অধ্যায় ৫ঃ যৌথমূলধনী কোম্পানির আর্থিক বিবরণী

হিসাববিজ্ঞান / হিসাববিজ্ঞান (২য় পত্র)

অধ্যায় ৫ঃ যৌথমূলধনী কোম্পানির আর্থিক বিবরণী

প্রথম পত্রের আর্থিক বিবরণী এবং দ্বিতীয় পত্র আর্থিক বিবরণী অধ্যায়ের মধ্যে অনেকাংশে মিল পাওয়া যায়। এখানে আমরা যৌথ মূলধনী কোম্পানির আর্থিক বিবরণীতে নতুন যে অংশগুলো আসে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করব। যেমন:

– সংরক্ষিত আয় বিবরণী

– শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানা স্বত্ব বিবরণী

– আর্থিক অবস্থার বিবরণী

আয় বিবরণী

প্রথমে, আয় বিবরণী প্রস্তুতের কথা বলি। প্রথম পত্রে আমরা যেভাবে আয় বিবরণী প্রস্তুত করতে শিখেছি, সেভাবেই আমরা করব। প্রথমে মোট মুনাফা নির্ণয়, তারপর পরিচালন ব্যয় বাদ দিয়ে পরিচালন মুনাফা নির্ণয়, তারপর অপরিচালন আয়-ব্যয় সমন্বয় করে আমরা পাব কর-পূর্ববর্তী নিট মুনাফা পাব।এই পর্যন্ত ১ম পত্রের আর্থিক বিবরণীর এর সাথে মিল পাওয়া যায়।এরপর কর-পূর্ববর্তী নিট মুনাফা এর থেকে নতুন আয়কর সঞ্চিতি বাদ দিলে আমরা পাব কর-পরবর্তী নিট মুনাফা। এই নতুন আয়কর সঞ্চিতি পাওয়া যায় সমন্বয়ে।

সংরক্ষিত আয় বিবরণী:

কোম্পানির আর্থিক বিবরণী সমূহ প্রস্তুতের সময় সমাপ্ত হিসাব কালের জমাকৃত মুনাফা পরিবর্তন সংক্রান্ত তথ্য প্রদর্শনের জন্য তৈরি করা হয় সংরক্ষিত আয় বিবরণী। এখানে সংরক্ষিত আয় বিবরণীর প্রারম্ভিক জের এর সাথে বিভিন্ন উপাদান যোগ বিয়োগ করে সমাপনী জের নির্ণয় করা হয়।

এক্ষেত্রে যোগ সংক্রান্ত দফাগুলো হচ্ছে :

– চলতি হিসাব কালের নিট লাভ।

– বিগত হিসাবকালের অতিরিক্ত আয়কর সঞ্চিতি (পুরাতন আয়কর সঞ্চিতি – আয়কর প্রদান)

– বিগত হিসাব কালের আয়কর ফেরত, লভ্যাংশ ফেরত।

– সমন্বয়ে- দাবিহীন লভ্যাংশ প্রত্যাহার।

এবং বিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়:

– লভ্যাংশ প্রদান বা অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ।

– পুরাতন আয়কর সঞ্চিতি কম ( আয়কর প্রদান – পুরাতন আয়কর সঞ্চিতি)

– সমন্বয়ে প্রস্তাবিত লভ্যাংশ/প্রদেয় লভ্যাংশ

– সমন্বয় নিট মুনাফার অংশ বিভিন্ন তহবিল স্থানান্তর ( সাধারণ সঞ্চিতি, লভ্যাংশ সমতাকরণ তহবিল, কল্যাণ তহবিল, পরিপূরক তহবিল ইত্যাদি)

শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানা স্বত্ব বিবরণী:

একটি নির্দিষ্ট হিসাব করে শেয়ারহোল্ডারদের স্বত্ব কতটুকু পরিবর্তন হয়েছে এবং তাদের সর্বশেষ স্বত্ব জানতে শেয়ারহোল্ডারদের স্বত্ব বিবরণী তৈরি করা হয়।

এর উপাদান হচ্ছে:

– পরিশোধিত মূলধন

– সংরক্ষিত আয় বিবরণী সমাপনী জের

– সঞ্চিতি ও অন্যান্য উদ্বৃত্ত।

আর্থিক অবস্থার বিবরণী:

যৌথ মূলধনী কোম্পানির আর্থিক অবস্থার বিবরণী স্থায়িত্বের ভিত্তিতে করতে হয়। অর্থাৎ প্রথম স্থায়ী সম্পদ, তারপর বিনিয়োগ, তারপর চলতি সম্পদ, শেষে অসমন্বিত ব্যয়/অলীক সম্পদ।

একইভাবে শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানা স্বত্ব ও দায় পক্ষে প্রথমে শেয়ার মূলধন, তারপর সঞ্চিতি উদ্বৃত্ত, দীর্ঘমেয়াদী ঋণ, এবং শেষে চলতি দায় দিতে হয়। 

এখানে সঞ্চিতি ও উদ্বৃত্ত সমূহ অংশে লিপিবদ্ধ হয়:

– সাধারণ সঞ্চিতি

– লভ্যাংশ সমতাকরণ তহবিল

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party