অধ্যায় ৪ঃ রেওয়ামিল

হিসাববিজ্ঞান / হিসাববিজ্ঞান (১ম পত্র)

অধ্যায় ৪ঃ রেওয়ামিল

এই অধ্যায়ে আমাদের আলোচ্য বিষয়

-রেওয়ামিল

-মূলধন ও মুনাফা জাতীয় আয়-ব্যয়।

-ভুলের প্রকারভেদ

-ভুল সংশোধনী দাখিলা।

রেওয়ামিল:

লেনদেন গুলো খতিয়ানভুক্ত করার পর হিসাবের গাণিতিক সমতা যাচাই করার জন্য হিসাবের নাম ও জের নিয়ে যে বিবরণী তৈরি করা হয় তাকে রেওয়ামিল বলে।

রেওয়ামিলের উদ্দেশ্য- গানিতিক সমতা প্রমাণ করা এবং আর্থিক বিবরণীর প্রস্তুতকরণের সাহায্য করা।

রেওয়ামিলের ডেবিট পক্ষে বসে- সম্পদ, ব্যয়, উত্তোলন হিসাব।

রেওয়ামিলের ক্রেডিট পক্ষে বসে-দায়, আয়, মালিকানা স্বত্ব হিসাব।

যে সমস্ত রেওয়ামিলে মিলে অন্তর্ভুক্ত হয় না

-প্রারম্ভিক উদ্বৃত্ত [প্রারম্ভিক নগদ/ব্যাংক জের ইত্যাদি (ব্যতিক্রম প্রারম্ভিক মজুদ)]

-সম্ভাব্য দায় ও সম্ভাব্য সম্পদ।

*রেওয়ামিলে সাধারণত সমাপনী মজুদ পণ্য অন্তর্ভুক্ত হয় না। প্রারম্ভিক মজুদ ও ক্রিত পণ্যের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে রেওয়ামিলের সমন্বিত ক্রয় বা বিক্রিত পণ্যের ব্যয় থাকলে সমাপনী মজুদ পণ্য অন্তর্ভুক্ত হয়। তখন আবার প্রারম্ভিক মজুদ পণ্য ও ক্রিত পণ্যের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত হয় না।

মূলধন ও মুনাফাজাতীয় আয়/ব্যয়:

মুনাফাজাতীয় আয়/ব্যয়:যেসব আয়-ব্যয়ের কার্যকারিতা একটি আর্থিক বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে এবং নিয়মিত হবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম হতে উদ্ভূত হয় তাকে মুনাফা জাতীয় লেনদেন (আয়-ব্যয়) বলে।

মুনাফাজাতীয় ব্যয়ের উদাহরণ: বেতন ব্যয়, অবচয়, ক্রয়, পরিবহন ব্যয়, পুরাতন আসবাবপত্র বিক্রয় জনিত ক্ষতি ইত্যাদি।

মুনাফাজাতীয় আয়ের উদাহরণ: বিক্রয়, সেবা আয়, পুরাতন সম্পত্তি বিক্রয় জনিত আয়, কমিশন প্রাপ্তি ইত্যাদি।

মুলধনজাতীয় আয়/ব্যয়: যেসব আয়-ব্যয়ের কার্যকারিতা একাধিক হিসাবকালে প্রভাব রাখে এবং অনিয়মিতভাবে ঘটে তাকে মুনাফা জাতীয় লেনদেন (আয়-ব্যয়) বলে।

মূলধন জাতীয় ব্যয়ের উদাহরণ: ডেলিভারি ভ্যান, ভূমি উন্নয়ন ব্যয়, আসবাবপত্র, ক্রয়, যন্ত্রপাতি, জমি ইত্যাদি।

মূলধন জাতীয় আয়ের উদাহরণ: ব্যাংক ঋণ, বন্ধকী ঋণ ইত্যাদি।

রেওয়ামিলে যেসব ভুল ধরা পড়ে না-

১) নীতিগত ভুল:

হিসাববিজ্ঞানের নীতিমালা সম্পর্কে উপযুক্ত জ্ঞানের অভাবে হিসাবরক্ষক ভুল করে তাকে নীতিগত ভুল বলে। উদাহরণ মূলধন জাতীয় হিসাবকে মুনাফা জাতীয় হিসাবে লেখা অথবা মুনাফা জাতীয়‌ হিসাবকে মূলধন জাতীয় হিসাবে লেখা।

২) করণিক ভুল:

ক) বাদ পড়ার ভুল: একটি লেনদেন সম্পূর্ণরূপে বাদ পড়লে অর্থাৎ কোথাও লিপিবদ্ধ করা না হয় তাকে বলে বাদ পড়ার ভুল। যেমন: পণ্য ক্রয় লেনদেনটি কোথাও লিপিবদ্ধ করা হয়নি।

খ) বেদাখিলার ভুল: হিসাবের প্রাথমিক বই জাবেদা হতে খতিয়ান স্থানান্তরের সময় ভুলে এক হিসাব এর পরিবর্তে সমজাতীয় অন্য হিসাব এর সঠিক পাশে লেখা হলে তাকে বলে বেদাখিলার ভুল। যেমন: ভাড়া প্রদান। ভাড়া হিসাবকে ডেবিট না করে বেতনের খতিয়ানে ডেবিট করা।

গ) লেখার ভুল: লিপিবদ্ধ করার সময় টাকার পরিমান ভুল লেখা হলে তাকে বলে লেখার ভুল। যেমন: মনিহারি ক্রয় ৪৯০ টাকার পরিবর্তে ৯৪০ টাকা লেখা।

ঘ) পরিপূরক ভুল: একটি ভুলের দ্বারা অপর এক বা একাধিক ভুল পূরণ হয়ে গেলে তাকে পরিপূরক ভুল বলে। যেমন: ক্রয় হিসাবের ডেবিট থেকে ৫০০ টাকা কম অপরদিকে বেতন হিসেবে ৫০০ টাকা বেশি লেখা হয়েছে।

ভুল সংশোধনী দাখিলা:

হিসাব-নিকাশে কোন ভুল ধরা পড়লে ভুল সংশোধনী দাখিলা মাধ্যমে ভুলটি সংশোধন করা হয়। যখন ভুল ধরা পড়ে ভুল সংশোধন খেলা তখনই দেওয়া হয়।

সংশোধনী দাখিলা হিসাব চক্রের একটি পরিত্যাজ্য থাক।

রেওয়ামিল না মিললে আমরা অনিশ্চিত হিসাব এর মাধ্যমে সাময়িক ভাবে উভয়পক্ষের টাকার পরিমানকে সমান করি। অনিশ্চিত হিসাব স্থায়ী নয়। ধরা পড়লেই সংশোধনী দাখিলা মাধ্যমে এটি বন্ধ করা হয়।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party