অধ্যায় ৭ঃ রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা / ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা (১ম পত্র)

অধ্যায় ৭ঃ রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়

গুরুত্বপূর্ণঃ রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের ধারণা,বৈশিষ্ট্য, উদ্দেশ্য,বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় (ওয়াসা,ডাকবিভাগ,রেলওয়ে,রসায়ন শিল্প,সড়ক পরিবহন,পর্যটন শিল্প,টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন বোর্ড,চিনি ও খাদ্য শিল্প),সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বভিত্তিক ব্যবসায়।

অধিক গুরুত্বপূর্ণঃ রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের ধারণা, উদ্দেশ্য, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় (ওয়াসা,ডাকবিভাগ,রেলওয়ে,রসায়ন শিল্প,সড়ক পরিবহন,পর্যটন শিল্প,টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন বোর্ড,চিনি ও খাদ্য শিল্প),সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বভিত্তিক ব্যবসায়।

রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের ধারণা

রাষ্ট্র কর্তৃক গঠিত বা পরবর্তীতে জাতীয়করণকৃত কোনো ব্যবসায়ের মালিকানা,পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের অধীনে থাকলে তাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় বলে।

এ ধরণের ব্যবসায় যে সকল স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে গঠিত, তা হলো-

১.স্বতন্ত্র গঠন প্রণালীঃ রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশে বা দেশের আইনসভার বিশেষ আইনবলে অথবা বেসরকারি ব্যবসায় জাতীয়করণ করার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় সংগঠিত হয়ে পারে।

২.রাষ্ট্রীয় মালিকানাঃ রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের মালিক হলো সরকার বা জনগণ।এর সকল সম্পদ রাষ্ট্রের এবং এর কর্মচারীরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসেবে গণ্য হয়।

৩.স্বাধীন আইনগত মর্যাদাঃ এরূপ ব্যবসায় বিশেষ আইনবলে গঠিত হয় বিধায় এটি পৃথক আইনগত সত্তা বা মর্যাদার অধিকারী।নিজ নামে পরিচিত হতে ও নিজস্ব সীলমোহর ব্যবহার করতে পারে।

৪.জনকল্যাণের উদ্দেশ্যঃ এরূপ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জনকল্যাণ সাধনই মূল লক্ষ্য হিসেবে গণ্য।দেশের অর্থনীতির উপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ন্যায্যমূল্যে উন্নতমানের পণ্য ও সেবা সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই মূলত এরূপ ব্যবসায় গঠিত হয়।

৫.রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনাঃ রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা সরকার কর্তৃক নির্বাহ করা হয়। সরকারি কর্মকর্তারা তদারকি করে থাকে।

৬.বৃহদায়তন প্রকৃতিঃ উন্নয়নশীল দেশসমূহে যে সকল খাতে প্রচুর মূলধন বিনিয়োগের প্রয়োজন পড়ে অথচ বেসরকারি উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে উৎসাহিত হয়না সেক্ষেত্রেই এরূপ ব্যবসায় গঠিত ও পরিচালিত হতে দেখা যায়।

৭. চিরন্তন স্থায়িত্বঃ এরূপ ব্যবসায়ের স্থায়িত্ব অনেকটা চিরন্তন প্রকৃতির।জনগণের কাছে জবাবদিহিতার ভয়ে ও অন্যবিধ কারণে সরকার ইচ্ছে করলেও বৃহদায়তন এ ব্যবসায় সহজে গুটাতে পারে না।

রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের উদ্দেশ্য

১. জনকল্যাণ
২.অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন
৩.সম্পদের সুষম বন্টন
৪.একচেটিয়া ব্যবসায় রোধ
৫.সুষম শিল্পায়ন
৬.মুদ্রা ও ব্যাংক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ
৭.দেশরক্ষা শিল্প পরিচালনা
৮.গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ, ভেষজ ও ক্ষতিকারক পণ্য নিয়ন্ত্রণ
৯.ভারী ও মৌলিক শিল্প প্রতিষ্ঠা

বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়

ওয়াসা ( Water Supply & Sewarage Authority)

মেট্রোপলিটন এলাকায় পানি সরবরাহ ও পয়ঃসুবিধা প্রদানে দায়িত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলো ওয়াসা। ১৯৬৩ সালে প্রেসিডেন্টের এক অধ্যাদেশ বলে একটা স্বাধীন সত্তাবিশিষ্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে।১৯৯৬ সালে ঢাকা ওয়াসা আইন পাস করে। বর্তমানে ওয়াসা ঢাকা,চট্রগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
চারটি ওয়াসার দায়িত্ব ও কাজ হচ্ছে-

১.বাসা-বাড়িসহ শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পানি সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, পরিচালনা, উন্নয়ন ও সংরক্ষণ করা;
২.পয়ঃপ্রণালীর মাধ্যমে গৃহস্থালির ময়লা এবং শিল্প ও বাণিজ্যের তরল বর্জ সরানোর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, পরিচালনা,উন্নয়ন ও সংরক্ষণ করা এবং
৩.জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে অবকাঠামো নির্মাণ, পরিচালনা, উন্নয়ন ও সংরক্ষণ করা।

বাংলাদেশ ডাক বিভাগ (Bangladesh Post Office)

ডাক বিভাগ সংশ্লিষ্ট পণ্য ও সেবা জনগণের নিকট পোঁছে দেয়ার জন্য বাংলাদেশে ডাকঘর সরকারি মালিকানাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। বৃটিশ আমলে চালু হওয়া ডাক যোগাযোগ ব্যবস্থা এ দেশে ১৫০বছরেরও অধিক সময় ধরে চালু আছে।এর সাধারণ লক্ষ্য হলো,বিদ্যমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে সাশ্রয়ী কিন্তু নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত ডাকসেবা সাধারণ মানুষদের দোরগোড়ায় সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সততার মাধ্যমে পৌঁছে দিয়ে গ্রাহক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করা।

এর কার্যলক্ষ্য হলো-

১.গ্রাহকদের প্রত্যাশা পূরণ
২.দক্ষ ও আন্তরিক ডাকসেবা প্রদানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা
৩.কর্মীরা যেন গ্রাহকদের নিকট সর্বোচ্চ সৌজন্যতার সাথে ডাক সেবা পৌঁছাতে পারে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা
৪.দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থায় প্রতিষ্ঠানকে কার্যকরভাবে চালিয়ে নেয়া
৫.দেশের সর্বত্র মানসম্মত ডাকসেবা প্রদান করা।

বাংলাদেশ রেলওয়ে (Bangladesh Railway)

সরকারি মালিকানায় ও পরিচালনায় দেশের প্রধান পরিবহন সংস্থা হলো বাংলাদেশ রেলওয়ে। ১৪২বছর আগে বৃটিশরা এই উপমহাদেশে কলকাতাকে কেন্দ্র করে যে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করে তার অংশবিশেষ নিয়েই স্বাধীন বাংলাদেশের রেলওয়ে যাত্রা। এর সাধারণ লক্ষ্য,সরকারের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত উন্নয়ন কৌশলের সাথে মিল রেখে রেল ব্যবস্থার যথাযথ আধুনিকায়ন, সম্প্রসারণ ও সংরক্ষণের মাধ্যমে নিরাপদ,বিশ্বস্ত, স্বল্প ব্যয়সাপেক্ষ ও সময় সাশ্রয়ী পরিবহন সেবা প্রদান করা।

এর কার্যলক্ষ্য হলো-

১.সারা দেশে রেলপথ ও স্টেশন অবকাঠামো গড়ে তোলা
২.রেল ইঞ্জিন,বগি ও অন্যান্য রেলওয়ে যানসমূহ উন্নয়ন ও সংরক্ষণ করা
৩.সিগনালিং,ইন্টারলকিং ও টেলিকম ব্যবস্থার পরিচালন ও আধুনিকায়ন
৪.নিরাপদ,গতিসম্পন্ন ও দক্ষ ট্রেন চালনা নিশ্চিত করা
৫.রেলওয়ে সেক্টরে সরকারের পরিবহন পলিসি বাস্তবায়ন করা
৬.বাংলাদেশ রেলওয়ের ভূমি সম্পদ প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে পরিচালনা করা
৭.বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেটের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশের রেলওয়ে ৩ধরনেরঃ ব্রডগেজ,ডুয়েল গেজ,মিটার গেজ।

বাংলাদেশ রসায়ন শিল্প (BCIC)

১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির ২৭ং আদেশ বলে গঠিত তিনটি সেক্টর কর্পোরেশনকে একীভূত করে ১৯৭৬সালে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন গঠিত হয়।

তিনটি কর্পোরেশন হলো-

১.বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার কেমিক্যাল এন্ড ফার্মাসিউটিক্যাল কর্পোরেশন -৪৪টি প্রতিষ্ঠান
২.বাংলাদেশ পেপার এন্ড বোর্ড কর্পোরেশন -১২টি প্রতিষ্ঠান
৩.বাংলাদেশ ট্যানারি কর্পোরেশন -৩২টি প্রতিষ্ঠান।

এ প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্যাবলী হলো-

১.সরকারের শিল্পনীতি বাস্তবায়ন করা;
২.কার্যকর মানের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতার সাথে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা;
৩.যুক্তিসংগত ব্যয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে আমদানি বিকল্প ও মানসম্পন্ন পণ্য প্রস্তুত করা;
৪.খাদ্যের স্বয়ংসম্পূর্ণরা অর্জনের জন্য কৃষিতে ব্যবহার্য উপকরণ কৃষকদের নিকট পোঁছানোর ব্যবস্থা করা;
৫.স্থানীয় ও বিদেশী উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা এবং
৬.প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগে শিল্প প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের প্রাকৃতিক ও মানবীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহার করা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা (BRTC)

১৯৬১ সালে সরকারি অধ্যাদেশ বলে বাংলাদেশের এই ভূখণ্ডে বর্তমান বি.আর.টি.সি (পূর্বতন EPRTC) একটি গণপরিবহন সংস্থা হিসেবে গড়ে ওঠে। স্বাধীনতার পরে প্রতিষ্ঠানটি আরো শক্তিশালী ও সেবাধর্মী করে গড়ে ওঠে। এই সংস্থার উদ্দেশ্যাবলি ছিলো-

১.সড়কপথে যাত্রী ও পণ্য বহন করা;
২.ন্যায্য ও ব্যয়সাধ্য ভাড়ায় নিরাপদ,বিশ্বস্ত ও দক্ষ পরিবহন সেবা প্রদান করা;
৩.পরিবহন ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে সহায়তা এবং নতুন নতুন যাত্রাপথ চালু করা;
৪.জরুরি অবস্থাকালে কৌশলগত মধ্যস্থকের ভূমিকা পালন করে অবস্থার উন্নতি বিধান করা;
৫.সংস্থার জমি ও সম্পত্তি অতিরিক্ত আয়ের কাজে লাগিয়ে অলাভজনক খাত ও রুটে ভর্তুকির ব্যবস্থা করা;
৬.অক্ষম,পঙ্গু, ছাত্রছাত্রী,সরকারি কর্মচারী, গরীব ও নিঃস্বদের জন্য বিশেষ পরিবহন সুবিধা প্রদান করা;
৭.দেশের পর্যটনকে উৎসাহিত করা।

বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন

১৯৭৩সালে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন ১জন চেয়ারম্যান ও ৩জন সার্বক্ষণিক পরিচালক নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়।দেশের পর্যটন এলাকায় প্রতিষ্ঠানটি হোটেল ও মোটেল পরিচালনা করছে।পর্যটন খাতকে আরো এগিয়ে নেয়ার স্বার্থে কর্পোরেশনের অধীনে পরে National Tourism Organisation গড়ে তোলা হয়।

যার উদ্দেশ্য নিচে-

১.বাংলাদেশে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা;
২.দেশের পর্যটন ব্যবসায়ের উন্নতি সাধন,প্রসার ও এগিয়ে যেতে সহায়তা করে;
৩.জনগণের মধ্যে পর্যটনের আগ্রহ ও সচেতনতা সৃষ্টি হয়;
৪.যোগ্য পর্যটন কর্মী গড়ে তোলার জন্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গঠন ও পরিচালনা করা;
৫.পর্যটন বিষয়ক প্রকাশনা ছাপা ও প্রচারের ব্যবস্থা করা

বাংলাদেশ টেলিগ্রাফ এন্ড টেলিফোন বোর্ড/বর্তমান (BTCL)

বৃটিশ-ভারতে ১৯৫৩সালে ডাক ও টেলিগ্রাফ বিভাগের আওতায় সর্বপ্রথম টেলিগ্রাফ শাখা গড়ে তোলা হয়।১৯৬২ সালে তৎকালীন পাকিস্তানে টেলিগ্রাফ এন্ড টেলিফোন বিভাগ নামে উক্ত টেলিগ্রাফ শাখাকে পুনর্গঠন করা হয়।১৯৭৯ সালে এক অর্ডিনান্সের আওতায় টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন বোর্ডের নাম দেয়া হয় বাংলাদেশ টেলিগ্রাফ এন্ড টেলিফোন বোর্ড। ২০০৪ সালে সরকারের টেলিকম্যুনিকেশন পলিসির আওতায় একে কোম্পানিতে রূপান্তর করে বাংলাদেশ টেলিকম্যুনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড নামকরণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প সংস্থা

প্রেসিডেন্টের ২৭ং অধ্যাদেশ বলে ১জুলাই ১৯৭২সালে গঠিত বাংলাদেশ চিনি কল কর্পোরেশন ও বাংলাদেশ খাদ্য ও সহযোগী শিল্প কর্পোরেশন এ দুটি প্রতিষ্ঠানকে একত্রিত করে ১জুলাই,১৯৭৬সালে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প সংস্থা গঠিত হয়।

এর লক্ষ্য হলো-

১.সম্প্রসারিত কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে মিল এলাকাগুলোতে উচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা ও উচ্চ শর্করা সম্পন্ন আখ উৎপাদন করা;
২.বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের জন্য চিনিকলসমূহের সংস্থাপিত কার্যক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে চিনি উৎপাদন করা;
৩.কার্যকর বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বাজারে চিনির স্থিতিশীল মূল্য নিশ্চিত করা;
৪.নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার ও কার্যব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে চিনি কলগুলোর আধুনিকায়ন নিশ্চিত করে চিনি উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব ভিত্তিক ব্যবসায়

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বভিত্তিক(PPP) ব্যবসায় হলো দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারি ব্যবস্থা যেখানে জনগণকে সেবা দেয়ার উদ্দেশ্য বেসরকারি খাতে সরকারের সাথে চুক্তি করে যৌথভাবে মূলধন বিনিয়োগ করে।বর্তমান বিশ্বায়নের এ যুগে নতুন নতুন ব্যবসায় ধারণার যে উদ্ভব ঘটেছে তার একটি বিশেষরূপ হলো এই PPP।একটা দেশের সরকার এবং এক বা একাধিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বা জনগণ মিলে গঠিত সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বভিত্তিক ব্যবসায়। অবকাঠামো নির্মাণ, হাসপাতাল,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেবা প্রতিষ্ঠান গঠন ইত্যাদি ক্ষেত্রে এরূপ অংশীদারিত্ব ইতোমধ্যেই বিভিন্ন দেশে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

PPP ব্যবসায় ৩ধরনের হয়ে থাকে।যেমন-

১. বিওওটি (BOOT): এক্ষেত্রে নির্মাণ, মালিকানা,পরিচালনা ও হস্তান্তর পর্যায়ক্রমে হয়।অর্থাৎ, যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয়,সবাই মালিকানা পায়,একত্রে পরিচালনা করে ও একপর্যায়ে মালিকানা সরকারি খাতে স্থানান্তরিত হয়।

২.বিওটি (BOT): এক্ষেত্রে যৌথভাবে নির্মিত হলেও চুক্তি অনুযায়ী বেসরকারি খাতে দেয়া হয় না।বেসরকারি উদ্যোক্তাদের প্রদত্ত তহবিল কার্যত ঋণ হিসেবে গণ্য।চুক্তির মেয়াদ পর্যন্ত উভয় পক্ষ যৌথভাবে তা পরিচালনা করে এবং এক পর্যায়ে সরকার বেসরকারি উদ্যোক্তাদের পাওনা ফেরৎ দিয়ে সম্পূর্ণ কর্তৃক নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।

৩.বিওও(BOO): এক্ষেত্রে নির্মাণ, মালিকানা ও পরিচালনা চুক্তি অনুযায়ী একত্রে চলে।কোনো পক্ষকে উক্ত মালিকানা হস্তান্তরের প্রশ্ন আসেনা।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party