অধ্যায় ৮ঃ ব্যবসায়ের আইনগত দিক

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা / ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা (১ম পত্র)

অধ্যায় ৮ঃ ব্যবসায়ের আইনগত দিক

অধিক গুরুত্বপূর্ণঃ ব্যবসায়ের আইনগত দিক সম্পর্কে ধারণা,প্যাটেন্ট,
ট্রেডমার্ক,কপিরাইট,বিমা,ISO, BSTI

ব্যবসায়ের আইনগত দিক

বৈধতার সাথে ব্যবসায় কার্যক্রম পরিচালনায় বিভিন্ন আইন মেনে চলা প্রয়োজন, এ সকল আইন মিলিয়ে ব্যবসায়ের যে আইনগত দিক ফুটে ওঠে তাকেই ব্যবসায়ের আইনগত দিক বলে।

প্যাটেন্ট

প্যাটেন্ট হলো নতুন আবিষ্কৃত বস্তুর ওপর আবিষ্কারকের এমন একচ্ছত্র অধিকার যার বলে এটি তৈরি, উন্নয়ন, ব্যবহার ও বিক্রয়ে তিনি একক অধিকার ভোগ করেন। কিন্তু কোনো আবিস্কারকে প্যাটেন্ট সনদ পাওয়ার উপযোগী হতে হলে তাতে নিম্নের ৪টি উপাদান থাকা আবশ্যকঃ

১.আবিষ্কারটি অবশ্যই নতুন হতে হবে অর্থাৎ এটি পূর্বে আবিষ্কৃত কোনো বিষয়ের অংশ হতে পারবেনা;

২.এরূপ নতুন উদ্ভাবিত বিষয়টি অবশ্যই আবিষ্কারযোগ্য ও অকল্পনীয় সৃজনশীল ধারণার ফল হতে হবে এবং ধারণাগতভাবে তা একক ও অনন্য হবে;

৩.আবিষ্কারের অবশ্যই শিল্প উপযোগিতা থাকতে হবে অর্থাৎ একে উৎপাদনের কাজে ব্যবহার এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কাজে লাগানো যাবে;

৪.এটি দেশের প্রচলিত কোনো আইন দ্বারা নিষিদ্ধ বা এর ব্যবহার আইন দ্বারা নিষিদ্ধ এমন কোনো ধরণে আবিষ্কারের সাথে সম্পর্কযুক্ত হতে পারবেনা।
বাংলাদেশ ১৯১১ সালের প্যাটেন্ট ও ডিজাইন আইন প্রচলিত রয়েছে। এ অনুযায়ী বাংলাদেশে প্যাটেন্ট সনদের সময়কাল ১৬বৎসর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।

প্যাটেন্টের সুবিধাঃ

১.উদ্ভাবকের সুবিধাঃ প্যাটেন্ট সুবিধার মাধ্যমে উদ্ভাবক আইনি সুবিধা পায়,তার আবিষ্কারের প্রচার ও বিক্রয় করতে পারে।উদ্ভাবক প্রশংসা ও নতুন আবিষ্কারে প্রণোদনা পায়।

২.আমদানিকারকের সুবিধাঃ আমদানিকারক যখন উদ্ভাবকের সাথে চুক্তি করে নিজ দেশে উক্ত প্রযুক্তির ব্যবহারপূর্বক উৎপাদন ও বিক্রয়ের নিরাপদ সুবিধা ভোগ করে তখন অন্যান্য দেশ থেকেও সে এভাবে প্রযুক্তি আমদানিতে উৎসাহিত হয়।

৩.অন্যান্যদের সুবিধাঃ আইনের যথাযথ প্রয়োগের ফলে উদ্ভাবক যেমন সুবিধা পায় তেমনি ব্যবহারকারী বা ভবিষ্যৎ উদ্ভাবকেরাও নিশ্চিন্তে আবিষ্কার করতে পারেন।

৪.রাষ্ট্রের সুবিধাঃ রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো জনগণের জীবন মানের উন্নতি সাধন করা।নতুন আবিষ্কার যেমনি একটি জাতিকে উপকৃত করে তেমনি প্যাটেন্ট আমদানির সুযোগ থাকায় নতুন নতুন প্রযুক্তি আমদানির ফলে দেশ উপকৃত হবে।

প্যাটেন্ট নিবন্ধনঃ

প্যাটেন্ট নিবন্ধন পাওয়ার প্রথম অধিকারী হলেন উদ্ভাবক।দেশে বা দেশের বাইরেও প্যাটেন্ট সনদের জন্য নিবন্ধন করা যায়।

১.আবেদন পেশ
২.আবিষ্কারের প্রকৃতি বর্ণনা
৩.আবেদনপত্র ও আবিষ্কার পরীক্ষা
৪.আবেদনপত্র গ্রহণ
৫.প্যাটেন্ট বা নিবন্ধন পত্র প্রদান

ট্রেডমার্ক

ট্রেডমার্ক হলো পণ্য বা ব্যবসায়ের এমন কোনো স্বতন্ত্র সূচক বৈশিষ্ট্য, চিহ্ন বা প্রতীক যা সকলের নিকট ব্যবসায় বা পণ্যকে সহজে পরিচিত করে তোলে এবং এর মালিকের তা ব্যবহারের একচ্ছত্র অধিকার নির্দেশ করে। মার্ক বলতে সাধারণত কোনো নিশানা,ছাপ বা চিহ্নকে বুঝায়।

বাংলাদেশে ২০০৯সালের ট্রেডমার্ক আইন প্রচলিত।

ট্রেডমার্ক নিবন্ধন না করেও ব্যবহার করা যায়। তবে নিবন্ধন না করার আগেই অন্য কেউ উক্ত নামে নিবন্ধন করে ফেললে, তার প্রতিকার দুষ্কর।তাই ট্রেডমার্ক নিবন্ধন উত্তম। ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের সময়সীমা ৭বছর। এরপরে ফি দিয়ে সময় বাড়ানো হয়।এক্ষেত্রে নিবন্ধক একই সময় ফি দিয়ে ১০বছর পর্যন্ত ট্রেডমার্ক নবায়ন করতে পারেন।

ট্রেডমার্কের সুবিধাঃ

১.মালিকের সুবিধা
২.ক্রেতা বা ভোক্তার সুবিধা
৩.বিক্রেতাদের সুবিধা

কপিরাইট

লেখক বা শিল্পী কর্তৃক তার সৃষ্টকর্মের ওপর একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থায়ী আইনগত আধিকারকে কপিরাইট বলে।এটি একটি আইনগত ধারণা। এর উদ্দেশ্য হলো নকল করা থেকে প্রকৃত লেখক,শিল্পী বা সৃষ্টকর্মের স্বত্বাধিকারীর স্বার্থ সুরক্ষা করা।

বই,প্রবন্ধ,কবিতা,নাটক,গল্প,চলচ্চিত্র, নৃত্য, সংগীত কৌশন,অডিও রেকর্ডং ইত্যাদি বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ সুরক্ষা কপিরাইটের অন্তর্ভুক্ত।

বাংলাদেশে ২০০০ সালের কপিরাইট আইন ও কপিরাইট বিধিমালা ২০০৬অনুযায়ী এ সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।

কপিরাইট আইনের বৈশিষ্ট্যঃ

১.বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি সম্পর্কিতঃ মানুষের জ্ঞান থেকে সৃষ্ট এই কর্ম বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি হিসেবে পরিচিত।যা কপি বা নকল করা সম্ভব। এগুলো কপিরাইটের সাথে সম্পর্কিত।

২.স্বত্বাধিকারীর স্বার্থ সংরক্ষণঃ একজনের প্রচেষ্টার ফল যেনো অন্যে খেয়ে যেতে না পারে, যিনি সৃষ্টি করেছেন সেই সৃষ্টিকর্ম থেকে তিনিই লাভবান হন-এই আইন তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করে।

৩.নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রয়োগঃ কপিরাইট আইনে স্বত্বাধিকারীর আধিকার একটা সময় পর্যন্ত সংরক্ষণের নির্দেশ থাকে,যেমন- প্রকাশিত সাহিত্য (বই,কবিতা,প্রবন্ধ), নাটক,সঙ্গীত ও শিল্পকর্ম প্রণেতার মৃত্যুর পরবর্তী ষাট বছর পর্যন্ত কপিরাইট বিদ্যমান থাকে।

৪.কপিরাইট নিবন্ধনের বিষয়টি ঐচ্ছিকঃ কপিরাইট নিবন্ধন করা হলে তা আইনানুগ প্রকাশ্য দলিলের মর্যাদা লাভ করে।অন্যথায় তা সাক্ষ্য প্রমাণ দিয়ে প্রমাণ করতে হয়,যা কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল।

৫.অধিকার ভঙ্গের জন্য শাস্তির নির্দেশঃ কপিরাইট ভঙ্গ করা হলে ভঙ্গকারীকেশাস্তি পেতে হয়।এজন্য আইনে কারাদণ্ড ও জরিমানা বা উভয়বিধ শাস্তির বিধান রয়েছে।

কপিরাইট নিবন্ধনঃ

১.নিবন্ধনের আবেদন কে করতে পারেন
২.আবেদন দাখিলের পদ্ধতি
৩ আবেদনপত্রের বিষয়বস্তু
৪.স্বার্থ সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহকে আবেদনপত্রের কপি প্রেরণ
৫.আবেদনপত্র মূল্যায়ন ও নিবন্ধন সনদ প্রদান

কপিরাইট ভঙ্গ/লঙ্ঘন করার পরিণতি

দেওয়ানি প্রতিকারঃ যে ক্ষেত্রে কোনো কর্মের কপিরাইট অথবা কপিরাইট আইন অন্য কোনো বিধান লঙ্ঘন করা হয় সেক্ষেত্রে স্বত্বাধিকারী নিষেধাজ্ঞা, ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি এবং অন্যান্য সকল আইনগত প্রতিকার পাওয়ার অধিকারী হবেন।তবে বিবাদি যদি প্রমান করতে সমর্থ হন যে, স্বত্ব লঙ্ঘনের তারিখ সংশ্লিষ্ট কর্মে কপিরাইট বিদ্যমান ছিল মর্মে তিনি অবগত ছিলেন না বা কপিরাইট বিদ্যমান ছিল না মর্মে বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত কারণ ছিল সেক্ষেত্রে আদালত নমনীয় কোনো প্রতিকার দিতে পারেন।

ফৌজদারি প্রতিকারঃ যে ব্যক্তি চলচ্চিত্র কোনো কর্মের কপিরাইট ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন করেন বা করতে সহায়তা করেন সেক্ষেত্রে প্রথম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ছয় মাসের কারাদন্ড এবং কমপক্ষে ৫০হাজার ও সর্বোচ্চ ২লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে দন্ডনীয় হবেন। তবে দ্বিতীয় বা পরবর্তী অপরাধের ক্ষেত্রে প্রতিবার সর্বোচ্চ তিন বছর ও সর্বনিম্ন ছয় মাসের কারাদন্ডে এবং সর্বোচ্চ ৩লক্ষ ও সর্বনিম্ন ১লক্ষ টাকা অর্থদন্ডে দন্ডনীয় হবেন।

বীমা

মানুষের জীবন ও সম্পদকে ঘিরে যে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা বিদ্যমান তার বিপক্ষে আর্থিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই হলো বিমা।বিমা হলো বিমাকারী ও বিমাগ্রহীতার মধ্যে সম্পাদিত এক ধরনের চুক্তি যেখানে বিমাকারী প্রিমিয়ামের বিনিময়ে বিমাগ্রহীতার জীবন ও সম্পত্তির ঝুঁকি নিজের কাঁধে গ্রহণ করে।

সমাজে দু’ধরনের বিমা প্রতিষ্ঠান মূলত কাজ করে।এর একটি হলো জীবন বিমা ও অন্যটি হলো সাধারণ বিমা।জীবন বিমায় মানুষের মৃত্যুজনিত ঝুঁকি মূলত বিমা করা হয়। অন্যটি হলো সাধারণ বিমা।এটি ক্ষতিপূরণের চুক্তি। অর্থাৎ, বিমাকৃত সম্পত্তির আংশিক বা সামগ্রিক যে কোনো ধরনের ক্ষতি হলে বিমা কোম্পানি তা পরিশোধ করে থাকে।
বাংলাদেশে ২০১০ সালের বিমা আইন প্রচলিত রয়েছে।

বিমা করার প্রক্রিয়াঃ

১. প্রস্তাব প্রদানঃ বিমা করতে আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে জীবন বিমার বেলাত জীবন বিমা কোম্পানি থেকে এবং সম্পত্তি বিমার বেলায় সাধারণ বিমা অফিস থেকে বা তাদের এজেন্ট থেকে প্রস্তাব ফরম সংগ্রহ করে তা পূরণপূর্বক প্রয়োজনীয় কাগজসহ জমা দিতে হয়।সম্পত্তি বিমার সময় আবেদনকারীকে সম্পত্তির ওপর বিমাযোগ্য স্বার্থ রয়েছে তা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় মালিকানার ও অন্যান্য দলিল জমা দেয়ার প্রয়োজন পড়ে।

২.প্রস্তাব বিবেচনাঃ প্রস্তাব ও দলিলপত্র পাওয়ার পর বিমা কোম্পানি প্রস্তাব গ্রহণ করা যায় কিনা এ বিষয়টি বিবেচনা করে।জীবন বিমার ক্ষেত্রে ব্যক্তির বয়স,স্বাস্থ্য, পেশা,পারিবারিক ইতিহাস ইত্যাদি; নৌ বিমার ক্ষেত্রে জাহাজ, জাহাজ কোম্পানির পূর্ব ক্ষতির ঘটনা; অগ্নিবিমার ক্ষেত্রে বিমাগ্রহীতার চরিত্র, সম্পত্তির অবস্থান,প্রকৃতি ইত্যাদি বিশ্লেষণ করা হয়।

৩.প্রিমিয়াম জমাদানের নির্দেশ ও বিমাপত্র ইস্যুঃ বিমা কোম্পানি প্রস্তাব গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলে এ বিষয়ে লিখিতভাবে আবেদনকারীকে অবগত করে এবং নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে প্রিমিয়াম জমাদানের নির্দেশ দেয়।বিমা অফিসে প্রিমিয়াম জমা দেয়া হলে তখন থেকেই বিমা চুক্তি কার্যকর হয়।

ISO এর ধারণা

একটা প্রতিষ্ঠান কতটা মানসম্মত পণ্য ও সেবা সরবরাহ করে এবং তাদের ব্যবস্থার মান কেমন এ বিষয়ে মান সনদ প্রদানকারী আন্তর্জাতিক সংস্থাকেই ISO (International Standard Organization, যার পরবর্তী নাম International Organization For Standardization) বলে।ISO সর্বপ্রথম সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ১৯৪৭সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে এ সনদ লাভ করেছে।পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকটি ক্যাটাগরিতে মান নির্দিষ্ট করে ৯০০১,৯০০২,৯০০৩,৯০০৪ নামে মান সনদসহ বিভিন্ন মানসনদ চালু করা হয়েছে। বর্তমানে ২০১৪ নামে আরেকটি মান সনদ চালু হয়েছে।

১.ISO 9000 মান সনদঃ ISO 9000 হলো একসেট মানদণ্ড, যার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি পণ্য বা সেবার আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করে।এ সনদের জন্য প্রতিষ্ঠানকে কিছু শর্ত মেনে চলতে হয়।এ সনদ অর্জন করলে ক্রেতার নিশ্চিত হয়। ISO 9000 প্রকৃতপক্ষে ৫টি সনদ নিয়ে গঠিত- ISO 9000,ISO 9001,ISO 9002,ISO 9003,ISO 9004

• ISO 9000 হচ্ছে মানসম্পর্কিত একটি সামগ্রিক দলিল যা অপরাপর মানদণ্ড নির্বাচনের নির্দেশনা প্রদান করে।
• ISO 9001 হলো একটি মানদণ্ড যা ২০টি দিক নির্দেশ করে।ডিজাইন,উৎপাদন,স্থাপন, ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব, মান ব্যবস্থার দলিলপত্র,ক্রয়,পণ্য ডিজাইন, পরিদর্শন ইত্যাদি।
• ISO 9002 কোম্পানি ডিজাইনের সাথে সম্পর্কিত।
• ISO 9003 এটি শুধু উৎপাদন প্রক্রিয়ার উপর মনোযোগ দেয়।
• ISO 9004 অন্যান্য মানদণ্ড ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকে।
২.ISO 14000: এটি হলো পরিবেশ বিষয়ক ব্যবস্থাপনা সিস্টেম।১৯৯৬ সালে ISO যে নতুন মানদণ্ড প্রকাশ করে সেটিই ISO 14000।এ সনদ মূলত ৪টি প্রধান দিক নির্দেশ করে।
• পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা সিস্টেম
• পরিবেশগত কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন
• পরিবেশগত মোড়ক
• জীবন চক্র নির্ধারণ

BSTI এর ধারণা

বাংলাদেশের পণ্যের মান নির্ধারণ, পণ্যমান পরীক্ষা ও মান নিশ্চিত করার জন্য যেই সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্মরত রয়েছে তাকে BSTI
১৯৮৫ সালে সরকার এক অর্ডিন্যান্স বলে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড ইন্সিটিউশন ও সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরিজ নামক দু’টি প্রতিষ্ঠানকে একত্রিত করে বর্তমানে বি.এস.টি.আই নামক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এর উদ্দেশ্য হলো- শিল্প,খাদ্য ও রাসায়নিক পণ্যের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মানের সাথে সমঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের জন্য একটা জাতীয় মান তৈরি করা এবং ঐ মান নিশ্চিত করা।

BSTI এর কার্যাবলি-

• পণ্য ও সেবার বিষয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মানের বিষয়টি সামনে রেখে বাংলাদেশী মান নির্ধারণ এবং সময়ে সময়ে তার উন্নয়ন সাধনা করা;

• সংশ্লিষ্ট উৎপাদক,বিক্রেতা ও ক্রেতারা যেন এই মান মেনে চলে সেজন্য সাধারণ গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করা;

• দৈর্ঘ্য, ওজন, ভর, আয়তন এবং শক্তির পারিমাপ বিষয়ে বাংলাদেশী মান প্রতিষ্ঠা এবং এ বিষয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শদান ও সহযোগিতা করা;

• পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য উৎপাদিত পণ্য,উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং কার্যপদ্ধতির গুণ ও দক্ষতা পরীক্ষা ও পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা রিপোর্ট প্রদান করা;

• নিবন্ধিত বা চিহ্নিত মান মঞ্জুর, নবায়ন,প্রত্যাখান,স্থগিত বা বাদ দেয়া ইত্যাদি।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party