অধ্যায় ৫ঃ যৌথ মূলধনী ব্যবসায়

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা / ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা (১ম পত্র)

অধ্যায় ৫ঃ যৌথ মূলধনী ব্যবসায়

গুরুত্বপূর্ণঃ কোম্পানি সংগঠনের ধারণা, বৈশিষ্ট্য, সংগঠনের শ্রেনীবিভাগ,গঠন পদ্ধতি, স্মারকলিপি, স্মারকলিপির পরিবর্তন, পরিমেল নিয়মাবলি,ন্যূনতম মূলধন,পরিচালকদের যোগ্যতাসূচক শেয়ার, শেয়ারের শ্রেনীবিভাগ, কোম্পানির বিলোপসাধন

অধিক গুরুত্বপূর্ণঃ কোম্পানির ধারণা, সংগঠনের শ্রেনীবিভাগ, প্রাইভেট ও পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি, স্মারকলিপি, পরিমেল নিয়মাবলি, শেয়ার ও এর শ্রেনীবিভাগ, কোম্পানির বিলোপসাধন

কোম্পানির ধারণা

কোম্পানি হলো আইনসৃষ্ট কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তার অধিকারী এমন একটা ব্যবসায় সংগঠন যা আইনের অধীনে গঠিত ও পরিচালিত হয়। শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে কোম্পানি মূলধন সংগ্রহ করেন।

এর বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে আলোচনা করা হল-

১. আইনসৃষ্ট প্রতিষ্ঠান
২. কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা
৩.চিরন্তন অস্তিত্ব
৪.সদস্য সংখ্যা
৫.সাধারণ সীলমোহর
৬.শেয়ার মূলধন
৭. শেয়ারের হস্তান্তরযোগ্যতা
৮. সীমাবদ্ধ দায়
৯.বিধিবদ্ধ দায়িত্ব
১০. বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠান
১১.স্বতন্ত্রধর্মী ব্যবস্থাপনা

কোম্পানি সংগঠনের শ্রেনীবিভাগ

একমালিকানা ও অংশীদারি ব্যবসায়ের সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোম্পানি সংগঠনের উৎপত্তি। সময়ের সাথে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানেরও পরিবর্তন ঘটে। নিম্নে কোম্পানির শ্রেনীবিভাগ প্রদর্শিত হলো-

১. বিধিবদ্ধ কোম্পানিঃ দেশের আইনসভা,সংসদ বা প্রেসিডেন্টের বিশেষ আধ্যাদেশবলে গঠিত ও নিয়ন্ত্রিত কোম্পানিকে বিধিবদ্ধ কোম্পানি বলা হয়।বাংলাদেশ ব্যাংক,বাংলাদেশ বিমান, বিআরটিসি, ওয়াসা ইত্যাদি এ ধরণের প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ।

২. নিবন্ধিত কোম্পানিঃ যে সকল কোম্পানি দেশে বহাল কোম্পানি আইন অনুযায়ী গঠিত ও কোম্পানি নিবন্ধক কর্তৃক নিবন্ধিত হয় তাকে নিবন্ধিত কোম্পানি বলে।

দায়ের ভিত্তিতে এরূপ কোম্পানিকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়-

◾অসীম দায়সম্পন্ন কোম্পানিঃ যে নিবন্ধিত কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের দায় অসীম থাকে এবং কোম্পানির দায়ের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগকৃত মূলধনের বাইরেও ব্যক্তিগত দায় জন্মে তাকে অসীম দায়সম্পন্ন কোম্পানি বলে।

◾সসীম দায়সম্পন্ন কোম্পানিঃ যে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের দায় সীমাবদ্ধ তাকে সসীম দায়সম্পন্ন কোম্পানি বলে।

এরূপ কোম্পানি নিম্নোক্ত দু’ভাবে ভাগ করা যায়-

• প্রতিশ্রুতি দ্বারা দায় সীমাবদ্ধ কোম্পানিঃ কোম্পানির স্মারকলিপির বর্ণনানুযায়ী শেয়ারহোল্ডারদের দায় তাদের ক্রয়কৃত শেয়ারের পরিমাণ অনুসারে প্রতিশ্রুতি মূল্যের দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে।

• শেয়ারমূল্য দ্বারা দায় সীমাবদ্ধ কোম্পানিঃ যে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের দায় তাদের ক্রয়কৃত শেয়ারের আঙ্কিক মূল্য দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে তাকে শেয়ারমূল্য দ্বারা দায় সীমাবদ্ধ কোম্পানি বলে।

ক) প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিঃ সর্বনিম্ন ২জন ও সর্বোচ্চ ৫০জন সদস্য নিয়ে,অবাধে শেয়ার হস্তান্তর নিষিদ্ধ এবং জনসাধারণের উদ্দেশ্যে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় সুবিধা নিয়ে যে ব্যবসায় গঠিত হয় তাকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বলে।
এটি আইনসৃষ্ট কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তার অধিকারী চিরন্তন অস্তিত্ববিশিষ্ট ব্যবসায়।কোম্পানি আইনের যে কড়াকড়ি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানকে মানতে হয় প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি সে বিষয়েও অনেক ছাড় দেয়া হয়েছে।কমপক্ষে ২জন পরিচালক নিয়ে এ ব্যবসায় চলতে পারে।

(খ) পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিঃ যে কোম্পানির সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন সাতজন এবং সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা শেয়ারের পরিমাণ দ্বারা সীমায়,শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য এবং শেয়ার ও ঋণপত্র জনগণের উদ্দেশ্যে ক্রয়-বিক্রয়ের আহবান জানানো যায় তাকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বলে।কমপক্ষে ৩জন পরিচালক থাকতে হয় যাদের এক-তৃতীয়াংশকে প্রতি বছর সাধারণ সভায় বাধ্যতামূলকভাবে অবশর নিতে হয়।

💠সরকারি কোম্পানিঃ যে সসীম দায়সম্পন্ন কোম্পানির সকল শেয়ার বা কমপক্ষে ৫১% ভাগ শেয়ার সরকারি মালিকানায় থাকে তাকে সরকারি কোম্পানি বলে।

💠বেসরকারি কোম্পানিঃ যে সসীম দায়সম্পন্ন কোম্পানির সকল বা অধিকাংশ শেয়ার বেসরকারি মালিকানায় থাকে তাকে বেসরকারি কোম্পানি বলে।

💠হোল্ডিং কোম্পানিঃ যদি কোনো কোম্পানি অন্য কোনো কোম্পানির ৫০%ভাগ এর বেশি শেয়ারের মালিক হয় বা মোট ভোটদান ক্ষমতার ৫০% ভাগ-এর অতিরিক্ত ভোটদান ক্ষমতা ভোগ করে অথবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অধিকাংশ পরিচালক নিয়োগ করার ক্ষমতার অধিকারি হয় তবে ঐ কোম্পানিকে হোল্ডিং কোম্পানি বলে।

💠সাবসিডিয়ারি কোম্পানিঃ কোনো কোম্পানির ৫০% এর বেশি শেয়ার বা ভোটদান ক্ষমতা অন্য কোনো কোম্পানির অধীনে থাকলে বা সংখ্যাগরিষ্ঠ পরিচালক নিয়োগের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ক্ষমতা অন্য কোনো কোম্পানির অধীনে থাকলে তাকে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি বলে।

কোম্পানি সংগঠনের গঠন পদ্ধতি

১.উদ্যোগ গ্রহণ পর্যায়
২.দলিলপত্র প্রণয়ন পর্যায়
৩.নিবন্ধনপত্র সংগ্রহ পর্যায়
৪. কার্যারম্ভ পর্যায়

স্মারকলিপি / সংঘ স্মারক/পরিমেলবন্ধ

স্মারকলিপি হলো কোম্পানির মূল দলিল,সনদ বা সংবিধান। এতে কোম্পানির নাম,ঠিকানা,উদ্দেশ্য,মূলধন,দায় ও সম্মতির বিষয়ে সংক্ষেপে লেখা থাকে।এটি কোম্পানির কার্যক্ষেত্র ও ক্ষমতার সীমা নির্দেশ করে।এর বাহিরে কোনো কাজ কোম্পানি করতে পারবেনা।

পরিমেল নিয়মাবলি /সংঘবিধি

কোম্পানির অভ্যন্তরীণ পরিচালনা সংক্রান্ত নিয়ম-নীতির দলিলকেই পরিমেল নিয়মাবলি বলে।এটি কোম্পানির দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

ন্যূনতম মূলধন বা ন্যূনতম চাঁদা

পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির সংঘবিধিতে কোম্পানি গঠনের প্রাথমিক প্রয়োজন পূরণের জন্য যে ন্যূনতম নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের প্রতিশ্রুতির উল্লেখ থাকে তাকে ন্যূনতম মূলধন বলে।

পরিচালকদের যোগ্যতাসূচক শেয়ার

কোম্পানির সংঘবিধিতে বা পরিমেল নিয়মাবলি পরিচালক হওয়ার জন্য যদি ন্যূনতম নির্দিষ্ট পরিমাণ শেয়ার থাকা আবশ্যক করে দেয়া হলে তবে উক্ত পরিমাণ শেয়ারকে পরিচালকদের যোগ্যতাসূচক শেয়ার বলে।

শেয়ার

কোম্পানির শেয়ার মূলধনের ক্ষুদ্র ও সমান একককে শেয়ার বলে।

শেয়ারের শ্রেনীবিভাগ –

১. সাধারণ শেয়ারঃ আইনানুযায়ী যে শেয়ারের মালিকগণ অধিকার,দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিভিন্ন দিক বিচারে অধিক সুবিধা ও মর্যাদাভোগ করলেও লভ্যাংশ বন্টনে ও কোম্পানির বিলোপের সময় মূলধন প্রত্যাবর্তনে অগ্রাধিকার পায় না তাকে সাধারণ শেয়ার বলে।

২. অগ্রাধিকার শেয়ারঃ যে শেয়ারের মালিকগণ লভ্যাংশ প্রাপ্তিতে ও মূলধন প্রত্যাবর্তনে অন্যান্য শেয়ার মালিকগণের চেয়ে অগ্রাধিকার পায় তাকে অগ্রাধিকার শেয়ার বলে।

৩. বিলম্বিত বা প্রবর্তকদের শেয়ারঃ যে শেয়ারের মালিকগণ লভ্যাংশ বন্টন ও মূলধন প্রত্যাবর্তনে সকলের শেষে অংশগ্রহণ করে তাকে বিলম্বিত শেয়ার বলে।

এছাড়াও কিছু শেয়ার রয়েছে,যা হলো-

বোনাস শেয়ারঃ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে নগদে লভ্যাংশ না দিয়ে লভ্যাংশ হতে হিসেবে শেয়ার বন্টন করা হলে ঐ শেয়ারকে বোনাস শেয়ার বলে।

অধিকারযোগ্য শেয়ারঃ কোনো কোম্পানি অধিকতর মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে নতুন শেয়ার বিলির সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় তার সম্পূর্ণ বা অংশবিশেষ ক্রয়ের অধিকার আনুপাতিক হারে পুরাতন শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সংরক্ষণ করলে তাকে অধিকারযোগ্য শেয়ার বলে।

কোম্পানির বিলোপসাধন

যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোম্পানির আইনগত সত্তার বিলোপ ঘটে তাকেই কোম্পানির বিলোপসাধন বলে।

বিলোপসাধন পদ্ধতি ৩প্রকারের-

১.আদালত কর্তৃক বাধ্যতামূলক বিলোপসাধনঃ নিম্নের কিছু কারণে আদালত কর্তৃক বাধ্যতামূলক বিলোপসাধন হতে পারে-

• বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ
• বিধিবদ্ধ সভা অনুষ্ঠানে ব্যর্থতা
• কাজ শুরুতে ব্যর্থতা
• ঋণ পরিশোধে অক্ষমতা
• অন্য কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণে
– কোম্পানি পরিচালনায় অচলাবস্থা হলে
– কোম্পানির সামগ্রিক উদ্দেশ্য প্রতারণামূলক হলে
– কোম্পানি গঠনের মূল উদ্দেশ্য অর্জন অসম্ভব হলে
– অনবরত লোকসান হলে
– ব্যবস্থাপনার ইচ্ছেকৃত অবহেলায় শেয়ারমালিকদের অধিকার ক্ষুন্ন হলে
– আবেদনকারী শেয়ারমালিককে কোম্পানিতে সকল প্রকার অংশগ্রহণ হতে বঞ্চিত করা হলে।

২. স্বেচ্ছাকৃত বিলোপসাধনঃ কোম্পানির সদস্য বা পরিচালকগণ স্বেচ্ছায় কোনো ব্যবসায় গুটিয়ে ফেললে তাকে কোম্পানির স্বেচ্ছাকৃত বিলোপসাধন বলে।

◼সদস্যগণের স্বেচ্ছাকৃত বিলোপসাধনঃ ঋণ পরিশোধে সক্ষম কোনো কোম্পানি স্বেচ্ছায় নিজ দায়িত্বে কোম্পানি বিলোপের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে তাকে স্বেচ্ছারকৃত বিলোপসাধন বলে।
*নির্দিষ্ট কোম্পানির ক্ষেত্রেঃ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যবসায় শুরু করা হলে এবং উক্ত সময় উত্তীর্ণ হলে;
*সাধারণ কোম্পানির ক্ষেত্রেঃ যদি কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের সভায় বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে কোম্পানির স্বেচ্ছাকৃত বিলোপ ঘটানো হয়।

◾পাওনাদার কর্তৃক স্বেচ্ছাকৃত বিলোপসাধনঃ কোম্পানির সভায় পরিচালকবৃন্দ কোম্পানির বিলোপের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তাকে পাওনাদারগণের স্বেচ্ছাকৃত বিলোপসাধন বলে। এক্ষেত্রে কোম্পানি গুটানোর কার্যক্রম পাওনাদারগণ কর্তৃক সম্পাদিত হয়।
৩. আদালতের তত্ত্বাবধানে বিলোপসাধনঃ

নিম্নোক্ত যেকোনো কারণে এ ধরনের বিলোপসাধন হতে পারে-

• প্রতারণের উদ্দেশ্যে বিলোপ
• যথাযথ নিয়ম অনুসরণে ব্যর্থতা
• অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্ব
• অন্য কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party