অধ্যায় ৫ঃ কর্মীসংস্থান

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা / ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা (২য় পত্র)

অধ্যায় ৫ঃ কর্মীসংস্থান

গুরুত্বপূর্ণঃ কর্মীসংস্থান সম্পর্কে ধারণা,কর্মীসংস্থান প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পদক্ষেপ, কর্মী সংগ্রহ ও পদক্ষেপসমূহ,কর্মী সংগ্রহের উৎস,কর্মীসংগ্রহের অভ্যন্তরীণ উৎসের সুবিধা-অসুবিধা, কর্মীসংগ্রহের বাহ্যিক উৎসহের সুবিধা-অসুবিধা, কর্মী নির্বাচন, কর্মী নির্বাচন পদ্ধতি, পদোন্নতি ও পদোন্নতির ভিত্তি,কর্মী নিয়োগ,প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি।

অধিক গুরুত্বপূর্ণঃ কর্মীসংস্থান সম্পর্কে ধারণা,কর্মীসংস্থান প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পদক্ষেপ, কর্মী সংগ্রহ ও পদক্ষেপসমূহ,কর্মী সংগ্রহের উৎস, কর্মী নির্বাচন, কর্মী নির্বাচন পদ্ধতি, পদোন্নতি ও পদোন্নতির ভিত্তি,কর্মী নিয়োগ,প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি।

কর্মীসংস্থান

প্রতিষ্ঠানের জন্য দক্ষ জনবল গড়ে তোমার লক্ষ্যে কর্মী সংগ্রহ,নির্বাচন,নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নের কাজকে কর্মীসংস্থান বলে।
প্রতিষ্ঠানে লোক লাগবে কি না,লাগলে কোন পর্যায়ে কি পরিমাণে লাগবে তা নির্ধারণ করে প্রত্যাশীত ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিয়ে আসা,কোন উপায়ে কিভাবে তাদের মধ্যে থেকে যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করা হবে,তাদেরকে কোন প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত নিয়োগপত্র দেয়া হবে – এসকল বিষয় কর্মীসংস্থানের আওতাভুক্ত।

কর্মীসংস্থান প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পদক্ষেপ

▪কর্মী সংগ্রহঃ কর্মীসংস্থান প্রক্রিয়ায় কর্মী সংগ্রহ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।এর উদ্দেশ্য হলো প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন ও পূর্ব নির্দিষ্ট মান অনুযায়ী যোগ্যতর জনশক্তি কোন উৎস হতে সংগ্রহ করা যাবে তা খুঁজে বের করা এবং উক্ত উৎস হতে প্রয়োজনীয় জনশক্তিকে কর্মী নির্বাচনের সুবিধার্থে প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত আনার ব্যবস্থা করা।

▪কর্মী নির্বাচনঃ কোনো কাজ সঠিকভাবে সম্পাদনের জন্য যে সকল যোগ্যতা ও কর্মক্ষমতাসম্পন্ন কর্মীর প্রয়োজন হয় সেই মতো কর্মী বাছাই ও নিয়োগ কার্যকে কর্মী নির্বাচন বলে। আগত চাকরী প্রার্থীদের মধ্য থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী যোগ্য কর্মী নির্বাচন করে নিয়োগ ব্যবস্থা – এ প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত।

▪নিয়োগ ও স্থাপনাঃ কর্মী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়োগ দানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে তখন তা কার্যকর করার জন্য যে প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয় তাকেই কর্মী নিয়োগ বলে৷ নিয়োগপত্র ইস্যু,যোগদানপত্র গ্রহণ, যথাস্থানে কাজে নিয়োগ,সর্বোপরি কর্মীকে চূড়ান্ত বা স্থায়ীভাবে নিয়োগদান পর্যন্ত কার্য প্রক্রিয়াকেই কর্মী নিয়োগ হিসেবে গণ্য।

▪প্রশিক্ষণঃ কোনো কিছু হাতে-নাতে শিখানোকে বা পেশাগত শিক্ষাদানকে প্রশিক্ষণ বলে। প্রশিক্ষণ হলো কর্মী উন্নয়নের একটি আনুষ্ঠানিক উপায় বা পদ্ধতি।

কর্মী সংগ্রহ

প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্য কর্মী নির্বাচনের জন্য কাম্য সংখ্যক নিয়োগ প্রত্যাশী উপযুক্ত প্রার্থীকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসার কাজকে কর্মী সংগ্রহ বলে।

কর্মী সংগ্রহ প্রক্রিয়ার পদক্ষেপসমূহ

▪বিভাগীয় রিকুইজিশন সংগ্রহঃ কর্মী নির্বাচন প্রক্রিয়ার শুরুতে কোথায়,কতজন,কোন মানের কর্মীর প্রয়োজন হবে তা মানবসম্পদ বিভাগকে অবহিত করতে হবে। বিভিন্ন বিভাগ হতে রিকুইজিশন পাওয়ার পর কর্মী নির্বাচনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়ে থাকে।

▪উৎস নির্ধারণঃ রিকুইজিশন প্রাপ্তির পর পদের ধরন বিবেচনায় এরূপ কর্মী কোত্থেকে সংগ্রহ করা যাবে সে সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে উৎস নির্ধারণ করা হয়।

▪বিজ্ঞপ্তি প্রদানঃ বাইরের উৎস থেকে কর্মী সংগ্রহের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো পত্রিকাতে বিজ্ঞাপন প্রদান করে। বিজ্ঞাপনে নিয়োগ সংক্রান্ত শর্তাবলিত উল্লেখ করা হয়।

কর্মী সংগ্রহের উৎস

প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্তরের নির্বাহী ও কর্মী সংগ্রহের জন্য এরূপ কার্যের আওয়াত বিভিন্ন উৎস হতে শ্রমিক-কর্মী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসা হয়ে থাকে।নিম্নে শ্রমিক-কর্মী সংগ্রহের প্রধান উৎসসমূহ আলোচনা করা হলো-

১.অভ্যন্তরীণ উৎস-

(ক) পদোন্নতিঃ দায়িত্বপূর্ণ পদে যেক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মীর প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের পদোন্নতি প্রদানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কর্মী সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।

(খ) নিয়োজিত কর্মীদের সুপারিশঃ প্রতিষ্ঠানে নতুন কর্মীর প্রয়োজন হলে কর্মরত ব্যক্তিগত পরিচিত জন,আত্নীয়-স্বজন বা সুপারিশকৃত ব্যক্তিদের অনেক সময় নিয়োগ করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় সাধারণত অদক্ষ বা আধাদক্ষ কর্মী সংগ্রহ করা হলেও অনেক প্রতিষ্ঠানে দক্ষ কর্মী ও নির্বাহী সংগ্রহেও এরূপ উৎসের ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

(গ) শ্রমিক সংঘের সুপারিশঃ বৃহদায়তন ও মাঝারি আকারের অধিকাংশ সরকারি প্রতিষ্ঠানেই শ্রমিক সংঘের অস্তিত্ব বিদ্যমান। প্রতিষ্ঠানে নতুন কর্মীর প্রয়োজন হলে অনেক সময় শ্রমিক সংঘের সুপারিশকৃত ব্যক্তিদেরকে প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করে থাকে।

২.বাহ্যিক উৎসঃ

(ক) চাকরি সন্ধানীঃ বেকারত্ব অত্যধিক বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ইদানিং অনেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য অনিমন্ত্রিতভাবে আবেদনপত্র জমা দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানে নতুন কর্মীর প্রয়োজন হলে ঐ সমস্ত চাকরি সন্ধানীদের আবেদন অনেক সময় বিবেচনা করে কর্মী সংগ্রহ করা হয়।

(খ) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানঃ কোনো প্রতিষ্ঠানে নতুন কর্মীর প্রয়োজন হলে ঐ প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের অনুমোদনক্রমে তাদের বিজ্ঞপ্তি বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি টানিয়ে থাকে। এ প্রক্রিয়াতেও অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মী সংগ্রহ করে।

(গ) চাকরি বিনিয়োগ কেন্দ্রঃ চাকরি বিনিয়োগ কেন্দ্র নামে অনেক ক্ষেত্রেই স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান লক্ষ করা যায়। কোনো প্রতিষ্ঠানে নতুন কর্মীর প্রয়োজন হলে তারা চাহিদা জানিয়ে চাকরি বিনিয়োগ কেন্দ্র হতে প্রয়োজনীয় যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মী সংগ্রহ করতে পারে।

(ঘ) বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রঃ কর্মী সংগ্রহের আরেকটি অন্যতম উৎস হলো বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহ।সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নানাবিধ ট্রেডে প্রশিক্ষণ দান করা হয়।সেখান হতেও প্রয়োজনীয় কর্মী সংগ্রহ করা যায়।

(ঙ) বিজ্ঞাপনঃ কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মী সংগ্রহের প্রয়োজন হলে তারা সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন প্রদান করে থাকে। বিজ্ঞাপনে পদের নাম,আবশ্যকীয় যোগ্যতা,বয়স ইত্যাদি উল্লেখ করে নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে আবেদন জমা দিতে বলে। জমাকৃত আবেদনপত্রসমূহ যাচাই-বাছাই করে কর্মীদের সেখান থেকে নির্বাচন করা হয়।

কর্মীসংগ্রহের অভ্যন্তরীণ উৎসের সুবিধা-অসুবিধা

সুবিধাসমূহঃ-

১.আনুগত্য প্রতিষ্ঠা
২.যোগ্য কর্মী সংগ্রহ
৩. মনোবল উন্নয়ন
৪.শ্রমিক-ঘূর্ণায়মানতা হ্রাস
৫.ব্যয় হ্রাস
৬.নৈতিকতার মানোন্নয়ন
অসুবিধাসমূহঃ-
১.শূন্য পদ সৃষ্টি
২.নতুন মেধার প্রবেশ রোধ
৩.নির্বাচন সংক্রান্ত জটিলতা
৪.চিন্তা ও উদ্যমে স্থবিরতা
৫.অভ্যন্তরীণ প্রেসার গ্রুপ সৃষ্টি
৬.উপযুক্ত কর্মীর অভাব

কর্মীসংগ্রহের বাহ্যিক উৎসের সুবিধা-অসুবিধা

সুবিধাসমূহঃ-

১.যোগ্য কর্মী সংগ্রহ
২.উদ্দীপনা বৃদ্ধি
৩.প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস
৪.নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি
অসুবিধাসমূহঃ-
১.ব্যয় বৃদ্ধি
২.সময়সাপেক্ষ
৩.মনোবল হ্রাস
৪.সমন্বয় বিধানে সমস্যা
৫.উপযুক্ত কর্মী বাছাইয়ে সমস্যা

কর্মী নির্বাচন

কর্মী সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় আগত চাকরি প্রার্থীদের মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্য কর্মী বাছাইয়ের কাজকে কর্মী নির্বাচন বলে।

কর্মী নির্বাচন পদ্ধতি

কর্মী সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞপ্তিতে সাড়া দিয়ে যারাই আবেদন করে তাদেরকে সামনে রেখেই মূলত নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়।নিম্নে এ প্রক্রিয়ার পদক্ষেপসমূহ আলোচিত হলো-

১.আবেদনপত্র গ্রহণ ও বাছাইঃ সাধারণত বিজ্ঞাপন বা বিজ্ঞপ্তিতে সাড়া দিয়ে আবেদনকারীরা লিখিত আবেদন করে।এই আবেদনপত্র গ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়। আবেদনের সংখ্যা বেশি হলে সেক্ষেত্রে যোগ্যতা বিবেচনা করা হয়।

২.নিযুক্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পত্র ইস্যুঃ বাছাই প্রক্রিয়ায় যে সকল প্রার্থীদের আবেদনপত্র গৃহীত হয় তাদেরকে নিয়োগ পরীক্ষায় আমন্ত্রণ জানিয়ে এ পর্যায়ে চিঠি ইস্যু করা হয়।

৩.নিযুক্তি পরীক্ষা গ্রহণঃ সাধারণভাবে বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। কর্মীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য এ পর্যায়ে প্রয়োজনানুযায়ী নিম্নোক্ত পরীক্ষাসমূহ নেয়া হয়-

ক.যোগ্যতা পরীক্ষা
খ.বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষা
গ.প্রবণতা পরীক্ষা
ঘ.ব্যক্তিত্ব পরীক্ষা

৪.সাক্ষাৎকার গ্রহণঃ নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের পর যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় তাদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়ে থাকে।

৫.প্রাথমিক নির্বাচনঃ লিখিত পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে কোনো প্রার্থী যোগ্য বলে বিবেচিত হলে তাকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন বলে।

৬.ব্যক্তিগত ইতিহাস অনুসন্ধানঃ প্রাথমিক নির্বাচন পর অথচ চূড়ান্ত নিয়োগদানের পূর্বে অনেক সময় প্রার্থীর অতীত ইতিহাস সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রার্থীর বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা,কর্মস্থল,শিক্ষাদানকারী প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন থেকেও কর্মীর অতীত ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়।

৭.ডাক্তারি পরীক্ষাঃ এ পর্যায়ে প্রার্থীর শারীরিক সুস্থতা ও সামর্থ্য পরিমাপ করার জন্য ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়। কারণ প্রার্থীর শারীরিক সুস্থতা ও যোগ্যতার ওপর তার কর্মক্ষমতা বিশেষভাবে নির্ভর করে।

৮.চূড়ান্তভাবে নির্বাচনঃ প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত কর্মীদের মধ্য হতে অতীত ইতিহাস এবং ডাক্তারি পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয় প্রতিষ্ঠান তাদের একটি তালিকা তৈরি করে এবং সেখান থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মীকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

পদোন্নতি

পদোন্নতি বা পদোন্নয়ন বলতে কোন কর্মীকে তার বর্তমানে আসীন পদ হতে উচ্চতর দায়িত্ব ও পদমর্যাদা সম্পন্ন পদে উন্নীত করাকে বুঝায়।

এর ফলে শুধুমাত্র কর্মীদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধাই বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়না,এর সাথে কর্মীর দায়িত্ব, ক্ষমতা ও মর্যাদা বাড়ে।

পদোন্নতির ভিত্তি

▪জ্যেষ্ঠত্বের ভিত্তিতে পদোন্নতিঃ কোন পদ হতে উচ্চতর পদে কাউকে পদোন্নতির ক্ষেত্রে যদি চাকরির মেয়াদ বিবেচনায় বয়োঃজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে নির্বাচন করা হয় তবে তাকে জ্যেষ্ঠত্বের ভিত্তিতে পদোন্নয়ন বলে। জ্যেষ্ঠত্ব বিচারে নিম্নোক্ত বিষয়াদি বিবেচনা করা হয়-
১.চাকুরে হিসেবে মোট কার্যকাল
২.বর্তমান প্রতিষ্ঠানে মোট কার্যকাল
৩.বর্তমান প্রতিষ্ঠানে বিশেষ পদে মোট কার্যকাল
৪.স্থায়ী কর্মী হিসেবে স্থায়ী পদে কার্যকাল ইত্যাদি।

▪যোগ্যতা বা মেধাভিত্তিক পদোন্নয়নঃ পদোন্নতি পাওয়ার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে থেকে অধিকতর যোগ্যতা ও মেধাসম্পন্ন ব্যক্তিকে নির্বাচন করাকেই যোগ্যতা বা মেধাভিত্তিক পদোন্নয়ন বলে।
যোগ্যতা যাচাইয়ে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনাযোগ্য-
১.আনুষ্ঠানিক শিক্ষা
২.ব্যবহারিক শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা
৩.প্রশিক্ষণ, এর ধরন ও সময়কাল
৪.স্থায়ী পদে থাকাকালীন কার্যকাল ও অবদান
৫.চাকুরে অবস্থায় সংগৃহীত ও সংরক্ষিত ব্যক্তিগত রিপোর্ট ইত্যাদি।

▪জ্যেষ্ঠত্ব ও যোগ্যতাভিত্তিক পদোন্নতিঃ যোগ্য ব্যক্তি বাছাইকালে প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য ব্যক্তিদের মধ্যে থেকে ব্যক্তির চাকরিকাল এবং যোগ্যতা উভয় বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে পদোন্নতি প্রদানকে জ্যেষ্ঠত্ব ও যোগ্যতাভিত্তিক পদোন্নতি বলে। এই পদোন্নতিতে জ্যেষ্ঠত্ব এবং যোগ্যতা উভয়কে আলাদা আলাদা গুরুত্ব প্রদান করে তার ফলাফলের ভিত্তিতে কর্মীকে নির্বাচন করা হয়ে থাকে। এতে পুরাতন কর্মীদের যেমন ধরে রাখা যায় অপরপক্ষে যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মীরাও সন্তুষ্ট থাকে।

কর্মী নিয়োগ

কর্মী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পরীক্ষা -নিরীক্ষা এবং খোঁজ-খবর গ্রহণের পর যখন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে কোনো পদে নিয়োগ দানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় তখন তা কার্যকর করার জন্য যে প্রক্রিয়া অবলম্বন হয় তাকেই কর্মী নিয়োগ বলে।

প্রশিক্ষণ

প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মীদের কার্যদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষাদান কার্যক্রমকে প্রশিক্ষণ বলে। এটি হলো কর্মী উন্নয়নের একটি আনুষ্ঠানিক উপায় বা পদ্ধতি। কার্যকর তত্ত্বাবধান, উত্তম ব্যবহার,আর্থিক ও অনার্থিক সুযোগ-সুবিধা ইত্যাদি কর্মীর কার্যসন্তুষ্টি ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখলেও কর্মীর কার্যদক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই।

বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষণ পদ্ধতি

(ক)কাজের মাধ্যমে প্রশিক্ষণঃ

যে প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে একজন কর্মী বা নির্বাহী কাজের সাথে সম্পৃক্ত থেকে বা কার্য চলাকালে ঊধ্বর্তনের অধীনে থেকে কাজ সম্পর্কে বাস্তবে ও হাতেনাতে জ্ঞান অর্জন করার সুযোগ পায় তাকে কাজের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ বলে।

১.শিক্ষানবিস প্রশিক্ষণঃ স্থায়ী নিয়োগ প্রত্যাশী নতুন কর্মীকে কারও অধীনে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজের সাথে সম্পৃক্ত রেখে হাতেনাতে কাজ শেখানোর ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়াসকে শিক্ষানবিস প্রশিক্ষণ বলে। সাধারণত কোন বিশেষ কাজ,কৌশল, পদ্ধতি, সূত্র ইত্যাদি শিক্ষা দেয়ার জন্য এরূপ প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।

২.পদ পরিবর্তন/ পদ আবর্তনঃ একটা প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের পদমর্যাদায় বিভিন্ন ধরনের কাজ শেখানোর জন্য কর্মীকে এক টেবিল হতে অন্য টেবিলে বা এক অফিস হতে অন্য অফিসে স্থানান্তরের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেয়ার প্রয়াসকে পদ পরিবর্তন বলে। ব্যবস্থাপক বা নির্বাহীদের মান উন্নয়নে পদ পরিবর্তন একটি উল্লেখযোগ্য প্রশিক্ষণ। আমাদের দেশের ব্যাংকসমূহ ও মন্ত্রণালয়ে এ ধরনের প্রশিক্ষণ দিতে দেখা যায়।

৩.প্রবেশনা পদ্ধতিঃ যে পদ্ধতিতে একজন প্রশিক্ষণার্থীকে একজন উচ্চ পর্যায়ের নির্বাহী বা বিশেষজ্ঞ কর্মীর অধীনে রেখে কার্যক্ষেত্রে হাতেকলমে শিক্ষা দেয়া হয় তাকে প্রবেশনা পদ্ধতি বলে। আমাদের দেশে কোর্স সমাপ্তকারী ডাক্তারদের এরূপ পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেয়ার বিধিবদ্ধ ব্যবস্থা রয়েছে।

৪.কোচিংঃ যে পদ্ধতিতে একজন সুপারভাইজার বা ব্যবস্থাপকের অধীনে কয়েকজন কর্মীকে নির্দিষ্ট করে দিয়ে নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয় তাকে কোচিং পদ্ধতি বলে।

৫. পর্যবেক্ষণ পদ্ধতিঃযে প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে একজন নির্বাহী খুবই কাছে থেকে তার অধীনে ন্যস্ত প্রশিক্ষণার্থী কর্মীর কাজ-কর্ম পর্যবেক্ষণ, সমস্যাগুলো প্রত্যক্ষণ এবং তা মোকাবিলার উপায় সম্পর্কে ধারণা নেন এবং পরবর্তীতে তা সংশোধন করে দেন তাকে পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি বলে।

(খ) কাজের বাইরে প্রশিক্ষণঃ

১.বক্তৃতা পদ্ধতিঃ যে পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট স্থানে প্রশিক্ষণার্থীদের একত্রিত করে এক বা একাধিক বক্তা নির্দিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপনপূর্বক কর্মীদের জ্ঞানগত উন্নয়নের চেষ্টা করেন তাকে বক্তৃতা পদ্ধতি বলে।

২.আলোচনা পদ্ধতিঃ যে প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে বক্তা প্রশিক্ষণার্থীদের সামনে শুধুমাত্র তার বক্তব্যই উপস্থাপনা করে না সেই সাথে প্রশ্ন করার সুযোগ দেয় ও তার উত্তর প্রদানের মাধ্যমে অধিক জ্ঞানদানের প্রয়াস চালায় তাকে আলোচনা পদ্ধতি বলে।

৩.সেমিনারঃ যে প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে একটা বিষয়ে এক বা একাধিক অধিবেশনেআলোচনার ব্যবস্থা রেখে প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যাপক জ্ঞানার্জনের সুযোগ দেয়া হয় তাকে সেমিনার বলে।

৪.অধিবেশনঃ যে প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে একাধিক অধিবেশনে প্রশিক্ষণার্থীগণ পূর্ব নির্ধারিত একাধিক বিষয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারে তাকে অধিবেশন বলে।

৫.ঘটনা পদ্ধতিঃ যে পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণার্থীদের সামনে কোনো একট ঘটনা বা বিষয় তুলে ধরা হয় এবং সমস্যার সমাধান কী হতে পারে সে সম্পর্কে প্রত্যেককে লিখতে বলা হয় তাকে ঘটনা পদ্ধতি বলে।এভাবে শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণ শক্তি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৬.ওয়ার্কশপঃ তাত্ত্বিক জ্ঞানদানের সাথে হাতে-কলমে শিক্ষাদানের জন্য প্রতিষ্ঠানের নিচের পর্যায়ের নির্বাহীদের নিয়ে যে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয় তাকে ওয়ার্কশপ বলে।

Neshat Tasnim

Executive of SILSWA

Tourism and Hospitality Management

University of Dhaka

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party