অধ্যায় ৭ঃ উৎপাদন ব্যয় হিসাব

হিসাববিজ্ঞান / হিসাববিজ্ঞান (২য় পত্র)

অধ্যায় ৭ঃ উৎপাদন ব্যয় হিসাব

এই অধ্যায় আমাদের আলোচ্য বিষয়: – উৎপাদন ব্যয় হিসাব – দরপত্র – বেতন ও মজুরি বিবরণী

উৎপাদন ব্যয় হিসাব মূলত উৎপাদন ব্যয় হিসাববিজ্ঞানের একটি বিবরণী।

উৎপাদন ব্যয় হিসাববিজ্ঞান:

হিসাববিজ্ঞানের যে শাখায় উৎপাদিত দ্রব্য বা সেবার মোট ব্যয় ও একক প্রতি ব্যয় নির্ধারণ, নিয়ন্ত্রণ ও বিশ্লেষণ করে এবং ব্যবস্থাপনার চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে তাকে উৎপাদন ব্যয় হিসাববিজ্ঞান বলে। উৎপাদন ব্যয় হিসাববিজ্ঞানের উদ্দেশ্য ব্যয় নির্ণয় ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ।

উৎপাদন ব্যয় বিবরণীর মাধ্যমে মূলত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ব্যয় প্রদর্শন এবং তথ্য সরবরাহ করা হয়।

উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রধানত দুই প্রকার :

১) উৎপাদন ব্যয়

২) পরিচালন ব্যয়

উৎপাদন ব্যয়কে আবার দুইভাগে ভাগ করা হয় :

ক. মুখ্য ব্যয়

খ. উপরি ব্যয়

মূখ্য ব্যয়ের এর তিনটি ধাপ আছে :

i) প্রত্যক্ষ কাঁচামাল

ii) প্রত্যক্ষ শ্রম

iii) অন্যান্য প্রত্যক্ষ খরচ

অন্যদিকে, পরিচালন ব্যয়ের এর দুটি ভাগ রয়েছে :

ক. অফিস ও প্রশাসনিক ব্যয়

খ. বিক্রয় ও বন্টন ব্যয়

আচ্ছা, তো আমরা ধাপে ধাপে উৎপাদন ব্যয় বিবরণী করা শিখি,

  • প্রথমে আমরা ব্যবহৃত কাঁচামালের ব্যয় নির্ণয় করব।
  • নিট কাঁচামাল ক্রয়ের সাথে প্রারম্ভিক মজুদ যোগ এবং সমাপনী মজুদ বাদ দিলেই ব্যবহৃত কাঁচামালের ব্যয় পাওয়া যাবে।
  • এরপর ব্যবহৃত কাঁচামালের ব্যয়ের সাথে প্রত্যক্ষ মজুরি এবং অন্যান্য প্রত্যক্ষ ব্যয় যোগ করতে হবে। তাহলে আমরা পাব মোট মুখ্য ব্যয়।
  • মুখ্য ব্যয় এর সাথে কারখানা উপরি ব্যয় যোগ দিলেই উৎপাদন ব্যয় পাওয়া যায়। কারখানা উপরি ব্যয় এর ভিতরে আছে; পরোক্ষ মাল, কারখানা ভাড়া, কারখানা ম্যানেজারের বেতন, কারখানা যন্ত্রপাতির অবচয়, তাপ ও জ্বালানি, ড্রইং অফিসের বেতন, গবেষণা খরচ, অন্যান্য পরোক্ষ ব্যয় ইত্যাদি।
  • এরপর উৎপাদন ব্যয়ের সাথে চলতি কার্য/অর্ধ প্রস্তুত মজুদের প্রারম্ভিক জের যোগ এবং সমাপনী জের বাদ দিতে হয়।
  • উপর্যুক্ত কার্যের ফলাফলের সাথে তৈরি পণ্যের প্রারম্ভিক মজুদ যোগ এবং সমাপনী মজুদ বাদ দিলে আমরা পাই বিক্রিত পণ্যের ব্যয়।
  • এবার বিক্রিত পণ্যের ব্যয় সাথে প্রশাসনিক উপরি ব্যয় এবং বিক্রয় ও বন্টন ব্যয় যোগ দিতে হবে। তাহলে আমরা পাব আমাদের মোট ব্যয়।
  • অফিস ও প্রশাসনিক ব্যয় এর অন্তর্ভুক্ত ম্যানেজারের বেতন, কর্মচারীদের বেতন, বিমা, অফিস বিদ্যুৎ, অফিসের যন্ত্রপাতির অবচয়, অফিস ভাড়া, ডাক ও তার, ছাপা ও মনিহারি ইত্যাদি।
  • অন্যদিকে, বিক্রয় ও বন্টন ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত; বিক্রয় ব্যবস্থাপক এর বেতন, বিক্রয় পরিবহন, শোরুম ভাড়া, বিজ্ঞাপন, অনাদায়ী পাওনা, প্রদত্ত বাট্টা, প্যাকিং খরচ ইত্যাদি।
  • এরপরে মোট ব্যয়ের সাথে মুনাফা যোগ করলেই আমরা পেয়ে যাব বিক্রয় মূল্য।

দরপত্র:

সম্ভাব্য ক্রেতার নিকট পণ্যদ্রব্য সংগ্রহ ও অন্যান্য কার্য সম্পাদনের জন্য ব্যয়ের পরিমাণ নির্ণয় করে যে বিবরণী প্রকাশ করা হয় দরপত্র বলে।

দরপত্র প্রস্তুতের সময় কাঁচামালের মূল্য এবং মজুরির পরিমাণ দেওয়া থাকে। অন্যান্য দফাগুলো শতকরা হারে নির্ণয় করতে হয়। প্রশ্নের যদি শতকরা হার দেওয়া থাকে, তাহলে সহজেই গুন করে আমরা টাকার পরিমান পেতে পারি। কিন্তু যদি শতকরা হার দেওয়া না থাকে বরং তার বদলে একটি উৎপাদন ব্যয় বিবরণী দেওয়া থাকলে, সেখান থেকে আমাদের শতকরা হার নির্ণয় করে নিতে হবে।

আচ্ছা তো অন্যান্য দফার শতকরা হার কিভাবে বের করে, এসো তা জেনে নেই

  • কারখানা উপরিব্যয় এর শতকরা হার ধরা হয় মজুরির ওপর।

অর্থাৎ কারখানা উপরি ব্যয়ের শতকরা হার= (কারখানা উপরি ব্যয়÷মজুরি)×১০০

  • অফিস ও প্রশাসনিক ব্যয়ের শতকরা হার নির্ণয় করা হয় উৎপাদন ব্যয় এর ওপর।

অফিস ও প্রশাসনিক ব্যয়ের শতকরা হার= (অফিস ও প্রশাসনিক ব্যয়÷উৎপাদন ব্যয়)×১০০

  • বিক্রয় ও বন্টন ব্যয় এর শতকরা হার নির্ণয় করা হয় উৎপাদন ব্যয় এর ওপর।

বিক্রয় ও বন্টন ব্যয়ের শতকরা হার= (বিক্রয় ও বন্টন ব্যয়÷উৎপাদন ব্যয়)×১০০

  • মুনাফার হার নির্ণয় করা হয় মোট ব্যয়ের উপর।

মুনাফার হার= (মুনাফা÷মোট ব্যয়)×১০০

এভাবে আমরা উপযুক্ত দফাগুলোর শতকরা হার পেতে পারি। এবং পরবর্তীতে দরপত্রে শতকরা গুন করে আমরা পরিমাণ পেতে পারি।

যেমন: আমরা কারখানা উপরি ব্যয়ের শতকরা হার পেয়েছি মজুরি দিয়ে ভাগ করে। এবার দরপত্রের মজুরির টাকাকে কারখানা উপরিব্যয়ের শতকরা হার দিয়ে গুণ করলে আমরা পাব দরপত্রের কারখানা উপরিব্যয় এর টাকা। একই পদ্ধতিতে অন্যান্য দফার টাকার পরিমানও আমরা নির্ণয় করতে পারব।

বেতন ও মজুরি বিবরণী:

শ্রমিককে তার শ্রমের বিনিময়ে ঘন্টা ভিত্তিক বা উৎপাদনভিত্তিক কাজের জন্য দিনশেষে বা সপ্তাহ শেষে যে পারিশ্রমিক দেওয়া হয় তাকে বলে মজুরি। অন্যদিকে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মানসিক ও শারীরিক শ্রমের বিনিময়ে মাসিক ভিত্তিতে যে পারিশ্রমিক দেওয়া হয় তাকে বলে বেতন।

বেতন ও মজুরির উপাদান: কর্মকর্তা-কর্মচারী বা শ্রমিকরা তাদের কাজের বিনিময় মজুরি ও বিভিন্ন ভাতা গ্রহণ করে, আবার তাদের মোট মজুরি থেকে ভবিষ্যৎ ফান্ডে প্রদান, অগ্রিম মজুরি বাবদ কিছু টাকা কর্তনও করা হয়।

এখানে যোগ করার উপাদানসমূহ হচ্ছে :

  • মূল মজুরি/বেতন
  • ওভারটাইম মজুরি
  • মহার্ঘ ভাতা
  • চিকিৎসা ভাতা
  • কমিশন
  • বোনাস
  • বাড়ি ভাড়া ভাতা
  • প্রশিক্ষণ ভাতা ইত্যাদি।

এবং কর্তনকারী উপাদানসমূহ হচ্ছে:

  • ভবিষ্যৎ তহবিলে প্রদান
  • অগ্রিম মজুরি
  • গ্রুপ বীমায় কর্মী প্রদত্ত প্রিমিয়াম
  • জরিমানা ইত্যাদি।

সর্বশেষে, ভালোমতো অনুসরণ করলে এই অধ্যায়ও তোমার কাছে খুবই সহজ হয়ে যাবে। ভালো করার জন্য দরকার নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস এবং যথেষ্ট অনুশীলন।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party