজ্ঞান (২য় পত্র)

অধ্যায় ৮ঃ মজুদ পণ্যের হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি

মজুদ পণ্যের হিসাবরক্ষণের পদ্ধতি দুইটি :

১) কালান্তিক মজুদ পদ্ধতি

২) অবিরত মজুদ পদ্ধতি

কালান্তিক মজুদ পদ্ধতি

কালান্তিক মজুদ পদ্ধতিতে সারাবছর বিস্তারিতভাবে মজুদ পণ্যের হিসাব রাখা হয় না। এই পদ্ধতিতে হিসাব কাল শেষে মজুদ পণ্য গণনা করা হয়।

এই পদ্ধতি অনুসরণ করা সহজ এবং কম ব্যয় সাপেক্ষ।

মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে আমরা সাধারণত এই পদ্ধতিতে হিসাব সংরক্ষণ করি। স্বল্পমূল্যের অধিক পণ্য বিক্রয়কারী ছোটপ্রতিষ্ঠানের জন্য এই পদ্ধতি উপযোগী।

এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে রেওয়ামিলে পাওয়া যায় ক্রয়, প্রারম্ভিক মজুদ ও ক্রয়সংক্রান্ত ব্যয়। সমাপনী মজুদ থাকে সমন্বয়ে।

অবিরত মজুদ পদ্ধতি

অন্যদিকে অবিরত মজুদ পদ্ধতিতে প্রতিনিয়ত মজুদ পণ্যের হিসাব রাখা হয়। এক্ষেত্রে পণ্য ক্রয়, বিক্রয়, ফেরত, বাট্টা প্রতিটি লেনদেনের জন্য মজুদ পণ্য হিসাব কে হালনাগাদ করা হয়।

এই পদ্ধতিটি তুলনামূলক জটিল। বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি উপযোগী।

এবং অবিরত মজুদ পদ্ধতি অনুসরণ করলে রেওয়ামিলে বিক্রিত পণ্যের ব্যয় এবং সমাপনী মজুদ পাওয়া যায়।

উভয় পদ্ধতির পার্থক্য আসলে পাওয়া যায় জাবেদাতে।

যেমন:

১) নগদে বা ধারে ১০,০০০টাকার পণ্য ক্রয় করলে

কালান্তিক মজুদ পদ্ধতিতে জাবেদা:-

ক্রয় হিসাব (ডেবিট) ১০,০০০

          নগদান বা প্রদেয় হিসাব (ক্রেডিট) ১০,০০০

(এই পদ্ধতিতে পণ্য ক্রয়কে ব্যয় ধরা হয়)

এবং অবিরত মজুদ পদ্ধতিতে জাবেদা :

মজুদপণ্য হিসাব (ডেবিট)১০,০০০

         নগদান/প্রদেয় হিসাব (ক্রেডিট)১০,০০০

(এখানে পণ্য ক্রয়কে মজুদ নামক সম্পদে লেখা হয়)

২) ১,০০০টাকার পন্য ক্রয় ফেরত এর জাবেদা

কালান্তিক মজুদ পদ্ধতিতে:

নগদান/প্রদেয় হিসাব (ডেবিট) ১,০০০

         ক্রয় ফেরত (ক্রেডিট) ১,০০০

অবিরত মজুদ পদ্ধতিতে:

নগদান/প্রদেয় হিসাব (ডেবিট) ১,০০০

         মজুদপণ্য হিসাব ( ক্রেডিট )১,০০০

৩) ধারে কৃত ৫০০০ টাকার পণ্যের মূল্য৫০০টাকা বাট্টায় পরিশোধ করা হলো;

কালান্তিক মজুদ পদ্ধতিতে:

প্রদেয় হিসাব (ডেবিট )৫,০০০

ক্রয় বাট্টা বা প্রাপ্ত বাট্টা( ক্রেডিট) ৫০০

           নগদান (ক্রেডিট) ৪৫০০

অবিরত মজুদ পদ্ধতি:(ক্রয় বাট্টার পরিবর্তে মজুদ পণ্য হিসাব কমে যাবে)

প্রদেয় হিসাব (ডেবিট) ৫,০০০

নগদান হিসাব (ক্রেডিট)৪৫০০

        মজুদপণ্য হিসাব (ক্রেডিট)৫০০

৪) ধারে বা নগদে১৫,০০০টাকার পণ্য বিক্রয় :

কালান্তিক মজুদ পদ্ধতিতে :

প্রাপ্য হিসাব/নগদান হিসাব (ডেবিট)১৫,০০০

         বিক্রয় হিসাব (ক্রেডিট) ১৫,০০০

অবিরত মজুদ পদ্ধতিতে: এই পদ্ধতিতে দুইটি জাবেদা হবে। প্রথম জাবেদা বিক্রয় হবার। দ্বিতীয় জাবেদা মজুদ পণ্য কমে যাওয়ার।

ধরি, ১৫,০০০ টাকায় বিক্রিত পণ্যের ক্রয়মূল্য৮,০০০টাকা।

জাবেদা-০১ :

 প্রাপ্য হিসাব ডেবিট (বিক্রয় মূল্য)১৫,০০০

          বিক্রয় হিসাব ক্রেডিট (বিক্রয় মূল্য)১৫,০০০

জাবেদা-০২ :

বিক্রিত পণ্যের ব্যয় হিসাব ডেবিট (ক্রয় মূল্য)৮,০০০

         মজুদপণ্য ক্রেডিট  (ক্রয় মূল্য)৮,০০০

৫) ধারে বিক্রিত পণ্য ফেরত আসল :

ধরি, ৩,০০০টাকার পণ্য ফেরত আসল যার ক্রয়মূল্য ছিল১,৬০০টাকা।

কালান্তিক মজুদ পদ্ধতিতে:

বিক্রয় ফেরত হিসাব ডেবিট (বিক্রয় মূল্য)৩,০০০

প্রাপ্য হিসাব ক্রেডিট (বিক্রয় মূল্য)৩,০০০

অবিরত মজুদ পদ্ধতিতে: এখানেও দুটি জাবেদা হবে। প্রথম জাবেদাসাধারণবিক্রয় ফেরতের। দ্বিতীয় জাবেদা মজুদ পণ্য বাড়ার মাধ্যমে বিক্রিত পণ্যের ব্যয় কমে যাওয়ার।

জাবেদা ১

বিক্রয় ফেরত হিসাব ডেবিট (বিক্রয় মূল্য)৩,০০০

          প্রাপ্য হিসাব ক্রেডিট (বিক্রয় মূল্য)৩,০০০

জাবেদা ২

মজুদপণ্য হিসাব ডেবিট (ক্রয় মূল্য)১,৬০০

         বিক্রিত পণ্যের ব্যয় ক্রেডিট (ক্রয় মূল্য)১,৬০০

এছাড়া মজুদ পণ্যের নির্গমন কালে মূল্য নির্ধারণের কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে;

১) LIFO (শেষের পণ্য আগে ছাড়া পদ্ধতি)

২) FIFO(আগের পণ্য আগে ছাড়া পদ্ধতি)

৩) সরল গড় পদ্ধতি

৪) ভারযুক্ত গড় পদ্ধতি ইত্যাদি।

১) LIFO (শেষের পণ্য আগে ছাড়া পদ্ধতি): এই পদ্ধতিতে শেষের দিকে কৃত পণ্য আগে ইস্যু করা হয়। পণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী হলে এই পদ্ধতি অধিক উপযোগী।

২) FIFO(আগের পণ্য আগে ছাড়া পদ্ধতি): এই পদ্ধতিতে প্রথম দিকে কৃত পণ্য আগে ইস্যু করা হয়। পণ্যের মূল্য নিন্মমুখী হলে এই পদ্ধতি অধিক উপযোগী।

৩) সরল গড় পদ্ধতি: এই পদ্ধতিতে পণ্য ইস্যু করার সময় বিভিন্ন ক্রয়মূল্যের গড় নির্ণয় করে সেটা অনুসারে ইস্যু করা হয়।

যেমন: গুদামে প্রথমে কৃত পণ্যের মূল্য ১০ টাকা ও পরবর্তীতে কৃত পণ্যের মূল্য ১২ টাকা হলে, এখানে গড় মূল্য=(১০+১২)×২=১১ টাকা।

৪) ভারযুক্ত গড় পদ্ধতি: এই পদ্ধতিতে মজুদের মোট মূল্যকে মোট পরিমাণ দিয়ে ভাগ করে গড় মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

যেমন: ধরি ২০ টাকার ৪০ টি এবং ১৬ টাকার ৫০টি পন্য আছে। তাহলে মোট মজুদের ক্রয়মূল্য {(২০×৪০)+(১৬×৫০)}=১৬০০ টাকা এবং মজুদের পরিমাণ ৯০ টি।

এক্ষেত্রে আমাদের গড় মূল্য হবে ১৬০০÷৯০= ১৭.৭৮ টাকা।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party