অধ্যায় ৬ঃ নেতৃত্ব

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা / ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা (২য় পত্র)

অধ্যায় ৬ঃ নেতৃত্ব

গুরুত্বপূর্ণঃ নেতৃত্বের ধারণা,নেতৃত্বের গুরুত্ব, নেতৃত্বের প্রকারভেদ,গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব, স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব, আদর্শ নেতার গুণাবলি, নেতার কার্যাবলি,নির্দেশনার ধারণা,উত্তম নির্দেশনার বৈশিষ্ট্য, নির্দেশনার পদ্ধতি,পরামর্শমূলক নির্দেশনা,পরামর্শমূলক নির্দেশনার সুবিধা

অধিক গুরুত্বপূর্ণঃ নেতৃত্বের ধারণা, নেতৃত্বের প্রকারভেদ,গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব, স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব, আদর্শ নেতার গুণাবলি, নির্দেশনার ধারণা,উত্তম নির্দেশনার বৈশিষ্ট্য, নির্দেশনার পদ্ধতি,পরামর্শমূলক নির্দেশনা,পরামর্শমূলক নির্দেশনার সুবিধা।

নেতৃত্বের ধারণা

কোনো দল বা গোষ্ঠীর আচরণ ও কাজকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যপানে এগিয়ে নিয়ে উদ্দেশ্যসাধনের কৌশলকেই নেতৃত্ব বলে আদেশ দেয়া,পরিচালনা করা,প্রভাবিত করা,উৎসাহিত করা,স্বেচ্ছাপ্রণোদিত করা,দলগত প্রচেষ্টা জোরদার করা ইত্যাদি বিষয় এর সাথে সম্পৃক্ত।

নেতৃত্বের গুরুত্ব

১. সংঘবদ্ধতা সৃষ্টি
২.দলবদ্ধ প্রচেষ্টা জোরদার
৩.লক্ষ্যার্জন নিশ্চিতকরণ
৪.কর্তৃত্ব প্রয়োগে সহায়তাদান
৫.সহযোগিতার উন্নয়ন
৬.মনোবল উন্নয়ন

নেতৃত্বের প্রকারভেদ

নেতৃত্ব যেমন নেতার চিন্তা-ভাবনা,মন-মানসিকতা ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে তেমনি কর্মীদের মান,কার্য পরিবেশ,প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি ইত্যাদির দ্বারাও প্রভাবিত হয়।বিভিন্ন বিবেচনায় নেতৃত্বের প্রকারভেদ নিম্নে রেখাচিত্রে তুলে ধরা হলো-

(ক) আনুষ্ঠানিকতা বিচারেঃ

১.আনুষ্ঠানিক নেতৃত্বঃ আনুষ্ঠানিক সংগঠন কাঠামোতে পদমর্যাদা হতে যে নেতৃত্বের সৃষ্টি হয় তাকে আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব বলে। প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম অনুসারেই এক্ষেত্রে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি অধস্তন জনশক্তির নেতা হিসেবে গণ্য হয় এবং তারা ঊর্ধ্বতনের নির্দেশ মানতে বাধ্য থাকে।
২.অনানুষ্ঠানিক নেতৃত্বঃ বৃহদায়কার প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক জনগোষ্ঠী একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে এদের মধ্যকার গোষ্ঠী,সম্প্রদায়,জন্মস্থান, রাজনৈতিক মতাদর্শ, ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছা ইত্যাদি পার্থক্যের কারণে তাদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক নেতৃত্বের সৃষ্টি হয়ে থাকে।

(খ) ক্ষমতা প্রয়োগের ধরন বিচারেঃ

১.স্বৈরতান্ত্রিক বা প্রভুত্বমূলক নেতৃত্বঃ এরূপ নেতৃত্বের ক্ষেত্রর নেতা সকল ক্ষমতা নিজের কাছে কুক্ষিগত করে রাখে এবং নিজে ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ নেতৃত্ব সাধারণত নেতিবাচক হয় এবং এক্ষেত্রে কর্মীদেরকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে কাজ আদায়ের চেষ্টা করা হয়ে থাকে।


২.পিতৃসুলভ নেতৃত্বঃ এক্ষেত্রে নেতা ও অনুসারীদের মধ্যে পিতা ও সন্তানের সম্পর্ক লক্ষ্য করা যায়।নেতা এক্ষেত্রে অনুসারীদের প্রতি সদয় থাকে। অভাব-অভিযোগের প্রতি মনোনিবেশ করে এবং স্নেহ ও মমতার মাধ্যমে শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করে কাজ আদায়ের চেষ্টা করে।


৩.গণতান্ত্রিক বা অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্বঃ এরূপ নেতৃত্বে সমগ্র ক্ষমতা নিজের কাছে কেন্দ্রীভূত না রেখে নেতা প্রয়োজনীয় কর্তৃত্ব অধস্তনদের কাছে হস্তান্তর করে। এ ছাড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণে অধস্তনদের পরামর্শ ও তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়।

৪.মুক্ত বা লাগামহীন নেতৃত্বঃ এরূপ নেতৃত্বের প্রকৃতি হলো এতে অধস্তনরা অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করে।এক্ষেত্রে নেতা কর্মবিমুখ হয় এবং অধস্তনদের কাছ থেকে নিজেকে দূরে রাখে।নেতা শুধুমাত্র লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেয় কিন্তু লক্ষ্য বাস্তবায়নের তার কোনো ভূমিকা থাকেনা।

(গ) দৃষ্টিভঙ্গি বিচারেঃ

১.কর্মকেন্দ্রিক নেতৃত্বঃ যে নেতৃত্ব ধারণায় কর্মীদের নিকট থেকে বেশি কাজ আদায়কেই নেতা গুরুত্বপূর্ণ মনে করে তাকে কর্মকেন্দিক নেতৃত্ব বলে। এক্ষেত্রে কর্মীদের ভালো-মন্দ বিবেচনার চাইতে কাজ আদায়ের বিষয়টিই অধিক গুরুত্ব পায়।

২.কর্মীকেন্দ্রিক নেতৃত্বঃ উৎপাদন বৃদ্ধিতে কর্মীদের ভালো-মন্দ,উৎসাহ-আগ্রহ বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে যে নেতৃত্ব কার্যক্রম পরিচালিত হয় তাকে কর্মীকেন্দ্রিক নেতৃত্ব বলে।

গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব

যে নেতৃত্ব ব্যবস্থায় নেতা গণতান্ত্রিক মানসিকতাসম্পন্ন হয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অধস্তনদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করে তাকে গণতান্ত্রিক বা অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্ব বলে।

এরূপ নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য হলো-
১.এক্ষেত্রে নেতা একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারী হলেও তা করে না;
২.এ ব্যবস্থায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে অধস্তনদের সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হয়;
৩.এক্ষেত্রে নেতা অধস্তনদের সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আগ্রহী থাকে;
৪.কর্মীদের মাঝে উৎসাহ সৃষ্টি করে নেতৃত্ব এক্ষেত্রে কাজ আদায়ে সচেষ্ট হয়;
৫. এক্ষেত্রে নেতা অধস্তনদের সুখ-দুঃখের অনুভূতি ও চিন্তা-চেতনাসম্পন্ন একটি সত্তা হিসেবে গণ্য করে।

স্বৈরতান্ত্রিক বা স্বৈরাচারী নেতৃত্ব

যে নেতৃত্ব ব্যবস্থায় নেতা কর্তৃত্ববাদী মানসিকতা দোষে দুষ্ট হয়,অন্যদের সাথে পরামর্শ করার কোনো প্রয়োজন বোধ হয়না,অধস্তনদের চাকরসদৃশ গণ্য করে এবং ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে কাজ আদায়ে সচেষ্ট হয় তাকে স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব বলে।

এ ধরনের নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য হলো-
১.নেতা সকল ক্ষমতা নিজের কাছে কুক্ষিগত করে রাখে;
২.সকল সিদ্ধান্ত সে এককভাবে গ্রহণ করে;
৩.নেতা অধস্তনদের সঙ্গে কোনো বিষয়ে পরামর্শ বা আলোচনা করার প্রয়োজন বোধ করে না;
৪.সে নিজেকে প্রভু হিসেবে গণ্য করে;
৫.কর্মীদের কাছ থেকে শর্তহীন আনুগত্য পাওয়ার প্রত্যাশা করে।

আদর্শ নেতার গুণাবলি

শিক্ষা ও অভিজ্ঞতাঃ বিদ্যাচর্চা,অভ্যাস চর্চা ইত্যাদি মাধ্যমে জ্ঞানার্জন বা জ্ঞান আয়ত্তকরণকে শিক্ষা বলে। অভিজ্ঞতার মাধ্যমে একজন মানুষ যা শেখে তাও শিক্ষা হিসাবে গণ্য।বর্তমানকালে একজন আদর্শ নেতার কাম্যমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার অধিকারী হওয়া আবশ্যক।

সাংগঠনিক জ্ঞান ও দক্ষতাঃ সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও যোগ্যতার সাথে তা পরিচালনার জ্ঞান ও দক্ষতাকেই সাংগঠনিক জ্ঞান ও দক্ষতা বলে। একজন সফল নেতাকে অবশ্যই যোগ্য সংগঠক হওয়া উচিত। এজন্য কাজকে বাস্তবতার নিরিখে যথাযথভাবে বিভক্তকরণ,কাজ অনুযায়ী উপযুক্ত কর্মী বাছাই, সুষ্ঠু যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা ইত্যাদিতে নেতাকে প্রয়োজনীয় জ্ঞানের অধিকারী হতে হয়।

শক্তি ও সামর্থ্যঃ প্রয়োজনীয় কাজ ও চিন্তা করার মত শারীরিক, মানসিক, জ্ঞানগত, কারিগরি ইত্যাদি যোগ্যতাকে নেতার শক্তি ও সামর্থ্য বিবেচনা করা হয়ে থাকে। নেতাকে সবসময় বিভিন্ন ধরনের মারাত্মক মানসিক চাপের মধ্যে থাকতে হয়।নেতাকে কার্যত চব্বিশ ঘন্টায় কাজ নিয়ে ভাবতে হয় তাই তার দৈহিক ও মানসিক সামর্থ্য অত্যাবশকীয়।

সাহস ও দৃঢ় মনোবলঃ যেকোনো পরিস্থিতিতেই নির্ভীক বা ভয়হীন থেকে মানসিক শক্তি সহকারে লক্ষ্যপানে এগিয়ে যাওয়ার গুণকে নেতার সাহস ও দৃঢ় মনোবল বলে। নেতা যদি অল্পতে ভেঙ্গে পড়েন তাহলে তার পক্ষে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ ও বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থায় অবিচল থাকা কষ্টকর হয়ে যাবে।

অধস্তনদের সম্পর্কে জানাঃ অধস্তনদের সম্পর্কে জ্ঞান,বুদ্ধি ও বিবেচনাকে কাজে লাগিয়ে তাদেরকে দিয়ে লক্ষ্যার্জন করাতে হবে। অধস্তনদের চিন্তা-চেতনা ও আশা-আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে নেতার সুস্পষ্ট ধারণা না থাকলে সকল অবস্থায় জনশক্তির আনুগত্য লাভ ও পরিচালনা করা তার পক্ষে সম্ভব হয় না।

দূরদৃষ্টি ও প্রজ্ঞাঃ একজন নেতাকে অবশ্যই প্রজ্ঞাবান বা দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হতে হবে।অতীত ও বর্তমানকে বিবেচনা করে যদি ভবিষ্যৎ সম্পর্কে যথাযথ মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হন তবে তার পক্ষে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয়না।

নেতার কার্যাবলি

নেতার কাজ হলো কর্মীদের চিন্তা ও প্রচেষ্টাকে সাংগঠনিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যপানে পরিচালিত করা। এ ছাড়া কর্মীদের চাওয়া-পাওয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যের মধ্যেও অনেক ক্ষেত্রেই পার্থক্য থাকে।প্রতিষ্ঠান ও কর্মী এ উভয় দিক বিচারে একজন নেতার যে সকল কাজ লক্ষ্যণীয় তা নিম্নে-

(ক)প্রাতিষ্ঠানিক দিক বিচারে-

১.পরিকল্পনা প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণ
২.উপযুক্ত সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি
৩.কর্মী নির্বাচন ও মানোন্নয়ন
৪.নির্দেশ দান
৫.কার্যকর তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়সাধন
৬.নিয়ন্ত্রণ

(খ) কর্মীদের দিক বিচারে-

১.আস্থা সৃষ্টি
২.দলগত প্রচেষ্টার উন্নয়ন
৩.কর্মীদের মনোবল উন্নয়ন

নির্দেশনা

অধস্তনদের আদেশ দান,উপদেশ ও পরামর্শ প্রদান,তত্ত্বাবধান ও অনুসরণ কার্যকে নির্দেশনা বলে। পরিকল্পনা, সংগঠন ও কর্মীসংস্থান হলো মূলত প্রস্তুতিমূলক কাজ,এই প্রস্তুতির পর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অধস্তনদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে নির্দেশের বাস্তবায়নে কার্য তত্ত্বাবধান করতে হয়। ভুল হলে তা ঠিক করে দেয়া হয়।

উত্তম নির্দেশনার বৈশিষ্ট্য

পরিকল্পনা ও কর্যাকার্যের মধ্যে যেহেতু নির্দেশনা সেতুবন্ধক হিসেবে কাজ করে তাই পরিকল্পনার আলোকে উত্তম নির্দেশনা প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিম্নে উত্তম নির্দেশনার বৈশিষ্ট্যসমূহ দেয়া হলো-

১.যৌক্তিকতাঃ কোনো নির্দেশ যুক্তিযুক্ত,যুক্তিসঙ্গত বা পালনযোগ্য হওয়াকেই নির্দেশনার যৌক্তিকতা বলে। কর্মচারীরা যদি কোনো নির্দেশনার বিষয়বস্তুকে অযৌক্তিক মনে করে তবে কখনই তা ভালো নির্দেশনা হতে পারে না।

২.পূর্ণাঙ্গতাঃ কোনো নির্দেশনার সম্পূর্ণতার গুণকেই পূর্ণাঙ্গতা বলে। কেউ যদি কিছু বলে আর বাকিটা অন্যে বুঝে নেবে মনে করে তবে তা কখনও ভালো নির্দেশনা হতে পারে না।

৩.সংক্ষিপ্ততাঃ নির্দেশনার বিষয়বস্তুকে অল্প কথায়,সুন্দর ও সাবলীলভাবে তুলে ধরাকেই সংক্ষিপ্ততা বলে।বেশি কথা অনেক সময় বিষয়বস্তুর গুরুত্ব অনুধাবনে বাধার সৃষ্টি করে। তাই নির্দেশনা সহজে সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করতে হবে যাতে অধস্তনেরা বুঝতে পারে।

৪.স্পষ্টতা ও সহজবোধ্যতাঃ একটি ভালো নির্দেশকে অবশ্যই স্পষ্ট ও সহজবোধ্য হওয়া উচিত। নির্দেশ অস্পষ্ট ও জটিল হলে অধস্তনরা বিষয়বস্তু অনুধাবন করতে ও সে অনুযায়ী যথাযথাভাবে কার্য সম্পাদন করতে পারেনা।

৫.নিয়মানুবর্তিতাঃ একটি ভালো নির্দেশনাকে অবশ্যই নিয়মানুগ হতে হয়। প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম-নীতি মেনে নির্দেশনা প্রদানকেই এক্ষেত্রে নিয়মানুবর্তিতা বলে। নির্দেশ কোথায় কে দেবেন,কিভাবে দেবেন,তত্ত্বাবধান কিভাবে করবেন ইত্যাদি বিষয়ে প্রতিষ্ঠানে উত্তম নিয়ম-নীতি থাকলে এবং তা অনুসরণ করা হলে নির্দেশনা কার্য ফলপ্রদ হয়।

৬.লিখিতঃ আদেশের বিষয়বস্তু লিখে বা টাইপ করে স্বাক্ষরসহ নির্দেশনা দেয়াকেই লিখিত নির্দেশনা বলে। লিখিত নির্দেশনামা সংরক্ষণ করা যায়,পরবর্তী সময়ে তা নতুন করে বুঝে নেয়ার চেষ্টা করা যায় এবং এর আলোকে কাজ তত্ত্বাবধান করাও সহজ হয়।

নির্দশনার বিভিন্ন পদ্ধতি

কোনো পরিকল্পনা না সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে মুখ্য ব্যবস্থাপকীয় কর্ম প্রচেষ্টাই হলো নির্দেশনা। নির্দেশনার বিভিন্ন কৌশল বা পদ্ধতি নিম্নে দেয়া হলো-

১. তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে নির্দেশনাঃ নির্দেশ দেওয়ার পর সাধারণত স্বশরীরে উপস্থিত থেকে কাজ দেখা এবং প্রয়োজনীয় উপদেশ ও পরামর্শ দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার কৌশলকে তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে নির্দেশনা বলে।সাধারণত প্রতিষ্ঠানের নিচের দিকে সুপারভাইজার, ফোরম্যান ইত্যাদি ব্যক্তিবর্গ প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।

২.যোগাযোগের মাধ্যমে নির্দেশনাঃ বিভিন্ন যোগাযোগের মাধ্যমে অধস্তনদের নির্দেশনা দানকে যোগাযোগের মাধ্যমে নির্দেশনা বলে। প্রতিষ্ঠানের নিচের পর্যায়ের সুপারভাইজার বা ফোরম্যান যেভাবে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে নির্দেশনা দেন উপরিপর্যায়ের নির্বাহীদের পক্ষে সেভাবে তত্ত্বাবধান সম্ভব হয়না।তাই সেক্ষেত্রে যোগাযোগের মাধ্যমে নির্দেশ প্রদান,কাজের খোঁজ-খবর গ্রহন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

৩.নেতৃত্ব দানের মাধ্যমে নির্দেশনাঃ অধস্তন জনশক্তির উপর নেতৃত্ব কৌশল ব্যবহার করে তাদের কর্মপ্রয়াসকে লক্ষ্যপানে এগিয়ে নেয়ার জন্য একজন নেতা যে নির্দেশনা কৌশল ব্যবহার করেন তাকে নেতৃত্ব দানের মাধ্যমে নির্দেশনা বলে।

ক. স্বৈরাচারী নির্দেশনাঃ যে নির্দেশনার ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন নিজস্ব কর্তৃত্ব ও ক্ষমতার বলে একাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং অধস্তনদের ওপর চাপ সৃষ্টি বা ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে কাজ আদায়ে সচেষ্ট হন তাকে স্বৈরাচারী নির্দেশনা বলে।

খ. পিতৃসুলভ নির্দেশনাঃ যে নির্দেশনার ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন, অধস্তনের ওপর অতিমাত্রায় কর্তৃত্বশালী হলেও কাজ আদায়ে ক্ষমতার প্রয়োগ না করে বরং স্নেহপূর্ণ ও আন্তরিক ব্যবহারের মাধ্যমে অধস্তনদের ওপর নিজস্ব প্রভাব সৃষ্টিপূর্বক কাজ আদায় করেন তাকে পিতৃসুলভ নির্দেশনা বলে।

গ.পরামর্শমূলক নির্দেশনাঃ যে নির্দেশনা পদ্ধতিতে নির্দেশদানের পূর্বে ঊর্ধ্বতন নির্দেশের বিষয়বস্তু অধস্তনদের সাথে আলাপ-আলোচনা করেন এবং তাদের পরামর্শ সংগ্রহের চেষ্টা চালান এবং তার ভিত্তিতে নির্দেশনার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করেন তাকে পরামর্শমূলক নির্দেশনা বলে।

পরামর্শমূলক নির্দেশনা

যে নির্দেশনা পদ্ধতিতে নির্দেশদানের পূর্বে ঊর্ধ্বতন নির্দেশের বিষয়বস্তু অধস্তনদের সাথে আলাপ-আলোচনা করেন এবং তাদের পরামর্শ সংগ্রহের চেষ্টা চালান এবং তার ভিত্তিতে নির্দেশনার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করেন তাকে পরামর্শমূলক নির্দেশনা বলে।
নির্দেশদানকারী ঊর্ধ্বতন, নির্দেশনা পালনকারী অধস্তন,নির্দেশনার বিষয়বস্তু এবং প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি এরূপ নির্দেশনার বিভিন্ন অনুষঙ্গ।এই চারটি বিষয়ের ওপরই পরামর্শমূলক নির্দেশনা ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। এরূপ ভূমিকা বা গুরুত্ব নিম্নে তুলে ধরা হলো-

১.ঊর্ধ্বতনের ক্ষেত্রে গুরুত্বঃ নির্দেশ দানের পূর্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়নকারী অধস্তনদের সাথে আলোচনা করায় তার পক্ষে অধস্তনদের সক্রিয় সমর্থন লাভ সম্ভব হয়। এতে অধস্তনদের সাথে সম্পর্ক বাড়ে।

২.অধস্তনদের ক্ষেত্রে গুরুত্বঃ এতে অধস্তনরা পূর্ব থেকেই কী করতে হবে সেই সম্পর্কে আঁচ করতে পারায় তাদের কাজের আগ্রহ ও মান বাড়ে।ঊর্ধ্বতনের সাথে আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে তারা অনেক কিছুই শিখতে পারে।

৩.নির্দেশনার বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে গুরুত্বঃ নির্দেশ দানের পূর্বে এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতনদের সাথে আলাপ-আলোচনা করায় নির্দেশের বিষয়বস্তু অনেক নিখুঁত হতে পারে। শুধুমাত্র নির্দেশই নয় এর বাস্তবায়ন কৌশলের বিভিন্ন দিক নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ আসে যা যথাযথ নির্দেশনার ক্ষেত্রে প্রভাব রাখে।

৪.প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতির ক্ষেত্রে গুরুত্বঃ একটা প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক ভাবধারা দীর্ঘ চর্চার বিষয়। অন্যের কথা শোনা,অন্যের মতকে শ্রদ্ধা করা,সংখ্যাগরিষ্ঠর মতকে মূল্য দেয়া ইত্যাদি বিষয় পরামর্শমূলক নির্দেশনা পদ্ধতির মাধ্যমে অর্জন করা যায়।

Neshat Tasnim

Executive of SILSWA

Tourism and Hospitality Management

University of Dhaka



Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party