অধ্যায় ৪ঃ যৌথমূলধনী কোম্পানির মূলধন

হিসাববিজ্ঞান / হিসাববিজ্ঞান (২য় পত্র)

অধ্যায় ৪ঃ যৌথমূলধনী কোম্পানির মূলধন

এই অধ্যায়ে আমরা আলোচনা করব

-যৌথ মূলধনী কোম্পানি

-যৌথ মূলধনী কোম্পানির মূলধন সংগ্রহ প্রক্রিয়া

-যৌথ মূলধনী কোম্পানির মূলধন সংগ্রহের হিসাবরক্ষণ।

যৌথ মূলধনী কোম্পানি:

বহুসংখ্যক ব্যক্তি স্বেচ্ছায় মিলিত হয়ে অর্থ বা অর্থের সমমূল্যের তহবিল সরবরাহ করে আইনসম্মত ও কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা বিশিষ্ট যে ব্যবসায় গড়ে তোলে তাকে যৌথ মূলধনী কোম্পানি বলে।

বাংলাদেশ যৌথ মূলধনী কোম্পানির আইন ১৯৯৪ সালের।

১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ২(১) (ঘ) ধারা অনুসারে ‘কোম্পানি বলতে এই আইনের অধীনে গঠিত এবং নিবন্ধিত কোন কোম্পানি বা কোন বিদ্যমান কোম্পানিকে বোঝায়।’

যৌথ মূলধনী কোম্পানির প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ হচ্ছে:-

১) কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা

২) চিরন্তন অস্তিত্ব

৩) স্বেচ্ছামূলক সংস্থা

৪) নিজস্ব সিলমোহর

৫) সীমাবদ্ধ দায়

৬) পৃথক ব্যবস্থাপনা

৭) নিবন্ধন ইত্যাদি।

যৌথ মূলধনী কোম্পানির মূলধনের শ্রেণীবিভাগ:

১) অনুমোদিত/ নিবন্ধিত মূলধন: কোম্পানি যে পরিমাণ মূলধন নিয়ে নিবন্ধিত হয় বা স্মারকলিপিতে শেয়ার বিক্রয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ যে পরিমাণ প্রতি সংগ্রহের ক্ষমতা উল্লেখিত থাকে তাকে অনুমোদিত বা নিবন্ধিত মূলধন বলে।

২) ইস্যুকৃত মূলধন: অনুমোদিত মূলধনের যে অংশ জনসাধারণের নিকট বিক্রয়ের জন্য প্রচার করা হয় তাকে ইস্যুকৃত মূলধন বলে।

৩) বিলিকৃত মূলধন: ইস্যুকৃত মূলধনের যে অংশ ক্রয়ের জন্য তনু সাধারণের নিকট হতে আবেদনপত্র পাওয়া গিয়েছে বাজে শেয়ারগুলোর প্রকৃতপক্ষে বিক্রয় হয়েছে তাকে বিলিকৃত মূলধন বলে।

৪) পরিশোধিত বা আদায়কৃত মূলধন: বিলিকৃত মূলধনের যে অংশের মূল্য শেয়ার মালিকগণ পরিশোধ করেছে তাকে আদায়কৃত বা পরিশোধিত মূলধন বলে। সাধারনত বিলিকৃত মূলধন এবং আদায়কৃত মূলধন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমান হয়।

যৌথ মূলধনী কোম্পানির শেয়ার বিক্রয়ের অর্থ হিসাবভুক্ত করার নিয়মাবলী:

শেয়ার বিক্রয় দুইভাবে লিপিবদ্ধ করা যায়:

১) আবেদনের ভিত্তিতে

২) বন্টনের ভিত্তিতে

এছাড়া শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে নিম্নোক্ত তিনটি পদ্ধতিতে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে:

১) সমহারে শেয়ার ইস্যু

২) অধিহারে শেয়ার ইস্যু

৩) অবহারে শেয়ার ইস্যু

সমহারে শেয়ার ইস্যু:

সমহারে শেয়ার ইস্যু বলতে বোঝায় শেয়ারকে নিবন্ধিত মূল্যে বা নামিক মূল্যে বিক্রয় করা। যেমন: ১০ টাকার শেয়ার কে ১০ টাকাতেই বিক্রি করা।এক্ষেত্রে আবেদনের ভিত্তিতে জাবেদা হবে নিম্নরূপ:

(i)শেয়ার বিক্রয়ের জন্য প্রচারিত শেয়ার ক্রয়ের আবেদন ও অর্থ পাওয়া গেলে:

ধরি,১০ টাকা মূল্যের ১০০ টি শেয়ার বিক্রয়ের জন্য বিবরণপত্র প্রচার করা হলো।১২০টি শেয়ার ক্রয়ের আবেদন পাওয়া গেল।

ব্যাংক হিসাব (ডেবিট)১২০০

           শেয়ার আবেদন হিসাব (ক্রেডিট)১২০০

[মোট যত অর্থ পাওয়া গিয়েছে(১২০×১০=১২০০টাকা)]

(ii) আবেদনের মাধ্যমে গৃহীত টাকা শেয়ার মূলধন হিসেবে স্থানান্তর করা হলে:

১০০টি শেয়ারের টাকা শেয়ার মূলধন হিসাবে স্থানান্তর করা হলো।

শেয়ার আবেদন হিসাব (ডেবিট)১০০০

           শেয়ার মূলধন হিসাব (ক্রেডিট)১০০০

[শেয়ার মূলধন হিসেবে যত টাকা স্থানান্তর করা হয় (১০০×১০=১০০০টাকা)]

(iii) অতিরিক্ত আবেদনের অর্থ আবেদনকারীদের ফেরত দেওয়া হলে:

২০ টি অতিরিক্ত শেয়ারের টাকা ফেরত দেয়া হলো।

শেয়ার আবেদন হিসাব (ডেবিট)

           ব্যাংক হিসাব (ক্রেডিট)

[অতিরিক্ত যে পরিমাণ অর্থ ফেরত দিতে হবে]

*বন্টন এর ভিত্তিতে জাবেদা দেওয়া হলে:

১০টাকা মূল্যের ১০০টি শেয়ার বিক্রয়ের জন্য বিবরণপত্র প্রচার করা হলো।১২০টি শেয়ার ক্রয়ের আবেদন পাওয়া গেল ।

ব্যাংক হিসাব (ডেবিট)১০০০

           শেয়ার মূলধন হিসাব (ক্রেডিট)১০০০

[এক্ষেত্রে মূলত যত টাকা শেয়ার মূলধন হিসেবে স্থানান্তর করা হয়, তত পরিমাণ টাকাই আসবে। অতিরিক্ত টাকা হিসাবে আসবে না।(১০০×১০=১০০০টাকা)।]

অধিহারে শেয়ার ইস্যু:

শেয়ারকে লিখিত মূল্য থেকে বেশি দামে বিক্রয় করা হলে তাকে অধিহারে শেয়ার ইস্যু বলে। যেমন; ১০ টাকা মূল্যের নিবন্ধিত শেয়ার ১২ টাকায় বিক্রি হলে ২ টাকা হচ্ছে অধিহার।

প্রথমে আবেদনের ভিত্তিতে,

(i)শেয়ার বিক্রয়ের জন্য প্রচারিত শেয়ার ক্রয়ের আবেদন ও অর্থ পাওয়া গেলে:

১০ টাকা মূল্যের ১০০টি শেয়ার ১২ টাকায় বিক্রয় জন্য বিবরণপত্র প্রচার করা হলো।১২০টি আবেদন পাওয়া গেল ।

ব্যাংক হিসাব (ডেবিট)১৪৪০

           শেয়ার আবেদন হিসাব (ক্রেডিট)১৪৪৪০

[মোট অর্থ পাওয়া গিয়েছে (১২০×১২=১৪৪০টাকা)]

(ii) আবেদনের মাধ্যমে গৃহীত টাকা শেয়ার মূলধন ও অধিহার হিসেবে স্থানান্তর করা হলে:

শেয়ার আবেদন হিসাব (ডেবিট)১২০০

           শেয়ার মূলধন হিসাব (ক্রেডিট)১০০০

          ‌ অধিহার হিসাব (ক্রেডিট)২০০

[শেয়ার মূলধন(১০০×১০=১০০০ টাকা) ও অধিহার(১০০×২ =২০০টাকা) হিসেবে যত টাকা স্থানান্তর করা হবে]

(iii) অতিরিক্ত আবেদনের অর্থ আবেদনকারীদের ফেরত দেওয়া হলে:

শেয়ার আবেদন হিসাব (ডেবিট)২৪০

           ব্যাংক হিসাব (ক্রেডিট)২৪০

[অতিরিক্ত যে পরিমাণ অর্থ ফেরত দিতে হবে। (২০×১২=২৪০টাকা)]

*বন্টন এর ভিত্তিতে জাবেদা দেওয়া হলে:

১০ টাকা মূল্যের ১০০টি শেয়ার ১২ টাকায় বিক্রয় জন্য বিবরণপত্র প্রচার করা হলো।১২০টি আবেদন পাওয়া গেল।

ব্যাংক হিসাব (ডেবিট)১২০০

           শেয়ার মূলধন হিসাব (ক্রেডিট)১০০০

           অধিহার হিসাব (ক্রেডিট)২০০

[ আগেরমতইঅতিরিক্তআবেদনেরঅর্থঅন্তর্ভুক্তহবেনা।]

অবহারে শেয়ার ইস্যু:

শেয়ারকে লিখিত মূল্য থেকে কম দামে বিক্রয় করা হলে তাকে অধিহারে শেয়ার ইস্যু বলে। যেমন ১০ টাকা মূল্যের নিবন্ধিত শেয়ার ৯ টাকায় বিক্রি হলে ১ টাকা হচ্ছে অবহার।অবহারের টাকাআর্থিক অবস্থার বিবরণীতেসম্পদপাশেঅসমন্বিত ব্যয়/অলিক সম্পদঅংশেদেখানো হয়।

প্রথমে আবেদনের ভিত্তিতে,

(i)শেয়ার বিক্রয়ের জন্য প্রচারিত শেয়ার ক্রয়ের আবেদন ও অর্থ পাওয়া গেলে:

১০ টাকা মূল্যের ১০০টি শেয়ার ৯ টাকায় বিক্রয় জন্য বিবরণপত্র প্রচার করা হলো।১২০টি আবেদন পাওয়া গেল।

ব্যাংক হিসাব (ডেবিট)১০৮০

           শেয়ার আবেদন হিসাব (ক্রেডিট)১০৮০

[মোট অর্থ পাওয়া গিয়েছে (১২০×৯=১০৮০টাকা)]

(ii) আবেদনের মাধ্যমে গৃহীত টাকা শেয়ার মূলধন ও অবহার হিসেবে স্থানান্তর করা হলে:

শেয়ার আবেদন হিসাব (ডেবিট)৯০০

অবহার হিসাব (ডেবিট)১০০

           শেয়ার মূলধন হিসাব (ক্রেডিট)১০০০

          ‌[শেয়ার মূলধন(১০০×১০=১০০০ টাকা) ও অবহার(১০০×১=১০০ টাকা) হিসেবে যত টাকা স্থানান্তর করা হবে]

(iii) অতিরিক্ত আবেদনের অর্থ আবেদনকারীদের ফেরত দেওয়া হলে:

শেয়ার আবেদন হিসাব (ডেবিট)১৮০

           ব্যাংক হিসাব (ক্রেডিট)১৮০

[অতিরিক্ত যে পরিমাণ অর্থ ফেরত দিতে হবে (২০×৯=১৮০টাকা)]

*বন্টন এর ভিত্তিতে জাবেদা দেওয়া হলে: (একইপ্রেক্ষাপটে)

ব্যাংক হিসাব (ডেবিট)৯০০

অবহার হিসাব (ডেবিট)১০০

           শেয়ার মূলধন হিসাব (ক্রেডিট)১০০০

* সবসময় শেয়ার মূলধন হিসাবে অনুমোদিত বা নিবন্ধিত মূল্য লিপিবদ্ধ করতে হবে।

* আর্থিক অবস্থার বিবরণীতে অবহার আসে অসমন্বিত ব্যয় বা অলিক সম্পদের মধ্যে। এবং অধিহার আসে সঞ্চিতি ও উদ্বৃত্ত অংশে।

১)সম্পদের বিনিময়ে শেয়ার ইস্যু করলে জাবেদা:

ধরি, ১০,০০০টাকার একটি সম্পদের জন্য ২০ টাকা মূল্যের ৫০০ টি শেয়ার ইস্যু করা হলো।

সংশ্লিষ্ট সম্পদ হিসাব (ডেবিট)১০,০০০

           শেয়ার মূলধন হিসাব (ক্রেডিট)১০,০০০

২) বোনাস শেয়ার ইস্যু:

কোম্পানির অনেক মুনাফা হওয়া সত্ত্বেও লভ্যাংশ দেওয়ার মত নগদ অর্থ না থাকলে অথবা কখনো যদি সঞ্চিতি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হয়ে যায় তাহলে শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে বোনাস শেয়ার ইস্যু করা হয়। সাধারনত বোনাস শেয়ার কোন উৎস থেকে ইস্যু করা হয়। যেমন: অবন্টিত আয়/সংরক্ষিত আয়, সাধারণ সঞ্চিতি, মূলধন সঞ্চিতি, শেয়ার অধিকার ইত্যাদি।

ধরি, সাধারণ সঞ্চিতি থেকে১০টাকা মূল্যের১০০টি বোনাস শেয়ার ইস্যু করা হলো;

সাধারণ সঞ্চিতি হিসাব (ডেবিট)১০০০

            শেয়ার মূলধন হিসাব (ক্রেডিট)১০০০

৩) প্রাথমিক খরচাবলি:

একটি যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠান গঠন করার সময় অনেক ধরনের খরচ বহন করতে হয়।যেমন; অবলেখকের কমিশন, নিবন্ধন ফি, ব্যাংকচার্জইত্যাদি।এইধরনেরব্যয়গুলোআর্থিক অবস্থার বিবরণীতেঅলিকসম্পদ/ অসমন্বিত ব্যয়অংশেযায়।

ধরি, প্রাথমিক খরচ১৪,০০০টাকা।

প্রাথমিকখরচ (ডেবিট)১৪,০০০

ব্যাংকহিসাব (ক্রেডিট) ১৪,০০০

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party