অধ্যায় ৪ঃ মূলধন ও মুনাফা জাতীয় লেনদেন

SSC / হিসাববিজ্ঞান

অধ্যায় ৪ঃ মূলধন ও মুনাফা জাতীয় লেনদেন

মূলধন ও মুনাফা জাতীয় লেনদেনের ধারণাঃ

কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলির ফলাফল ও আর্থিক অবস্থা সঠিকভাবে জানতে হলে এর লেনদেনগুলোর প্রকৃতি বিশ্লেষণ করতে হয়। আয় ও ব্যয়ের প্রকৃতি অনুযায়ী ব্যবসায়ের সকল লেনদেনকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়ঃ- মূলধন জাতীয় ও মুনাফা জাতীয়।

মূলধন জাতীয় লেনদেনঃ

যে সকল লেনদেন দীর্ঘমেয়াদী (অর্থ্যাৎ ১ বছরের অধিক) যার টাকার অঙ্ক অপেক্ষাকৃত বড় এবং নিয়মিত সংঘটিত হয় না তাকে মূলধন জাতীয় লেনদেন বলে।

মূলধন জাতীয় লেনদেন দুই (২) প্রকারঃ

১. মূলধন জাতীয় প্রাপ্তি/আয়ঃ যে সকল প্রাপ্তি অনিয়মিত, টাকার পরিমাণ বড় এবং এক বছরের অধিক সময় সুবিধা ভোগ করা যায়, তাই মূলধন জাতীয় প্রাপ্তি। ব্যাবসায়ে মূলধন আনয়ন, ব্যাংক হতে ঋণ গ্রহণ, স্থায়ী সম্পদ (আসবাবপত্র, জমি, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি) বিক্রয় প্রভৃতি মূলধন জাতীয় প্রাপ্তির উদাহরণ। মূলধন জাতীয় আয় মূলধন জাতীয় প্রাপ্তিরই একটি অংশ।

ধরা যাক একটি পুরাতন যন্ত্রপাতি বিক্রয় হলো ৮০,০০০ টাকা এবং এর ব্যবহার পরবর্তী বর্তমান মূল্য ৬৫,০০০ টাকা। এখানে মূলধন জাতীয় আয় হয়েছে ১৫,০০০ টাকা (৮০,০০০-৬৫,০০০) লক্ষ রাখতে হবে যে, মূলধন জাতীয় প্রাপ্তি ৮০,০০০ টাকার সবটুকুই মূলধন জাতীয় আয় নয়ৎ

২. মূলধন জাতীয় প্রদান/ব্যয়ঃ যে সকল ব্যয় অনিয়মিত, টাকার পরিমাণ বড় এবং ১ বছরের অধিক সময় সুবিধা ভোগ করা যায়, ঐ সকল ব্যয়ই মূলধন জাতীয় ব্যয়। স্থায়ী সম্পদ (জমি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, মোটরগাড়ি ইত্যাদি) ক্রয়, স্থায়ী সম্পদ ক্রয় সম্পর্কিত অন্যান্য খরচ (সম্পদ ক্রয়ের আমদানি শুষ্ক, জাহাজ ভাড়া, পরিবহন খরচ, সংস্থাপন ব্যায় প্রভৃতি) মূলধন জাতীয় ব্যয় স্বরূপ গণ্য।

মুনাফা জাতীয় লেনদেনঃ

যে সকল লেনদেন স্বল্পমেয়াদী (অর্থ্যাৎ ১ বছরের কম) যার টাকার অঙ্ক অপেক্ষাকৃত ছোট এবং নিয়মিত সংঘটিত হয়, তাকে মুনাফা জাতীয় লেনদেন বলে।

১. মুনাফা জাতীয় প্রাপ্তি/আয় ঃ যে সকল প্রাপ্তি নির্দিষ্ট সময় পর পর অর্থাৎ নিয়মিত আদায় হয় এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই উপযোগিতা শেষ হয়ে যায় তাই মুনাফা জাতীয় প্রাপ্তি। পণ্য বিক্রয়লব্ধ অর্থ, ব্যাংকে জমা টাকার সুদ, প্রাপ্ত বাড়ি ভাড়া, প্রাপ্ত কমিশন ইত্যাদি মুনাফা জাতীয় প্রাপ্তির উদাহরণ।

মুনাফা জাতীয় প্রাপ্তির সবটুকুই একটি নিদিষ্ট সময়ের মুনাফা জাতীয় আয় হয় না। ধরা যাক হিসাবকাল ২০১৭ সালে ভাড়া পাওয়া গেল ৫০,০০০ টাকা কিন্তু এর মধ্যে ১০,০০০ টাকা পরবর্তী বছর অর্থাৎ ২০১৮ সাল সংক্রান্ত। এক্ষেত্রে ২০১৭-এর মুনাফা জাতীয় প্রাপ্তি ৫০,০০০ টাকা এবং মুনাফা জাতীয় আয় ৪০,০০০ টাকা।

২. মুনাফা জাতীয় প্রদান/ব্যয়ঃ ব্যবসায়ের দৈনন্দিন কার্য সম্পাদনের জন্য নিয়মিত যে সকল ব্যয় নির্দিষ্ট সময় পর পর সংঘটিত হয় এবং স্বল্প সময়ের মধ্যেই উপযোগিতা নিঃশেষ হয়ে যায়, তাকে মুনাফা জাতীয় প্রদান/ব্যয় বলা হয়। পণ্য ক্রয়, ভাড়া পরিশোধ, বেতন পরিশোধ, মনিহারি দ্রব্যাদি ক্রয়, বিজ্ঞাপন খরচ ইত্যাদি মুনাফা জাতীয় ব্যয়ের উদাহরণ।

বিলম্বিত মুনাফা জাতীয় ব্যয়ঃ

মুনাফা জাতীয় হওয়া সত্তে¡ও নির্দিষ্ট হিসাব বছরে সীমাবদ্ধ না থাকে একাধিক বছরসমূহে সুবিধা পাওয়া যায় বলেই এই ব্যয়কে বিলম্বিত মুনাফা জাতীয় ব্যয় বলা হয়। নতুন পণ্য তৈরির পূর্বের গবেষণা ও পরীক্ষা ব্যয়, বিজ্ঞাপন বাবদ এককালীন বড় অঙ্কের ব্যয়, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর ব্যয় ইত্যাদি।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party